ইন্টার পরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর ক্লাস শুরু হচ্ছিল না। ঘরে বসে বসে বোরড হচ্ছিলাম। আমার পুরাতন গৃহশিক্ষক এসে বললো টিউশনি করবো কিনা? সানন্দে রাজি হলাম। ইন্টার পরিক্ষার্থী। দেখতে শুনতে মোটামুটি (মিছা কথা)। কয়েকদিন যাবার পর বললাম, বয়সের ব্যবধান বেশি না, আমাকে স্যার ডাকার দরকার নাই, ভাইয়া ডাকলেই হবে (মনে কোন কুবুদ্ধি ছিল না)। ওকে নানা রকম অংক করতে দিয়ে আমি পাশে রাখা ক্যাসেট প্লেয়ারে লো ভলুউ্যমে গান শুনতাম, গল্পের বই আনতাম ধার করে আর আমার দাবা খেলার প্রতিভা দিয়ে কিছু টিচিং দিতাম।
খুব বেশি কয়দিন পড়াই নি, ৬-৭ মাস। আমার ক্লাস খোলার খবর এলো। চলে যাবে বলার পর ওর চেহার দেখি শুকনো হয়ে গেল (তখনও কিন্তু মনে কোন দোলা লাগেনি)।
বিদায়ের ২/৩ দিন আগে একটা ডায়রী পড়তে দিল...ইতং বিতং নানা কথা লেখা গল্প (সেখানে আমি ছিলাম না মনে হয়!)। এরপর দিন বললো, ভাইয়া আপনি চলে যাবেন, বিদায় উপলক্ষ্যে একটা মহৎ কাজ করবো, রক্ত দিব। আমি বললাম ঠিক আছে। দুজন শেষ দিন রক্ত দিলাম সন্ধানীতে। রাতে বাসায় দাওয়াত ছিল। ও দেখি কিছুই খেতে পারছে না। বিদায় নেবার অল্প আগে কারেন্ট চলে গেল। চার্জার নিয়ে এগিয়ে দিতে এলো সিড়ি দিয়ে। নিচে নেমে বললাম, "জীবনটা অনেক বড়। তোমার হাতটা একটু ধরবো" (ঈমানে কইলাম এইকরকম নাটকীয় ডায়ালগ জীবনে আর বলি নাই)।
সেই যে ধরলাম....আর নিস্তার নাই। এটা ১৯৯৮ সালের ঘটনা।
একটু আগে বাসা থেকে বের হবার আগে ঝগড়া করে এসেছি। এখন মন খারাপ লাগছে।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



