রাইট হো, জীভস
রূপান্তরঃ শরীফুল হাসান
সাত
বিকেলেই আমি আমার দুই সীটের গাড়িটা নিয়ে ব্রিঙ্কলী কোর্টের দিকে রওনা হয়ে গেলাম।এঞ্জেলা আর টাপির খবরটা আমাকে অনেকটাই আহত করেছে।
এই জোড়াটার দিকে আমি সবসময়ই প্রসন্ন ছিলাম।বেশিরভাগ সময়ই যখন আপনার কোন বন্ধু আপনারই পরিচিত কোন মেয়েকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করে, তখন প্রায়ই হয়তো আপনার মনে হয় সময় থাকতে যে কাউকে সাবধান করা দরকার।
কিন্তু টাপি আর এঞ্জেলার ব্যাপারে কখনোই আমার এরকম চিন্তা আসেনি।টাপি, খুব ভালো একটা ডিম, যতোক্ষন না সে নিজেই নিজেকে ছাগল প্রমানিত করে, এঞ্জেলাও খুব ভালো একটা ডিম, অন্তত প্রেমের ব্যাপারে।ওদের দেখে আপনি এতোটুকুও হয়তো বলে ফেলতে পারেন, দুই হৃদয় এক আত্মা।
এটা সত্যি, কখনো কখনো ওদের মধ্যে বেধে যেত, টাপি নিজেকে দ্বিধাহীন নির্ভীক সত্যবাদী বলে দাবি করতো যা আমার মতে ছিল নির্বোধের মত কাজ, এঙ্গেলাকে নতুন টুপি পরা অবস্থায় বলতো যে ওকে নাকবোচা চাইনীজদের মত লাগছে।কিন্তু প্রত্যেক প্রেমের মধ্যে কিছুটা মনোমালিন্য আপনি ধরেই রাখতে পারেন।এই ঘটনার পর আমি আশা করেছিলাম টাপি এখান থেকে শিক্ষা নিয়েছে আর এখন তাদের জীবনটা একটা সুন্দর,মিষ্টি গানের মত কেটে যাচ্ছে।
ঊষ্টারের মস্তিষ্কের সবচেয়ে ভালো অংশটা দিয়ে আমি পুরো ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করলাম, কিন্তু এটাই আমার মাথায় ঢূকলোনা এমন কি হয়েছে যে ঘটনা এতোদূর গড়াবে, আমি গাড়ির এক্সেলেটরে পা দিয়ে জোরে চাপ দিচ্ছি যাতে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব আমি আন্ট ডাহলিয়ার কাছে পৌছতে পারি আর ঘটনার ভিতরের ঘটনা জানতে পারি।আমার ছয় সিলিন্ডার ভালই কাজ করছিল যে আমি ইভনিং ককটেলের ঘন্টাখানেক আগেই আমার গন্তব্যে পৌছতে পারবো।
তিনি আমাকে দেখে খুশি হলেন মনে হল।সাধারনত যা হয় আমি উপস্থিত হবার সাথে সাথে উনারা যেন ভুত দেখার মত চমকে উঠেন।
-তোমার দয়া যে তুমি এখানে এসেছো, বারটি, আন্ট বললেন।
- আমাকে তোমার পাশেই পাবে, আন্ট ডাহলিয়া।আমি উত্তর দিলাম।
আমি দেখতে পাচ্ছি এই দূর্ভাগ্যজনক ঘটনায় উনি খুব মুষড়ে পড়েছেন। উনার স্বাভাবিক আনন্দিত মুখ মেঘে ঢাকা পড়েছে আর হাসিটাও হারিয়ে গেছে। আমি উনার হাতে সহানুভুতিপুর্ন চাপ দিলাম, বলতে চাইলাম যেন আমার হৃদয়েও রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
-খুব খারাপ কথা, আন্ট, আমি বললাম।তোমার নিশ্চয়ই খুব খারাপ সময় কাটছে।
উনি খুব মন খারাপ করা দীর্ঘশ্বাস নিলেন।তাকে এখন সেরকম আন্ট মনে হচ্ছে যে এইমাত্র কোন পোকার কামড় খেয়েছেন।
-খারাপ লাগছে সত্য।কানেস থেকে ফিরে এই ধ্বংশস্তুপে আসার পর একমুহুর্তও শান্তিতে থাকতে পারছিনা, আন্ট ডাহলিয়ে বললেন, সবকিছুই ন-ছয় হয়ে আছে, শুরু হয়েছে ঐ পুরষ্কার বিতরনী নিয়ে।
এখানে উনি একটু থামলেন আর আমার দিকে উনার বিখ্যাত দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন।এই সমস্ত ব্যাপারে তোমার আচরন নিয়েও আমি খোলাখুলি কথা বলতে চাই, বারটি, তিনি বললেন, কিছু ভাল জিনিস আমি তৈরি করে রেখেছিলাম পরবর্তীতে ব্যবহার করার জন্য। তুমি যেভাবে এলে এখন আমার মনে হচ্ছে তোমাকে বাদ দেয়াই ভালো হবে কেননা তুমি এইসব ব্যাপারে অসুস্থ মানুষের মত আপত্তি জানিয়েছো। তোমার ঐ স্পিঙ্ক-বটলকে আমি কাজে লাগাবো যদি সে তার নিওটকে বাদ দিতে পারে।
-সে কি নিওটকে নিয়ে কথা বলে যাচ্ছে?
- হ্যা, বলে যাচ্ছে। একজন প্রাচীন নাবিকের মত চকচকে চোখে সে কথা বলে।আমি মন খারাপ করতাম না যদি সে এতোটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকতো। কিন্তু আমি চিন্তিত টম কি বলবে যখন সে এসব কথা বলেই যাবে?
-আঙ্কল টম?
- তুমি তাকে আঙ্কল টম ছাড়া অন্য কিছু বলতে পারো, আন্ট ডাহলিয়া বললেন শান্তস্বরে, তুমি যখনি তাকে আঙ্কল টম বলো,আমার মনে হয় তখনি সে যুবক হয়ে যাবে আর ব্যাঞ্জো বাজানো শুরু করবে। আমি খুব শীঘ্রই তাকে বলবো ব্যাকারেট খেলায় ঐ টাকাগুলো হারানোর কথা, ও যে কি করবে কে জানে।
- সন্দেহ নেই, আস্তে আস্তে সে ভুলে যাবে, সময়ে সব ঠিক হয়ে যায়...
- সময়ে সব ঠিক হয়ে যায়! আগষ্টের তিনের মধ্যে আমাকে পাচশো পাউন্ডের চেক তৈরি রাখতে হবে তার পত্রিকা মিলাডিস বুডোয়ার এর জন্য।
আমি বিষয়টা সম্পর্কে জানি। এই পত্রিকাটা নিয়ে আমার মনেও নরম একটা জায়গা আছে যেহেতু এখানেই আমার সেই বিখ্যাত প্রবন্ধ “ সুবেশী পুরুষেরা কি পড়ছেন” ছাপা হয়েছিল।একটু স্পর্শকাতর মনে হতে পারে, কিন্তু আমাদের মত পুরানো সাংবাদিকদের মনে এরকম আবেগ মাঝে মাঝেই কাজ করে।
-পত্রিকাটা কি সমস্যায় আছে?
- টমের শরীর খারাপ না হলে হতোনা, কিন্তু এর একটু সাহায্য দরকার ঘুরে দাড়ানোর জন্য ।
- কিন্তু দুবছর আগেই তো ঘুরে দাড়িয়েছে, তাই না?
- দাড়িয়েছে আর এখন সেখানেই আছে। তুমি মেয়েদের একটা সাপ্তাহিক চালাও, তুমি বুঝবে না।
- এখন কি বলতে চাও?
- তোমাকে বলছি বারটি, এখন পর্যন্ত, যদি কোন অর্থের প্রয়োজন হয় আমি সরাসরি তোমার আঙ্কল টমের কাছে চলে যাই, একটা ছোট মেয়ের যে তার বাবার কাছে চকলেট ক্রিমের জন্য আবদার করছে। কিন্তু এখন তোমার আঙ্কল টমের কাছে ইনকাম ট্যাক্সওয়ালারা আটান্ন পাউন্ড, তিন পেন্স চাচ্ছে আর এটা নিয়েই সকাল থেকে সে মাথা গরম করে আছে।
ব্যাপারটা বিস্বাসযোগ্য।আমার এই আঙ্কলের কিছু বিটকেলে ব্যাপার আছে।উনার কাছে সবচেয়ে কম অঙ্কের টাকা চাইলেও উনি এমন আওয়াজ করে ঊঠেন যে সবচেয়ে দুরের জায়গা থেকেও তা শোনা যাবে।
-আনাতোলের রান্নার জন্য, তা না হলে উনি এটা বন্ধ করে দিতেন।হাজার শুকরিয়া আনাতোল আমাদের কাছে আছে।
- ভাল লোক আনাতোল, আমি বললাম।
-আমেন, আন্ট বললেন।
তারপর সেই পবিত্র আভা যে এসেছিল আনাতোলের রান্নার কথা মনে করে, সরে গেল আন্ট ডাহলিয়ার মুখ থেকে।
-কিন্তু আমরা আসল বিষয় থেকে অন্য দিকে সরে যাচ্ছি, উনি বললেন, আমি তোমাকে বলছিলাম যে আমার ফিরে আসার পর থেকেই যে সব ঝামেলার শুরু।প্রথম ঐ পুরষ্কার বিতরনী, তারপর তোমার আঙ্কল টম, আর সবার চেয়ে উপরে, এঞ্জেলা আর টাপির এই অন্তর্দ্বন্দ্ব।
আমি নড করলাম, শুনে খুবই দুঃখ পেলাম, মারাত্মক ধাক্কা, কি নিয়ে সমস্যা?
-হাঙ্গর
-এহ?
- হাঙ্গর বা বলা যায় সেই হাঙ্গরটা।সেই বদমাশ যে আমার ছোট মেয়েটাকে কানেসে পানির মধ্যে তাড়া করেছিল। তোমার তো ঐ হাঙ্গরের কথা মনে আছে?
অবশ্যই আমার এঙ্গেলার ঐ হাঙ্গরের কথা মনে আছে। আমার মতো একজন সহানুভুতিশীল মানুষ কখনই ভুলে না যে তার কাজিনকে প্রায় খেয়ে ফেলেছিল গভীর সমদ্রের ঐ শয়তানটা।আমার স্মৃতিতে এখনো জ্বলছে ঘটনাটা।
আসল কথা, যে ঘটেছিল তা অনেকটা এইরকমঃ আপনি তো জানেন পানির মধ্যে বোটের পেছনে দড়ি বেধে মজা করা হয়। মোটোর বোটটা সামনে থাকে আর পিছনে ঐ দড়িটা ধরে থাকে যাত্রী, একটা কাঠের বোর্ডের উপর দড়িটা ধরে দাড়াতে হয়, তারপর বোটটা ছাড়ে আর পেছনের যাত্রীকে টেনে নিয়ে যায়। দড়িটা হাত থেকে একটু ছেড়ে দিলেই সমুদ্রে পড়ে যেতে হয়, আবার সাতার কেটে বোর্ডে ঊঠে শুরু করতে হয়।
আমার কাছে পুরো জিনিসটাই ভালো লাগতো না, কিন্তু অনেকের কাছেই ছিল খুব রোমাঞ্চকর।
এই প্রসঙ্গে যা বলছিলাম, এঙ্গেলা মাত্রই পানি থেকে পড়ে বোর্ডে উঠেছে, তখনই ভয়ানক এক হাঙ্গর ওর বোর্ডটাকে ধাক্কা দিয়ে আবার ওকে পানিতে ফেলে দিল, ওর বেশ সময় লাগলো আবার বোর্ডটাতে উঠতে, ততক্ষনে মোটরবোট চালক বুঝে গেছে কি ঘটছে, সে কোনমতে মেয়েটাকে নিরাপদে তীরে পৌছে দিল,এর মাঝখানের সময়টাতে বেচারির মনের অবস্থা নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পারছেন।
এঞ্জেলার মতে, ঐ শয়তানটা ওর ফিন দিয়ে তার পায়ে খোচা দিচ্ছিল বিরতিহীনভাবে, তো সাহায্য পাওয়ার আগ পর্যন্ত এঞ্জেলার নিজেকে মানুষ মনে হচ্ছিল না,মনে হচ্ছিল খাবার টেবিলে সার্ভ করা লবনাক্ত আলমন্ডের মতো। মনে পড়ে ঘটনাটা বেচারীকে এতোটাই নাড়া দিয়েছিল যে, সে কয়েক সপ্তাহ কথা বলাই বন্ধ করে দিয়েছিল।
-ঘটনাটা আমার মনে আছে, আন্ট, আমি বললাম, কিন্তু এতে ওদের মাঝে কি সমস্যা হলো?
- এঞ্জেলা টাপিকে গতরাতে ঘটনাটা বলছিল
-আচ্ছা?
- বলতে গিয়ে ওর চোখ চকচক করছিল আর হাত শক্ত হয়ে গিয়েছিল উত্তেজনায়
- স্বাভাবিক
- এরকম একটা ঘটনার জন্য বেচারী মেয়েটাকে তো অন্তত স্বান্তনা দিতে পারতো ঐ হতভাগা গ্লসপ, কিন্তু সে কি করেছে জানো? সে গল্পটা শুনলো যেন আবহাওয়া বার্তা শুনছে আর কাহিনী শেষ হলে সে তার সিগারেট কেস খুলে একটা সিগারেট ধরিয়ে বলল ‘ ওটা হয়তো কাঠের একটা গুড়ি ছিল”
- সে বলল তাই!!
- হ্যা। আর এঞ্জেলা যখন বলল যে হাঙ্গরটা রীতিমত তাকে ধরার জন্য লাফিয়ে উঠেছিল, তখন সে আবার সিগারেটের কেস খুলে আরেকটা সিগারেট বের করে বলল “ওটা মনে হয় বড় কোন মাছ ছিল, ক্ষতিকর কিছু নয়, সন্দেহ নেই মাছটা একটু খেলা করতে চাচ্ছিল’।তুমি কি করতে এঞ্জেলার জায়গায় থাকলে? তারও তো আত্মসম্মান আছে, একটা ভালো মেয়ের যে সমস্ত গুন দরকার সবই আছে।এঞ্জেলা ওর সাথে রাগারাগি করে ওকে চলে যেতে বলল।
আমি স্বীকার করছি আমি মেয়েটার অবস্থা বুঝতে পারছি।জীবনে হয়তো একবারই এরকম আশ্চর্য ঘটনা ঘটে তখন কেউ সেটাকে গুরুত্ব না দিলে মেজাজ স্বভাবতই খারাপ হবে আপনার। আমি এঞ্জেলার মনের অবস্থা আসলেই বুঝতে পারছি।
-তো এঞ্জেলা রাগ করার পর টাপি তো নিশ্চয়ই ওর কাছে ক্ষমা চেয়েছে, তাই না।
- একদমই না।উলটো সে আরো তর্ক করেছে।তর্ক বাড়তে বাড়তে আরো অনেক ডালপালা ছড়িয়েছে। শেষমেশ তারা তাদের এনগেজমেন্ট ভেঙ্গে দেয়ার সিধান্ত নেয়।আমি খুবই চিন্তিত আছি।তুমি এসেছো, অনেক ভালো লাগছে আমার।
- আমাকে কেউ আটকাতে পারতোনা, আমি বললাম, আমার মনে হয়েছিল আমাকে তোমার দরকার।
- হ্যা
- ঠিক
- অথবা বলতে পারো, তিনি বললেন, তোমার কথা না, আমি জীভসের কথা ভাবছিলাম। যখন এসব ঘটনা ঘটছিল, তখনই জীভসের কথা আমার মাথায় আসে।এই পরিস্থিতিই আসলে জীভসের জন্য একবারে মানানসই।
আমার মনে হলো, আমি যদি দাঁড়িয়ে থাকতাম, তাহলে এখনই লাফাতে শুরু করতাম।কিন্তু এখন এই আর্ম-চেয়ারে বসা অবস্থায় লাফাতে শুরু করাটা বেশ কঠিন।শুধু আমার মুখ দেখলেই যে কেউ বুঝতে পারতো এই কথাগুলো শুনে আমি কতোটা আঘাত পেয়েছি।
এই কথাগুলো বলার আগ পর্যন্ত, আমি ছিলাম হাল্কা আর মিষ্টি একটা ছেলে যে তা আন্টের জন্য সবকিছু করতে রাজি।কিন্তু এখন আমি যেন জমে গেছি, আমার মুখটা হয়ে আছে শক্ত আর প্রানহীন।
-জীভস, আমি বললাম, দাত কড়মড় করে।
- মঙ্গল হোক, আন্ট ডাহলিয়া বললেন।
মনে হল আনট আমার কথার ধরন বুঝতে পারেননি।
-আমি হাচি দিচ্ছিলাম না, আমি বলছিলাম “জীভস!!”
- হতে পারে।কি চমৎকার লোক।আমি জীভসকে সব খুলে বলবো।জীভসের মতো আর কেউ তো নেই।
আমি আরো জমে গেলাম।
-আমি এই ঘটনার তদন্তভার নিতে চাই, আন্ট ডাহলিয়া
- কি নেবে?
- তদন্তভার
- তুমি নেবে?
- আমারই নেয়া উচিত। জীভস কোন কাজের না।
- কি?
- একবারেই অকর্মা। সে এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনহীন।কিছুদিন আগেই আমি ওর হাত থেকে একটা কেস নিয়ে নিয়েছি তা না হলে সর্বনাশ হয়ে যেত। যাইহোক, আমার মনে হয় সবারই একটাই ধারনা যে জীভসই একমাত্র মাথাওলা মানুষ, আমার সাথে পরামর্শ না করেই জীভসের কাছে সবাই দায়িত্ব দিয়ে দেয় যা আমি মোটেও পছন্দ করিনা।
আণত কিছু বলতে যাচ্ছিল, আমি ইশারায় থামিয়ে দিলাম।
- এটা সত্যি যে আগে আমিও জীভসের কাছে থেকে কিছু কিছু সময় পরামর্শ নিয়েছি। ভবিষ্যতেও নিতে পারি।কিন্তু এটাও ঠিক যে জীভস একাই সব সমাধান করতে পারে তা কিন্তু না।আর আমার ধারনা, জীভসের সব সফলতা তার প্রতিভা নয়, কিছুটা ভাগ্যও তার সাথে ছিল।
- তোমার সাথে কি জীভসের ঝগড়া হয়েছে?
- না, সে রকম কিছু না।
- কিন্তু তুমি বোধহয় রেগে আছো ওর উপর?
- কখনই না।
কিন্তু স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি আন্টের কথায় কিছুটা সত্যতা আছে।আমি আজ সারাদিনই জীভসের কার্যকলাপে একটু বিরক্ত।আপনাদের বলছি বিষয়টা।
আপনাদের মনে থাকার কথা, জীভস আমার ব্যাগপত্র নিয়ে ১২.৪৫ এর ট্রেনে রওনা দিয়েছিল, আর আমি থেকে গিয়েছিলাম একটা দুপুরের দাওয়াতে যোগ দেয়ার জন্য।বের হওয়ার আগে আমি ফ্ল্যাটে একটু হেটে বেড়াচ্ছিলাম,হঠাত আমার মাথায় কেমন একটা সন্দেহ এলো, মনে হলো আমার আলমারীটা একটু ঘেটে দেখা দরকার।
যা সন্দেহ করেছিলাম তাই পেলাম। আমার মেস জ্যাকেটটা তখন হ্যাঙ্গারে ঝুলছে। ঐ ঝানু মালটা এটা ব্যাগে ঢোকায়নি।
ড্রোনসে গেলেই আপনি জানতে পারবেন বারট্রাম উষ্টার কতোটা দিলখোলা আবার কতোটা নির্দয় একজন মানুষ।আমি জ্যাকেটটা একটা প্যাকেটে ভরে নিলাম, গাড়ির পেছনের সীটে রাখলাম, এই মুহুর্তে এটা এই হল রুমের একটা চেয়ারে শোভা পাচ্ছে। কিন্তু যাই হোক, জীভস যে আমার সাথে নোংরা খেলা খেলেছে তাতে সন্দেহ নেই।
‘সেরকম কোন ঝামেলা নেই’ আমি বললাম ‘ এটাকে তুমি একধরনের নির্লিপ্ততা বলতে পারো। মেস জ্যাকেটের ব্যাপারে আমি আমার ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটিয়েছি মাত্র, কিন্তু....’
‘যাই হোক, এটা কোন বিষয় না,তুমি যা বলতে চাইছো, জীভস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনহীন? অসম্ভব।সে এখানে আসার পরই আমি ওর চোখ দেখেছি, বুদ্ধিতে ঝিমমিক করছে। আমি তখন নিজেকে বললাম ‘ বিস্বাস করো জীভসকে’।
‘আন্ট ডাহলিয়া, তুমি আমাকে সুযোগ দিয়ে দেখতে পারো আমি তোমার জন্য কি করতে পারি। ’
‘ঈশ্বর রক্ষা করো, তুমি এর মাঝে নাক গলিয়ো না। তুমি আরো তালগোল পাকিয়ে ফেলবে’।
‘এখানে আসার পথে গাড়িতে বসেই আমি বিষয়টা নিয়ে ভেবেছি, তারপর এঞ্জেলার মনস্তাত্বিক গঠন ভেবে আমি একটা প্ল্যানও তৈরি করেছি। আমার মনে হয় এখুনি তা প্রয়োগ করা ভালো হবে।’
‘ওহ, ঈশ্বর’
‘মানুষের মন নিয়ে আমার যা ধারনা তাতে মনে হয় জিনিসটা কাজ করবে’
‘ বারটি’ আন্ট ডাহলিয়া যেন আর্ত চিতকার করে উঠলেন ‘ বাদ দাও, দোহাই তোমার। বাদ দাও। আমি তোমার এইসব প্ল্যান খুব ভালো জানি। আমার ধারনা তুমি এঞ্জেলাকে লেকের পাশে নিয়ে গিয়ে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দেবে আর গ্লসপকে বলবে ওকে উদ্ধার করে আনতে, তোমার প্ল্যান তো এরকম কিছুই হবে।
‘ মোটেই এরকম কিছু না’
‘কিন্তু তোমার কাজ কারবার তো এরকমই’
‘আমার চিন্তাধারা আরো অনেক পরিষ্কার, তোমার আমি ভেঙ্গে বলছি দাঁড়াও’।
‘না, ধন্যবাদ’
‘আমি তাহলে নিজেকেই বলি...
‘আমাকে বলোনা’
‘এক সেকেডের জন্য শোন’
‘আমি শুনবো না’
‘ঠিক আছে, আমি তাহলে একটা গাধা’
‘এখন থেকে নয়, ছোটবেলা থেকেই’
বুঝলাম এই আলাপচারিতায় আমার কোন লাভ হবে না।
‘ঠিক আছে, আন্ট ডাহলিয়া’ আমি বললাম ‘তুমি যদি শুরুই না করতে চাও সেটা তোমার ব্যাপার। কিন্তু তুমি খুব দারুন মস্তিষ্কপ্রসূত বুদ্ধি হারাতে যাচ্ছো। তোমার আচরন একচোখা হয়ে যাচ্ছে। যাই বলো, আমি আমার প্ল্যান মোতাবেক অগ্রসর হবো, এঞ্জেলা আমার খুব পছন্দের মানুষ, ওর মনে আগের আনন্দ ফিরিয়ে আনতে আমি চেষ্টার ত্রুটি করবো না।’
‘বারটি, গোয়ার ছেলে, আবারও বলছি, বাদ দাও না। তুমি যা আছে তার দশগুন খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করবে’
আমি উঠে পড়লাম, সোজা হাটা দিলাম,সোজা বাগানের দিকে।
যার সাথে বাগানে আমার প্রথম দেখা হলো সে হচ্ছে ঘটনার বর্তমান নায়ক তরুন টাপি।
ভ্রূ কোচকানো আর খুব গম্ভীর ভঙ্গীতে পাথর ছুড়ে মারছে পুকুরের পানিতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


