বাবাই, আজকে রাস্তায় এত জ্যাম কেন?
প্রায় দুই ঘন্টা স্থবির এ ট্রাফিক জ্যামের মাঝে আটকা পড়া অসহায় বাবা তাঁর ছোট ছেলের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলেন, "আজকে প্রধানমন্ত্রী এই রাস্তা দিয়ে যাবেন বাবা, সেই জন্য", আর মনে মনে ভাবতে লাগলেন কি ভয়াবহ রকমের অসহায় অবস্থায় রয়েছেন তারা দুজন। অভীকের মার জন্য হাসপাতালে যাচ্ছিলেন খাবার আর কিছু ঔষধ নিয়ে। এমন সময় এই অবস্থা
আর কতক্ষন বাবাই? অস্থির হয়ে পড়া ছেলের কথায় সম্বিত ফিরে পেলেন বাবা। আর কিছুক্ষন বাবা, ওনার গাড়ি গেলেই আমরাও যাব।
বাবাই, মার খাবার কি হবে তাহলে? মা তো খায়নি এখনো। বাবাই, আমরা যদি প্রধানমন্ত্রীকে বলি তাহলে আমাদেরকে ওনার গাড়িতে নিবে না?
অসহ্য গরম আর ক্লান্তিতে অস্থির হয়ে পড়া বাবা এবার হেসে ফেললেন। জিজ্ঞেস করলেন ছেলেকে, কেন রে?
তাহলে আমাদেরকে হাসপাতালে মার কাছে নিয়ে যেত তাড়াতাড়ি, অভীক চটপট করে বলে ফেলল।
অভীকের মার কাছে ঔষধ টা নিয়ে যাওয়া আসলেই দরকার তাড়াতাড়ি, বাবা ভাবছেন যে কি করা যায়, এমন সময় অভীকের আবার প্রশ্ন, বাবাই কেমন করে প্রধানমন্ত্রী হয়?
কেন তুই হবি? বাবা অভীকের হাত ধরে জিজ্ঞেস করলেন। অভীক কোন কিছু বলল না। কেটে যাচ্ছে আরো কিছু সময়, বাসের নড়ার নাম গন্ধ নেই। বাইরে কেউ কেউ আনন্দে গান বাজনা করছে রাস্তায়।
এমন সময় বাসের পাশে থেমে থাকা অ্যাম্বুলেন্স টা থেকে আরো জোরে জোরে কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। রোগীর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হওয়ায় রোগীর আত্মীয় স্বজনের বেড়ে চলা কান্নার এই মন খারাপ করা অবস্থায় হঠাৎ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দে বাবা চমকে ফিরে উঠে অভীককে জিজ্ঞেস করলেন, আরে বোকা কাঁদিস কেন?
মার জন্য বাবাই, মা যদি মরে যায়?
দুর বোকা, মাথা নেড়ে দিয়ে অভীক কে একটু কাছে টেনে নিলেন বাবা। জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকলেন পাশের অ্যাম্বুলেন্সটির দিকে। কান্নার শব্দ আরো একটু বেড়েছে বলেই মনে হল তাঁর...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



