পিলখানায় নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর পালিয়ে গেছেন অজস্র জওয়ান। ধারণা করা হচ্ছে, পালানোর সময় তারা সঙ্গে নিয়ে গেছেন অস্ত্র, গোলা-বারুদ। তাদের নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে সরকারের। জনগণেরও। পলাতক জওয়ানরা যদি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হন তাহলে দেশের নিরাপত্তা বিঘিœত হবে। অস্ত্রের চেয়েও ভয়ংকর একটি জিনিস তারা সঙ্গে নিয়ে গেছেন প্রশিক্ষণ। সামরিক প্রশিক্ষণ।
গুপ্ত সংগঠনের বেপরোয়া সদস্যরা যদি বিডিআর জওয়ানদের কাছে সামরিক প্রশিক্ষণ পায় তাহলে তারা হয়ে উঠবে আরো দুর্ধর্ষ। তাদের রোখা কষ্টকর হবে। নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের নানা মাধ্যমে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে চৌকস হয়ে ওঠার দৃষ্টান্ত আছে সারা পৃথিবী জুড়েই। আমাদের দেশেও এ দৃষ্টান্ত বিরল নয়।
কর্নেল তাহের চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত অবস্থাতেই পলাতক সিরাজ সিকদারকে সামরিক ট্রেনিং দিয়েছিলেন। তাহেরের ছোট দুই ভাই আবু সাঈদ ও আনোয়ার হোসেন যুক্ত ছিলেন সিরাজ সিকদারের ‘নিউক্লিয়াসের’ সঙ্গে। তাদের মাধ্যমেই কর্নেল তাহেরের পরিচয় হয় সিরাজ সিকদারের সঙ্গে। তাহের প্রায়ই তার ইউনিট নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক প্রশিক্ষণে যেতেন। এজন্যেই সিরাজ সিকদার পাহাড়ি অঞ্চলে তার সাংগঠনিক তৎপরতা শক্তিশালী করেন। সিরাজ সিকদারপন্থী একদল তরুণকে প্রাথমিক পর্যায়ে বাছাই করা হয় প্রশিক্ষণের জন্যে। কর্নেল তাহেরের জন্যে এ প্রশিক্ষণ ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যারা প্রশিক্ষণে অংশ নেন তাদের সবাই তার অপরিচিত। একজন সামরিক অফিসারের এমন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল বিপজ্জনক। অবশ্য ওই প্রশিক্ষণ দীর্ঘ হয়নি। সিরাজ সিকদার হঠাৎ প্রশিক্ষণ বন্ধ করে দেন। যুক্তি দেন, একজন পেটি বুর্জোয়া সামরিক অফিসারের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া নীতিগতভাবে সঠিক নয়। (সিরাজ সিকদার রচনাবলী, ৩য় খণ্ড)।
এ ব্যাপারে কর্নেল তাহেরের ভাই আনোয়ার হোসেন বলেছেন, এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করলাম। কিন্তু সিরাজ ভাই তার সিদ্ধান্তে অটল রইলেন। তার আশঙ্কা ছিল, প্রশিক্ষণার্থীরা যেভাবে তাহের ভাইয়ের ভক্ত হয়ে উঠছে তাতে তিনিই না প্রধান নেতা হয়ে ওঠেনঃ (সাপ্তাহিক সময়, ২য় বর্ষ, সংখ্যা ১৭)।
পাদটিকা: কর্নেল তাহের একটি মহত্তম লক্ষ্য নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন সিরাজ সিকদারকে। তারা দুজনই ছিলেন দেশপ্রেমিক। কিন্তু বিডিআরের পলাতক সদস্যরা যদি দুর্ভাগ্যক্রমে প্রশিক্ষণ দেয় গুপ্তঘাতকদের তাহলে দেশের অন্ধকার আরো দীর্ঘ হবে। এদের রুখতে হবে এখনই।
ই-মেইল: [email protected]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


