সার্ভেয়িং ক্লাস শুরু হল একদম ভোরবেলা, ৭:৩০ এর সময়। সকাল বেলা খেয়ে দেয়ে খাতা নিয়ে দৌড়ে ফ্লুইড মেকানিক্স ল্যাবের সামনে এসে দেখি ডিপার্টমেন্টের স্যারেরা ফিল্ডে একটা ব্ল্যাকবোর্ড সেট করে বসে আছেন - আমাদের বলা হল মাটিতে বসে পড়তে। যে যেই ড্রেসে এসেছে সেই ড্রেসেই মাটিতে বসে পড়তে বলা হল। পুরো মাঠ জুড়ে শুধু লাল মাটির গুঁড়ো আর অল্প কিছু ঘাস। কয়েকজন খাতা থেকে পাতা ছিঁড়ে অথবা পাশে পড়ে থাকা কাগজ বিছিয়ে বসে পড়ার উপক্রম করতেই ইকবাল মতিন স্যারের ঝাড়ি - খালি মাটির উপরেই বসতে হবে। খুব ভাল ড্রেসআপ করা ছেলেগুলোর করুন মুখের দিকে তাকিয়ে অনেকেই হেসে ফেলল
আমাদের শেখানো হল বেসিক জিনিসপত্র আর কি কি বই কিনতে হবে সেটা। প্রথম দিন আমাদের শেখানো হল চেইনের ব্যবহার - এর পর ৫জন করে গ্রুপ করে দিয়ে এক এক গ্রুপ কে এক এক টা প্রজেক্ট দেয়া হল - যেমন কেউ পেল ফ্লুইডল্যাবের চারপাশ মাপার প্রজেক্ট, কেউ পেল উডশপ মাপার প্রজেক্ট। আমাদের দেয়া হল মেকানিক্যালের থার্মোডাইনামিক্স ল্যাবের মাপার কাজ। মাপার পর আবার সেগুলো ড্রয়িং করতে হবে। আজাব। চরম রোদের মধ্যে আমরা সবাই কাজ শুরু করলাম। সে কি রোদ। গরমে জান যায় যায় । এর মাঝে প্রতি গ্রুপেই দেখা গেল কমন চিত্র, কেল্টু টাইপের কিছু পোলাপান গুলো কাজ করছে আর বাকিরা গল্পগুজবে মত্ত। কিছুক্ষন পর পর স্যারেরা এসে দেখে যাচ্ছিল । এর মাঝে দুলাল (এখন এলজিইডি তে কাজ করে) খাজ ফেলে একটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকায় চরম ঝাড়ি খেল দীপক স্যারের কাছে।
এক এক দিন সার্ভেতে আমাদের একএকটা নতুন ইন্সট্রুমেন্ট পরিচয় করিয়ে দেয়া হত আর আগের দিনের ইন্সট্রুমেন্টের উপরে পরীক্ষা নেয়া হত। আর প্রতিদিন ছিল ড্রয়িং সাবমিশন। ড্রয়িং ভাল না হলেই ঝাড়ি। সার্ভে তাও কোনভাবে করা যেত কিন্তু সারাদিন পরিশ্রম করে সন্ধ্যাবেলা ড্রয়িং আর সহ্য হত না। কি যে কষ্ট
এর মাঝে একদিন একটা ইন্সট্রুমেন্ট যার নাম থিওডোলাইট, সেটা পরিচিত করে দেয়া হল আমাদের। ছোট্ট একটা টেলিস্কোপ টাইপের যন্ত্র (খুবই দুর্বল টাইপ) যেটা দিয়ে দুইটা রেফেরেন্স অবজেক্টের হাইট এবং অ্যাঙ্গেল মেপে থার্ড অবজেক্টের হাইট বের করা যায় (আল্লাহ রে!!)। যেহেতু একটা ছোট টেলিস্কোপ আছে, সেটা নিয়ে শুরু হয়ে গেল পোলাপানের শয়তানী
এর মাঝে সুপার কেল্টু কিছু গ্রুপ পাওয়া গেল যারা দিনের বেলায় প্রজেক্ট মেপে শেষ করতে পারে নি দেখে রাতের বেলা লুকিয়ে লুকিয়ে সার্ভে করত টর্চলাইট আর ইন্সট্রুমেন্ট নিয়ে। আমাদের এই কেল্টু দোস্তদের কিছু মজার কথা নিয়ে আসব পরের টাতে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


