প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পারেন না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ক্ষমতাসীন সরকার সংকট নিরসনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ইতিমধ্যে অপরাধীদের সহায়তা করার ব্যাপারেও সরকারের সঙ্গে জড়িত কারো কারো বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে প্রধান করে কমিটি গঠনে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি সর্বদলীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানায়।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিগত ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সমগ্র দেশ ও জাতি যে ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ঘটনার সূত্রপাতের পর থেকে প্রতিদিনই আমরা দেশবাসীর কাছে আমাদের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছি। আমরা সকলের সহযোগিতায় সংকট নিরসনের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছিলাম এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম যে, ক্ষমতাসীন সরকার আমাদের আহ্বানে সাড়া দেবে এবং বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে সকল সংকীর্ণতা পরিহার করে সংকট নিরসনে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হবে। কিন্তু গভীর পরিতাপের বিষয়, আমাদের সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বরং সরকারের সংকীর্ণ মানসিকতা এবং বিতর্কিত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। পিলখানায় সংঘটিত মর্মন্তুদ হত্যাযজ্ঞ পরবর্তী ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও ঘাত-অভিঘাত ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে তুলেছে যে, ক্ষমতাসীন সরকার সংকট নিরসনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পিলখানায় এক সঙ্গে বিপুল সংখ্যক সামরিক অফিসার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ এবং নারী-শিশুদের ওপর সীমাহীন অত্যাচার রোধে সরকার সময়োচিত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। সময় মতো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে অনেকের জীবন, সম্পদ ও সম্ভ্রম রক্ষা করা সম্ভব হত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসাবে প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারেন না। অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়া রোধে এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ রক্ষায়ও সরকার কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এ সব ব্যর্থতাকে আড়াল করে সরকারের সাফল্যের পরিকল্পিত প্রচারণায় জনগণ এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এই অবস্থায় সেনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জান-মাল-ইজ্জত রক্ষায় ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করায় সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অপরাধীদের সনাক্ত করার বদলে তাদের আড়াল করার জন্যই এই কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। আমরা ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে অনতিবিলম্বে জাতীয় পর্যায়ের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি সর্বদলীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছি। ঘটনায় যারা প্রধান ভিকটিম সেই সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিও তদন্ত কমিটিতে থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশবাসীর ধারণা, বাইরের ইন্ধনে দেশবিরোধী শক্তি প্রভাবশালী অবস্থানে থেকে খুবই সুপরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এর মাধ্যমে বিডিআর ধ্বংস করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর বিপুল সংখ্যক মেধাবী অফিসারকে একসঙ্গে হত্যা করা হয়েছে। দেশরক্ষায় নিয়োজিত দুটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় কারা লাভবান হয়েছে এবং তাদের হয়ে স্থানীয় কোন ক্রীড়নকরা সুপরিকল্পিতভাবে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে কিনা উপযুক্ত তদন্তের মাধ্যমে তা অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে। অপরাধীরা যত ক্ষমতাবানই হোক তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে বাংলাদেশ সংকটমুক্ত হবে না।
সবশেষে বিবৃতিতে বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে দেশবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে ধৈর্য, সংযম, শান্তি ও ঐক্য বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



