[ পুন:দ্রষ্টব্য-১ এবং ২ এর পর থেকে: আগের ২পর্ব না পড়লে এটাও পড়ার দরকার নেই, কারণ তাহলে লেখাটা বোঝা যাবেনা.....আমি লিঙ্ক দিতে পারিনা বলে আগের ২ পোস্টের লিঙ্ক দেয়া সম্ভব হলনা। আমার ব্লগে গেলেই পাবেন]
দৃশ্য-৩(সংকলিত)
[কার্জন হলের মাঠটাতে বিভিন্ন circle এর আড্ডা লেগেই থাকে। দুপুরবেলা দ্রৌপদী এসেছে অর্জুনের সঙ্গে দেখা করতে; চিরচেনা দ্রৌপদী থেকে আজ তার সম্পূর্ণ ভিন্ন সাজ- মাশকারা-আইলেনারের যুগে চোখজুড়ে কাজল, ২হাতে মাত্র ২টি চুড়ি!মাঠের এককোণে মঞ্চস্থ হচ্ছে অর্জুন-দ্রৌপদী উপাখ্যান! অর্জুনের পরিচিতজনেরা যাওয়া-আসার পথে অদ্ভুত অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে সেদিকে তাকাচ্ছে; অর্জুনের তাতে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই]
অর্জুন: তুমি একটা confusing মেয়ে; অন্যান্যদের কথা শুনলে মনে হয় নিজের সম্পর্কে তোমার খুব উচ্চ ধারণা, আর আমার সাথেকার কথা-বার্তায় তোমারে উদাসীন-হতাশাবাদী লাগে।( হঠাৎ হাসিমুখ) তবে সবচেয়ে মজা লাগে তোমারে নিয়া মুখরোচক কাহিনী শুনতে- কখনো যুধিষ্ঠির-ভীম, নাহয় নকুল-সহদেব; তুমি পারোও বটে!
দ্রৌপদী
অর্জুন: এইখানেই তো ভুলটা কর: ছেলেদের নিয়া খেলাটা তোমার খুব প্রিয় শখ, কিন্তু তুমি ব্রায়ান লারা হইলে আমি যে ডন ব্রডম্যান এইটা বোধহয় স্মরণে নাই।প্রতিদিন তোমার মত কয়েক হাজার দ্রৌপদী আমারে প্রেমের ধ্রুপদী সঙ্গীত শোনাইতে আইসা সদর দরজা থেকেই ফিইরা যায়; therefore অন্যেরা তোমারে যা-ই ভাবুক, আমার কাছে তুমি আর দশটা সাধারণ মেয়ের মতই। যে অসাধারণ দ্রৌপদী অর্জুনের ধ্যানভঙ্গ করব ব্যক্তিত্বের শুভ্রতায় সে নীলিমার মত; তোমার মত হৃদয়ের দানসত্র নাই তার।(হেসে)'শুভ্রতা' শব্দটার মানে যুধিষ্ঠির নয়তো ভীম এর কাছে শুইনা নিয়ো!
দ্রৌপদী: (ক্রোধোন্মত্ত)তুমি একটা অসুস্থ মানুষ। ......(কাতরতা) আসলে আমি নিজেই বুঝিনা আমার মন কী চায়;আমার মুগ্ধতা-ভালোবাসা বলতে যা বোঝায় তার সম্পূর্ণই যুধিষ্ঠির; অন্যদিকে তোমার অধিকাংশ কথায়ই মেজাজ খারাপ হইয়া যায়,কিন্তু তোমার প্রতি আমার যে feelings তার আকর্ষণে কয়েক লাখ ভালোবাসা যখন-তখন খড়কুটোর মত উইড়া যাইব! আমি জানিনা এই আজব সম্পর্করে কী বলে, তুমি পারলে এর একটা নাম দিয়ো।.....(কণ্ঠস্বরে সর্বোচ্চ কাঠিন্য) তবে বাইচা থাকলে অবশ্যই দেখব তোমার স্বপ্নের দ্রৌপদী রক্তমাংসের দ্রৌপদীর তুলনায় কোথায় শ্রেষ্ঠ।
(ঝড়ের বেগে চলে যায় দ্রৌপদী, অর্জুন বাধা দেয়না, শুধু হতবিহ্বল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে পথের দিকে;তার অলক্ষ্যেই কখন যেন ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে বুকের গভীর থেকে)
দৃশ্য-১৫(সম্পূর্ণ)
[রাত সাড়ে বারোটা; অবিরাম বেজেই চলেছে দ্রৌপদীর মোবাইল। অবশেষে প্রচণ্ড বিরক্তিতে সেটি receive করল সে]
দ্রৌপদী:হু.....আপনার সমস্যা কী বলেন তো। রাস্তার ফকিরেরও আত্মসম্মানবোধ থাকে, আপনার তো দেখতেছি সেইটাও নাই।
দুঃশাসন: আমার আত্মসম্মানবোধ তো কবেই তোমারে উপহার দিছি, সেইটা আর কিভাবে থাকে বল! যাইহোক তোমার ব্যাপারে সব খোজখবর নেয়া শেষ; ভার্সটির আনাচে-কানাচে তোমার অসংখ্য boy-friend ঘুরে জাইনা খুব খুশি হইছি, কারণ আমারও গোটা বিশেক girl-friend আছে- সবকিছুই সেয়ানে-সেয়ানে হওয়া ভাল। আরে বিয়ের আগে মাস্তি না করলে জীবনভর পস্তাইতে হয়,কিন্তু এইসব পড়াশোনা-girl-friend এ ইদানিং অরুচি ধইরা গেছে, তাই decision নিছি তোমার হাতেই নিজেরে সমর্পণ করুম। আমার বাবা বিজনেস ম্যাগনেট, পাত্র হিসেবে আমি নিশ্চয়ই ফেলনা হমুনা!
দ্রৌপদী: (ধমকের সুরে)দেখেন আপনে কিন্তু limit cross করতেছেন।। বাপের টাকা আছে,গরু-ছাগল কিন্যা ঘর ভরেন; বউ কিনতে চান কোন দুঃখে?টাকা-পয়সা দিয়া আর যা-ই হোক দ্রৌপদীরে বশ করা যায়না। আপনের মধ্যে মানুষের ন্যুনতম একটা বৈশিষ্ট্যও যদি থাকে আর কখনো আমারে ফোন কইরা disturb করবেননা, বুঝছেন?
দুঃশাসন: cool down young lady ! আমি বাপ-মায়ের একমাত্র সন্তান, দেশ-বিদেশ মিলে আমাদের প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রপার্টি আছে; আর, বাবারে আজকে কী বলছি জানো?ভবিষ্যতে সব সম্পত্তি আমার বউয়ের নামে উইল কইরা দিতে, কারণ দ্রৌপদীই দুর্যোধনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। (ফোনের অপরপ্রান্ত নিঃসাড়) তোমার কি কিছুই বলার নেই?
দ্রৌপদী: (সশব্দে হাসি) তোমারে আমি.....তোমারে আমি খুন করব! (ফোন রেখে দেয় দ্রৌপদী, দু:শাসনের মুখাবয়বে বিজয়ের আনন্দ)
কয়েক মাস পর.......
(রাত্রি ২টা; দ্রৌপদী-দু:শাসনের আলো নেভানো শোবার ঘর। কোন কারণে মৃদু খুনসুটি হচ্ছে তাদের)
দুঃশাসন: আমি কিছুতেই বুঝিনা আলো নিভায়ে শুইলে কী সমস্যা হয় তোমার। আলো জ্বললে কি ঘুমানো যায়?(ভীষণ অনিচ্ছায় আলো জ্বেলে দেয় সে)
দ্রৌপদী
#পৌরাণিক দ্রৌপদীকে পণ্য করছিল সমাজের খামখেয়াল, কিন্তু আধুনিক দ্রৌপদীদেরও কেন লেখকের খেলনায় পরিণত হতে হয়, কেন আমাদের লেখকেরা দ্রৌপদীকে অর্থমূল্যে বিচার করে পড়াশোনার মাঝপথেই দুঃশাসনের শয্যাসঙ্গীনি করবেন?আজ নারী অধিকার আন্দোলনে সোচ্চার সারাবিশ্ব, অথচ প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে আমাদের জগদ্বিখ্যাত পুরুষতান্ত্রিক লেখকেরা নারীকে ছলনাময়ী-প্রপঞ্চক-মায়াবিনী হিসেবে চিত্রায়িত করে চলেছেন তার বিরুদ্ধে পাল্টা করম ধারণ করেছেন কয়জন?তবে কি লেখক কর্তৃক দ্রৌপদীর চারিত্রিক দুর্তৃত্তায়নের এই নোংরা প্রয়াস অনন্তকাল ব্যাপী চলতেই থাকবে?ব্যক্তিগতভাবে আমি সেই লেখক বন্ধুকে একটি পরামর্শই দিতে পারি- দ্রৌপদীকে ছোট করে হয়ত দু'একটা হাততালি পাবে, কিন্তু এই তালিগুলো যদি তোমায় মেগাসিরিয়াল লিখতে উদ্বুদ্ধ করে তখন ভুলেও অর্জুন-দ্রৌপদীর পরকীয়া লিখতে বসে যেওনা যেন; দ্রৌপদীকে ভাল না বাসো, অন্তত অশ্রদ্ধা করোনা.........

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





