somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতিকাতরতা ঃ নটরডেম পর্ব

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৬:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উৎসর্গঃ Notre Dame Family

আমার দীর্ঘ জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া পৃথিবী নামক এই অদ্ভুত গ্রহের সবচেয়ে সুন্দর দেশে সবচেয়ে ভালো বাবা-মায়ের ঘরে জন্মগ্রহণ আর তারপরের পাওয়া হচ্ছে নটরডেম লাইফ।

ইদানীং প্রায়শই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। বুঝিনা কেন এমন হয়! নিজেকে প্রশ্ন করি। উত্তর পাই না। নটরডেম কলেজের পাশ দিয়ে যাবার সময় কেমন জানি লাগে। আবেগটা বুঝতে পারিনা। একদিন হঠাৎ করে ঢুকে পড়েছিলাম ক্যাম্পাসে, সঙ্গে ছিল প্রিয় বন্ধু !@@!502575। হঠাৎ নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়লাম। দু্থজন পুরোনো গল্প করি, কলেজ থেকে বেরিয়ে হেঁটে যাই জসীম উদ্দিন রোড, কমলাপুর প্ল্যাটফর্ম ধরে দু্থজনে হাঁটি। কমলাপুরের যে রেস্টুরেন্টে রাত ২-৩টায় গিয়ে কালাভূনা দিয়ে পরোটা খেতাম সেখানে গিয়ে বসি। আহা! আমার রঙীন দিনগুলো। মাঝে মাঝে মনে হয় বুড়ো হয়ে গেছি- ভাবনা-চেতনায়।

কবিতা ভালোবাসি অসম্ভব। দু্থএক লাইন নিজেও লিখেছি। কলেজের সাহিত্য পত্রিকায় একটা কবিতা দিয়েছিলাম। সোহেল স্যার আর তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা কবিতায় এমনভাবে কলম নামের ছুরি চালিয়েছিল যে ছাপানো কবিতা হাতে আহাম্মকের মত চোখে জল এসেছিল- আমার সৃষ্টিকে আমূল বদলে দেয়া হয়েছে; আমার সন্তানকে আমি নিজেই চিনতে পারি না, কী কষ্ট! আবৃত্তি কাবের সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিল। একটা কর্মশালায় অংশগ্রহণও করেছিলাম। কলেজে একবার আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় পড়েছিলাম সুনীলের ুকেউ কথা রাখেনিচ্- দ্বিতীয় হয়েছিলাম। পরের বছর নিজের লেখা ুএকজন সামসুদ্দিন মাস্টারচ্ পড়লাম। পড়া শেষে সুশীল স্যার বললেন, ুআবার শেষের লাইনগুলো পড়োচ্। ভাবলাম আবৃত্তিতে ভুল হয়েছে- পড়লাম। পরদিন নোটিশবোর্ডে দেখি প্রথম হয়েছি। সামান্য পাওয়া, অথচ মুগ্ধতা! আসলে কোন প্রাপ্তিই ুদ্র নয়। কথা ছিল ঢাকা বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় কলেজের প্রতিনিধিত্ব করবো। করা হয়নি। রেডিওতে আবৃত্তি করার কথা ছিল। আমি জানতে পারি যেদিন আবৃত্তি সেদিন (অবশ্য নিজের দোষেই)। সেদিন মাত্র কুয়াকাটা ঘুরে ফিরেছি। রেডিওতে আবৃত্তি করা হয়নি। মারলিন ম্যাম খুব বকেছিলেন। ম্যামকে মনে পড়ে।

জহর স্যারের বাসায় গণিত পড়তে যেতাম। স্যার মাঝে মাঝে পান আনতে পাঠাতেন। স্যারের কথা খুব মনে পড়ে। মনে পড়ে জাহাঙ্গীর স্যারকে, টেরেন্স স্যার, মোকতার স্যার, মানিক স্যার, সুখেন্দু স্যার, বিশ্বজিৎ স্যার, আজমল স্যার, মিজান স্যার, ডিকে স্যার, সুশান্ত স্যার, মনোরঞ্জন স্যার, বিদ্যাসাগর স্যার, ল্যাব এর ব্রাদারদের এবং আরো কতোজনকে... কাউকে ভুলতে পারিনি।

মাঝে মাঝে মাঠে ক্রিকেট খেলতাম। কাসের টীমে জায়গা হতো না। ব্যাটিং করতাম না, বোলিং করতে গেলে প্রতি ওভারে গড়ে ১৫-২০ রান দেয় এমন বোলার কে চায়?

ক্যান্টিনে প্যাটিস খেতে অসম্ভব ভালো লাগতো। গ্রামের স্কুল থেকে আসা ছেলেরা অতি সুস্বাদু টমেটো(!!!) সসে চুবিয়ে চুবিয়ে সিঙ্গারা, বার্গার খেতো- দেখে হাসতাম। সেই গেঁয়ো সহপাঠীরা আজ কে কোথায় জানি না। মনে পড়ে যারা একসঙ্গে থাকতাম- মৃ, অমিত, সফিক, ছোটো বাবু, লজিক, মুনরি, আকাশকে... মনে পড়ে কারণে অকারণে ঘরোয়া হোটেলে যাওয়া, মধুমিতায় সিনেমা দেখা, কমলাপুর স্টেশনে সস্তা দরের সস্তা বই কেনা, ডালাস স্টুডিও, কাসের ফাঁকে বাইরে সিগারেট ফোকা। মনে পড়ে...

অনেক স্বপ্ন নিয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীা দিয়েছিলাম। চান্স পাইনি। মনে কষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর মাস কয়েক পর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ইতি টানবো। সহপাঠীরা, অনেক বন্ধুরা বলে, ুতুইতো টিচার হইয়া যাবিচ্। হায়! আর মাত্র কয়টা দিন, তারপর ছাত্রজীবন শেষে বাস্তব জীবনের রূঢ় ব্যস্ততা।

আমার পুরোনো দিনগুলোয় ফিরে যেতে খুব ইচ্ছে করে। কিন্তু পিছিয়ে যাবার সুযোগ কোথায়- সামনে যেতে হবে আরো সামনে- আরো। এখন দিন গুনি আর কতোদিন রইলো বাকি। একদিন হয়তো ইউনিভার্সিটি জীবনকে নিয়েও স্মৃতিকাতরতায় আক্রান্ত হবো। স্মৃতিগুলো মুছে ফেলতে পারলে ভালো হতো। স্মৃতিরা বড্ড যন্ত্রণা দেয়, কাঁদায়।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৪৬
৪৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×