somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্রৌপদীর পুনঃদ্রষ্টব্য-৩...

১৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ পুন:দ্রষ্টব্য-১ এবং ২ এর পর থেকে: আগের ২পর্ব না পড়লে এটাও পড়ার দরকার নেই, কারণ তাহলে লেখাটা বোঝা যাবেনা.....আমি লিঙ্ক দিতে পারিনা বলে আগের ২ পোস্টের লিঙ্ক দেয়া সম্ভব হলনা। আমার ব্লগে গেলেই পাবেন]
দৃশ্য-৩(সংকলিত)
[কার্জন হলের মাঠটাতে বিভিন্ন circle এর আড্ডা লেগেই থাকে। দুপুরবেলা দ্রৌপদী এসেছে অর্জুনের সঙ্গে দেখা করতে; চিরচেনা দ্রৌপদী থেকে আজ তার সম্পূর্ণ ভিন্ন সাজ- মাশকারা-আইলেনারের যুগে চোখজুড়ে কাজল, ২হাতে মাত্র ২টি চুড়ি!মাঠের এককোণে মঞ্চস্থ হচ্ছে অর্জুন-দ্রৌপদী উপাখ্যান! অর্জুনের পরিচিতজনেরা যাওয়া-আসার পথে অদ্ভুত অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে সেদিকে তাকাচ্ছে; অর্জুনের তাতে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই]
অর্জুন: তুমি একটা confusing মেয়ে; অন্যান্যদের কথা শুনলে মনে হয় নিজের সম্পর্কে তোমার খুব উচ্চ ধারণা, আর আমার সাথেকার কথা-বার্তায় তোমারে উদাসীন-হতাশাবাদী লাগে।( হঠাৎ হাসিমুখ) তবে সবচেয়ে মজা লাগে তোমারে নিয়া মুখরোচক কাহিনী শুনতে- কখনো যুধিষ্ঠির-ভীম, নাহয় নকুল-সহদেব; তুমি পারোও বটে!
দ্রৌপদী:(গম্ভীর মুখ) অন্যদের কথা জানিনা, তবে যুধিষ্ঠিররে আমি সত্যিই অনেক পছন্দ করি....কারণ(একটু থেমে)সে পছন্দ করার মতই একটা ছেলে।এই নিয়া মানুষের যা খুশি তারা ভাবতে পারে, কাহিনী শুনতে- i don't care. (দুজনেই কিছুক্ষণের জন্য নীরব) এইসব কথা থাক; আমি যে হাতে চুড়ি পড়ছি, চোখে কাজল দিছি দেখছো?
অর্জুন: এইখানেই তো ভুলটা কর: ছেলেদের নিয়া খেলাটা তোমার খুব প্রিয় শখ, কিন্তু তুমি ব্রায়ান লারা হইলে আমি যে ডন ব্রডম্যান এইটা বোধহয় স্মরণে নাই।প্রতিদিন তোমার মত কয়েক হাজার দ্রৌপদী আমারে প্রেমের ধ্রুপদী সঙ্গীত শোনাইতে আইসা সদর দরজা থেকেই ফিইরা যায়; therefore অন্যেরা তোমারে যা-ই ভাবুক, আমার কাছে তুমি আর দশটা সাধারণ মেয়ের মতই। যে অসাধারণ দ্রৌপদী অর্জুনের ধ্যানভঙ্গ করব ব্যক্তিত্বের শুভ্রতায় সে নীলিমার মত; তোমার মত হৃদয়ের দানসত্র নাই তার।(হেসে)'শুভ্রতা' শব্দটার মানে যুধিষ্ঠির নয়তো ভীম এর কাছে শুইনা নিয়ো!
দ্রৌপদী: (ক্রোধোন্মত্ত)তুমি একটা অসুস্থ মানুষ। ......(কাতরতা) আসলে আমি নিজেই বুঝিনা আমার মন কী চায়;আমার মুগ্ধতা-ভালোবাসা বলতে যা বোঝায় তার সম্পূর্ণই যুধিষ্ঠির; অন্যদিকে তোমার অধিকাংশ কথায়ই মেজাজ খারাপ হইয়া যায়,কিন্তু তোমার প্রতি আমার যে feelings তার আকর্ষণে কয়েক লাখ ভালোবাসা যখন-তখন খড়কুটোর মত উইড়া যাইব! আমি জানিনা এই আজব সম্পর্করে কী বলে, তুমি পারলে এর একটা নাম দিয়ো।.....(কণ্ঠস্বরে সর্বোচ্চ কাঠিন্য) তবে বাইচা থাকলে অবশ্যই দেখব তোমার স্বপ্নের দ্রৌপদী রক্তমাংসের দ্রৌপদীর তুলনায় কোথায় শ্রেষ্ঠ।
(ঝড়ের বেগে চলে যায় দ্রৌপদী, অর্জুন বাধা দেয়না, শুধু হতবিহ্বল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে পথের দিকে;তার অলক্ষ্যেই কখন যেন ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে বুকের গভীর থেকে)
দৃশ্য-১৫(সম্পূর্ণ)
[রাত সাড়ে বারোটা; অবিরাম বেজেই চলেছে দ্রৌপদীর মোবাইল। অবশেষে প্রচণ্ড বিরক্তিতে সেটি receive করল সে]
দ্রৌপদী:হু.....আপনার সমস্যা কী বলেন তো। রাস্তার ফকিরেরও আত্মসম্মানবোধ থাকে, আপনার তো দেখতেছি সেইটাও নাই।
দুঃশাসন: আমার আত্মসম্মানবোধ তো কবেই তোমারে উপহার দিছি, সেইটা আর কিভাবে থাকে বল! যাইহোক তোমার ব্যাপারে সব খোজখবর নেয়া শেষ; ভার্সটির আনাচে-কানাচে তোমার অসংখ্য boy-friend ঘুরে জাইনা খুব খুশি হইছি, কারণ আমারও গোটা বিশেক girl-friend আছে- সবকিছুই সেয়ানে-সেয়ানে হওয়া ভাল। আরে বিয়ের আগে মাস্তি না করলে জীবনভর পস্তাইতে হয়,কিন্তু এইসব পড়াশোনা-girl-friend এ ইদানিং অরুচি ধইরা গেছে, তাই decision নিছি তোমার হাতেই নিজেরে সমর্পণ করুম। আমার বাবা বিজনেস ম্যাগনেট, পাত্র হিসেবে আমি নিশ্চয়ই ফেলনা হমুনা!
দ্রৌপদী: (ধমকের সুরে)দেখেন আপনে কিন্তু limit cross করতেছেন।। বাপের টাকা আছে,গরু-ছাগল কিন্যা ঘর ভরেন; বউ কিনতে চান কোন দুঃখে?টাকা-পয়সা দিয়া আর যা-ই হোক দ্রৌপদীরে বশ করা যায়না। আপনের মধ্যে মানুষের ন্যুনতম একটা বৈশিষ্ট্যও যদি থাকে আর কখনো আমারে ফোন কইরা disturb করবেননা, বুঝছেন?
দুঃশাসন: cool down young lady ! আমি বাপ-মায়ের একমাত্র সন্তান, দেশ-বিদেশ মিলে আমাদের প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রপার্টি আছে; আর, বাবারে আজকে কী বলছি জানো?ভবিষ্যতে সব সম্পত্তি আমার বউয়ের নামে উইল কইরা দিতে, কারণ দ্রৌপদীই দুর্যোধনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। (ফোনের অপরপ্রান্ত নিঃসাড়) তোমার কি কিছুই বলার নেই?
দ্রৌপদী: (সশব্দে হাসি) তোমারে আমি.....তোমারে আমি খুন করব! (ফোন রেখে দেয় দ্রৌপদী, দু:শাসনের মুখাবয়বে বিজয়ের আনন্দ)
কয়েক মাস পর.......
(রাত্রি ২টা; দ্রৌপদী-দু:শাসনের আলো নেভানো শোবার ঘর। কোন কারণে মৃদু খুনসুটি হচ্ছে তাদের)
দুঃশাসন: আমি কিছুতেই বুঝিনা আলো নিভায়ে শুইলে কী সমস্যা হয় তোমার। আলো জ্বললে কি ঘুমানো যায়?(ভীষণ অনিচ্ছায় আলো জ্বেলে দেয় সে)
দ্রৌপদী:(আদুরে স্বর) তুমি শুনলে হাসবা- আসলে আমি অন্ধকাররে ভয় পাই। ( পাশ ফিরে শোয় দ্রৌপদী, একটু পর ঘুমন্ত দুঃশাসনের নাক ডাকার শব্দ শোনা যায়) (দ্রৌপদীর নি:শব্দ স্বগতোক্তি) তোমারে কিভাবে বলি দুঃশাসন, অন্ধকার হইলেই যুধিষ্ঠির-ভীম-নকুল-সহদেবরা তোমার রূপ ধইরা ফিরা আসে আমার প্রতিমুহূর্তে,প্রতিরাতে তুমি ঘুমায়ে গেলে আলো জ্বালায়ে আমি শুধু বিশেষ একজনের প্রতীক্ষায় থাকি; ভাল থাইকো অর্জুন,পৃথিবীর পবিত্রতম মানূষ হইয়া ভালো থাইকো...ঈশ্বর আমার প্রথম সন্তানটা যেন ছেলে হয়, যাতে ওর নাম অর্জুন রাইখা আজীবন অর্জুনের কাছাকাছি থাকতে পারি.........(অসংলগ্ন চিন্তা করতে করতেই ঘুমিয়ে গেল দ্রৌপদী, ঝিকঝিক শব্দে ট্রেন ছেড়ে গেল রাতের শেষ ট্রেনটি)........

#পৌরাণিক দ্রৌপদীকে পণ্য করছিল সমাজের খামখেয়াল, কিন্তু আধুনিক দ্রৌপদীদেরও কেন লেখকের খেলনায় পরিণত হতে হয়, কেন আমাদের লেখকেরা দ্রৌপদীকে অর্থমূল্যে বিচার করে পড়াশোনার মাঝপথেই দুঃশাসনের শয্যাসঙ্গীনি করবেন?আজ নারী অধিকার আন্দোলনে সোচ্চার সারাবিশ্ব, অথচ প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে আমাদের জগদ্বিখ্যাত পুরুষতান্ত্রিক লেখকেরা নারীকে ছলনাময়ী-প্রপঞ্চক-মায়াবিনী হিসেবে চিত্রায়িত করে চলেছেন তার বিরুদ্ধে পাল্টা করম ধারণ করেছেন কয়জন?তবে কি লেখক কর্তৃক দ্রৌপদীর চারিত্রিক দুর্তৃত্তায়নের এই নোংরা প্রয়াস অনন্তকাল ব্যাপী চলতেই থাকবে?ব্যক্তিগতভাবে আমি সেই লেখক বন্ধুকে একটি পরামর্শই দিতে পারি- দ্রৌপদীকে ছোট করে হয়ত দু'একটা হাততালি পাবে, কিন্তু এই তালিগুলো যদি তোমায় মেগাসিরিয়াল লিখতে উদ্বুদ্ধ করে তখন ভুলেও অর্জুন-দ্রৌপদীর পরকীয়া লিখতে বসে যেওনা যেন; দ্রৌপদীকে ভাল না বাসো, অন্তত অশ্রদ্ধা করোনা.........


৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×