somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জ্যান্ত কবর!

০৮ ই অক্টোবর, ২০১১ সকাল ৯:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গা শিউরানো জ্যান্ত কবর দেওয়ার ঘটনা অনেক ঘটেছে, জেনে হোক বা না জেনে। একটা সময় ছিল, যখন কাউকে শাস্তি হিসেবে কোনো কফিনে ভরে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হতো। তবে সব সময় যে শাস্তির জন্যই জ্যান্ত কবর দেওয়া হতো, তা নয়; কখনো কখনো ভুলে জ্যান্ত মানুষকে মৃত মনে করে কবর দিয়ে দেওয়া হতো। এভাবে কবর দেওয়ার ফলে বেশির ভাগ সময়ই জীবিত মানুষটা মাটির নিচেই দম বন্ধ হয়ে কিংবা খাবারের অভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে মারা পড়ে। মৃত্যুর আগেই যদি ভুলে জ্যান্ত কবর দিয়ে দেওয়া হয়_এই ভয়ে জর্জ ওয়াশিংটন মৃত্যুশয্যায় ভৃত্যদের শপথ করান, তাঁর মৃত্যুর পর ১২ দিন পার না হলে যেন তাঁকে কবর না দেওয়া হয়। ১৮৯০ সালের দিকে অনেক রোগীকেই মৃত মনে করে মর্গে পাঠিয়ে দেওয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে।


♦ দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ১৮৫১ সালে মারা যান ভার্জিনিয়া ম্যাকডোনাল্ড। কিন্তু তাঁকে কবর দিয়ে দেওয়ার পর মায়ের মনে হতে থাকে, তাঁর মেয়ে বুঝি এখনো বেঁচে আছে। ভার্জিনিয়ার কফিনটি তুলে আনার পর দেখা যায়, 'মৃত' ভার্জিনিয়ার হাত দুটি ক্ষতবিক্ষত। কফিনের গায়ে আঁচড়ের ধরন দেখেই অনুমান করা যায়, কতটা চেষ্টা করেছিল সে কফিন থেকে বেরিয়ে আসার।


♦ ১৮৯৬ সালে 'মৃত' ঘোষণার পর ম্যাডাম ব্লনডেনকে সমাহিত করা হয় একটি স্কুলের নিচে। কিন্তু স্কুলের বাচ্চারা যখন মাটির নিচ থেকে শব্দ শুনতে পাওয়ার অভিযোগ করে, তখন আবার কফিন ওপরে তুলে আনা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, সে সময় ব্লনডেন ছিলেন জীবনের অন্তিম মুহূর্তে, অল্প অল্প শ্বাস নিতে নিতেই ত্যাগ করেন শেষ নিশ্বাস।


♦ ১৮৮৬ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবর অনুসারে, কলিন্স নামের একটি ছোট্ট মেয়ে হঠাৎ মারা যাওয়ার পর তাকে সমাহিত করা হয়। কিন্তু পরে আবার তার কফিন খোলার পর দেখা যায়, তার হাত, পা আর মুখের অভিব্যক্তি ছিল ভীষণ অস্বাভাবিক, যা তাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার ব্যাপারটি প্রমাণ করে।


♦ ১৮৮৯ সালে দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের একটি খবরে গ্রেনোবলে সমাহিত করা একটি অজ্ঞাত লোকের কাহিনী ছিল। লোকটিকে মৃত ঘোষণা করার পর যখন তাঁর কফিনটি মাটিতে রাখা হচ্ছিল, তখন হঠাৎই ভেতর থেকে গোঙানি আর হাতড়ানোর শব্দ শোনা যায়। কিন্তু যতক্ষণে কফিনটি খুলে তাঁকে বের করে আনা হয়, ততক্ষণে তিনি দম বন্ধ হয়ে মারাই গেছেন। প্রায় একই ধরনের ঘটনার খবর প্রকাশিত হয় ১৮৩৮ সালে, দ্য সানডে টাইমসে।


♦ ১৮৭৭ সালে দ্য ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে এক মহিলার কথা বলা হয়, যাঁকে মৃত ঘোষণার পর সমাহিত করা হয়। কিছুদিন পর যখন আরেকটি মৃতদেহ দাফনের জন্য তাঁর কবর খোঁড়া হয়, তখন দেখা যায়, তাঁর শরীরটি ভীষণ বাঁকানো। এমন ঘটনা ঘটে ১৮৮৪ সালে মিস হকওয়াল্টের বেলায়ও।


♦ ১৮৭১ সালে ১৭ বছর বয়সী ম্যারি নোরাহ বেস্টকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে ধারণা করা হয়, তার মৃত্যুতে অনেকে উপকৃত হবে বলেই হয়তো তাকে তড়িঘড়ি সমাহিত করা হয়েছিল। ১৮৮১ সালে কফিন খুলে ম্যারির কঙ্কালটি পাওয়া যায় বসা অবস্থায়!


♦ ১৯০১ সালে মাদাম ববিন ইয়েলো ফিভারে আক্রান্ত হন। সে সময় তিনি ছিলেন গর্ভবতী। তাঁকে মৃত ঘোষণার পর যখন সমাহিত করা হচ্ছিল, তখন তাঁর নার্সের মনে হচ্ছিল, যেন তাঁর শরীরটা গরম আর পেশিগুলোও খুব একটা শক্ত নয়। পরে তার কফিন খুলে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। তিনি সেখানেই একটি বাচ্চা প্রসব করেছেন আর তারা দুজনই শ্বাস আটকে মারা যায়।


কপি-পেস্ট এখান থেকে
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×