সারাদেশে সংঘবদ্ধ একটি চক্র দেশে অস্থিরতা ও গুজব সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই অপচেষ্টা দেখছি ব্লগেও চলছে। সবকিছু স্বাভাবিক আছে জেনেশুনেও একজন ব্লগার বিকাল ৫ টা ৯ মিনিটে এই ব্লগে লিখেছে: খুব টেনশনে আছি। কি হচ্ছে শাহবাগে? একই সময়ে লেখা হয়েছে শাহবাগে তান্ডব চালাচ্ছে ছাত্রলীগ। এর ১৫ মিনিট পর ৫ টা ২৪-এ আরেক ব্লগারও শাহবাগে তাণ্ডবলীলা শিরোনামে একই রকম ব্লগ দিয়েছেন। মজার ব্যাপার হলো ব্লগে প্রকাশের কিছুক্ষন পরেই লেখাগুলোতে ছয়-সাতটি প্লাস পড়তে থাকে।
আমার কাছে মনে হচ্ছে, ঘটনাটা সাজানো। সারাদিন পত্রিকা অফিসেই ছিলাম। কোথাও এ ধরনের কোন খবর শুনিনি। বরং অন্য দিনের মতোই শাহবাগে বাস চলাচল ছিল। কিন্তু বিকাল সাড়ে পাঁটচার দিকে লোকজন যখন ঘরে ফেরে তখন ইচ্ছে করে এ ধরনের পোষ্ট দেওয়ার মানে কি? পোষ্ট দেওয়ার জন্য এ ধরনের সময় বেছে নেওয়ার কারণই বা কি? ব্লগে বলা হয়েছে, ব্যাপক তান্ডব শুরু হয়েছে শাহবাগে। কোন গাড়ি নেই। ইত্যাদি ইত্যাদি। ঘটনার পুরোটাই মিথ্যা। আমি দেখলাম পোষ্টটা প্রকাশ হওয়ার পরেই এই ব্লগের চিহিৃত কিছু লোক মন্তব্য লিখছে। একটির সঙ্গে অন্য মন্তব্যগুলোর মিলও বেশ।
আমি অতীতেও খেয়াল করেছি, দেশে যখন কোন সমস্যা তৈরীর চেষ্টা হয়, তখন এই ধরনের গুজব তৈরীর চেষ্টা চলে। জরুরি অবস্থায় এটি বারবার হয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে তিন কোটি লোক এখন মোবাইল ব্যাবহার করে। খুব সহজেই যে কোন গুজব ১০ মিনেটের মধ্যে তাই সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। শাহবাগরে এই গুজবও তেমনি দেখলাম ব্লগে ডালপালা মেলেছে। গুজবটা ছড়িয়ে কার লাভ হলো?
আমরা কেন বুঝি না এই দেশে যারা থাকে তারা আমাদেরই স্বজন। এদের কেউ বিএনপি করে, কেউ আওয়ামী লীগ। যে কোন গুজব বা অস্থিরতার লক্ষ্য থাকে সরকারকে বিপদে ফেলা। কিন্তু আমাদের বোঝা উচিত, সরকার নয়, আসলে বিপদে পড়ে এ দেশের সাধারন মানুষ। সরকারের কখনোই কিছু হয় না। মিথ্যা কথা বলে খালেদা যেমন রাজনীতি করে, তেমনি আশা দিয়ে আশাভঙ্গ করায় হাসিনাও। কিন্তু আমরা সাধারন মানুষ কেন বারবার এই ফাঁদে পা দিচ্ছি। আমরা কেন বুঝি না ক্ষতি হলে আমাদেরই ক্ষতি।
তাই আমি এই ব্লগের সবাইকে বলছি-কোন গুজবে কান দেবেন না। কোন কিছু শুনলে দয়া করে পত্রিকা অফিসে ফোন করবেন, জেনে নেবেন ঘটনা সত্য কিনা। আর যারা এ ধরনের ব্লগ লিখছেন তাদের প্রতি অনুরোধ কোন কিছু লেখার আগে চিন্তা করবেন-এটা ঠিক কিনা। যা তা লিখে মানুষকে আতঙ্কে ফেলবেন না। আমি জানি না কাজটা আপনারা ইচ্ছেয় না অনিচ্ছায় করেছেন। তবে অনুরোধ ক্রসচেক না করে, না জেনে দয়া করে ব্লগে কিছু লিখবেন না। কারণ, এটিও একটি গণমাধ্যম। আর গণমাধ্যমে ভুল তথ্য দিলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণমানুষ-মানে আপনার আমার আত্মীয়।
তাই সবাইকে বলছি সাবধান। গুজবে কান দেবেন না। আর যারা এসব গুজব ছড়াচ্ছে তাদেরও চিনে রাখুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

