somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এখন আর কথা বলার আগে ভাবি না, ভদ্রতারও ধার ধারি না, আমি এখন চরম ক্লান্ত

২২ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফাজলামীর একটা সীমা থাকা দরকার। আমি এখন চরম ক্লান্ত রিপিটেডলি মানুষের সীমাহীন কান্ডজ্ঞান হীনতা, ভন্ডামী আর অভদ্রতা দেখতে দেখতে । আমি এখন আর কথা বলার আগে ভদ্রতার ধার ধারি না, ভদ্রতার যারা দাম দিতে জানে না তাদের ভদ্রতা দেখায় লাভ নাই

ঘটনা এক:
কয়েকদিন আগে আলিকোর লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কাজে আমাকে হেলথ চেক আপের জন্য যেতে হয়েছিল এক ডাক্তার এর কাছে। লাইফ ইন্সুরেন্সের এজেন্ট নিয়ে গিয়েছিল। শালার ভাব দেখে শুরু থেকেই চরম বিরক্ত লাগছিল আমার। এমন ভাব যেন মহা দয়া করে সে হেলথ চেকআপ রিপোর্ট দিচ্ছে, আর কথা বলতাছে ভাব বাচ্যে

ডাক্তার: নাম কি?
আমি: কার নাম? আমার, না আমার বাবার নাকি আপনার?
ডাক্তার আর এজেন্ট এমনভাবে তাকাল আমার দিকে যেন এমন উত্তর জীবনেও শোনে নাই। এইবার সেই ডাক্তার একটু অন্যভাবে কয়েকটা প্রশ্ন করল। তারপরে কিছুক্ষন পরে আবার আগের সুরে আমাকে জিজ্ঞেস করল বাবা মারা গেছিল কিভাবে? আমার মেজাজ তখন পুরা বিলা, আমি বললাম আপনিই জানেন আপনার বাবা মারা গেছিল কিভাবে, আমারে জিগান কেন :)
ডাক্তার আমার দিকে তাকায় আছে, আমিও ডাক্তারের দিকে। ব্যাটার চোখ দেখে মনে হচ্ছিল আমারে চিবায় খাবে :) আমি তো মহা আনন্দে আছি তখন। তুরুপের তাস আমার হাতে, আমার হেলথ রিপোর্ট ব্যাটাকে দিতেই হবে কারন সে এই কাজের জন্য পেইড। আর এত ছোটলোক মনে হয় না এই কয়টা টাকা ফিরায় দিয়ে এজেন্ট কে বলতে পারবে "আমি এই লোকের রিপোর্ট দিবে না" - হে হে, বাবা, পড়িয়া ফান্দে বগা কান্দে

এজেন্ট বুঝতে পারছে ততক্ষনে যে অবস্থা একটু সিরিয়াস। আমাকে বলল, স্যার আপনে গাড়িতে যেয়ে বসেন আমি রিপোর্ট নিয়ে আসতেছি। খিকজ

ঘটনা দুই:
উত্তরার মোড়ে গাড়ি ঘোরানোর সময় এক হেব্বি ভাব ওয়ালা ড্রাইভার রাস্তার মাঝে এমনভাবে গাড়ি রাখছে যে না পারছি আমরা যেতে না পারছে সেও যেতে। অথচ সিগনাল এর সাইন আমাদের জন্য। আমি একবার বললাম গাড়িটা ব্যাকে নিতে, ওরে ভাব, ব্যাকে নিবে না। আমি গাড়িটা একটু কোনা কোরে ওর সামনে দাড়ালাম যাতে বের হয়ে যেতে না পারে। আমার পিছনে বেশ কয়েকটা গাড়ির লাইন, সবাই ততক্ষনে অধৈর্য্য। আমি গাড়ি থেকে নেমে মোড়ের সার্জেন্ট এর কাছে গেলাম, একদম সামনেই বসে ছিল। তারপরে একটু ভাব দেখায় বললাম ভাই আপনে এইখানে বসে আছেন আর এই লোক এইরকম করে পুরা রাস্তাটা জ্যাম করে রাখছে দেখেন না? সার্জেন্ট মনে হয় এইরকম লাইভ কম্প্লেইন খুব কমই পায় - আর সিচুয়েশন তো পুরা আমার সাইডে, হেহ হেহ, সার্জেন্ট ঐ ড্রাইভার রে গাড়ি সাইডে নেওয়ায় যে ঝাড়ি টা দিল দেখার মত!!!

ঘটনা তিন:
নন্দনে গেলাম আমার বোনপো কে নিয়ে। টিকিট কাউন্টারে আমার আগের জন টিকিট কেটেছে ২৫টা (বাপরে!!)। টিকিট কাউন্টারের লোক টিকিটবুক থেকে একটা একটা করে ২৫টা টিকিট ছিঁড়ল, এর পর গুনল আরেকবার। তারপর আঙ্গুল জিভে ঠেকায় আবার গুনল। এবার একটা ফোন করে কার সাথে জানি কথা বলল একবার, তারপর আবার গুনে নিল টাকা গোনার মত করে। ততক্ষনে আমার মেজাজ খারাপ :( - এদিকে কঠিন গরম, অবস্থা চরম - আর ২৫টা টিকিট চারবার গোনা দাঁড়ায় দাঁড়ায় দেখা যে কি পেইন তা আপনার হলে বুঝবেন। যে টিকেট কিনতেছিল সেও কিছুটা বিরক্ত। টিকেটম্যান এইবার টিকেট গুলো সেই লোককে দেয়ার আগে কি মনে করে আবার গোনা শুরু করল। এইবার তো আমার মাথা পুরা আউট - হেহ হেহ, আমি জোরে জোরে বললাম, ভাইজান কি প্রাইমারী পাশ করছেন? টিকেটম্যান একটু হতভম্ব হয়ে তাকাল এদিকে, আমি বললাম - পঁচিশ গুনতে পারেন ভাইজান? আশেপাশের কেউ কেউ হেসে উঠল একবার। টিকেটম্যান এইবার টিকেট গুলা গোনা শেষ করে আমার সামনের জনের হাতে দেয়ার সময় পাশের একজন বলে উঠল "হায় হায় আমি তো গুনলাম ছাব্বিশটা"। কথা শেষ হতে না হতেই আমার পিছনের জন জোরে জোরে বলল "আমি দেখছি সাতাশ টা আছে" - সবাই হো হো করে হাসতাছে, টিকেটম্যানের চেহারা দেখার মত, সবাই চরম বিরক্ত টিকেটম্যানের উপরে, আমার মনে হয় জীবনে পঁচিশটা টিকেট পাঁচবার গোনার আগে আরেকবার ভাববে...

ঘটনা চার:
ঘটতে আছে ঘটনা, পরে একদিন জানাব :) :(
২৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×