somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছাত্রলীগের উপর হতে অন্যায় এবং অবৈধ চাপ তুলে নেয়া হোক

০৯ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৯:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




দলীয় হাইকম্যান্ডের সূরে সূর মিলিয়ে কেন্দ্রীয় নেন্ত্রীবৃন্দ, বুদ্বিজীবি, সাংবাদিক সহ আওয়ামী ঘরনার সব অংশ হতে অংগ সংগঠন ছাত্রলীগকে বলি করা হচ্ছে চাদাবাজির ফিকির তুলে। লক্ষ্যনীয়, নেত্রী মুখ খোলার আগে এই তোতা পাখির দল যেন কিছুই দেখেনি, কিছুই বুঝেনি। অবাক হবনা যদি কোন এক সকালে পত্রিকা খূলে দেখি আওয়ামী আইনজীবি সমিতি ছাত্রলীগের কথিত অপকর্মের বিরুদ্বে সোচ্চার হওয়ার জন্যে নেত্রীকে "Angel of Salvation" উপাধি দিয়ে তৈলমর্দন শুরু করে দিয়েছে! ছাত্রলীগের বিরুদ্বে এহেন বিশেষদ্গার অবৈধ, অন্যায় এবং দেশীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে hippocratic. ব্যপারটা খোলাসা করার জন্যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ঝুলি হতে একটা উদাহরন টানছি।

আমাদের জেলা শহরে তখন ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ঘটছে হু হু করে, চারদিকে হৈহৈ রৈরৈ কারবার। পরিকল্পনাহীন এবং কাঠামোগত সাপোর্ট ছাড়াই যত্রতত্র গড়ে উঠছে শিল্প-কারখানা। বার বার তাগাদা এবং বিপুল অংকের টাকা ঘুষ দেয়া সত্বেও বর্জ্য পদার্থ নিস্কাসনের কোন ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় পৌরসভা। স্বভাবতই একটা পর্য্যায়ে শহরের খাল-বিল, ডোবা, নর্দমা ভরে উঠে রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থে। এমন একটা মোক্ষম সময়ের জন্যেই বোধহয় ওৎ পেতেছিলেন স্থানীয় আওয়ামী চেয়ারম্যান। দলীয় ক্যডার দিয়ে আটকে দেন শহরের নিস্কাষন ব্যবস্থা, পাশাপাশি রাতের আধারে প্রতিটি কারখানায় ব্যক্তিগত দূত পাঠান সমস্যার সমাধান দিয়ে। কারখানা প্রতি ৩ লাখ টাকা ঘুষ, মোট টার্গেট ১ কোটি টাকা। মিয়ার ব্যাটার মত সেই একই হুমকি, " ... হয় টাকা নইলে কারখানা..."। ১৩টা খুনের হুকুমের আসামী এই বংগবন্ধু সৈনিক জীবনের একটা সময় দুমুঠো আহারের জন্যে পরিবারিক সহকারী হিসাবে আমাদের নিত্যদিনের বাজার-সদাই করতেন, যার কারনে আমাদের কারখানার জন্যে ধার্য্য করা হয় ২ লাখ টাকা (ডিসকাউন্টেড!)। ৭৫ লাখ টাকা আদায়ের মাধ্যমে খুলে দেয়া হয় শহরের নিস্কাষন ব্যবস্থা। খবরটা সময়মত পৌছে যায় পঞ্চমশ্রেনী ফেল, চার বিবির স্বামী স্থানীয় বিএনপির সাংসদের কানে। ঢাকা হতে জরুরী তারের মাধ্যমে মাঠে আনা হয় তৎকালিন পরিবেশ মন্ত্রী আকবর হোসেনকে। শুরুহয় চাদা আদায়ের নতুন খেলা। মন্ত্রীকে ৫ লাখ এবং এমপিকে ৫ লাখ দিয়ে খোলাহয় কারখানার দুয়ার। সমস্যার কেবল মাত্র শুরু যেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল প্রতি কারখানায় ২/৩ জন সসস্ত্র ক্যাডার বসিয়ে বন্ধ করে দেয় কারখানার চাকা, রাতের আধারে আসতে শুরু করে বাকি পিপড়ার দল; থানা, পুলিশ, এসপি, ডিসি, সাংবাদিক... সবার কিছু চাই, কারন পরিবেশ দূষিতকরনের মূল্যত দিতেই হবে! বিএনপির পতন এবং আওয়ামী উত্থানের পর একই সমস্যার পূনঃজন্ম হয়, আবারও চলে টাকার খেলা। এবার শুধু ছাত্রদলের বদলে মাঠে নামে ছাত্রলীগ!

ঘটনাটার সারমর্ম হচ্ছে, সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার সহ প্রশাষনের সর্বস্তরে যদি নীরব চাদাবাজি বৈধ হয় তাহলে ছাত্রদের বেলায় এমন দ্বিমূখী মনোভাব কেন? বরং প্রকাশ্য চাদাবাজির কিছু ভাল দিক রয়েগেছে, যেমন, চাদাবাজরা ভাল সাজার চেষ্টা করেনা, নিজদের চেহারা লুকাতে রাতের আধারে হাজির হয়না, তৃতীয় কাউকে পাঠায়না। আমার দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পরিষদের জন্যে চাদা আদায় আর ছাত্রদের টেন্ডারবাজির মধ্যে মৌলিক কোন পার্থক্য নেই, আছে গুনগন পার্থক্য। একজন করে মাথায় ঘোমটা দিয়ে আর ছাত্ররা করে প্রকাশ্যে, হাতে নাংগা তলোইয়ার উচিয়ে।

তাই আসুন, আমরা সোচ্চার হই ছাত্রদের স্বার্থ রক্ষার্থেঃ ছাত্রলীগের চাদাবাজি চলছে চলবে, ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজি বৈধ কর বৈধ কর...। জয়বাংলা!!!
১৫টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×