আমার প্রিয় পোস্ট

ভালো আছি ভালো থেকো

তাবলীগে মজার কুকৃর্তি

১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:২৯

শেয়ারঃ
0 0 0

তাবলীগী থেকে যত চাই দূরে থাকেতে , তারা তত বেশি পিছে লাইগা থাকে। একবার ধরতে পারলে ১০-১৫ মিনিটের একখান আজাইরা মগজ ধোলাই দিয়া কইব, কবে যাইবেন তিন দিনের লাইগা কন? নিয়ত করেন সওয়াব পাইবেন, পরে যাইতে না পারলে কোন মাসলা নাই। এইভাবে যামু কইয়া কত যে সওয়াব কামাইছি হেইডা ফেরেস্তারা ভালো জানে, কিন্তু আমি আল্লার বান্দা একবার ও যাইনাই তাব্লীগে। সবশেষে আইসা ধরা খাইলাম ২০০৪ সালে নতুন নামায ধরা এক বিতলা দোস্তের লাইগা। ওই হালার কি হইচে জানিনা হঠাত নামায পড়া ধরছে (ওই প্রথম জানতে পারছিলাম নামায নামের কিছু একটা যে আছে তা ও জানে) , মাইয়া দেখলে মাথা নিচু কইরা রাখে( মাইয়া না দেখলে নাকি আখেরাতে বেশি হুর পাওন যায়)। অনেক বুঝাইলো তিন দিনের লাইগাতো অন্তত ঢাকার বাইরে যাওন হইবো। না বলার আর উপায় খুজে না পাইয়া ব্যাগ গোছাইলাম। বাসায় শুইনা তো সবায় টাসকি খাইলো, আমার আবার কি হইলো! কারো বিশ্বাস হয়না, শেষে হুজুররে আনা লাগলো বাসার অনুমতি নিতে।
প্যাভেলিয়নগামী বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের(যথাসম্ভব ভালো খেলার চেস্টা করেও ব্যর্থ) মতন হাটতে লাগ্লাম ব্যাগ কাধে নিয়া। বাসে উঠলাম,গন্তব্য গাজীপুর। বিকেলে পৌছালাম গাজীপুরের গ্রাম্য আবহের একটি ছোট্র মসজিদে। তাবলীগী কাম সাইরা রাত ১০টায় কইলো ঘুমাইতে যাও। মনে মনে কইলাম এইটা আবার কোন শাস্তি,দশটায় ঘুমাইতে কয়।২ দোস্ত আর হুজুররে(আমাদের আমির) ঘুমাইতে দিলো মসজিদের সাথে একটা কাচারি ঘরে (এইডা ও আলাদা খাতির)। ২ ঘন্টা শুয়ে থাকার পরও যখন ঘুম আসেনা তখন দোস্তরে টয়লেট যাওনের কথা বলে বাইরে এনে প্রথমে ৫ মিনিট দিল খুইলা গালি দিলাম, তারপর ২জন মিলে ঘুরলাম পুরা এলাকা। বিড়ি সিগারেট খেয়ে রাত সাড়ে তিনটায় ঘুমাইলাম।
কিন্তু হুজুরের বেটা ৫টায় তুইলা দিল নামায পড়তে, অনেক দিন পরে জামাতে ফজর পড়লাম।তারপর থেকে সারা দিন চলল মনের বিরুদ্দে তাবলীগের কার্যক্রম। বিকেলে বাড়ি বাড়ি গেলাম দাওয়াত দিতে। বয়সের দোষে আমাদের চোখের নজর থাকে বাড়ির ভিতরের দিকে, দুই এক জায়গায় সামান্য সাড়াও পেয়েছিলাম মনে হল কিন্তু আমাদের সুখ আমির সাবের সইবো কেন, কইলো তোমরা ২ জন সবার পিছনে থাকবা।তারপর পিছন পিছন সিগারেট খাইয়া পার করলাম বাকি সময়।রাতে আবার ও সেই অবস্থা।
দুই দিনের বিরক্তির পর ৩য় দিন বিতলামি করার খায়েশ হইলো। আমাগোরে বানাইছিলো ঐদিনের খাদেম। রান্না কইরা খাওয়াইলাম আর মনে মনে গালি দিতে থাকলাম সবায়রে। হুজুর সাব খুব কইরা খাইতে খাইতে কইলেন রান্না খুব মজার(!!) হইচে। আর আমরা মনে মনে হাসতে লাগলাম আসল মজার কথা চিন্তা কইরা (...টের পাইবা মামা ...অহন মজা কইরা লও)।খাবারের পর চা বানাইলাম, হুজুরেরটা বানাইলাম একটু যত্ন করে। সবায় চা খাইয়া ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিদায় নিয়া নিলাম।ফজর পইড়া যে যার পথে চইলা যাইবো, আমরা তিন জন যামু ঢাকা।
কিন্তু ঘুম থেইক্যা উইথা টাসকি খাইয়া গেছি। আগের ২ দিন উঠতাম হুজুরের ডাকে আর আজ উঠলাম মুখে রোদ এসে পড়ায়। উইঠা দেহি বাজে ১০টা, হুজুর তখন ও নাক ডাইকা ঘুমায়। তাড়াতাড়ি ব্যাগ নিয়া বাইর হইয়া পড়লাম ২ জন মিল্যা। ঢাকার বাসে উঠলাম, পকেটে হাত দিয়া সিগারেট নিতে গিয়ে দেখি ঘুমের ট্যাবলেট আছে আরও ২ টা। বাকী ৩টা রাতে হুজুরের চায়ের সাথে দিছিলাম। ট্যাব্লেট ২টা বের করে আমরা খেয়ে নিয়া বাসে ঘুমাইয়া পড়লাম। ঘুম থেকে উঠলাম ড্রাইভারের ডাকে।

এরপর ও ঐ হুজুররে দেখতাম মাঝে মাঝে কিন্তু আমাগো কাছে আর আসে নাই।ঐবার তাবলীগে গিয়া বিরক্ত হইলে ও
তাবলীগী ভাইদের সাদামাঠা জীবনটা মনে ধরছিলো। পরে নিজের ইচ্ছায় ২বার গেছিলাম ... ভালো লেগেছে।

 

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:১২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৩৮
কৌশিক বলেছেন: ছিছিছি - ঘুমের ঔষধ!
৩. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৪১
শান্তির দেবদূত বলেছেন: আপনে কি নিয়তে এই লেখা লিখেছেন তা আল্লায় জানে ........ তবে আপনার পুরা লেখা, শব্দচয়ন, প্রকাশভঙ্গির সাথে আপনার শেষ লাইন, "... ভালো লেগেছে।" - এর কোন মিল পেলাম না.........

আমার মনে হয়েছে আপনি কোন কারনে প্রচন্ড ক্ষোভ পুষে আছে তবলিগের বিরুদ্ধ্যে ........ যাই হোক ভালো থাইকেন ........
১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:১১

লেখক বলেছেন: তাবলীগীর জীবনাদর্শ আমার ভালো লেগেছে কিন্তু আমি নিজে তাবলীগ করবো এটা পছন্দ করি না। তাবলীগের বিরুদ্দে আমার তেমন কোন ক্ষোভ নেই,কিন্তু কিছু জিনিস আমার পছন্দ না যেমন- মসজিদে ঘুমানো, একই কথা বারবার বলা, মানুষকে তার মনের বিরুদ্দে ধরে নেয়ার চেষ্টা ইত্যাদি। শব্দ চয়ন আমার লেখনির দুর্বলতা, তাবলীগের বিরোধিতা নয়।

৪. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৫০
শান্তির দেবদূত বলেছেন: লেখাটা ডাবল হয়ে গেছে ........ এডিট করে দেন .......।
৫. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:০২
হুমায়ুন বলেছেন: **** "তাবলীগে গিয়া বিরক্ত হইলে ও
তাবলীগী ভাইদের সাদামাঠা জীবনটা মনে ধরছিলো। পরে নিজের ইচ্ছায় ২বার গেছিলাম ... ভালো লেগেছে"।


অবশেষে স্বীকার করলেন তাবলীগ জামাত ভাল কাজ করছে।

আমি এখনও যাই নাই।

আল্লাহ আপনাকে হেদায়ত করুন।
১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:১৬

লেখক বলেছেন: তাবলীগ খারাপ তা আমি বলিনি।আমি শুধু একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছি যা আমার সাথে হয়েছে।

৬. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:২০
শান্তির দেবদূত বলেছেন: তাবলীগীর জীবনাদর্শ আমার ভালো লেগেছে কিন্তু আমি নিজে তাবলীগ করবো এটা পছন্দ করি না ----- একটু কন্টাডিক্টরি হয়ে গেল না ?

আর তাবলীগ যারা করে তারাতো আপনার আমার মতই ভালো মন্দ, দোষ ত্রুটিযুক্ত মানুষই, তাই না। তারা তো একএক জন ফেরেস্তা না.....

এই যে জোর করা, একই কথা বারবার বলা, এইসব কিন্তু মানবীয় দোষ, ব্যক্তিভেদে এর হেরফের হবেই, তাই না ? এইটা আসলে দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার।

আর মসজিদে ঘুমানোর ব্যাপারে আপনার অপছন্দের কারন বুঝতে পারিনি। এইটা কি ব্যাক্তিগত অপছন্দ নাকি মতাদর্শের বিরোধ ?
৭. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৫২
অনিকেত প্রান্তর বলেছেন: কন্টাডিক্টরি হওয়ার কথা নয় কারন ভালো
লাগাটা মতাদর্শ আর তাবলীগ করতে না যাওয়া ব্যক্তিগত অনীহা।
তথাপি আমি ২ বার গিয়েছি তাও বলেছি। কিছু জিনিস আছে যেটা আমরা ভালো বলে জানলেও
বাস্তবে পালন করি না...এইটা আমার জন্য তেমন একটা বিষয়।
লক্ষ্য করুন তাবলীগ নির্বাচিত হাদীসের সংগ্রহ নিয়ে কথা বলে থাকে কিন্তু ইসলাম একটি পুর্ণাংগ জীবন বিধান,
তাই একই কথায় সীমাবদ্ম না থেকে তাবলীগ আরো বিস্ত্রৃত হওয়াটা ঠিক নয় কি?
মসজিদে ঘুমানো আমার ব্যক্তিগত মতাদর্শ বিরোধি। আমি মনে করি মসজিদ ইবাদতের জায়গা আর ঘুম
মানুষের একান্ত একটি বিষয়। তাই মসজিদে ঘুমানো যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করি না।
৯. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৩
বিডি আইডল বলেছেন: ঘ্যানী লোকের ঘ্যানী পুষ্ট, তাবলীগে ঘুমের বড়ি নিয়া কি জন্য গেলো তাই তো বুঝলাম না, ইনসমনিয়া?
১০. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:২৮
নিরক্ষর বলেছেন: মসজিদে এতেকাফের নিয়তে ঘুমানো জায়েজ। এটা ব্যাক্তিগত পছন্দ/অপছন্দের বিষয় নয়।
তাবলীগ সম্বন্ধে আপনার ধারনা খুবই অল্প মনে হয়। বিস্তারিত জানতে কমপক্ষে ৪০ দিন সময় তাবলিগে কাটিয়ে আসুন। আশাকরি সকল প্রশ্নের উত্তর পাবেন ।
২০ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:৫৬

লেখক বলেছেন: আগেই তো ভালো ছিলাম, তিন দিনের জন্য বলতো...আপনি তো দেখি প্রথম মোলাকাতেই চল্লিশ দিনের কথা বলে দিলেন।
@বিডি আইডলঃ ঘুমের বড়ির কথাটা হঠাত মাথায় এসেছিলো তখনই কিনে আনলাম দকান থেকে।

১১. ২০ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:০৮
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: এত কাল মনে করতাম আমিই একমাত্র পোলা যারে তাবলীগ আইপি শুইদ্ধা ব্যান করছিলো মাগার আপনে তো দেহি পুরা ছক্কা মাইরা মক্কা পাঠাই দিছেন!

প্রিয়তে রাখলাম!
১২. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৭
দেবদারু বলেছেন: হাঃ হাঃ হাঃ..................
১৩. ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৭
লাল সবুজের চিঠি বলেছেন: আসলে আমি মনে করি তাবলিগ যা করে তা যথেষ্ট ভালো কাজ কিন্তু ওখানে গিেয় মানুষকে খালি তালিমের কথা না বলে ৫ ওয়াক্ত নামাযের ব্যাপারে আরো আহবান করা উচিত।আর কাউকে জোর করা আমি সমর্থন করি না।
১৪. ০৮ ই মে, ২০০৯ সকাল ১১:৫৫
কুচ্ছিত হাঁসের ছানা বলেছেন: হুজুর আছে দুই ক্যাটাগরীর, তাবলীগ আর শিবির।
শিবিরের চেয়ে তাবলীগ হাজার গুণে ভাল, অরা শুধু আখেরাতের দাওয়াত দেয়, জামাতের গুণগান গাইয়া দেশটারে পাকিস্তান বানানোর স্বপ্ন দেখতে কয় না।
১৫. ১৮ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:২৩
অকপট শুভ্র বলেছেন: নামাজের জন্য রাসুল (স) নাকি প্রয়োজনে পিটাইতেও বলেছেন যদি তাতেও কাজ না হয় তাহলে পরিবার থেকে আলাদা করেদিতেও বলেছেন। আজকাল বাবা-মা রা ওটার ধারেকাছেও যান না তাই তাবলীগ বা অন্য কেউ জোর করলে খারাপ কি?
নামাজের ব্যপারে বিন্দুমাত্র মাফ নাই
১৬. ২৪ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৪
অলস ছেলে বলেছেন: কি বান্দর! কি বান্দর!

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৮৪৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই