সামরিক বাহিনীতে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ছে, তারা ভালোও করছেতরুণদের কাছে আর্মি অফিসার একটি লোভনীয় ও মর্যাদাপূর্ণ ক্যারিয়ার। সামরিক বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার পদে যোগদানের মাধ্যমে দেশ সেবার পাশাপাশি ব্যক্তিত্বের বিকাশ, উন্নত জীবন, বিদেশ ভ্রমণ, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, আরলি এস্টাবলিশমেন্ট এবং দুঃসাহসিক নেতৃত্বের স্বপ্নময় ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ রয়েছে। শান্তিরক্ষী বাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে নতুন করে তুলে ধরেছে কর্মকর্তারা। প্রতি বছর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীতে দুই বার অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়। সাধারণত মে-জুন এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে দৈনিক পত্রিকায় সার্কুলার দেয়া হয়। সামরিক বাহিনীতে অফিসার পদে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। প্রতিটি ধাপ উত্তীর্ণ হয়ে একজনকে সামরিক অফিসার হতে হয়। বিমান ও সেনাবাহিনীতে এইচএসসি পাস সব গ্রুপের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারলেও নৌবাহিনীতে কেবল বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্ররা আবেদন করতে পারে।
ে যোগ্যতা : সেনা ও বিমানবাহিনীতে আবেদনের জন্য একজন প্রার্থীকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ-৩/দ্বিতীয় বিভাগ এবং নৌবাহিনীর জন্য জিপিএ-২.৫/দ্বিতীয় বিভাগ থাকতে হয়। সেনা ও নৌবাহিনীতে ১৭-২১ বছর এবং বিমানবাহিনীতে ১৬ বছর ৬ মাস থেকে ২১ বছরের মধ্যে আবেদন করতে হয়। তবে প্রার্থীর উচ্চতা অবশ্যই ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি হতে হবে।
ে প্রাথমিক নির্বাচন : সেনা ও নৌবাহিনীর প্রার্থীদের আবেদনপত্র জমাদানের ১ মাসের মধ্যে প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয়। প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষার প্রথমে স্বাস্থ্য এবং পরে মৌখিক পরীক্ষা হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় প্রার্থীর উচ্চতা, ওজন, বুকের মাপ, চোখ, হাটু, কান, নাক, পায়ের পাতা ও চর্মরোগ পরীক্ষা করা হয়। যারা উত্তীর্ণ হয় তাদের ওইদিনই মৌখিক পরীক্ষা দিতে হয়। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীদের সাধারণ জ্ঞান ও কমিউনিকেশন স্কিলের ওপর দক্ষতা যাচাই করা হয়। মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রার্থীকে নিয়মিত পত্রিকা পড়তে হবে। ইংরেজিতে কথা বলা প্র্যাকটিস করতে হবে। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। অন্যদিকে বিমানবাহিনীর প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর।
ে লিখিত পরীক্ষা : মৌখিক পরীক্ষার ৭-১৫ দিন পর সেনা ও নৌবাহিনীর লিখিত পরীক্ষা হয়। সেনা বাহিনীতে সাধারণ জ্ঞান (৫০ নাম্বার), বাংলা (৫০ নাম্বার), সাধারণ গণিত (৫০ নাম্বার) এবং ইংরেজি (৫০ নাম্বার)। মোট ২০০ নাম্বারের পরীক্ষা হয়। মূলত মাধ্যমিক শ্রেণীর বই অনুসরণ করে প্রশ্ন করা হয়। নৌবাহিনীর প্রার্থীদের এইচএসসির পদার্থ (১০০ নাম্বার), গণিত (১০০ নাম্বার), ইংরেজি (১০০ নাম্বার) এবং সাধারণ জ্ঞান (১০০ নাম্বার) বিষয়ে মোট ৪০০ নাম্বারের পরীক্ষা হয়। বিমানবাহিনীর প্রার্থীদের আবেদনপত্র জমাদানের দিনই লিখিত পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়। ওইদিন প্রথম ১০০ নাম্বার আইকিউ (ভার্বাল+ননভার্বাল) টেস্ট ইংরেজিতে দিতে হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে আইকিউ টেস্টের রেজাল্ট দেয়া হয়। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজি (১০০ নাম্বার) পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়। রেজাল্ট ওইদিনই বিকেলে প্রকাশ করা হয়। উত্তীর্ণদের পরের দিন প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষা দিতে হয়। এউ(ঢ়)তে আবেদনকারীদের অ্যাপটিটিউড টেস্ট দিতে হয়। তিন বাহিনীর ইংরেজি পরীক্ষা প্রায় একই রকম। প্রশ্নে সাধারণত ফ্রেইজেস অ্যান্ড ইডিয়মস, কারেকশন, ফিল ইন দি ব্লাঙ্ক, পেয়ার অফ ওয়ার্ডস, ট্রান্সলেশন, প্যারাগ্রাফ, কম্পৃহেনশন এবং সেন্টেস মেকিং থাকে।
ে আইএসএসবি (ইন্টার সার্ভিস সিলেকশন বোর্ড) : তিন বাহিনীর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ফল প্রকাশের ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ব্যাচভিত্তিক (৮০-১০০ জন) আইএসএসবিতে ডাকা হয়। এ পরীক্ষায় প্রার্থীদের ব্যক্তিত্ব ও সামরিক বাহিনীতে অফিসার হিসেবে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিরূপণের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট গুণাবলি অনুসন্ধান করা হয়। মূলত এটি বিজ্ঞানসম্মত মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া, যা অফিসার পদের প্রার্থীদের যোগ্যতা নিরূপণে চূড়ান্ত ধাপ। প্রার্থীকে এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আইএসএসবি কেন্দ্রে চার দিন অবস্থান করতে হয়।
প্রথম দিন : আইএসএসবি কেন্দ্রে প্রার্থীকে কলআপ লেটারে বর্ণিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে উপস্থিত হতে হয়। কর্তব্যরত অফিসার অস্থায়ী চেস্ট নাম্বার প্রার্থীদের প্রদান করেন। এরপর প্রার্থীকে ১০০ নাম্বারের আইকিউ (ভার্বাল ও ননভার্বাল) টেস্টে অংশগ্রহণ করতে হয়। পরীক্ষার কিছুক্ষণ পরই ফলাফল জানানো হয়। অকৃতকার্যদের স্কৃন্ড আউট করে দেয়া হয়। উত্তীর্ণদের পিপিডিটিতে (পিকচার পারসেপশন অ্যান্ড ডেসক্রিপশন টেস্ট) অংশগ্রহণ করতে হয়। স্কৃনে একটি ছবি দেখানো হয় যা থেকে ধারণা করে বয়স, লিঙ্গ এবং বর্ণনা করতে হয় কি করছে তা। পরে আলাদা আলাদা গ্রুপ করে আলোচনা করে এবং যারা অকৃতকার্য হয় তাদেরও স্কৃন্ড আউট করে দেয়া হয়। উত্তীর্ণদের নতুন ও স্থায়ী চেস্ট নাম্বার দিয়ে প্রতি গ্রুপে সাত-আটজনকে নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হয়। তারা চার দিন আইএসএসবিতে থাকতে পারে। ওইদিন বিকেলে প্রার্থীদের সাইকলজিকাল টেস্ট দিতে হয়। বায়োডাটা পূরণ, ইংরেজি ও বাংলা রচনা লিখন, ওয়ার্ড অ্যাসোসিয়েশন, অসম্পূর্ণ বাক্য সম্পূর্ণকরণ, বাংলা ও ইংরেজি গল্প সম্পূর্ণকরণ, ছবি দেখে বাংলা ও ইংরেজি গল্প লেখা এবং আত্মসমালোচনা সাইকলজিকাল টেস্টের অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয় দিন : প্রার্থীর জিটিও (গ্রাউন্ড টেস্টিং অফিসার)-এর কাছে ইংরেজি ও বাংলা দলগত আলোচনা, দলগত বাধা অতিক্রম (চএঞ) অর্ধদলগত কাজ (ঐএঞ) উপস্থিত বক্তৃতা এবং ব্যক্তিগত বাধা অতিক্রম (ওঙ) টেস্টগুলো দিতে হয়। ওইদিনই কিছু কিছু প্রার্থীর ডেপুটি প্রেসিডেন্টের (উচ) কাছে ভাইভা দিতে হয়। প্রার্থীদের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এতে অনেক স্পর্শকাতর প্রশ্ন করা হয় যার মাধ্যমে প্রার্থীর মানসিক দক্ষতা, যোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাস পরীক্ষা করা হয়। তবে প্রার্থীদের সাধারণ বিভিন্ন পরিকল্পনা, সাধারণ জ্ঞান, পরিবার, আত্মীয়স্বজন, পাঠ্যপুস্তক, নিজ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় এবং বিশেষ করে ইংরেজিতে দক্ষতা যাচাই করা হয়। এই ভাইভার কোনো সময়সীমা নেই, সম্পূর্ণ উচ-র ওপর নির্ভর করে। অনেককে দেড়-দুই ঘণ্টাও পরীক্ষা দিতে হতে পারে।
তৃতীয় দিন : এই দিন পরিকল্পনা অনুশীলন, কমান্ড টাস্ক (ঈঞ), জিটিও ভাইভা এবং পারফরম্যান্স মূল্যায়ন টেস্টে অবতীর্ণ হতে হয়। যাদের দ্বিতীয় দিন উচ ভাইভা হয় না তাদের এই দিন দিতে হয়।
চতুর্থ দিন : দুপুরে লাঞ্চের পর রেজাল্ট দেয়া হয়। তবে ওইদিনও যাদের নিয়ে সন্দেহ এবং বিতর্ক থাকে তাদের সাইকলজিস্ট, জিটিও এবং উচ-এর উপস্থিতিতে ভাইভা দিতে হয়। প্রার্থীকে আবার যাচাই করা হয়। কৃতকার্য প্রার্থীদের সবুজ ও অকৃতকার্যদের লাল রঙের কার্ড প্রদান করা হয়। অকৃতকার্যরা সর্বোচ্চ দুইবার আইএসএসবি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
ে চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা : আইএসএসবি উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। দুই থেকে সাত দিন ধরে চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রার্থীর রক্ত, প্রস্রাব, ত্বক, কান, নাক, চোখ ও সার্জিকাল টেস্ট করা হয়। যারা এ পরীক্ষায় বাদ পড়ে তারা আর সামরিক বাহিনীতে আবেদন করতে পারে না।
ে চূড়ান্ত নির্বাচন : চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সেনাবাহিনীর প্রার্থীরা চূড়ান্তভাবে এর মাধ্যমেই নির্বাচিত হয়। কিন্তু নৌ ও বিমানবাহিনী প্রার্থীদের সিএনএস ভাইভা দিতে হয়। উল্লেখ্য, এ থেকেও কিছু প্রার্থী বাদ পড়ে। যারা কৃতকার্য হয় তাদের ১৮ মাস সফল ট্রেনিং শেষে সেকেন্ড লেফটেনান্ট সমমর্যাদার পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন
সেনা বাহিনী : কমিশন তথ্য সেল
৮৭৫০০১১, এক্স- ২৪৮২ (সরাসরি)
নৌবাহিনী : নৌবাহিনী সদর দফতর
বনানী, ঢাকা-১২১৩
বিমানবাহিনী : বিমানবাহিনী তথ্য ও নির্বাচনী কেন্দ্র (পুরনো বিমানবন্দর)
তেজগাও, ঢাকা-১২১৫
ফোন : ৮৮২৮০১১-২০/৮৮২৭৬১১-২০
আলোচিত ব্লগ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।