আমার প্রিয় পোস্ট

আত্মবিশ্বাসহীনতায় প্রকট হচ্ছে আত্মার দেউলিয়াত্ব, তবুও বিশ্বাস আগের মতই নিশ্চল..

৭দশ১’একাত্তর (গল্প)

২৩ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:২৮

শেয়ারঃ
0 3 0

ঠিক ভোর সাড়ে ৫টায় পাপড়ির মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটল- সেই বিকৃতির মাত্রা *হীরামন স্কেলে"(পাগলামী পরিমাপক কাল্পনিক স্কেল)১০০ এর কাছাকাছিই হবে বোধকরি; নইলে এই কুসময়ে(!) সে আমার ফ্ল্যাটে আসবে কেন? সে কি জানে, মাত্রই ভোর পৌনে পাঁচটায় বিছানামুখো হওয়ার পরিণতিতে সৃষ্ট আমার ‘ভ্রুণঘুমটার’ বয়স ১ঘণ্টা পেরুনোর আগেই ঘুমের কেমন করুণ মৃত্যু ঘটল!অথচ, আমি কোনরূপ ক্ষোভ বা বিস্ময় প্রকাশের সুযোগ তো পেলাম-ই না, উপরন্তু ঘরে ঢুকেই তার প্রথম উচ্চারিত বাক্যটি হল- ‘এতবেলা পর্যন্ত ঘুমায় মানুষ!’
তার এই ‘গেরিলা ভ্রমণের’ কারণ জানতে বিলম্ব ঘটলনা- তার সঙ্গে আমাকে একজায়গায় যেতে হবে, সে রীতিমত তৈরি হয়েই এসেছে। আমার ঘুমার্ত মস্তিষ্ক পুরো পরিস্থিতিটা বোঝারও সুযোগ পেলনা তার হাকডাকে-‘কী ব্যাপার, এত দেরি করছো কেন?আরে কোথায় যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি, এসব উত্তর এখনই দিলে সারা রাস্তাতো মুখে ‘স্কার্ভি রোগ’ নিয়ে বসে থাকতে হবে- যেতে যেতেই বলি নাহয়; ৭টার সময় আমাদের বাস ছাড়বে।খাওয়া-দাওয়ার চিন্তা একদমই কোরোনা এখন, সব ব্যবস্থা আমি করে রেখেছি’।
আজ থেকে পুরো ১মাসের জন্য ভার্সিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খুশিটা অনুভব করারও ফুসরত পেলাম না পাপড়ির এই কোর্টমার্শালসুলভ আচরণে। ‘পৃথিবীর সব মেয়েরাই কখনো না কখনো নারী, শুধুমাত্র একজনই পাপড়ি বোধহয়’-অবশেষে এভাবেই নারী আর পাপড়ির পার্থক্য করতে করতে বাথরুমে চলে গেলাম হাত-মুখ ধুয়ে সেমি-সভ্যমানুষের চেহারায় প্রত্যাবর্তন করতে।
পাপড়ির ব্যাগটিকে বাইরে থেকে যতই নিরীহদর্শন লাগুক, ভুল করে একবার হাতে নিলে এর মাহাত্ম্য বোঝা যাবে ওজনে ; বলতে গেলে একটা ভ্রাম্যমাণ সংসারের প্যাকেজ সংস্করণ এই ব্যাগটি : ক্যামেরা, ওযাকম্যান, দুজনের জন্য দুইটি ডায়েরি, কলম, খাবার, পানির বোতল, মোবাইল চার্জার- একটা সংসারে আর কী লাগতে পারে!পক্ষান্তরে, আমি কপর্দকশূন্য দশায়, এমনকি হাতে একটা ঘড়িও নেই; প্রেমিকা, প্রেমিকের সঙ্গে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে, এমন অসংখ্য দৃষ্টান্ত আমাদের জানা ; কেন জানিনা আজ মনে হচ্ছে আমারও বেচারী প্রেমিকাতে রূপান্তর ঘটেছে।
বাসে উঠার একটু পরই আমাদের গন্তব্য, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্বন্ধে অবগত হয়েছি, এবং যথারীতি আমার আক্কেলগুড়ুম হয়েছে।
আমরা যাচ্ছি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে, পাপড়ির এক বান্ধবীর বাসায়। সেই বান্ধবীর বড়চাচা একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা; তার মুখে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃতগল্প শুনে রেকর্ড করে রাখবো- প্রাথমিক উদ্দেশ্য এটাই। এটা শোনার পর থেকেই ভ্রমণের আনন্দ নিদারুণ বিবমিষায় পরিবর্তিত হয়েছিল- আরে, মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনার জন্য এতদূর যাওয়ার প্রয়োজন কী, চাইলে ঢাকাতে কি তা অসম্ভব ছিল?তবে, আমার এই ক্ষণিক বিবমিষা পাপড়ির প্রতি অপরিমেয় শ্রদ্ধায় রূপ নেয় এই একমাস ছুটি কাটানোর ব্যাপারে তার বিস্তারিত পরিকল্পনাটা শোনার মুহূর্ত থেকেই : গত ২মাস ধরে সে নাকি বান্ধবী ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে তাদের এলকার স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ঠিকানা সংগ্রহ করেছে, এই বন্ধে প্রতিদিন সে এভাবে একেকজন মুক্তিযোদ্ধার মুখে যুদ্ধের বাস্তব গল্প শুনবে, এবং আশ্চর্যজনক হচ্ছে, এই কাজটি করবে বলেই গত ২মাসের টিউশনির পুরো টাকাটা সে জমিয়ে রেখেছে ।এটা জানার পর, এক পশলা অভিমান শরতের বৃষ্টি হয়ে মনের আকাশকে ভিজিয়ে দিল - এতদিনের পরিকল্পনা তার, অথচ আমি জানলাম বাসে উঠার পরে; আগে জানলে আমিও কি বিশেষ প্রস্ততি নিতে পারতাম না?হায় ভালবাসা, পাপড়ির কাছে তোমার সংজ্ঞা আসলে কী, সেই প্রশ্ন কখনো রেখেছো?

‘হঠাৎ কেন এমন খেয়াল হল’- জানতে চেয়ে জবাব পেলাম- ‘আসলে মুক্তিযুদ্ধের নাটক-সিনেমা-উপন্যাসগুলোকে আমার পুরোপুরি বস্তুনিষ্ঠ মনে হয়না, অধিকাংশকেই কাল্পনিক ও অনুমাননির্ভর লাগে। তাই, ভাবলাম প্রকৃত মানুষদের থেকেই সত্যি ঘটনাগুলো জানি’।
‘কিন্তু এতদিন পর তারাও তো অতিরঞ্জিত কাহিনী বলতে পারে’-আমার এই আশঙ্কার প্রেক্ষিতে সে একটা ছোট্ট নিঃশ্বাস নিল, এরপর ধীরে ধীরে বলল – তা পারে, তবুও একজন সত্যিকারের যোদ্ধার মুখ থেকেই নাহয় অতিরঞ্জিত গল্প শুনলাম’।
আমাদের পৌছতে দুপুর বারোটা বেজে গেল, তবে আসার উদ্দেশ্য কতটা সফল হবে বোঝা মুশকিল, কারণ বান্ধবীর চাচাটিকে যেরকম দেখলাম তাতে তার মুখে যুদ্ধের গল্প শুনতে চাওয়াটা বিদ্রূপের শামিল হবে : ভদ্রলোকের বয়স ৬০+, পক্ষাঘাতগ্রস্ততায় মুখ একদিকে আনত হয়ে গেছে, সেইসঙ্গে যদ্ধে পা হারানোর সুবাদে সার্বক্ষণিক অবলম্বন হুইলচেয়ার- এর কাছে কী করে জানতে চাইবো যুদ্ধের গল্প? ইনি নিজেই তো একটি বিধ্বস্ত যুদ্ধক্ষেত্র!
শুধুমাত্র যুদ্ধের গল্প শুনতে এতদূর কষ্ট করে এসেছি , এটাকে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য লাগেনি সম্ভবত এই পরিবারটির কাছে, তাই ব্যবহারে আন্তরিকতার ঘাটতিটা মুমূর্ষুভাবে চোখে পড়ল।পরে অবশ্য পাপড়ির সেই বান্ধবীর মুখে মূল ব্যাপারটি জানলাম: ওর চাচার পক্ষাঘাতগ্রস্ততার পর থেকেই পরিবারটি নানা দুর্ঘটনায় বিপর্যস্ত, চাচাতো ভাইরাও আলাদা সংসার নিয়ে ব্যস্ত, চাচা-চাচী বেঁচে আছেন ছেলেদের গলগ্রহ হয়ে, এমতবস্থায় ওদের আগমনটা উটকো ঝামেলাই বাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও, সেই বান্ধবীর বদৌলতে তার চাচীর সঙ্গে কথা বলতে পারলাম, এবং সেখানে মুক্তিযুদ্ধকে ছাপিয়ে জীবনযুদ্ধই ঘুরেফিরে আলোচনায় আসল।এদের কাছে ৭১ এখন এক বিস্মৃত সুদূর অতীতের নাম!
ফিরতি যাত্রায় বাসে তেমন কোন কথা হলনা আমাদের; আমি ডায়েরি উল্টে চাচীর বয়ান পড়তে লাগলাম, পাপড়ি কানে হেডফোন লাগিয়ে ওয়াকম্যানে ধারণ করা সেই বয়ান শুনতে লাগল। একপর্যায়ে, কান থেকে হেডফোন খুলে বলল, ‘আজকের মত এভাবেই তুমি সবকিছু লিখে রাখবে, আর আমি রেকর্ড করবো; মাস শেষে আমার আসল উদ্দেশ্য জানাবো’- এরপরে বাসজুড়ে ‘নীরবতা দিবস’ পালিত হয়েছিল মহাসমারোহে!

প্রায় প্রতিদিনই আমরা নতুন কোন জেলায় যাচ্ছি সেই অভিন্ন উদ্দেশ্যে, এতে করে ভ্রমণের একটা আনন্দ অন্তত পাচ্ছি, বিশেষত বাসে বসে থাকা সময়গুলো কাটানোর জন্য আবিষ্কৃত খেলাটি উপভোগ করছি সর্বাংশে; খেলার নাম ‘শব্দ বিনিময় খেলা’, খেলাটা এরকম : ধরা যাক, আমি একটা ইংরেজি শব্দ লিখলাম ‘heat’, এর শেষ অক্ষর যেহেতু ‘t’, তাই পাপড়িকে ‘ট’ দিয়ে কোন বাংলা শব্দ লিখতে হবে, ধরা যাক সে লিখল ‘টেকনাফ’, আমাকে তখন ‘f’ দিয়ে কোন ইংরেজি শব্দ লিখতে হবে, আমি লিখতে না পারলে পাপড়ি একটি পয়েন্ট পাবে, আর ‘ও’ তখন নতুন একটি শব্দ লিখবে; এভাবে আমাদের বাংলা-ইংরেজি শব্দচর্চাটা দারুণভাবে সময়ের চাতুর্যকে পরাস্ত করে সময়কে আমাদের অনুগামী করে রাখে বাস থেকে নামার আগ পর্যন্ত। এই খেলাটির ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি হয়েছে আরও একটি কারণে : খেলায় হারলেই পরেরদিন ৭০টি নতুন শব্দ ডায়েরিতে লিখে নিয়ে যেতে হয় ; সারাদিন ঘোরাঘুরির পর রাতজেগে এভাবে শব্দ লেখার শাস্তি(!) কে পোহাতে চায়?সুতরাং ‘কোনভাবেই হারা চলবেনা’-এমন একটা সংকল্প থাকায় ভ্রমণের চেয়ে খেলাটিই মূখ্য হযে উঠছে ক্রমাণ্বয়ে!
২০দিনের মাথায় আমাদের এই গল্প শোনার মিশন সমাপ্ত হল।বলা বাহুল্য, যতটা উৎসাহ নিয়ে পাপড়ি কর্মসূচীটা শুরু করেছিল, শেষের দিকে এসে তার অনেকটাই ম্রিয়মান হয়ে গেছে_ প্রায় সর্বত্রই গল্প শুনতে গিয়ে গল্পের চেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের দীনহীন জীবনটাই মূল আলোচ্য হয়ে উঠেছে। ব্যস্ত নাগরিকজীবনে কফিতে চুমুক দিতে দিতে এতদিন ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি শুনলে অদ্ভুত শিহরণ বইয়ে যেত প্রথমে ঠোটে, এরপর সেটি ছড়িয়ে পড়ত সমস্ত শরীরে। কিন্তু ২০দিনের ভ্রমণ সমাপ্তির মুহূর্তে কেবলই মনে হয়েছে-‘কোথাও একটা গণ্ডগোল আছে’।
অবশ্য দু-এক জায়গায় উল্টোচিত্রও দেখেছি, যেমন কিশোরগঞ্জে যে লোকের কাছে গল্প শুনতে গিয়েছিলাম, তার আচরণ-জীবনযাপনের ধরনে তাকে মুক্তিযোদ্ধা ভাবতে কুণ্ঠাবোধ করেছি, পরে ফেরার পথে জেনেছি তিনি একজন আদম ব্যবসায়ী।সার্বিক বিবেচনায়, ২-১টি ব্যতিক্রম বাদ দিলে অধিকাংশ গল্প কথক মুক্তিযোদ্ধার সামাজিক অবস্থান আমাকে লজ্জিত করেছে। বিশেষত, চৌদ্দগ্রামের সেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত যোদ্ধাটির বেকে যাওয়া মুখ, চলৎশক্তিহীন বসে থাকা- আমার মস্তিষ্কে উল্কির ছাপ একে দিয়েছে যেন, চাইলেও মুছে ফেলতে পরছিনা।
ফিরতি যাত্রায় দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকার পর পাপড়ি আবার প্রগলভ হয়ে উঠল।‘ আচ্ছা আলভি, আজ কত তারিখ বলতে পারো?’-এমন প্রশ্নে আমি হকচকিয়ে ওর মুখের দিকে তাকালাম- সম্ভবত ২৭শে জুলাই; কেন?
কিছু না বলে, ব্যাগ থেকে সে তার ওয়াকম্যানটি বের করে আমার হাতে দিয়ে, পুনরায় কিছু একটা খোজায় মন দিল।ভিতর থেকে এবার সে একটি ছোট্ট ব্যাগ বের করে সেটিও আমার হাতে দিল- ‘এই রইল ওয়াকম্যান, আর এই ব্যাগটাতে এতদিন রেকর্ড করা সবগুলো গল্পের ক্যাসেট আছে। এবার, আমার উদ্দেশ্যটা বলি : এই ক্যাসেটের গল্পগুলো শুনে, আর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনযাপন দেখে তুমি একটা উপন্যাস লিখবে, যার বিষয়বস্তু হবে আমাদের প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দর্শন।অন্যদিকে, তুমি যে ডায়েরিটিতে এতদিন শোনা গল্পগুলো লিখে রাখতে সেটা আমি নিয়ে যাচ্ছি, ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলো তো আছেই। এই গল্পগুলো পড়ে, আমি এই প্রজন্মের চোখ দিয়ে যুদ্ধকে দেখে তার ছবি আকব, মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি আকব। কেমন হবে বল?
আমি একটু ঘাবড়ে গেলেও কথা খুজে পেলাম ঠিকই- ‘তোমার প্ল্যানটা নিঃসন্দেহে খুবই প্রশংসনীয় কিন্তু এইটুকু তথ্যের উপর ভিত্তি করে উপন্যাস লেখা, ছবি আকাটা, একটু বাগাড়ম্বরিতা হয়ে যাচ্ছেনা?
-না, তা হবে কেন?আমরা তো প্রকৃত মানুষদের থেকে তথ্য নিয়েছি,বাকিটা অনুভব থেকে লিখবে। তথ্যের প্রসঙ্গ তুললে তো, আমাদের প্রজন্মের এ বিষয়ে লেখার অধিকারই নেই, যেহেতু আমরা যুদ্ধই দেখিনি।
(কিছুক্ষণ নীরবতা)ওহ, আর একটা কথা, আজ থেকে আমাদের সকল প্রকার যোগাযোগ আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে, এমনকি মুখোমুখি হয়ে গেলেও মুখ ঘুরিয়ে নেব অবলীলায়। আমি ইতিমধ্যে তোমার ফোন নম্বর মুছে দিয়েছি। তোমার উপন্যাস লেখা-আমার ছবি আঁকার সময়টাকে আমি একটি যুদ্ধ হিসেবে কল্পনা করে হৃদয় নিংড়ানো কষ্ট পেতে চাই; কাজ শেষ হলে পুনরায় কাছাকাছি হওয়ার স্বাধীনতা- ব্যাপারটার গভীরতা নিয়ে ভেবেছো? তাইতো একে প্রাণভরে আস্বাদন করবো বলেই, সাময়িক এই দূরে থাকার সংগ্রাম।
-এই কথাটির জবাব আমার জানা নেই। তাই বাকি সময়টুকু বাসের জানালা দিয়ে রাস্তার ধারের প্রকৃতির উশৃঙ্খলতা দেখাটাই আমার একমাত্র করণীয়; বাস থেকে শরীরটা নামলেই দুজন চেনা মানুষ আগামী বেশ কিছুদিনের জন্য স্বেচ্ছায় অচেনা হয়ে যাচ্ছি, এর প্রতিক্রিয়াটা কি প্রকৃতিতে দেখা যাবে?

আমাদের মধ্যেকার মানসিক দুরত্বটা বন্ধুমহলে সবারই দৃষ্টিগোচর হয়েছে, কারণ এখন আমি অধিকাংশ সময়ই ক্লাসের অন্য গ্রুপের সাথে কাটাই, পাপড়ির সামনাসামনি হলে পেন্টিয়াম ডি প্রসেসরের দ্রুততায় চম্পট দেই। সবাই চিন্তিত; মীমাংসারও অনেক উদ্যোগ নিয়েছে অনেকে, কিন্তু সমস্যাই যদি কোন সমস্যার মূল সমধান হয়, সেক্ষেত্রে কী মীমাংসা হবে!
আমার সহনশীল ক্ষমতায় নিজেই অভিভূত হয়ে যাচ্ছি দিনদিন।তবে, যে উপন্যাস লেখার জন্য এত আয়োজন করে দুরত্ব সৃষ্টি করা হল, সেই লেখার ব্যাপারে অগ্রগতি বা সন্তুষ্টি, কোনটাই আসছেনা; বারবার মনে হচ্ছে অপ্রয়োজনীয়, অর্থহীন সময় অপচয়- যুদ্ধের তীব্রতাটা কিছুতেই ধারণ করতে পারছিনা, প্রকৃত ইন্দ্রিয়াবেগিক তাড়নাও অনুভব করছিনা একটুও। তাই লেখার অক্ষরগুলোকে পতিতার হাসির মতই স্থূল বাণিজ্যিক মনে হচ্ছে। তবুও লিখে ফেলেছি অনেকটাই - মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের হিসাবানুযায়ী এখন ৫৯ নম্বর পৃষ্ঠায় অবস্থান করছে লেখাটা, যদিও এটাকে পড়তে আমি নিজেই সংকোচ বোধ করছি; সারা লেখার কোথাও একবিন্দু মমতা নেই, এখন যুদ্ধগাথা লেখার এই কপট প্রয়াসের একটাই উদ্দেশ্য – পাপড়িকে ফিরে পাওয়া, nothing else!
২৭শে জুলাই থেকে ৭ই অক্টোবর_ হিসেব করলে ৭২ দিন হয়; সেই ৭ই অক্টোবর দিবাগত রাতেই ফোন আসল হঠাৎ, নম্বরটি ফোনবুকে সেইভ করা না থাকলেও স্ক্রিনে দেখেই জীবনের পরম কাঙ্ক্ষিত নম্বরটি চিনতে অসুবিধা হলনা,। কিন্তু, জানুয়ারী আসতে তো অনেক দেরি, তবে কি ভুলে ‘ইয়েস বাটনে’ চাপ লেগে কল চলে এসেছে?প্রথমবার রিং হতে হতে একসময় লাইন কেটে গেল , পরক্ষণেই ফোনের রিং শুনতে পেলাম আবার। ব্যাপার কী- আমি ঘামতে শুরু করলাম, তবুও দ্বিধা-দ্বন্দ্বের যূথবদ্ধতায় কম্পিত কণ্ঠে ‘হ্যালো’ বললাম
-‘হ্যালো আলভি, আমি, আমি’.- পাপড়ি রীতিমত হাপাচ্ছে। পুরান ঢাকার কিছু এলাকায় লাইনে দাঁড়িয়ে লোকজন পানি সংগ্রহ করে_ ওর কণ্ঠ শুনে মনেহল কথা বলার জন্য সুদীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে করতে যখন ওর ডাক আসল,ততক্ষণে আর জীবনিশক্তি অবশিষ্ট নেই কিছু। আমি ভয়ে কুকড়ে গিয়ে আতঙ্কমিশ্রিত কণ্ঠে বললাম- কী হযেছে তোমার পাপড়ি?প্লিজ, আমার কাছে কিছু লুকিয়োনা, তুমি এমন করছো কেন?’-পাপড়ির কোন কথা বলতে পারলোনা, শিশুদেরমত হাউমাউ করে কান্না জুড়ে দিল। আমি দুশ্চিন্তার কোমায় আচ্ছন্ন হলাম, এই রাতের বেলা কী করতে পারি আমি?

ভোর হতেই পড়িমড়ি করে পাপড়ির হলে চলে এলাম, মাত্র কয়েক ঘণ্টায় পম্পেই নগরী যেমন ধ্বংস হয়েছিল, একরাতের ব্যবধানে পাপড়ির মুখশ্রীও পম্পেইয়ে পরিণত হয়েছে তেমনিভাবে।
এখন সে অনেকটাই স্বাভাবিক আচরণ করছে; ধীরে ধীরে গতরাতের কাহিনী বলা বলা হল তার- ‘তুমি জানোনা আলভি, কী অমানুষিক পরিশ্রম করে গত ২মাসে যুদ্ধের ছবিগুলো একেছিলাম; কাল একটা ছবি আকছিলাম ধর্ষিতার লাশে শকুন ঠোকর দিচ্ছে এমন; আঁকার পর ছবিটার দিকে তাকাতেই মাথায় একটা চক্কর দিল - বিশ্বাস করো, শকুন নয়, আমি দেখছিলাম আমি-ই বিভৎস পৈশাচিকতায় সেই লাশের শরীরে ঠোকর দিচ্ছি। ভয় পেয়ে অন্য ছবিগুলো খুললাম, সেগুলোতেও হিংস্রতা ফুটে উঠল সহসাই। তখনই উপলব্ধি করলাম শিল্প বিদ্রোহ করেছে, তাই দেরি না করে সবগুলো ছবি পুড়িয়ে ফেলেছি। এরপরই মনে হল, পৃথিবীতে আমি এক নিঃস্ব-নিঃসহায মানুষ, মাথাটা পুরো ফাকা ফাকা লাগছিল, তখন কিভাবে যে তোমাকে ফোন করলাম খেয়াল নেই’; যাইহোক, ছবি পুড়েছে, ভাল হয়েছে; তোমার উপন্যাস কতদূর?
-‘এইতো, ২১১পৃষ্ঠা লিখেছি’ -অপরাধী কণ্ঠে এটুকুই বলতে পারলাম।

সবকিছু আবার স্বাভাবিক হওয়াতে ভাবছি উপন্যাস লেখার প্রহসনে এবার ইস্তফা দেব, কিন্তু ইতিমধ্যে৩৪৭ পৃষ্ঠা লেখা হয়ে গেছে।এটাকে তো এখন বই হিসেবে চালিয়েই দেয়া যায়, হোকনা শত অনীহায় লেখা।পাপড়িও বইয়ের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে সম্ভবত _ কথা প্রসঙ্গেও বইয়ের কথা জিজ্ঞাসা করেনা আর।কাল বলল, নতুন কী দায়িত্ব পেয়েছে একটা সংগঠন থেকে, আমার সাহায্য দরকার, আজ সে উপলক্ষে আমার এখানে আসবে বলেছে।
পাপড়ির এই নতুন দায়িত্বটা জেনে খুব একটা উৎসাহিত হতে পারলাম না : ওর রুমমেটের সুবাদে এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হয়েছে ‘ও’; সংগঠনটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছে গণজাগরণ তৈরির অংশ হিসেবে। পাপড়ির উচ্ছ্বাসের যেন সীমা-পরিসীমা নেই, আমাকেও স্বাক্ষর সংগ্রহ কাজে স্বেচ্ছাসেবক হতে হবে, এটাই তার বক্তব্য।
জীবনে এই প্রথম ওকে সরাসরি ‘না’ বললাম কোন প্রস্তাবে- ‘দেখ পাপড়ি,এটাকে আমার স্রেফ একটা ফ্যান্টাসি মনে হচ্ছে।মুষ্টিমেয় কিছু শহুরে শিক্ষিত মানুষ ছাড়া এই ব্যাপারে কারো সচেতনতা যে নেই তাতো এবারকার নির্বাচনেই দেখেছো- যুদ্ধাপরাধীদের মোট ভোট কিন্তু আগের থেকে বেড়েছে। এটা কী প্রমাণ করে?আমি এখনই স্বাক্ষর দিচ্ছি, তুমি একটু অপেক্ষা করলে আরও কয়েকজনের স্বাক্ষরও সংগ্রহ করে দিতে পারি, তবুও বলবো এটা পণ্ডশ্রম। তার চেয়ে, একটা সুখবর শোন: উপন্যাসটা প্রায় শেষ পর্যায়ে – ৪০৯ পৃষ্ঠা লেখা হয়েছে’
‘তোমার কেন মনে হচ্ছে এটা পণ্ডশ্রম?এই যে, তুমি মুক্তিযুদ্ধের বই লিখছো, অথচ নিজেই বিশ্বাস করোনা যে জনগণের সম্মিলিত দাবীর একটা জোর আছে। আমি যদি বলি, বই লেখাটা তোমার স্রেফ ভণ্ডামী...!’-পাপড়ি রেগে গেল সহসাই
-‘দেখ পাপড়ি, তুমি-আমি সমমনের বলেই কাছাকাছি হতে পেরেছি, তবে আমরা সমমতের ছিলাম না কখনই।তাই তোমার প্রথম প্রশ্নের ব্যাখ্যা আমার জানা নেই। আর ২য় বক্তব্যের ব্যাপারে সম্পূর্ণ একমত; আমি আসলেই ভণ্ডামী করছি উপন্যাসটা নিয়ে। এমনকি, এটাকে আমি বই আকারে প্রকাশ করবো, ২-১জন প্রকাশকের সঙ্গে বথাও বলছি, তো কী হল?এখন সময়টাই ভণ্ডামীর পাপড়িমণি!
আমাদের আলোচনাটা দীর্ঘায়িত হয়নি, মেজাজ খারাপ করে পাপড়ি হলে ফিরে গেছে – যাওয়ার আগে স্বাক্ষর দিতে ভুল করিনি মোটেই।
আমাদের মধ্যে আদর্শগত বিরোধ দেখা দেয়ার পর থেকে বইটা লেখার ব্যাপারে অসুরিক তাগিদ অনুভব করছি, ভন্ডামীই যদি করি তবে আর রাখঢাক কেন?৪৫৭ পৃষ্ঠা লেখা হয়ে গেছে এ কয়দিনেই। প্রকাশকের সঙ্গে কথা হয়েছে, বইটি হবে ৫২০ পৃষ্ঠার, সর্বসাকুল্যে আমার ৩০হাজারের মত খরচ পড়বে। টিউশনির সূত্রে কিছু সঞ্চয় আছে, বাকিটা ধার, আর বাসা থেকে সংগ্রহ করতে হবে। আশা করছি, হয়ে যাবে; তাছাড়া এ মাসে দুটো নতুন টিউশনি ধরেছি।

পাপড়ির সঙ্গে এখনো আগের মতই সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছি। একসাথে ঘুরি, ফোনে নিয়মিত কথা বলি, প্রসঙ্গান্তরে ওদের সাংগঠনিক কাজের অগ্রগতি জানতে চাই, সে-ও আমার বইয়ের কথা জিজ্ঞাসা করে, প্রকাশনায় কত খরচ পড়বে, আমার কত আছে, এইসব ; দুজনের নিপুণ ভণ্ডামীতে দুজনেই মুগ্ধ হই হয়ত।

আজ সারাদিন প্রচণ্ড ব্যস্ততায় কেটেছে। সন্ধ্যায় ফ্ল্যাটে ফেরার পর গোসল করে কফিতে চুমুক দিতেই ক্লান্তি দূর হয়ে গেল, শরীরের ক্লান্তি গেলেও মনের ক্লান্তি যাবে কিভাবে?সুতরাং ফোনের ডানায় চড়ে পাপড়ির কাছে হৃদয় নিয়ে উড়ে যেতে ফোনটাকে ব্যস্ত করতেই হল:
-বইয়ের কাজ কতদূর এগুলো?
-প্রুফরিডিং শেষ,কাল প্রেসে যাচ্ছে। আমি চাই সেই মুহূর্তে তুমি আমার পাশে থাকো
-সেটা কি উচিৎ হবে? তাহলে তো নীতির প্রশ্নে আপোষ করা হয়ে গেল...
-মোটেইনা, তুমি তোমার মত থাকবে। আমার বইটা তোমাকে খুলে দেখতে হবেনা; তুমি শুধু স্মরণীয় মুহূর্তটায় আমার হাত ধরে রাখবে।তাছাড়া বইটা তোমাকেই উৎসর্গ করা হয়েছে যে!
-না, না এটা কিছুতেই হতে পারেনা।তুমি এমনটা করতেই পারোনা। দেখ মন-মেজাজ এমনিতেই খারাপ, তিক্ততা বাড়িয়ো না।
-কেন কী হয়েছে?
-কী আর হবে! গণস্বাক্ষর নিতে গিয়েও দলাদলি, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব,..
-হাহা হা। নচিকেতার একটা গান আছে এরকম :
‘থাকে জন ৩ জন বাঙালি- ১জন রাজনীতি করবেই কেউ যদি উপরে উঠে, বাকিজন তাকে টেনে ধরবেই ও বাঙালি, ও বাঙালি।
সে যা-ই হোক, আমি খুব ক্লান্ত, সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম তো। কাল তুমি অবশ্যই আসবে, ওই যে জুলাইয়ে কুমিল্লা গিয়েছিলে যে পোশাকে, ঠিক সেই পোশাকটাই পরে আসবে; মনে থাকে যেন...

-ফোন রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাসতে হাসতে অসতর্কতাবশত শরীরে কফি ফেলে দিলাম অনেকখানি – পাপড়ি মেয়েটা এত সরল কেন; “ও” কেন বুঝলোনা পুরো ফোনালাপটুকই আমি ওর সঙ্গে মিথ্যাচার করেছি?-
ও কি জানেনা, আমি প্রকাশকের কাছ থেকে টাকার পরিমাণটা জেনে নিয়ে আর কখনই যোগাযোগ করিনি তার সাথে?ও কি জানেনা আজ সারাদিন আমি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কাটিয়ে এলাম সেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধাটির বাড়িতে?ও কি জানেনা, বই প্রকাশের জন্য নানাভাবে যোগাড়কৃত পুরো ৩০হাজার টাকাই আমি এই দুস্থ মানুষটিকে দিয়ে এসেছি একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে?-উদ্দেশ্যটা খুবই সাদামাটা : আমি প্রাণপণে প্রচারণা চাই- সেটা বই লিখেই হোক, কিংবা দাতা(!) হিসেবেই হোক; তাই সেখানে পৌছামাত্রই যে দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধিকে খবর দিয়ে ঐ বাসায় এনেছিলাম, টাকা দেয়ার ছবিটি তুলে রাখতে, সেটা কি ও জানে? ধুর, ও কিভাবে জানবে, ‘ও’ সবজান্তা নাকি?আগামীকাল তো এমনিতেই পেপারে আমার হাস্যোজ্জ্বল ছবি দেখতে পাবে...


এই সিরিজের অন্য গল্পগুলো
সম্পূরক কোণ
লিখি চলো

 

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৪১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২৩ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:৫৪

লেখক বলেছেন: আগের গল্পটা পড়লে ভাল লাগত....এটা একটু কাটা-ছেড়া হতে পারে পরবর্তীতে ...

২. ২৩ শে মার্চ, ২০০৯ ভোর ৪:১৩
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: সম্পূরককোণ পড়েছি; ভাল লেগেছে। লিখি চলো এখনো পড়া হয়নি। পড়ব।
২৩ শে মার্চ, ২০০৯ ভোর ৪:১৯

লেখক বলেছেন: আচ্ছা...."ত যদি ৩ হত!" "পাঠক সমীপেষু"...এগুলোও সময় করে পড়তে পারেন....ধন্যবাদ...

৪. ২৩ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:২৬
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: শেষে এসে ভালো লাগলো না, লেখক মাত্রই লেখতে লেখতে চরিত্রের মায়ায় পড়ে যায়, তার উপর যতো ভালোত্ব আরোপ করতে চায়। সে জিনিসই পরিষ্কার দেখতে পারলাম। পুরো গল্পে আমার প্রাপ্তি এই লাইনটা...

তথ্যের প্রসঙ্গ তুললে তো, আমাদের প্রজন্মের এ বিষয়ে লেখার অধিকারই নেই, যেহেতু আমরা যুদ্ধই দেখিনি।
২৩ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:১৯

লেখক বলেছেন: ভায়া, প্রতীকী গল্পের বই পড়ার অভ্যাস গইড়া তুলো.........তাইলে লেখার এই কনট্রাস্টগুলো ধরতে পারবা কোন একদিন....

৫. ২৩ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৩৭
লীনা দিলরূবা বলেছেন: "ভদ্রলোকের বয়স ৬০+, পক্ষাঘাতগ্রস্ততায় মুখ একদিকে আনত হয়ে গেছে, সেইসঙ্গে যদ্ধে পা হারানোর সুবাদে সার্বক্ষণিক অবলম্বন হুইলচেয়ার- এর কাছে কী করে জানতে চাইবো যুদ্ধের গল্প? ইনি নিজেই তো একটি বিধ্বস্ত যুদ্ধক্ষেত্র!"

আরো অনেকগুলো লাইন মনে রাখার মত। ভাল লিখেছ। অনেক ভাল।
২৩ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:২০

লেখক বলেছেন: আপনার ডায়েরিটার বিশাল ভূমিকা আছে এই গল্পের প্লট ঠিক করার পেছনে....

২৩ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৪৭

লেখক বলেছেন: মাথায় টাক না থাকলে হ্যাট খুলে রাখাই ভাল, চুলে একটু আলো-বাতাস লাগুক; নইলে চুলে পাক ধরে যেতে পারে..

২৩ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৪৭

লেখক বলেছেন: বাধিত হইলাম...

৮. ২৩ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:০১
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন: এখন ব্যস্ততা। পরে পড়বো, তাই শো'কেসে তুলে রাখলাম।
২৩ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:১২

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে, আমার "ডিজুস সংস্কৃতি" নিয়ে লেখাটা আগে পড়ার অনুরোধ রইল, কারণ সেখানে আলোচনার স্কোপ আছে, এটা তো প্লেইন একটা গল্প, এটা পরে পড়লেও হবে...

৯. ২৩ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:২৭
সব্যসাচী প্রসূন বলেছেন: অদ্ভুত... আপনি অনেক বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের বর্তমান যুদ্ধটাকে দেখেছেন... সাধুবাদ প্রাপ্য... ভাল থাকবেন... :)
২৩ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:২৩

লেখক বলেছেন: আপনিও...

১০. ২৩ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৮
নুশেরা বলেছেন: পাপড়ি আর লেখককে নিয়ে গল্পগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে ভাল লেগেছে। তবে শেষটা নিয়ে একটু সেকেন্ড থট দেয়া যেতে পারে বলে মনে হচ্ছে (ভাঙ্গা পেন্সিল ঈঙ্গিত দিয়ে ফেলেছে)।

এই গল্পটা আমি লিখলে (এই প্লট কেউ বলে দিলে তবেই ;) ) শেষটা করতাম এভাবে-- লেখক বইয়ের ব্যাপারে মিথ্যেটা বলেই চলছেন, কিন্তু পাঠক শেষ পর্যন্ত পাপড়ির কাছ থেকেই জানতো প্রকৃত সত্যের উদঘাটন।
২৩ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৫০

লেখক বলেছেন: আপু এটা প্রতীকী গল্প, আপনিও যেহেতু ভাঙ্গা পেন্সিলের রেফারেন্স দিলেন, সেক্ষেত্রে ব্যাপারটা খোলাসা করি : ব্যাপারটা দেখানো হয়েছে ভণ্ডামীটা বজায় রাখার অংশ হিসেবে...অর্থাৎ গল্প শেষ হলেও ভণ্ডামীটা যেন রয়ে যায়....সেক্ষেত্রে পরের দিন পাপড়ির সঙ্গে দেখা হলে পৎআলভী কিভাবে পরিস্থিতিটা সামাল দেবে...সেটা পাঠক এবং আলভীর উপরে অর্পিত থাকুক..........প্লাস, স্বাক্ষর সংগ্রহের চেয়ে আলভীর কাজটাই অধিক প্রয়োজনীয় এই মুহূর্তে......তাই আলভী যা করেছে সেটা ভালত্ব থেকে করেনি, অনেক আগেই গল্পে এমন একটা ইঙ্গিত ছিল "২-১টি ব্যতিক্রম বাদ দিলে অধিকাংশ গল্প কথক মুক্তিযোদ্ধার সামাজিক অবস্থান আমাকে লজ্জিত করেছে। বিশেষত, চৌদ্দগ্রামের সেই পক্ষাঘাতগ্রস্থ যোদ্ধাটির বেকে যাওয়া মুখ, চলৎশক্তিহীন বসে থাকা- আমার মস্তিষ্কে উল্কির ছাপ একে দিয়েছে যেন, চাইলেও মুছে ফেলতে পরছিনা"..................এখানে হঠাৎ জাগ্রত বিবেকবোধের বিষয়টি ইমফেসাইজ করা হয়েছে..........আরও, বিস্তারিত অন্যসময় লেখা যাবে.......
"পাপড়ি আর লেখককে নিয়ে গল্পগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে ভাল লেগেছে"....লেখককে নিয়ে কোন গল্প লেখা হয়নাই আপু, লেখকই গল্প লিখছে। অন্য গল্প ২টিতে আপনার মন্তব্য দেখিনি, তাই ধরে নিচ্ছি সে দুটো আপনি পড়েননি..আর পড়ে থাকলে মন্তব্য না করার জন্য অনুযোগ প্রকাশ করছি।।

১১. ২৩ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:২০
আকাশনীল বলেছেন: ভাল লাগল। লেখকের চিন্তা-ভাবনা আমার সাথে মিলে। তবে মহত্বটা বাড়াবাড়ি মনে হইসে। তোমাকে বুঝতে হবে, দিনশেষে আমরা সবাই কমবেশী ভন্ড।
২৩ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:২৩

লেখক বলেছেন: মিঞাভাই, এইটা মহত্ত্ব না, এটা একটা প্রতীক।। নুশেরা আপুর মন্তব্যের জবাব দ্রষ্টব্য।।

১২. ২৩ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:২৯
নুশেরা বলেছেন:

"..............."পাপড়ি আর লেখককে নিয়ে গল্পগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে ভাল লেগেছে"....লেখককে নিয়ে কোন গল্প লেখা হয়নাই আপু, লেখকই গল্প লিখছে। অন্য গল্প ২টিতে আপনার মন্তব্য দেখিনি, তাই ধরে নিচ্ছি সে দুটো আপনি পড়েননি..আর পড়ে থাকলে মন্তব্য না করার জন্য অনুযোগ প্রকাশ করছি।। "

-- লেখকের নিজের জবানীতেই লেখা; তাই বলেছি ওকথা। গল্পগুলো পড়েছি। তবে আমার সমস্যা হলো বাড়তি চিন্তাভাবনার এফোর্টটুকু দেয়ার ধৈর্য নেই। হিমালয়ের লেখায় শুধু "পড়লাম, ভাল লাগল" লিখলে চলে না। এর দাবী আরও বেশী।
২৩ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৬

লেখক বলেছেন: "লেখকের নিজের জবানীতেই লেখা; তাই বলেছি ওকথা"....আমিও আপনার কলেজ জীবনের মত ঠাট্ট করলাম আরকি...

"হিমালয়ের লেখায় শুধু "পড়লাম, ভাল লাগল" লিখলে চলে না। এর দাবী আরও বেশী।"...এইসব হাইপোথেটিকাল কথা-বার্তা বলে মন্তব্য ফাকি দেয়াটা বেআইনি! প্রয়োজনে "৭' ও লেখা যেতে পারে মন্তব্য হিসেবে। হিমালয় খুবই বাচ্চা একটা পোলা, ৯২ সালে এই মন্তব্যকারী যখন কলেজে পড়তো, সে তখন মাত্র স্কুলে যায়, ওয়ানে পড়তো। তাই এই পিচ্চি পোলার লেখায় মন্তব্য করার জন্য বাড়তি চিন্তা_ভাবনা নিষ্প্রযোজন।।

১৩. ২৩ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৫৩
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন: ভালো লাগলো না খারাপ লাগলো এমন কিছু ডিজিটালভাবে বলাটা অমূলক। প্রথম কারণ হচ্ছে এতে কিছু চরম অপ্রিয় সত্য উঠে এসেছে। যেটা প্রকাশের সৎসাহসের জন্য লেখক বাহবার দাবি রাখে। গল্পটা অন্যান্য গল্পের চেয়ে থিমের অনুগামী একটু বেশি হয়েছে। পড়ে মনে হয়েছে গল্প থিমটাকে নিয়ে আসেনি বরং থিমটার জন্য গল্পটা লিখা। আমার ব্যাক্তিগত পর্যবেক্ষণ। আরেকটু পরিমার্জনা করা যায় কী?? লেখাটার মাঝে কাহিনীতে আরেকটু বিস্তৃতি যেমন ভ্রমনের হতে পারে কিংবা এই জাতীয় কিছু। সব শেষে আমার মনের কোণে জমে থাকা চরম অপ্রিয় কথাুলোর সুন্দর বহিঃপ্রকাশের জন্য লেখককে উত্তম জাঝা।
২৩ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৫৬

লেখক বলেছেন: শিমুল ভাই, আপনার পর্যবেক্ষণকে শ্রদ্ধা জানাই, কাটাছেড়া হয়ত হতে পারে....আপাতত এণ্ডিংটা সম্পর্কে বলেন....এটা নিয়ে প্রায় সবাই অভিযোগ করতেছে...আমি যেটা বলতে চাইছি, তার ভিন্নার্থ করতেছে....আপনার মতামত কী??

১৪. ২৩ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:২৬
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন: এন্ডিংটাতে আমি কোন সমস্যা দেখছি না। আমি মনে হয় তোমার মূল কথা টা ধরতে পেরেছি। যা হোক এই থিম রেখে আরেকটু বোধ যোগ্য করার কথা ভাবতে পার। যদিও আমি এটাতে আপাতত সমস্যা দেখি না।
২৩ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:৩৯

লেখক বলেছেন: "ও কি জানেনা, বই প্রকাশের জন্য নানাভাবে যোগাড়কৃত পুরো ৩০হাজার টাকাই আমি এই দুস্থ মানুষটিকে দিয়ে গ্লানিমুক্ত হতে চেয়েছি আজ?"...এই ব্ক্যটারে একটু ঠিকঠাক মত মেরামত করতে হবে, আর এটার সাথে একটা বাক্য এড করতে হবে....তাইলেই সবাই বুঝবে....এটা করবো সমস্যা নেই....এক বসাতে পুরো গল্প লেখা: সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাতে আড়াইটা পর্যন্ত(মাঝে ১২টা থেকে ১২.৩০ পর্যন্ত পলামীতে টাইনিজ খাওয়া)......তাই লেখাটা একবারও রিভিউ করা হয়নাই.......ব্লগে দিয়েই প্রথম পড়ছি পুরোটা........সেজন্যই এই ছোটখাট সমস্যাগুলা রয়ে গেছে...

২৪ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:৩১

লেখক বলেছেন: আচ্ছা..

১৬. ২৪ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:২৩
কবিতার আড্ডা বলেছেন: পড়ে ভাল লাগলো তাই আপনার জন্য এক কাপ ডিজিটাল চা।আশা করি চা টা ভাল লাগবে কারন চা আপনার সব চেয়ে প্রিয়।

লেখক ভাল থাকুন
শুভ কামনা
২৪ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:২৫

লেখক বলেছেন: "ডিজিটাল চা"-তো দেখছিনা, আমি একটা অভিধানিক শব্দ 'চা'-কে দেখতে পেলাম।। চা-এর একটা ছবি থাকলেও নাহয় ডিজিটাল চা এর ফ্লেভারটা পেতাম....

২৪ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৪১

লেখক বলেছেন: ভাল। অবশ্যই পড়বো। ধন্যবাদ।।

১৮. ২৪ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৪১
কবিতার আড্ডা বলেছেন: ভাই চায়ের কাপটা খুব বড় তাই ফটো তুলতে পারি নাই।সিলেটের চা না ভাল লাগার কথা নয়।
২৪ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৩

লেখক বলেছেন: হায় চা, ডিজটাল চা...
কেন হায় রয়ে যায়, পানের অপরে...

১৯. ২৪ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৯
কবিতার আড্ডা বলেছেন: দেশে যদি কোন দিন আসি আপনাকে এক কাপ চায়ের নিমন্ত্রন দেবো আশা রাখি গ্রহন করবেন সময় এলে
২০. ২৪ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১০
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: ব্যস্ততা আর লগ-আউট হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা সয়ে পুরো সিরিজটা আবার পড়লাম। সম্পূরক কোনে সম্ভাবনার ব্যাপ্তি বলতে বুঝিয়ে ছিলাম অংকগুলো দিয়ে যতোসংখ্যক শব্দগঠন সম্ভব ততো শব্দের হিসেব মিলিয়ে এর যুৎসই অর্থ বের করা কতো কঠিন তা কি ভেবেছেন ? ধরা যাক ৮ ৪ ২ ৩ ৪। একেকটা সংখ্যা দিয়ে যদি প্রেম বা বন্ধুত্ব বিষয়ক ৪/৫টি করে শব্দ থাকে বিণ্যাস সমাবেশ পদ্ধতিতে কতো রকমের লাইন লেখা সম্ভব ? পুরো সংখ্যার বিণ্যাস সমাবেশের মাধ্যমে কতোভাবে চিঠিটা কল্পনা করা সম্ভব ? এর কতোরকম অর্থইবা বের করা সম্ভব ?
সব মিলে সিরিজ গল্পলেখার ধারণাটি ভালো লাগলো। উপণ্যাসে ট্রিলজির চল দেশে বিদেশে বেশ পরনো। গল্পে এ নিরীক্ষা আমার কাছে নতুন এবং ভালো লেগেছে। তবে ছোট্ট একটা খটকা লেগেছে, সবক'টি গল্পের ভাষা, চলন ও টেম্পারামেন্টে একটা সমরূপতা কি থাকা উচিত নয় ? আমার কাছে মনে হয়েছে চরিত্রের পুনরাবৃত্তি ছাড়া অন্যান্যদিকে অমিলের মাত্রা বেশি। এটা ট্রিলজির সাথে যায় কি ?
বাংলাদেশের সাগর পাহাড় বন মিলে কিছু অংশ ছাড়া পুরোদেশ দেখতে একরকম তারপরও বিভিন্ন জেলায় যাবার সময় চারপাশের দৃশ্য সম্পর্কে এতোটা নিস্পৃহ থেকে শুধু শব্দেরখেলা দিয়ে ভ্রমন শেষ ?
কিছু বর্ণনার ভঙ্গি ভালো লেগেছে। যেমন- ইনি নিজেইতো একটি বিধ্বস্ত যুদ্ধক্ষেত্র।
ওপরে যা বললাম তাতো ভিন্নমত মাত্র। সব মিলে বেশ ভালো হয়েছে গল্পট্রিলজি। সুন্দর নিরীক্ষার জন্য অভিনন্দন।
২৪ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩০

লেখক বলেছেন: প্রথমে সম্পূরক কোণের জবাবদিহিতা করি:
আপনার ভাবনাটি যথার্থ। তবে লেখা থেকে কিছু লাইন আলাদাভাবে কোট করি:
"কিন্তু ইংরেজিতে শব্দ আছে কয়েক হাজার, আমি সাকুল্যে জানি হাজারখানেক, এর মধ্যে থেকে কোন্ শব্দগুলো সে ব্যবহার করেছে, তার চেয়েও বড় সমস্যা হচ্ছে এইভাবে অক্ষর গুণে কি শব্দ হিসেব করে কেউ?"
....এর মাধ্যমে কিন্তু গল্পের শুরুতেই আপনার আশঙ্কাটিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এরপর বিষয়টাকে সহজ করার জন্য কিছু লাইনের আশ্রয় নেয়া হয়েছে, সেগুলো কোট করি:

"পাপড়ির শব্দভাণ্ডার খুব সমৃদ্ধ নয বলেই জানি, সেক্ষেত্রে খুব অপরিচিত শব্দ সে ব্যবহার করবেনা। চিঠিতেও 7,8 এর মোট সংখ্যা অন্যান্যদের তুলনায় বেশ কম।তাছাড়া verb এর শেষে ‘ing’ যোগ করার কারণে ছোট্ট শব্দেরও আকার বৃদ্ধি ঘটে, এমতাবস্থায় 6,7,8 এর verb বা সমধর্মী শব্দ হবার সম্ভাবনা বেশি। সংকেতপ্রাপ্তির মধ্যে এগুলোকেও অন্তর্ভূক্ত করে নিই আপাতত।"

"3 এর পরিসর এভাবে সন্ধান করা প্রায় অসম্ভব, তারপরও যে কয়েকটি শব্দ এই চিঠিতে থাকার প্রবল সম্ভাবনা আছে তার তালিকা করলে you,and, the, set, get, are, was, how, why, but, not, has, had প্রভৃতি আসবেই। কিন্তু 4 এর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র love আর hate এর ব্যাপারেই নিশ্চিত হতে পারছি। বাকি শব্দগুলো কিভাবে বুঝবো?-তার জন্য অন্য উপায় ভাবতে হবে।"
........এই লাইনগুলো কিন্তু চিঠিটাকে অনেকটাই ডিফাইন করে ফেলে। এছাড়া এই অংশটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ :ও’ আসলে কিভাবে কথা বলে, কোন্ শব্দগুলো বেশি ব্যবহার করে, কোনগুলোর প্রতি সুগ্ধতা আছে, অনেকটা একজন মানুষকে আদ্যন্ত ‘স্ক্যান’ করার মত ব্যাপার। ‘হয়ত, ধরা যাক’, এই দুটি শব্দ সে বলবেই কথা প্রসঙ্গে। ‘ধরো, তুমি অনেক বড় কিছু করে ফেললে একদিন’ অথবা ‘হয়ত আমার ভাবনাকে তুমি কোনদিনই স্পর্শ করতে পারবেনা’..এগুলো তার চিরচর্চিত বাক্য, সেই সঙ্গে তার অধিকাংশ বাক্যই নেতিবাচক।‘আমি কাজটি করতে অপারগ’ এ ধরনের বাক্যের চেয়ে ‘আমি কাজটি করতে পারিনা’ ধর্মী বাক্যই তার মুখে প্রাধান্য পায়। এ দিক থেকে, এই চিঠিতে ‘no, not’ অবশ্যই আছে, আর প্রথম শব্দটি অবধারিতভাবেই suppose, অথবা perhaps হবে। কিন্তু দুটিই তো ৭ অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ!সেক্ষেত্রে ‘অন্য কী হতে পারে’-এমন দুর্ভাবনা স্থায়ী হওয়ার আগেই সমাধান হয়ে এল ‘probably’ শব্দটি।এইবার বোধহয় দাবা খেলাটা সার্থক হল!...............এবার ভিন্নরকম থাকলে বলেন।।।

৭১ প্রসঙ্গে:
আপনার মনে হওয়াটা সঠিক।। আসলে এই সিরিজে শুধু নাম দুটোই একই থাকবে, বাকি সবকিছু গল্পানুযায়ী পাল্টে যাবে। এই সিরিজের বৈশিষ্ঠ্যই হচ্ছে, টোটালি ভিন্নস্টাইলের গল্প হবে, থিমে থাকবে অভিনবত্ব, এবং নতুন কিছু আইডিয়া....প্রতিটি গল্পই হবে নতুন গল্প, আগেরটা না পড়লেও কোন সমস্যা নেই, এমন একটা ব্যাপার.....এতে ট্রিলজি মেইনটেইন হল কিনা জানিনা, কারণ আমি সাহিথ্যের ছাত্র নই, অনেক টার্মই জানিনা, আপনার কাছ থেকে সেগুলো প্রায়ই জেনে নিই। আমার যেটা মনে হয, লেখার সময এই বৈশিষ্ট্য মেইনটেইন করার চেয়ে বৈশিষ্ট্যকেই লেখার অনুগামী করা ভাল।
গল্পের দুটো চরিত্রই নেতিবাচক, প্রকৃতি তাদেরকে টানেনা, তাদেরকে টানে নিজেদের মধ্যকার মনস্তত্ত্বিক বিজয়কে। তাই এরা প্রকৃতিও দেখে নেতিবাচক দৃষ্টিতে। গল্পের এই অংশটা কোট করি:

"এই কথাটির জবাব আমার জানা নেই। তাই বাকি সময়টুকু বাসের জানালা দিয়ে রাস্তার ধারের প্রকৃতির উশৃঙ্খলতা দেখাটাই আমার একমাত্র করণীয়; বাস থেকে শরীরটা নামলেই দুজন চেনা মানুষ আগামী বেশ কিছুদিনের জন্য স্বেচ্ছায় অচেনা হয়ে যাচ্ছি, এর প্রতিক্রিয়াটা কি প্রকৃতিতে দেখা যাবে?"

তাছাড়া এখানে ভ্রমণটা কোন উপলক্ষ নয়, উপলক্ষ যুদ্ধের গল্প শোনা। তাই যুদ্ধ এবং যুদ্ধের দর্শনটাই ইমফেসাইজ করা হয়েছে। যুদ্ধ সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব, অবস্থান, সবকিছুই যুদ্ধকেন্দ্রিক..........নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য ধন্যবাদ। এই ভিন্নমতগুলো, গল্পের উপর আমার নিয়ন্ত্রণকে আরোও সুদৃঢ় করে। আপনার কাছ থেকে সবসময়ই ভিন্নমত প্রত্যাশা করি ভীষণরকম।।

২১. ২৪ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:০৮
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: "আমার উদ্দেশ্যটা বলি : এই ক্যাসেটের গল্পগুলো শুনে, আর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনযাপন দেখে তুমি একটা উপন্যাস লিখবে, যার বিষয়বস্তু হবে আমাদের প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দর্শন।"

গল্পতে না হয়ে যদি সত্যি সত্যি আজ থেকে অন্ততঃ ২০ বছর আগে কোন পাঁপড়ি এমন করে ভাবতো।আর কোন আলভী সেই ভাবনাগুলোকে সত্যি করবার জন্য এভাবে লিখবার প্রয়াস নিতো!
বেশ হতো।

"মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের হিসাবানুযায়ী এখন ৫৯ নম্বর পৃষ্ঠায় অবস্থান করছে লেখাটা, যদিও এটাকে পড়তে আমি নিজেই সংকোচ বোধ করছি; সারা লেখার কোথাও একবিন্দু মমতা নেই, এখন যুদ্ধগাথা লেখার এই কপট প্রয়াসের একটাই উদ্দেশ্য – পাপড়িকে ফিরে পাওয়া, nothing else!:

কি ভালো যে লাগলো।
এই লেখার মধ্যে পরম টানের জায়গা এটা মনে হলো।অদ্ভুত ভালোলাগা।

একটা যুদ্ধ চলে গেলে একটা ইতিহাস হয়।
অনেক হারানোর বেদনা থাকে।
পাওয়া না পাওয়া থাকে।
জয় থাকে ।
পরাজয় থাকে।
কিন্তু মানুষের মধ্যেকার এমন অকপট সত্য ভাবনাগুলো প্রান পায়না সবসময়।
পাঁপড়ি কি কখনো অনুভব করতে পারে আলভীর অনুভবগুলো?
নিজের আঁকা ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলতে পারা পাঁপড়ি কি নিজেও অপেক্ষায় ছিলোনা ওর স্বঘোষিত যুদ্ধসীমা শেষ হোক?

"তোমার উপন্যাস লেখা-আমার ছবি আঁকার সময়টাকে আমি একটি যুদ্ধ হিসেবে কল্পনা করে হৃদয় নিংড়ানো কষ্ট পেতে চাই; কাজ শেষ হলে পুনরায় কাছাকাছি হওয়ার স্বাধীনতা- ব্যাপারটার গভীরতা নিয়ে ভেবেছো? তাইতো একে প্রাণভরে আস্বাদন করবো বলেই, সাময়িক এই দূরে থাকার সংগ্রাম।"

আসলে কি এমন সংগ্রাম এর কোন প্রয়োজন আছে জীবনে?
কখনো মনে হয় আছে।
কখনো মনে হয় নেই।

"ও কি জানেনা, আমি প্রকাশকের কাছ থেকে টাকার পরিমাণটা জেনে নিয়ে আর কখনই যোগাযোগ করিনি তার সাথে?ও কি জানেনা আজ সারাদিন আমি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কাটিয়ে এলাম সেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধাটির বাড়িতে?ও কি জানেনা, বই প্রকাশের জন্য নানাভাবে যোগাড়কৃত পুরো ৩০হাজার টাকাই আমি এই দুস্থ মানুষটিকে দিয়ে এসেছি একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে?"
আমার মনে হয়না পাঁপড়ির খারাপ লাগবে......।
পাঁপড়ি খুব খশীই হবে।
যুদ্ধ কখনো শেষ হয়না আসলে।

অনেক শুভেচ্ছা হিমু।


২৪ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৪০

লেখক বলেছেন: !!!!!!!!!!আপনি তো পুরো গল্পের রিভিউ লিখে ফেলেছেন আপু।।। আমি নিজেও এত মনোযোগ দিয়ে গল্পটা পড়িনি, এটা নিশ্চিত।।
২০বছর আগের আক্ষেপটা নীলক্ষেত- ইডেন কলেজের একটা চিত্র মনে করিয়ে দিল....আমি তখন ২বছরের শিশু...অথচ কেউ একজন হেটে যাচ্ছে পথধরে....এটা এখন ভিজুয়ালাইজ করতে পারছি।

"কিন্তু মানুষের মধ্যেকার এমন অকপট সত্য ভাবনাগুলো প্রান পায়না সবসময়"......সময়টা এমন হয়ে গেছে যে সবকিছুতেই কৃত্রিমতা, প্রাণটাও কৃত্রিম হতে বাকি...

"নিজের আঁকা ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলতে পারা পাঁপড়ি কি নিজেও অপেক্ষায় ছিলোনা ওর স্বঘোষিত যুদ্ধসীমা শেষ হোক?".....এই দর্শনটা আপনি নতুন করে গল্পে যোগ করলেন...এটা গল্পের প্রাপ্তি বলা যায়....

"পাঁপড়ি খুব খশীই হবে।
যুদ্ধ কখনো শেষ হয়না আসলে।".....পাপড়ি খুশি হবে কিনা জানিনা, তবে যুদ্ধ এখনো চলছে, এবার চলছে নিজেদের বিরুদ্ধে।।। বকেয়া মন্তব্য এখনো অনেকগুলো সাদা-বক আপু

শ্রদ্ধা সবসময়।।

২২. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:৩৬
যুধিষ্ঠির বলেছেন: দুজনের নিপুণ ভণ্ডামীতে দুজনেই মুগ্ধ হই হয়ত। মুগ্ধ হইলাম
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:৩৭

লেখক বলেছেন: তোমার সাথে আবার কে ভণ্ডামী করলো মামা???

২৩. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:৩৬
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: লিখাটা পুরোই পড়লাম। আপনার লিখা সময় না করে পড়া যায় না। এটাও কয়েকবার ঢুঁ দিয়ে তারপর পড়লাম। বাকিগুলোও পড়বো সময় করে।

আপনার শব্দ চয়নে বেপরোয়া একটা ভাব আছে-এটা আমার ভাল্লাগছে। আর সব মিলালে একটা দৃশ্য তৈরি হয়। আপনি পুরো একটা গল্প লিকেন-সবই সম্পর্কিত। অর্ধেক পড়ে বোঝার উপায় থাকে না আপনি কী লিখছেন।

বাকিগুলো পড়ে বাকি আলোচনা।
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:৪২

লেখক বলেছেন: "আপনার শব্দ চয়নে বেপরোয়া একটা ভাব আছে"- এই কথাটা ভাল লেগেছে।।।।
এই সিরিজের প্রতিটি গল্পই আলাদা গল্প, আগেরগুলো না পড়লেও একটুও সমস্যা হবেনা।।।

২৪. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ২:৩৮
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: আমার ‘ভ্রুণঘুমটার’ বয়স

ভ্রুণঘুমের পাশে ' ' চিহ্ন দেয়ার কারণ নেই, লেখক আপনিই। ' ' ব্যবহারে একটু চোখ বোলানোর জন্য অনুরোধ করছি।

------------

এভাবে শব্দ লেখার শাস্তি(!) কে পোহাতে

শাস্তির পরে (!) চিহ্নটা তুলে নিতে পারেন। দৃষ্টিকটু এবং ভাববন্ধক।

-----------

হয়ে গেছে_ প্রায়

আগে-ও জানতে চেয়েছিলাম _ চিহ্নটা বিশেষভাবে ব্যবহৃত নাকি?
-------------
সেক্ষেত্রে কী মীমাংসা হবে?

'কি' হবে, 'কী' না।
---------

এটা অনেক ভাল লেগেছে। কিছু বানান ভুল আছে, সময় পেলে শুধরে নিবেন। কিছু বিষয়ে স্পর্শ এসেছে, যেমন- গণস্বাক্ষর বিষয়, সাহায্য বিষয়টি; তবে বাঙালি শুধু স্পর্শে বিশ্বাসী নয়, একটা ধাক্কা দিতে পারতেন। লেখাটার কথা অনেকদিন মনে থাকবে।

শুভেচ্ছার্থে......
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ২:৪৮

লেখক বলেছেন: ভাতঘুম শুনেছি, ভ্রুণঘুমটা এর আগে শুনিনাই,তাই ওটাকে চিহ্নবন্দী করা হইছে। শাস্তি টার পাশে (!) চিহ্নটা দেয়া হয়েছে শব্দটাকে বিশেষভাবে নজরে আনার জন্য।। _ চিহ্নটা আমি কিছু উদ্দেশ্য ব্যবহার করে থাকি, বাক্যগুলো খেয়াল করলেই বুঝা যাবে।।।

মীমাংসার ক্ষেত্রে দুটি sentence : will it be solved?
what will be the solution?
গল্পে ২য় বাক্যটা প্রয়োগ করা হয়েছে, এটা 'কি" or 'কী"?

যে বানানগুলো ভুল লাগলো একটু বলবেননা???দিলেননা তো ঝামেলা বাড়িয়ে...........

ধাক্কা তো একটা জোরেশোরেই দিলাম মনে হয়, এটকে স্পর্শ কেন মনে হল বুঝলাম না.....

২৫. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:০০
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: আগে শুনেন নাই বলে শব্দ সৃষ্টি করতে অসুবিধে কোথায়? ভাষা তো এভাবেই সমৃদ্ধ হবে।
what will be the solution? ভঙ্গিতে হলে কী ব্যবহার করতে পারেন, তবে '?' বদলে '!' মানানসই হবে।

আমার বোধহয় গন্ডারের চামড়া। ;)
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:১০

লেখক বলেছেন: ঠিক বলেছেন, এখন আপনি বলার পর আবার দেখলাম, ! টাই এপ্রোপ্রিয়েট.....

ডাক্তারদের চামড়া গণ্ডারের মত হওয়াই ভাল.......(শুনেছি আপনি ডাক্তার, আর ভুল শুনে থাকলে অন্য উদাহরণ রেডি আছে; হা হাহা)

২৬. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:০২
মুক্ত বয়ান বলেছেন: শেষটা নিয়েই বিতর্ক করা যেতে পারে। তবে, তুমি তো বলেই দিছ, এটা পরিবর্তিত হতে পারে। আমি সেই আগ্রহ নিয়ে বসে থাকলাম।
আর, একটা ব্যাপার। আদম ব্যবসা'র কথা বলে একেবারে মোক্ষম জায়গায় আঘাতটা করছ। এই গল্পের এটা একটা বড় প্রাপ্তি। আর, গল্পের প্লট তো যথারীতি ভিন্ন।
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:০৪

লেখক বলেছেন: শেষটা আগে অন্য ছিল, চেঞ্জ করা হইয়া গেছে বন্ধু।।। এইবার কী বিতর্ক করতে চাও বল, দেখি আমারও কিছু বলার সুযোগ থাকে কিনা..

২৭. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:১৬
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: আমি ডাক্তার কে বলল? :| আমি হাসপাতালের ধারে কাছে যাই একবার, বাৎসরিক একটা চেক-আপ করা উচিত বলে (যেহেতু এটা প্রয়োজনীয়)।

আমি আপনারই মতো একজন ছাত্র। (আপনি তো ছাত্রই?)
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:২১

লেখক বলেছেন: জ্বি আমি ছাত্রই, কোন এক পোস্টে কেউ একজন বলছিল আপনি ডাক্তার..তখন ব্লগে নতুন ছিলাম, অনেক দুষ্টুমিই বুঝতাম না.......এটাও তেমন কোন দুষ্টুমিই হবে।

যাইহোক, ছাত্রদের চামড়া গণ্ডারের মত হওয়াই ভাল...নইলে টিচাররা সারাজীবন যত কথা শোনায়, চামড়া আর কিছু থাকতো না.......আমারও গণ্ডারের চামড়া...

২৮. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:০৮
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন: আমার কাছে আগের এন্ডিংটাই ভাল্লাগছিলো। ব্যক্তিগত মত। প্রভাবিত হয়ো না।
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:১৯

লেখক বলেছেন: amar mone hoy etai perfect...1tu vaiba janan.....message kintu purota palte gece...........agertar message, r eitar message totally biporit.........arekbar vaben....apnar o eitai valo lagbe mone hoy...

২৯. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:২৫
আইরিন সুলতানা বলেছেন: আমাদের নাম না জানা , পত্রপত্রিকায় অপ্রকাশিত কিনবা কেবল মাত্র বিশেষ বিশেষ দিবসে খুঁজেপেতে প্রকাশিত এমন অনেক মুক্তিযুদ্ধাদেরই আসলেই করুণ দশা ...

এ অংশে একটা প্রশ্ন জাগে তাহলে কোন এখন জরুরী...এদের দৈন্যদশার দ্রুত পরিবর্তন করা নাকি আগে ইতিহাসকে জানা কিনবা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ?

আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়, এমনসব অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানোটাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ...তবে পরক্ষণে বোঝা যায়, না ইতিহাস জানা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি...সবগুলোই প্রয়োজন...

কারণ এগুলো অবশ্যই একসূত্রে গাঁথা...আর সবাই তো এক ক্ষেত্রে কাজ করবে না... বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে একেকটা ক্ষেত্রকে তুলে আনতে হবে ..

কোন মুক্তিযোদ্ধর আদম ব্যাপারী হওয়াটা সামান্য কষ্ট দিলেও হয়ত খুব বিচলিত করবে না আমাকে... ধরেই নেয়া যায়, ৭১ -এ দেশকে বাঁচাতে বিভিন্ন শ্রেনীর, পেশার মানুষ যুদ্ধ করেছিল...হয়ত কোন চোরও সেদিন অস্ত্র নিয়েছিল দেশক রক্ষা করতে ...আর তারপর .............................

জীবন-জীবিকা কত কিছুই করায় মানুষকে দিয়ে...হয়ত কারো কারো ক্ষেত্রে জীবন-জীবিকা লোভ-লালসায় রূপান্তরিত হয়

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর কার্যক্রম দ্বারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত হবে তা নয়, তবে একটি দাবি আছে, চাহিদা আছে এই সচেতনতাটুকু সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরী হবে ... শেষ পর্যন্ত বিচার কাজ পরিচালনা করবে অবশ্যই সরকার-আইন-আদালত..তবে গণস্বাক্ষরের সঠিক প্রচারণা অবশ্যই সরকারকে চাপে রাখবে যে জনগণ বিচারের দাবিতে উদগ্রীব

যুদ্ধাপরাধীদের ভোট বেড়েছে কিনবা একটি নির্দিষ্ট দলের আসন সংখ্যা কমলেও ভোট আগের থেকে বেড়েছে শুধু এটুকু বলে দিলে কথাটার অন্য প্রভাব আসতে পারে পরে... জনসংখ্যা বেড়েছে...এর মাঝে অবশ্যই বিশেষ কোন কারণে তাদের অনুসারী বেড়েছে...ধর্মীয় কারণে অনেকেই জামাতকে সমর্থন দিয়ে আসে...আর এখন তো মাদ্রাসার সংখ্যা বেড়েছে অ-নে-ক...তাই ভোট বেড়ে যাওয়াটা কিছুটা স্বাভাবিক....

তবে অপমানজনক এটাই যে, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে একটি রাজনীতি দল শুধুমাত্র ধর্মকে পুঁজি করে এখনো বহাল আছে !!!


অনেক মানুষ থাকলে তো মত পার্থক্য হতেই পারে...এটাই স্বাভাবিক ...এমন কোন আন্দোলন পাওয়া যাবে না যেখানে এমন সামান্য বিভেদ বা সাময়িক কিছু পরিচালনাগত সমস্যা হয়েছে...এটা যদি মূল উদ্যেশ্যকে সম্পূর্ণরুপে ভেঙে দেয় তাহলে তা হতাশাজনক..তাছাড়া এই সাময়িক কোন ভেদাভেদকে নিয়ে খুব বেশী বিচলিত হওয়ার কিছু নেই ... গণস্বাক্ষর কার্যক্রম চলছে ...একেক সময় একেকজন হাল ধরবে এটাই খুব স্বাভাবিক...এবং আমার ব্যক্তিগত মতে..এমনটাই হওয়া উচিৎ..না হলে এমন আন্দোলন "সবার" বলে বিবেচ্য হবে কি করে !

বাদ বাকি...লোক দেখানো..কিনবা বাণিজ্য...হয়ত কারো কারো জন্য হতেও পারে...কেউ কেউ একটু স্বীকৃতি চাইতেই পারে...কারো ভূমিকা যদি ইতিবাচক হয়, সহায়ক হয়...সেটুকুকে স্বীকৃতি দিতে অসুবিধা কই !

এখন সব কিছুই বাণিজ্যিক... প্রচারেই প্রসার...শুধু এটুকু দেখা দরকার মূল উদ্যেশ্যটুকু যেন হারিয়ে না যায়...

যেমন, কোন দু:স্থকে আর্থিক সাহায্য দানের ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় দানকারী যেন একাই সবার আলোচনার বস্তু হয়ে না যায়...সেই দু:স্থ ব্যক্তিটি যেন সবার দৃষ্টিতে আসেন...আর আলোচনাই যেন শেষ না হয়...এই প্রচারণা থেকে যাতে আরেকজন উদ্বুদ্ধ হন..এগিয়ে আসেন অন্য কোন দু:স্থকে সাহায্য করতে ।


অনেক বছর হয়ে গেল...প্রাকৃতিক কারণে কিংবা অন্য কোন সীমাবদ্ধতায় আমরা ইতিমধ্যে হারিয়ে ফেলেছি অনেক কৃতী সন্তানদের...আর কিছু বছর পরেই হারিয়ে ফেলব আমাদের আরো মুক্তিযোদ্ধাদের...তাই যত কথাই আসুক...দেরী হলেও এখনই সময় ইতিহাসটুকু একটি ঠিক ভাবে জানার-চেনার...কারণ এর পরের প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার পুরো দ্বায়িত্ব কিন্তু আমাদের ঘাড়েই বর্তাবে ।


আপনার লেখায় অনেক অনেক প্রসংগ বেশ গোছানোভাবেই, গল্পাকারে এসেছে ...এজন্য ধন্যবাদ আপনাকে ।


স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা ।


২৬ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:১০

লেখক বলেছেন: আপনার প্রশ্ন ধরে ধরে জবাব দেই:
প্রথমে প্রয়োজন দৈন্যদশা পরিবর্তন বা পুনর্বাসন, কারণ আগে জীবন, আপনার অন্ন-বস্ত্রের সংকট হলে জাগতিক বাকি ব্যাপারগুলো প্রহসন অথবা অর্থহীন........সেই সঙ্গে ইতিহাস জানাটা অবশ্যই জরুরী। কারণ, আমাদের এই ৫বছর মেয়াদী ইতিহাসের সংস্কৃতি আমাদের পজন্মের কাছে যুদ্ধের ইতিহাসকে একটা গোলকধাধায় পরিণত করেছে। আমি ঠিক জানিনা আপনি আমাদের প্রজন্মের কিনা, ধরে নিচ্ছি আগের প্রজন্মের, তবুও আপনি কি নিশ্চিত যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানেন?এরপর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার...........নিশ্চিত করে বলতে পারি, এই সরকার এর বিচার করবেনা, কারণ এটা একটা নির্বাচনী ইস্যু, জনগণের সিমপ‌্যাথি পাওয়ার কৌশল, তাই আমাদের মত সাধারণ মানুষ যতই পরিশ্রম করি, বিচারের জন্য চিৎকার করি, অফিস-ক্লাস ফেলে স্বাক্ষর নেই....যাদের হাতে ক্ষমতা পুঞ্জীভূত তাদের কাছে এর মূল্য অচল পয়সার সমান।

"জীবন-জীবিকা কত কিছুই করায় মানুষকে দিয়ে...হয়ত কারো কারো ক্ষেত্রে জীবন-জীবিকা লোভ-লালসায় রূপান্তরিত হয়"....প্রশ্ন হচ্ছে এই লালাসার জন্য দায়ী কে? কারণ, একজন যোদ্ধার এই লালসা আমাকে লজ্জিত করে। আপনি নিশ্চয়ই "জাল মুক্তিযোদ্ধার সনদ" সংক্রান্ত সেই কেলেংকারীর কাহিনী জানেন। সেক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানটা কোথায়?

"দ্ধাপরাধীদের ভোট বেড়েছে কিনবা একটি নির্দিষ্ট দলের আসন সংখ্যা কমলেও ভোট আগের থেকে বেড়েছে শুধু এটুকু বলে দিলে কথাটার অন্য প্রভাব আসতে পারে পরে... জনসংখ্যা বেড়েছে...এর মাঝে অবশ্যই বিশেষ কোন কারণে তাদের অনুসারী বেড়েছে...ধর্মীয় কারণে অনেকেই জামাতকে সমর্থন দিয়ে আসে...আর এখন তো মাদ্রাসার সংখ্যা বেড়েছে অ-নে-ক...তাই ভোট বেড়ে যাওয়াটা কিছুটা স্বাভাবিক....

তবে অপমানজনক এটাই যে, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে একটি রাজনীতি দল শুধুমাত্র ধর্মকে পুঁজি করে এখনো বহাল আছে !!"
.........তাহলে মূলবিষয়টা কী দাঁড়ালো? এই দেশটি গ্রামপ্রধান....আমাদের এই শহুরে সচেতনতা গ্রেটার কোন ইমপ‌্যাক্টই তৈরি করতে পারছেনা, বা এখনো পারেনি....নির্বাচনের সময় এরকম সংবাদ দেখেছিলাম : জামাতের মহিলারা কোরআন শরিফ কাপড়ের নিচে লুকিয়ে নিয়ে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করার পরে বলে "তুমি কোরআন ছুয়ে বলছো কিন্তু যে আমাদের ভোট দিবা"....এই মানুষদের বিরুদ্ধে কাউন্টার কোন পদক্ষেপ নেয়াটা জরুরী, নাকি ফরম নিয়ে ঘুরে ঘুরে স্বাক্ষর নেয়াটা জরুরী...তাছাড়া এই স্বাক্ষরকারী যে স্বাক্ষর দিচ্ছে সে কতটা দায়িত্ববোধ থেকে দিচ্ছে? মেলায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এভাবে একজনের স্বাক্ষর নিলাম, আর হযে গেল> আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলি : ১৯২ নং স্টলের সামনেই "সংবেদ" এর স্টল ছিল মেলায়, ওই স্টলে আমি নিয়মিতই যেতাম বই কিনতে, তাই স্বাক্ষর দেয়া কয়েকজনের প্রতিক্রিয়া খেয়াল করার সুযোগ হয়েছিল।"যাই একটু মশকরা কইরা আসি, পাগলামি কইরা আসি, কিংবা এগো কোন কা নাই?" এরকম কথাও শুনেছি ওই স্বাক্ষরকারীদের থেকেই..তাহলে?

"অনেক মানুষ থাকলে তো মত পার্থক্য হতেই পারে...এটাই স্বাভাবিক ...এমন কোন আন্দোলন পাওয়া যাবে না যেখানে এমন সামান্য বিভেদ বা সাময়িক কিছু পরিচালনাগত সমস্যা হয়েছে...এটা যদি মূল উদ্যেশ্যকে সম্পূর্ণরুপে ভেঙে দেয় তাহলে তা হতাশাজনক..তাছাড়া এই সাময়িক কোন ভেদাভেদকে নিয়ে খুব বেশী বিচলিত হওয়ার কিছু নেই ... গণস্বাক্ষর কার্যক্রম চলছে ...একেক সময় একেকজন হাল ধরবে এটাই খুব স্বাভাবিক...এবং আমার ব্যক্তিগত মতে..এমনটাই হওয়া উচিৎ..না হলে এমন আন্দোলন "সবার" বলে বিবেচ্য হবে কি করে !"
....তো সংবাদ সম্মেলনে তো খুব বেশিসংখ্যক মানুষ ছিলনা, সেখানেও অনেক ইস্যুতেই মতানৈক্য হয়েছে বলেই শুনেছি....এটা কেন হল?আর, সাধারণ এই ভলায়েন্টারি কাজেও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, দলাদলির টুকরো সংবাদ শুনেছি...তখনই নচিকেতার গানটা প্রাসঙ্গিক মনে হয় ভীষণভাবে।

"বাদ বাকি...লোক দেখানো..কিনবা বাণিজ্য...হয়ত কারো কারো জন্য হতেও পারে...কেউ কেউ একটু স্বীকৃতি চাইতেই পারে...কারো ভূমিকা যদি ইতিবাচক হয়, সহায়ক হয়...সেটুকুকে স্বীকৃতি দিতে অসুবিধা কই !

এখন সব কিছুই বাণিজ্যিক... প্রচারেই প্রসার...শুধু এটুকু দেখা দরকার মূল উদ্যেশ্যটুকু যেন হারিয়ে না যায়..".....................কর্পোরেট সর্বত্রই আছে, এই যুগে তাকে অস্বীকার করারও উপায় নেই; এই কর্পোরেট উদ্দেশ্যেও যদি কোন দুস্থ মানুষ উপকৃত হয়, তো হল....আমার কাছে জীবন বাঁচানোটাই মূখ্য, এতে করে কে লাভবান হল, সে কী উদ্দেশ্য করলো..এটা নিয়ে আমার কোন ইন্টারেস্ট নেই, শুধু এই সত্যটুকুই লিখতে চাই যে "দিনশেষে আমরা সবাই ভণ্ড"....এটা আপনি স্বীকার করতে সংকোচ বোধ করতে পারেন, আমি কিন্তু নিঃসংকোচ।।।

৩০. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৩৮
কালপুরুষ বলেছেন: ব্লগে বড় লেখা দেখলেই গায় জ্বর এসে যায়। মনে হয় এই বুঝি রিডিং গ্লাসের পাওয়ার বাড়লো। তাই কয়েকবার পড়ার চেষ্টা করে এবার পড়েই ফেললাম। তবে বাসায় ছুটির দিনে বার বার ওঠার ঝক্কি সামলিয়ে তেমন মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারলাম না। আবার ভাল করে পড়ে নেবো। এই মন্তব্যটা লিখতেও ৩ বার উঠতে হয়েছে। শেষ করতে পারলাম সেটাই অনেক।
২৬ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৫৬

লেখক বলেছেন: এই লেখাটা অন্য লেখাগুলো থেকে আলাদা, এটা বলতে পারি...

৩১. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৪৫
আইরিন সুলতানা বলেছেন: প্রথমে প্রয়োজন দৈন্যদশা পরিবর্তন বা পুনর্বাসন, কারণ আগে জীবন, আপনার অন্ন-বস্ত্রের সংকট হলে জাগতিক বাকি ব্যাপারগুলো প্রহসন অথবা অর্থহীন........সেই সঙ্গে ইতিহাস জানাটা অবশ্যই জরুরী। কারণ, আমাদের এই ৫বছর মেয়াদী ইতিহাসের সংস্কৃতি আমাদের পজন্মের কাছে যুদ্ধের ইতিহাসকে একটা গোলকধাধায় পরিণত করেছে।

-- আমিও মনে হয় মন্তব্যে এমন কিছু বলেছিলাম..সব কিছুরই প্রয়োজন আছে ।

আমি ঠিক জানিনা আপনি আমাদের প্রজন্মের কিনা, ধরে নিচ্ছি আগের প্রজন্মের, তবুও আপনি কি নিশ্চিত যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানেন?

-- প্রজন্মের ভেদাভেদ কি আপনা সুষ্পস্ট করে করছেন ? মানে প্রতি বছরের..সেক্ষেত্রের আমি অবশ্যই আপনার চেয়ে বয়সের বড় অর্থে আপনার আগের প্রজন্মের... তবে আমি প্রজন্ম অর্থে বিশেষত মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্ম, আর বর্তমানের তরুণ-যুবা প্রজন্মদের বলছি । আর আপনি তো আর স্কুল পড়ুয়া কোন শিশু-কিশোর নন... সেক্ষেত্রে সঠিক ইতিহাস জানি কি না প্রশ্নটাই তো অর্থহীন...আমাদের পাঠ্য বইয়েই তো বছর বছর কিনবা ক্ষমতা বদলের সাথে সাথে ইতাহাস বদলে যায়..আর স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস তো এক'দুই পাতার কোন লেখা নয়...

"জীবন-জীবিকা কত কিছুই করায় মানুষকে দিয়ে...হয়ত কারো কারো ক্ষেত্রে জীবন-জীবিকা লোভ-লালসায় রূপান্তরিত হয়"....প্রশ্ন হচ্ছে এই লালাসার জন্য দায়ী কে? কারণ, একজন যোদ্ধার এই লালসা আমাকে লজ্জিত করে। আপনি নিশ্চয়ই "জাল মুক্তিযোদ্ধার সনদ" সংক্রান্ত সেই কেলেংকারীর কাহিনী জানেন। সেক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানটা কোথায়?

-- দেখুন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বীরাঙ্গনাদের পুনর্বাসনে কিন্তু যথেস্ট বেগ পেতে হয়েছিল সরকারকে। .. খুব সাদরে কিন্তু সেই সব নারীদের গ্রহণ করা হয়নি..এমনকি তাদের নিজেদের পরিবারও পিছিয়ে গিয়েছিল তথাকথিত সমাজ ব্যবস্থার জন্য ...এদেশে তখন কিন্তু বহু মানুষ ছিল যারা স্বাধীনতার সপক্ষে লড়েছিল...তারা কিন্তু তখন খুব ভাল ভাবেই জানতেন কেন নারীরা সম্ভ্রম হারা হয়েছিল, নির্যাতিতা হয়েছিল ...এক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের কতটুকু সন্মান করা যায় ? এই উদাহরণটা টেনে আনার কারণ হলো আমাদের ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা... আগেই বলেছি, ৭১ -এ একজন চোরও হয়ত মন থেকেই যুদ্ধ করেছিল...পরবর্তীতে হয়ত সে আবারও সেই পেশাতে ফিরে গিয়েছিল...স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে লুটতরাজও হয়েছিল...রাজনীতি অঙ্গনেও তো বহু আছে যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ করেছিলেন..গুটিকয়েক ছাড়া তাদের সবার উপর কি এখন খুব শ্রদ্ধা-ভক্তি আনা যায় !

....তো সংবাদ সম্মেলনে তো খুব বেশিসংখ্যক মানুষ ছিলনা, সেখানেও অনেক ইস্যুতেই মতানৈক্য হয়েছে বলেই শুনেছি....এটা কেন হল?আর, সাধারণ এই ভলায়েন্টারি কাজেও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, দলাদলির টুকরো সংবাদ শুনেছি...তখনই নচিকেতার গানটা প্রাসঙ্গিক মনে হয় ভীষণভাবে।

-- আমার মনে হচ্ছে, আপনি একটু বেশী উত্তেজনা প্রকাশ করছেন । "শুনেছি" শব্দটার উপর জোড় দিচ্ছি...কার কাছে শুনেছেন ? কি শুনেছেন..? এটা না জেনে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা বোকামি হবে । তবে শোনা কথার উপর ভর করে এতো বেশী উত্তেজনা প্রকাশ তো কাম্য নয় । কার সাথে কার মতানৈক্য হয়েছিল ? আর মতানৈক্যতে এতো এলার্জি কেন তাতো বোধগম্য হলো না ...!

আপনার মন্তব্য পড়ে মনে হচ্ছে, এই প্রেস কনফারেন্স যারা করেছেন বা যারা এই গণস্বাক্ষরগ্রহণ অভিযানে জড়িত তাদের প্রত্যেকের এধরণের আন্দোলনের অনেক অভিজ্ঞতা আছে..এধরনের গণসংযোগের অজস্র অভিজ্ঞতা আছে..সবাই যার যার ব্যক্তিগত রুটিনের বাইরে চেষ্টা করছেন কিছু সময় দেয়ার, কাজ করার...আজ সেদিন তো ছিল প্রেস কনফারেন্স...তাহলে স্বভাবতই সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে, সেটাই কি কাম্য নয় ? ওখানে তো কোন সেলিব্রিটি ছিল না, কোন বিনোদন অনুষ্ঠান ছিল না যে সবাই খুব হাসা-হাসি করবে...যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি তুললে বর্তমানে অনেক রকম প্রাসংগিকতা চলে আসে...তাই নিয়ে তো প্রশ্ন আসতেই পারে...



আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলি : ১৯২ নং স্টলের সামনেই "সংবেদ" এর স্টল ছিল মেলায়, ওই স্টলে আমি নিয়মিতই যেতাম বই কিনতে, তাই স্বাক্ষর দেয়া কয়েকজনের প্রতিক্রিয়া খেয়াল করার সুযোগ হয়েছিল।"যাই একটু মশকরা কইরা আসি, পাগলামি কইরা আসি, কিংবা এগো কোন কা নাই?" এরকম কথাও শুনেছি ওই স্বাক্ষরকারীদের থেকেই..তাহলে?

-- তাহলে ??? আপনার কি মনে হয়েছিল যে এই স্বাক্ষর গ্রহণ অভিযানে সবাই খুব ছুটেছুটে এসে স্বাক্ষর দিয়ে যাবে ? যারা স্বাক্ষর সংগ্রহে ছিল তাদের জিগেষ করে দেখুন এর চেয়ে অনেক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা তাদের আছে..তাদের কাছে মন্তব্য বইয়ে অনেক ধরনের মন্তব্যও আছে....আপনি শেষে "তাহলে" প্রশ্নটা করে আপনার চিন্তার অসাড়তা দেখালেন..এখানে যারা ওমন ছেলেখেলা ধরণের মন্তব্য করেছে, আপনার তো খুব "নি:সংকোচে" তাদের কাছে যেয়ে এমনভাবে কথা বলার কারণ জানা উচিৎ ছিল....যারা বলেছিল এটা তাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, উপলব্ধির সীমাবদ্ধতা...তবে তাও তো তারা স্বাক্ষর দিয়েছিল...অনেকে কিন্তু স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতিও জানিয়েছিল...সেটা কি আপনার জানা আছে ?


করে কে লাভবান হল, সে কী উদ্দেশ্য করলো..এটা নিয়ে আমার কোন ইন্টারেস্ট নেই, শুধু এই সত্যটুকুই লিখতে চাই যে "দিনশেষে আমরা সবাই ভণ্ড"....এটা আপনি অস্বীকার করতে সংকোচ বোধ করতে পারেন, আমি কিন্তু নিঃসংকোচ।।।

-- আগেই বলেছি...এরকম আপনি বেশী উত্তেজনা প্রকাশ করছেন...এরকম কথা লিখতে খুব বেশী সংকোচের প্রয়োজন হয়না...বলাই যায়...এবং বলে দিয়ে নিজেকে ব্যতিক্রম প্রমাণের যথেস্ট চেষ্টা করাই যায় ...লাভবান বলতে যদি এখানে কেউ টাকা-পয়সায় মালামাল হয়ে যেত তাহলে আপনার কণ্ঠে কণ্ঠ মেলানো যেত নির্দ্বিধায় ..যদি এমন হতো যে কেউ আসলে এসবে বিশ্বাস করে না...কিন্তু পাবলিসিটির জন্য এসব করছে, এমন বিশাল সেলিব্রিটি হয়ে সমাজে সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে তাহলেও আপনার মত নি:সংকোচ হওয়ার কিছু চেষ্টা করতাম হয়তবা...আপনি যদি এমন কিছু জানেন তো বরং পুরোপুরি নি:সংকোচ হয়ে লিখুন না ।
২৬ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৫১

লেখক বলেছেন: "সেক্ষেত্রে সঠিক ইতিহাস জানি কি না প্রশ্নটাই তো অর্থহীন...আমাদের পাঠ্য বইয়েই তো বছর বছর কিনবা ক্ষমতা বদলের সাথে সাথে ইতাহাস বদলে যায়..আর স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস তো এক'দুই পাতার কোন লেখা নয়...সেক্ষেত্রে সঠিক ইতিহাস জানি কি না প্রশ্নটাই তো অর্থহীন..." তাহলে আপনি ইতিহাসকে কিভাবে ডিফাইন করবেন, বা এই প্রশ্নটাকেই ঠিক কী কারণে অর্থহীন মনে হল???

"পরবর্তীতে হয়ত সে আবারও সেই পেশাতে ফিরে গিয়েছিল...স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে লুটতরাজও হয়েছিল...রাজনীতি অঙ্গনেও তো বহু আছে যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ করেছিলেন..গুটিকয়েক ছাড়া তাদের সবার উপর কি এখন খুব শ্রদ্ধা-ভক্তি আনা যায় !".....এই অংশের সঙ্গে কোন দ্বিমত নেই।

"তবে শোনা কথার উপর ভর করে এতো বেশী উত্তেজনা প্রকাশ তো কাম্য নয় । কার সাথে কার মতানৈক্য হয়েছিল ? আর মতানৈক্যতে এতো এলার্জি কেন তাতো বোধগম্য হলো না ...!"
....উত্তেজনা কোথায় দেখলেন; একটা বিষয় সম্পর্কে জেনে তার সম্পর্কে প্রশ্ন রেখেছি। ভুল জানলে সেটা ভুল, বা অযৌক্তিক হলে যৌক্তিকভাবে বলেন...ব্যস হয়ে গেল...এর মধ্যে উত্তেজনা আসে কিভাবে?
মতানৈক্য বিষয়ে বলি,তার আগে একটা উদ্ধৃতি দেই " আমরা সভ্যরা হব সমমনের, কখনই সমমতের নই"....এখানেই কিন্তু মতানৈক্যের ব্যাপারটা চলে আসছে। এই ব্লগে আমার অত্যন্ত পছন্দের একজন মানুষ :মুনীর উদ্দিন শামীম। আজ পর্যন্ত কোন ইস্যুতে আমরা একমত হতে পারিনি, তার ব্লগে গেলে আমার বক্তব্য থেকেই বিষয়টি বুঝতে পারবেন। অথচ তার প্রতি আমার অপরিসীম শ্রদ্ধাবোধ আছে, উনিও নিয়মিত আমার ব্লগে আসেন। মতাদর্শের চর্চাটাও এভাবে গড়ে উঠে।।। সেক্ষেত্রে "এলার্জি" শবত্টা মনে হয় , আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কারণটা মন্তব্যের পরের অংশে বলছি।।


"ওখানে তো কোন সেলিব্রিটি ছিল না, কোন বিনোদন অনুষ্ঠান ছিল না যে সবাই খুব হাসা-হাসি করবে...যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি তুললে বর্তমানে অনেক রকম প্রাসংগিকতা চলে আসে...তাই নিয়ে তো প্রশ্ন আসতেই পারে..."...আমিও তো প্রশ্ন বিষয়েই বলছি, এটাকে স্বাভাবিক ধরে নিলেই ঝামেলা শেষ।আগেও বলেছি, ভুল জানলে সঠিকটা জানান, কিন্তু আপনার জানানোর ধরনটাতো মোটেই শোভনীয় লাগলোনা....


"তাহলে" প্রশ্নটা করে আপনার চিন্তার অসাড়তা দেখালেন..এখানে যারা ওমন ছেলেখেলা ধরণের মন্তব্য করেছে, আপনার তো খুব "নি:সংকোচে" তাদের কাছে যেয়ে এমনভাবে কথা বলার কারণ জানা উচিৎ ছিল....যারা বলেছিল এটা তাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, উপলব্ধির সীমাবদ্ধতা...তবে তাও তো তারা স্বাক্ষর দিয়েছিল...অনেকে কিন্তু স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতিও জানিয়েছিল...সেটা কি আপনার জানা আছে ?..........

অসাড়তা শব্দটির অর্থ বোধহয় আপনার জানা নেই, বা জান থাকলেও প্রয়োগে ভুল করেছেন। "জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, উপলব্ধির সীমাবদ্ধতা"..... এই শব্দগুলোতেও আমার আপত্তি আছে। বরং আমি বলতে পারি "দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য",,,,একটা বিষয়ে আরেকজনের ভিন্ন ভাবনা থাকতেই পারে, সেটা আমার সঙ্গে না মিললেই তাকে 'সীমাবদ্ধতা" হিসেবে চালিয়ে দেয়াটাকে চিন্তার স্বেচ্ছাচারিতা বলেই মনে হয়। বরং আমার উচিৎ ছিল তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা " তাহলে এ বিষয়ে আপনার ভাবনা কি, বা এর থেকে ভালো কী উপায় হতে পারে"...এরকম কিছু। সেটা না করার জন্য আমি দুঃখিত। কিন্তু কেন করতেপারিনি তার একটা ব্যাখ্যা দেই: আমি এমনিতে মুখচোরা স্বভাবের মানূষ, যে কোন আসরে সবচেয়ে নীরব শ্রোতা, তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক কিছু মুখে প্রকাশ করতে পারিনা, যেটা লেখার সময় পারি; এটা আমার ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা।। তবুও আপনি যেভাবে অসাড়তা অসাড়তা করলেন তাতে বলতে বাধ্য হচ্ছি "দৃষ্টিভঙ্গি শোধরান।"

"বলাই যায়...এবং বলে দিয়ে নিজেকে ব্যতিক্রম প্রমাণের যথেস্ট চেষ্টা করাই যায় ...লাভবান বলতে যদি এখানে কেউ টাকা-পয়সায় মালামাল হয়ে যেত তাহলে আপনার কণ্ঠে কণ্ঠ মেলানো যেত নির্দ্বিধায় ..যদি এমন হতো যে কেউ আসলে এসবে বিশ্বাস করে না...কিন্তু পাবলিসিটির জন্য এসব করছে, এমন বিশাল সেলিব্রিটি হয়ে সমাজে সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে তাহলেও আপনার মত নি:সংকোচ হওয়ার কিছু চেষ্টা করতাম হয়তবা...আপনি যদি এমন কিছু জানেন তো বরং পুরোপুরি নি:সংকোচ হয়ে লিখুন না"
..........এই অংশটা তো কিছু না বুঝেই লিখলেন বলেই মনে হল। আমি লিখলাম কর্পোরেট নীতি নিয়ে, আপনি সেটাকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে টেনে আনলেন। আগের মনতব্য থেকে কোট করি: "কর্পোরেট সর্বত্রই আছে, এই যুগে তাকে অস্বীকার করারও উপায় নেই; এই কর্পোরেট উদ্দেশ্যেও যদি কোন দুস্থ মানুষ উপকৃত হয়, তো হল....আমার কাছে জীবন বাঁচানোটাই মূখ্য"..........সেক্ষেত্রে আপনি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার পয়েন্টটা কোথায় পেলেন দয়া করে জানাবেন। আর ব্যতিক্রম শব্দটা নিয়ে অন্যদের অনেক ফ্যাসিনেশন থাকতে পারে, তবে "ব্যতিক্রম" শব্দটির জন্য একটা উদ্ধৃতি দিলাম, "ব্যতিক্রম বলতে আদতে কিছু নেই; শাদা চোখে যা কিছু ব্যতিক্রম বলে ভ্রম হয়, তা আসলে অতিসাধারণেরই অপ্রচলিত রূপ".....এতেই ব্যতিক্রমী দর্শনটা বুঝবেন আশা করি।
আর ভলতেয়ারের একটা উদ্ধৃতি এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক " তোমার বক্তব্যে আমি দ্বিমত পোষণ করি, কিন্তু তোমার কথা বলার অধিকারকে আমৃত্যু সঙরক্ষণ করে যাবো"................আশা করি, বোঝাতে পেরেছি...





৩২. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৪৭
অরণ্য আনাম বলেছেন: লেখক আপনি লিখেছেনঃ ...তো সংবাদ সম্মেলনে তো খুব বেশিসংখ্যক মানুষ ছিলনা, সেখানেও অনেক ইস্যুতেই মতানৈক্য হয়েছে বলেই শুনেছি....এটা কেন হল?আর, সাধারণ এই ভলায়েন্টারি কাজেও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, দলাদলির টুকরো সংবাদ শুনেছি...তখনই নচিকেতার গানটা প্রাসঙ্গিক মনে হয় ভীষণভাবে।

=============================================

আমি জানি না আপনি কি শুনেছেন, বা কে আপনাকে শুনিয়েছে। তবে, আপনার কাছ থেকে এমন কথা আশা করা যায় না। তবুও আপনি লিখতে দ্বিধা করনেনি।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেছে, আমরা উত্তর দিয়েছি। তবে "ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ" নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে তর্ক-যুক্তি হয়েছে মাত্র।
২৬ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৫২

লেখক বলেছেন: অরণ্য আনাম, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলামনা....তাই সত্যতা বলতে পারবোনা...তবে ২/১ জনের কাছে এমনটা শুনেছিলাম বলেই বলা, ভুল শুনে থাকলে এমনটা লেখার জন্য দুঃখিত।।।আর একটা কথা, আমি বরাবরই স্পষ্টবাদী মানুষ, মনে যেটা ফিল করি, সেটা শুনতে খারাপ লাগলেও বলতে দ্বিধা করিনা, কারণ ভুল বললে সেটা সংশোধনের একটা সেকেন্ড চান্স সবসময়ই থাকে। ধন্যবাদ।।।

৩৩. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৫৩
অরণ্য আনাম বলেছেন: স্বেচ্ছাসেবক যারা, তারা নিজ নৈতিকতার জন্যই স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। এখানে কোন নেতৃত্ব নেই। যারা নেতৃত্বের লোভ করবে, তারা কখনই কোন ভাল কাজে নিজেদের যুক্ত করতে পারবে না।

আমি খুবই অবাক হয়েছি আপনার এমন মন্তব্য পড়ে। "একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি" এটা কারোর একার ন্য, বা কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলে পৈত্রিক সম্পত্তি নয়।

গণস্বাক্ষরের কর্মসূচি গুলো ব্লগারদের উপস্থিতিতে নেয়া হয় সবার মতামতের ভিত্তিতে। এখানে একটি সেল কাজ করে, যাদের দায়িত্ব সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা।

তবে, আমি ভীষণ ভাবে মর্মাহত যে, এই গণস্বাক্ষর নিয়ে গুটি কয়েক ব্লগার "ব্লগ রাজনীতি" খেলার চেষ্টায় মত্ত। এমন নোংরা কেন হয় মানুষের মন? আর এই নোংরামিকে ঘেটে আরো দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে যারা, তারাইবা কেমন মানুষ?
২৬ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:০৭

লেখক বলেছেন: অরণ্য আনাম, শুরুতেই বলি "ব্লগ রাজনীতি" টার্মটাকে আমি ঘৃণা করি; আমার সঙ্গে আপনার তেমন জানাশোনাও নেই, তবুও আমাকে চেনে এমন কারো কাছ থেকে অন্তত জানবেন, যে ৭মাস ব্লগিংয়ে আমি কখনো এমনকিছু করেছি কিনা যাতে আমাকে ঐ টার্মে ব্র্যাকেটবন্দী করা যায়।।

"আর এই নোংরামিকে ঘেটে আরো দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে যারা,তারাইবা কেমন মানুষ?"..........ইনডাইরেক্টলি কী মীন করলেন ভালই বুঝলাম, তবে কোনকিছু মীন করার আগে লেখাটা পড়ে মীন করাটাই উচিৎ, তাইনা? আমার এরকম উদ্দেশ্য থাকলে তো আলাদা পোস্টই দিতাম...এটা স্রেফ একটা গল্প......এটাকে গল্পের পেক্ষিতেই দেখা উচিৎ...আর বাকি কথাগুলো আইরিন সুলতানার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে উঠে এসেছে......সুতরাং কারও দিকে আঙ্গুল তুলার আগে আঙ্গুলটা আদৌ নিজের কিনা সেটা ভেবে দেখবেন।।ধন্যবাদ।।।

৩৪. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৪
আইরিন সুলতানা বলেছেন: সেক্ষেত্রে সঠিক ইতিহাস জানি কি না প্রশ্নটাই তো অর্থহীন..." তাহলে আপনি ইতিহাসকে কিভাবে ডিফাইন করবেন, বা এই প্রশ্নটাকেই ঠিক কী কারণে অর্থহীন মনে হল???

--- উত্তরটা খুবই সাধারণ এবং প্রশ্নটা এজন্যই অর্থহীন মনে হলো কারণ, সঠিক ইতিহাস জানলে তো এতো দ্বিধাদ্বন্দ্ব আসতো না...এ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানেনা... উদাহরণেও কিন্তু বলেছি, এখানে বছর বছর পাঠ্য-বইয়ে ইতিহাস বদলে যায় । সাথে এখন যোগ করলাম, সংবাদ মাধ্যমগুলোর চেহারাও বদলে যায়। এখন বঙ্গবন্ধুর নাম মিনিটে মিনিটে শোনা যাচ্ছে, সরকার বদলে গেলে কেবল জিয়া'ই হয়ে উঠবেন ইতিহাসের অংশ । তাহলে আমি যে সঠিক ইতিহাস জানিনা এতো বোঝাই যায় । প্রশ্ন করতে হয়না ।


...উত্তেজনা কোথায় দেখলেন; একটা বিষয় সম্পর্কে জেনে তার সম্পর্কে প্রশ্ন রেখেছি। ভুল জানলে সেটা ভুল, বা অযৌক্তিক হলে যৌক্তিকভাবে বলেন...ব্যস হয়ে গেল...এর মধ্যে উত্তেজনা আসে কিভাবে?


-- আপনার মূল পোস্টেও এসেছে যে গণস্বাক্ষর নিয়ে দলাদলি হচ্ছে/হয়েছে, সেখানেও আপনি একটি গানের উদ্ধৃতি দিয়েছেন..আবার পরবর্তীতেও মতানৈক্যতে বেশ জোর দিয়েছেন । তাই স্বভাবতই অবাক হতে হয়, মতানৈক্য নিয়ে এতো প্রশ্ন কেন হবে ! এখানে তো কোন দলাদলা হয়ে যায়নি..এমনতো না যে আগে সবাই এক ছিল কিন্তু মতানৈক্যের কারণে দলে দলে ভাগ হয়ে গেছে..কাজ চলছে । অভিজ্ঞতার কমতি থাকতে পারে এখানে অনেকেরই.তারপরও চেষ্টা চলছে ।

একটা কথা, আপনার মন্তব্য, পোস্ট এগুলো কিন্তু জ্ঞাত-অজ্ঞাতসারে বার্তা বহন করছে। যা হয়ত আরেকজনকে সুযোগ দিবে এবার মতানৈক্য নিয়ে কথা বলে অযথা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার।


অসাড়তা শব্দটির অর্থ বোধহয় আপনার জানা নেই, বা জান থাকলেও প্রয়োগে ভুল করেছেন। "জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, উপলব্ধির সীমাবদ্ধতা"..... এই শব্দগুলোতেও আমার আপত্তি আছে। বরং আমি বলতে পারি "দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য",,,,একটা বিষয়ে আরেকজনের ভিন্ন ভাবনা থাকতেই পারে, সেটা আমার সঙ্গে না মিললেই তাকে 'সীমাবদ্ধতা" হিসেবে চালিয়ে দেয়াটাকে চিন্তার স্বেচ্ছাচারিতা বলেই মনে হয়। বরং আমার উচিৎ ছিল তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা " তাহলে এ বিষয়ে আপনার ভাবনা কি, বা এর থেকে ভালো কী উপায় হতে পারে".


-- দু:খিত, আপনার আগের মন্তব্য অনুসারে আপনি শুনেছিলেন কেউ স্বাক্ষর গ্রহণ কিনবা স্বাক্ষর দেয়াকে নিয়ে মজা করছিল, এবং খানিকটা উপহাস করেই মন্তব্য করছিল, একে আমি কখনই দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা বলতে রাজি না...এটি অবশ্যই খুব ভদ্রভাষাতেই উপলব্ধির সীমাবদ্ধতা...যদি তারা এভাবে বলতে, বস্তুত এই স্বাক্ষর গ্রহণ করে বিচার সম্ভব নয়, কিনবা স্বাক্ষরগ্রহণ অভিযান আসলে সঠিক পথ নয় ভিন্ন কোন উদ্যোগ দরকার...তাকে বলা যায় দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা । এই প্রেক্ষিতেই আপনি যখন "তাহলে?" প্রশ্ন করেন তা আমার কাছে অসাড় মনে হয়েছে ।


এটা নিয়ে আমার কোন ইন্টারেস্ট নেই, শুধু এই সত্যটুকুই লিখতে চাই যে "দিনশেষে আমরা সবাই ভণ্ড"....এটা আপনি স্বীকার করতে সংকোচ বোধ করতে পারেন, আমি কিন্তু নিঃসংকোচ।।।

-- আপনার আগের মন্তব্য থেকে দিলাম । এখানে আপনি নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমাতে জড়িয়ে নিলেন ! এটুকু কি খুব বেশী শোভন ছিল ????

আমার মন্তব্যটুকু আপনার কাছে না বুঝে মনে হতে পারে, কিন্তু কথার মূল ছিল স্বাক্ষরগ্রহণ অভিযান, মতানৈক্য, নেতৃত্ব, রাজনীতি - এসবের সূত্র....নয়তো আলাদা করে কর্পোরেট কালচার নিয়ে কথা বলার কোন ক্ষেত্র ছিলনা...যদিও আপনি ইতিমধ্যে অরণ্য আনাম এর মন্তব্যে উত্তরে বলে ফেলেছেন, "এটা স্রেফ একটা গল্প", আমার মনে হয়েছিল, এটা গল্পের ছলে কিছু বার্তা প্রেরণ...সেজন্য যোগসূত্র ধরে মন্তব্য করা...

স্রেফ গল্প ধরে নিলে তো "ভাল লেখা" বলেই শেষ হয়ে যেত ।


আপনার মতামত প্রেরণে কোন বাধা দেয়া হচ্ছে না..তবে কোথাও একটু চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা ছিল । যা পরে বিতর্ক তৈরী করতেই পারে ।
২৬ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:২৮

লেখক বলেছেন: "তাহলে আমি যে সঠিক ইতিহাস জানিনা এতো বোঝাই যায় । প্রশ্ন করতে হয়না ।"...একটা উদ্ধৃতি দেই " কালের শুরুতেও সে ছিল চুপচাপ, এখনো তাই, আবার ভাবিষ্যতেও থাকবে একইরকম। সে কখনো নেপথ্যে আসেনা, অথচ সবসময় তৃতীয় পক্ষের মত সম্ত ঘটনা পর্যবেক্ষণে রেখে যায়। এই তৃতীয় পক্ষই হচ্ছে ইতিহাস"................"আপনি ইতিহাস জানিনা", এত সরল স্বীকারোক্তি দিলে তো ইতিহাস তার দায় এড়াতে পারবেনা...সুতরাং ইতিহাসকে জানতেই হবে। লেখা থেকে কোট করি:
‘হঠাৎ কেন এমন খেয়াল হল’- জানতে চেয়ে জবাব পেলাম- ‘আসলে মুক্তিযুদ্ধের নাটক-সিনেমা-উপন্যাসগুলোকে আমার পুরোপুরি বস্তুনিষ্ঠ মনে হয়না, অধিকাংশকেই কাল্পনিক ও অনুমাননির্ভর লাগে। তাই, ভাবলাম প্রকৃত মানুষদের থেকেই সত্যি ঘটনাগুলো জানি’।
‘কিন্তু এতদিন পর তারাও তো অতিরঞ্জিত কাহিনী বলতে পারে’-আমার এই আশঙ্কার প্রেক্ষিতে সে একটা ছোট্ট নিঃশ্বাস নিল, এরপর ধীরে ধীরে বলল – তা পারে, তবুও একজন সত্যিকারের যোদ্ধার মুখ থেকেই নাহয় অতিরঞ্জিত গল্প শুনলাম’।"

আরও কিছু লাইন কোট করি:

"আমি একটু ঘাবড়ে গেলেও কথা খুজে পেলাম ঠিকই- ‘তোমার প্ল্যানটা নিঃসন্দেহে খুবই প্রশংসনীয় কিন্তু এইটুকু তথ্যের উপর ভিত্তি করে উপন্যাস লেখা, ছবি আকাটা, একটু বাগাড়ম্বরিতা হয়ে যাচ্ছেনা?
-না, তা হবে কেন?আমরা তো প্রকৃত মানুষদের থেকে তথ্য নিয়েছি,বাকিটা অনুভব থেকে লিখবে। তথ্যের প্রসঙ্গ তুললে তো, আমাদের প্রজন্মের এ বিষয়ে লেখার অধিকারই নেই, যেহেতু আমরা যুদ্ধই দেখিনি।"

"আপনার মূল পোস্টেও এসেছে যে গণস্বাক্ষর নিয়ে দলাদলি হচ্ছে/হয়েছে, সেখানেও আপনি একটি গানের উদ্ধৃতি দিয়েছেন..আবার পরবর্তীতেও মতানৈক্যতে বেশ জোর দিয়েছেন । তাই স্বভাবতই অবাক হতে হয়, মতানৈক্য নিয়ে এতো প্রশ্ন কেন হবে ! এখানে তো কোন দলাদলা হয়ে যায়নি..এমনতো না যে আগে সবাই এক ছিল কিন্তু মতানৈক্যের কারণে দলে দলে ভাগ হয়ে গেছে..কাজ চলছে । অভিজ্ঞতার কমতি থাকতে পারে এখানে অনেকেরই.তারপরও চেষ্টা চলছে"..........একটা প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয় শুধু ব্লগার কমিউনিটিই এই গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছে?আমি বইমেলায় সামুর ব্যানারে গণস্বাক্ষর দেয়ার আগে আরও ৪বার স্বাক্ষর দিয়েছি বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে। ডিসেম্বরে আমাদের মানিকগঞ্জ শহরে বিজয়মেলা হয়, সেখানেও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্টলগুলোতে এই স্বাক্ষর নেয়া হয়, আমি ২টা পাঠগারের সঙ্গে যুক্ত, সেখানেও এই উদ্যোগ চলছে, পর্ণোসাইটেও নেয়া হচ্ছে সেটা ব্লগে এসে জানলাম.....তো আপনারা কি সার্বিক চিত্র জানেন?আমি কিছুদিন আগে ডিজুস কালচার নিয়ে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম, তার আগে বাসায় ছিলাম ২দিন, সেখানে গিয়ে আমি মারামারি পর্যন্ত দেখেছি এই দলাদলির ইস্যুতে...মানলাম এটা সার্বিক চিত্র নয, কিন্তু আরও অনেক জায়গায়ই এই ব্যাপরে শুনেছি.....আর গানটা বলা হয়েছে বাঙালি চরিত্র সম্পকৃে , গল্পে যেভাবে এসেছে।।। গানের বক্তব্য সম্পর্কে আমি নিশ্চিত, আপনি অবিশ্বাস করলে সেটা আপনার ভাবনা।আপনি হয়ত ভাবছেন, আমি গণস্বাক্ষরের বিপক্ষে কিনা....আমি নিজে স্বাক্ষর দিয়েছি(সেদিন অরণ্য আনাম ছিলেন)...এরপর যতদিন মেলায় গিয়েছি সেখানে গিয়েছি, এবং আমার ৫জন বুয়েটের বন্ধু ও ৮জন অন্য ভার্সিটির বন্ধু, মানিকগঞ্জ থেকে আসা ৩জন বন্ধু এবং আমার ছোটভাই..মোট ১৭ জনকে স্বাক্ষর দিতে উদ্বুদ্ধ করেছি, সেক্ষেত্রে আমার অবস্থানটা পরিষ্কার করা নিষ্প্রয়োজন।

"একটা কথা, আপনার মন্তব্য, পোস্ট এগুলো কিন্তু জ্ঞাত-অজ্ঞাতসারে বার্তা বহন করছে। যা হয়ত আরেকজনকে সুযোগ দিবে এবার মতানৈক্য নিয়ে কথা বলে অযথা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার।"....এই কথাটা বলারও কোন অবকাশ আছে বলে মনে হয়না।। আপনার আগে আরও অনেকে এই গল্পটা পড়েছেন, রেটিংয়ে যে একটা মাইনাস সেটি দিয়েছে "আমি-ই স্রোত" নামের এক ব্লগার, যে আমার ব্লগে ব্লকড বেশ কিছুদিন আগেই। সুতরাং বিভ্রান্তি তৈরি হরে রেটিং এরকম একমুখি হতনা।

"এটি অবশ্যই খুব ভদ্রভাষাতেই উপলব্ধির সীমাবদ্ধতা...যদি তারা এভাবে বলতে, বস্তুত এই স্বাক্ষর গ্রহণ করে বিচার সম্ভব নয়, কিনবা স্বাক্ষরগ্রহণ অভিযান আসলে সঠিক পথ নয় ভিন্ন কোন উদ্যোগ দরকার...তাকে বলা যায় দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা । এই প্রেক্ষিতেই আপনি যখন "তাহলে?" প্রশ্ন করেন তা আমার কাছে অসাড় মনে হয়েছে ।".........
একটা প্রাসঙ্গিক তুলনা করি : রুশো ও ভলটেয়ারে..পরস্পরকে সহ্য করতে পারতেননা মোটেই। রুশো ভলটেয়ারকে বলতেন উন্মাদ, আর ভলটেয়ার রুশোকে বলতেন "অহঙ্কারী"........কেউ কাউকে কটাক্ষ করার সামান্যতম সুযোগ পেলেও ছাড়তেননা। আমরা এতদিন পর এই বিরোধটাকে "দর্শনের বৈপরীত্য" বা "দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য"-ই বলে থাকি..."সীমাবদ্ধ" শব্দটি অর্থকে পুরোপুরি পাল্টে দেয়। যারা স্বাক্ষরকে হেয করেছে, তাদের একজনকে দেখেও আমার দেশের প্রতি ভালবাসা নেই এমনটা মনে হযনি, বর প্রত্যেকেই এই ঘৃণ্য ব্যক্তিদের শাস্তি চায়...সুতরাং তারা যদি একটা কথা বলে সেটাকে সীমাবদ্ধতা নয়, 'দৃষ্টিভঙ্গির" মাপকাঠিতেই তুলবো.........

"দিনশেষে আমরা সবাই ভণ্ড"....এটা আপনি স্বীকার করতে সংকোচ বোধ করতে পারেন, আমি কিন্তু নিঃসংকোচ।।।

-- আপনার আগের মন্তব্য থেকে দিলাম । এখানে আপনি নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমাতে জড়িয়ে নিলেন ! এটুকু কি খুব বেশী শোভন ছিল ???? "

....একটা প্রশ্ন, "আমরা" শব্দটি কি সামষ্টিক অর্থ প্রকাশ করে, নাকি মাত্র ২জনের বেলায় প্রযোজ্য?
"দিনশেষে আমরা সবাই ভণ্ড"..এই সরল বাক্যটিতে সামষ্টিক একটি ব্যাপার আছে, সেই সামষ্টিকতার সাপেক্ষে নিজের অবস্থান বা মনোভাবটা প্রকাশ করেছি, যেহেতু আপনার সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে এই "সামষ্টিক বাক্যটি' বলেছি তাই আপনার কথাটি বলেছি, এক্ষেত্রে আপনাকে জড়ানো হল কিভাবে বলবেন???

"নয়তো আলাদা করে কর্পোরেট কালচার নিয়ে কথা বলার কোন ক্ষেত্র ছিলনা...যদিও আপনি ইতিমধ্যে অরণ্য আনাম এর মন্তব্যে উত্তরে বলে ফেলেছেন, "এটা স্রেফ একটা গল্প", আমার মনে হয়েছিল, এটা গল্পের ছলে কিছু বার্তা প্রেরণ...সেজন্য যোগসূত্র ধরে মন্তব্য করা...".......
কর্পোরেট কালচার কথায় কিভাবে এল , সেটার জন্য আপনার প্রথম মন্তব্যের জবাবটি পুনরায় দেখার অনুরোধ রইল।।। আশা করি, তাহলে বুঝতে পারবেন।

এটা আসলেই স্রেফ গল্প। আপনি আমার ব্লগে সেভাবে আসেননা বলে ব্যাপারটি ধরতে পারেননি। নইলে এই গল্পের নিচেই কিন্তু লেখা আছে, এটা একটা সিরিজ: এই সিরিজের আগের গল্পগুলোর লিঙকও সেখানে দেয়া আছে। আর এই সিরিজের বৈশিষ্ট্য জানার জন্য "এটিএম মোস্তফা কামালের" মন্তব্যের জবাব দ্রষ্টব্য।

গল্পের ছলে যদি কিছু কথা-বার্তা প্রেরণ হযেও থাকে তাহলে বলবো, এটা অধিকাংশ মানুষেরই মনের কথা, আগের কয়েকজনের মন্তব্য দেখলেই বিষয়টা বুঝবেন।

"আপনার মতামত প্রেরণে কোন বাধা দেয়া হচ্ছে না..তবে কোথাও একটু চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা ছিল ।".......গল্পটা আবার পড়ার অনুরোধ রইল, সঙ্গে এই লাইনগুলো কোট করে দিলাম:

‘তোমার কেন মনে হচ্ছে এটা পণ্ডশ্রম?এই যে, তুমি মুক্তিযুদ্ধের বই লিখছো, অথচ নিজেই বিশ্বাস করোনা যে জনগণের সম্মিলিত দাবীর একটা জোর আছে। আমি যদি বলি, বই লেখাটা তোমার স্রেফ ভণ্ডামী...!’-পাপড়ি রেগে গেল সহসাই
-‘দেখ পাপড়ি, তুমি-আমি সমমনের বলেই কাছাকাছি হতে পেরেছি, তবে আমরা সমমতের ছিলাম না কখনই।তাই তোমার প্রথম প্রশ্নের ব্যাখ্যা আমার জানা নেই। আর ২য় বক্তব্যের ব্যাপারে সম্পূর্ণ একমত; আমি আসলেই ভণ্ডামী করছি উপন্যাসটা নিয়ে। এমনকি, এটাকে আমি বই আকারে প্রকাশ করবো, ২-১জন প্রকাশকের সঙ্গে বথাও বলছি, তো কী হল?এখন সময়টাই ভণ্ডামীর পাপড়িমণি!
আমাদের আলোচনাটা দীর্ঘায়িত হয়নি, মেজাজ খারাপ করে পাপড়ি হলে ফিরে গেছে – যাওয়ার আগে আমার স্বাক্ষর দিতে ভুল করিনি মোটেই।"
...আর লেখার ক্ষেত্রে লেখকের কথাই শেষ কথা; অনেক বড় বড় লেখকই লেখার ছলে অনেক কঠিন কঠিন মতবাদ পাঠকের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন, সে তুলনায় আমার মত একজন শৌখিন লেখক যদি সেরকম কোন প্রচেষ্টা দেখায় সেটা অবশ্যই ক্রিমিনাল অফেন্স নয়।।।



৩৫. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৫
আইরিন সুলতানা বলেছেন: ."আপনি ইতিহাস জানিনা", এত সরল স্বীকারোক্তি দিলে তো ইতিহাস তার দায় এড়াতে পারবেনা...সুতরাং ইতিহাসকে জানতেই হবে।

-- ইতিহাস তার দায় এড়াবে কেন ! আর আমি ইতিহাস জানিনা এতেও তো আমার দায় এড়িয়ে যাওয়ার মতো কোন মনোভাব দেখিনি । আমি জানিনা...তাই আমি জানতে চাইবো...বুঝতে চাইবো........আমি আপনার গল্প পড়েছি।


একটা প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয় শুধু ব্লগার কমিউনিটিই এই গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছে?

-- জ্বি না । তবে আপনার পোস্ট এবং মন্তবে পড়লে কিন্তু বোঝা যায়, আপনি ব্লগারস কমিউনিটির গণস্বাক্ষর অভিযান নিয়েই কথা বলছেন । সুতরাং বাদবাকি অভিযানের কথা বলে এখানে মন্তব্যে দৈর্ঘ্য বেড়ে যাবে কেবল । আর একটা কথা, এই অভিযানে কিন্তু সামহোয়্যার ব্লগ একাই নেই আরো কিছু ব্লগ আছে ..

আপনি কিন্তু আমাকে দেয়া মন্তব্য বলেছেন ব্লগারদের আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে আপনার শোনা মতানৈক্যের কথা ...অর্থ্যাৎ ইঙ্গিত তো এই অভিযানকে নিয়েই ছিল...এখন বিভিন্ন মাধ্যম থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ অভিযান হলেও পড়তে গিয়ে ব্লগাররা প্রথমেই এই উদ্যোগের কথাই ভাববে..সেটাই স্বাভাবিক ।


গানের বক্তব্য সম্পর্কে আমি নিশ্চিত, আপনি অবিশ্বাস করলে সেটা আপনার ভাবনা।আপনি হয়ত ভাবছেন, আমি গণস্বাক্ষরের বিপক্ষে কিনা....আমি নিজে স্বাক্ষর দিয়েছি(সেদিন অরণ্য আনাম ছিলেন)...এরপর যতদিন মেলায় গিয়েছি সেখানে গিয়েছি, এবং আমার ৫জন বুয়েটের বন্ধু ও ৮জন অন্য ভার্সিটির বন্ধু, মানিকগঞ্জ থেকে আসা ৩জন বন্ধু এবং আমার ছোটভাই..মোট ১৭ জনকে স্বাক্ষর দিতে উদ্বুদ্ধ করেছি, সেক্ষেত্রে আমার অবস্থানটা পরিষ্কার করা নিষ্প্রয়োজন।

গানের বক্তব্য নিয়ে কি আমি প্রশ্ন তুলেছি !!! গানটা তার জায়গাতে অবশ্যই ঠিক আছে...প্রশ্ন হচ্ছে আপনি গানটাকে বারবার ব্যবহার করছেন কোন ঘটনার সাথে উপমা স্বরূপ...

আপনার অবস্থার পরিস্কার করার কোন প্রয়োজন দেখছিনা...আমার একবারও এমন কিছু মনে হয়নি যে, আপনি গণস্বাক্ষরের বিপক্ষে...কিনবা আপনি যদি বিপক্ষে হয়েও থাকেন তাতেও কিছু প্রমাণ হয়না...কারণ আমি তাকে মতানৈক্য ধরে নিতে পারি, এবং আশা করতে পারি আপনার কাছে ভিন্ন কোন উদ্যোগের ভাবনা আছে ।

তবে যদি আপনি ব্যপারটাকে নিয়ে উপহাসমূলক মন্তব্য করেন তাহলে অবশ্যই আপনার মূল উপলব্ধিতে সীমাবদ্ধতা আছে বলেই ধরে নেব । কারণ আপনার ভিন্ন মত থাকতেই পারে...কিন্তু আরেকজনের উদ্যোগকে যখন কটাক্ষ করবেন তখন কিন্তু আস্থা খানিকটা হারিয়ে যেতেই পারে।

আপনার কথাতেই ফিরে আসি, মেলায় কারো উপহাসমূলক মন্তব্য আপনার কাছে মনে হলো শুধু মাত্র ভিন্ন দৃষ্টি যা আপনি হয়ত স্বাগত জানাতে ইচ্ছুক অথচ প্রেস কনফারেন্সে আপনার সেই শুনে থাকে মতানৈক্য কিন্তু আপনার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল....এবং উপমাস্বরূপ একটি গানের কিছু পংতিও উপস্থাপর করে বসলেন।


আপনার আগে আরও অনেকে এই গল্পটা পড়েছেন, রেটিংয়ে যে একটা মাইনাস সেটি দিয়েছে "আমি-ই স্রোত" নামের এক ব্লগার, যে আমার ব্লগে ব্লকড বেশ কিছুদিন আগেই। সুতরাং বিভ্রান্তি তৈরি হরে রেটিং এরকম একমুখি হতনা।

-- আপনি যদি রেটিং দিয়ে সবকিছু বিচার করে থাকেন তাহলে আমার আর কথা না বলাই ভাল । আপনার লেখা ভাল হয়েছে..আপনার লেখার পাঠক আছে...আপনার এই লেখাতে তো আমি নিজেও "+" দিয়েছি । মাইনাস দেয়ার কোন ইচ্ছা কিন্তু এখনো তৈরী হয়নি।


"দিনশেষে আমরা সবাই ভণ্ড"....এটা আপনি স্বীকার করতে সংকোচ বোধ করতে পারেন, আমি কিন্তু নিঃসংকোচ।।।

-- আপনার আগের মন্তব্য থেকে দিলাম । এখানে আপনি নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমাতে জড়িয়ে নিলেন ! এটুকু কি খুব বেশী শোভন ছিল ???? "

....একটা প্রশ্ন, "আমরা" শব্দটি কি সামষ্টিক অর্থ প্রকাশ করে, নাকি মাত্র ২জনের বেলায় প্রযোজ্য?
"দিনশেষে আমরা সবাই ভণ্ড"..এই সরল বাক্যটিতে সামষ্টিক একটি ব্যাপার আছে, সেই সামষ্টিকতার সাপেক্ষে নিজের অবস্থান বা মনোভাবটা প্রকাশ করেছি, যেহেতু আপনার সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে এই "সামষ্টিক বাক্যটি' বলেছি তাই আপনার কথাটি বলেছি, এক্ষেত্রে আপনাকে জড়ানো হল কিভাবে বলবেন???


"আমরা" নিয়ে আমার কোন চিন্তা ছিল না...আপনার মন্তব্যে ছিল - "এটা আপনি স্বীকার করতে সংকোচ বোধ করতে পারেন, আমি কিন্তু নিঃসংকোচ।।।"....

আপনি স্বীকার করেন ভাল কথা...শুধু সেটাই বলেন ।
আমি স্বীকার করি কি করি না সেটা তো আর আপনি জানেন না, তাই না ?


গল্পের ছলে যদি কিছু কথা-বার্তা প্রেরণ হযেও থাকে তাহলে বলবো, এটা অধিকাংশ মানুষেরই মনের কথা, আগের কয়েকজনের মন্তব্য দেখলেই বিষয়টা বুঝবেন।

-- হুমম...যাক এখন অন্তত্য এটাকে স্রেফ গল্প বলছেন না...গল্পের ছলে কিছু কথাবার্তা, মতামত- আমি এভাবেই দেখতে চেয়েছিলাম...স্রেফ গল্প বললে এতো কিছু বলতে যেতাম না । আর একটা কথা হলো, একই লেখা দশ জনে পড়লে লেখার দশ অংশে দশ জনের দৃষ্টি আকর্ষিত হতে পারে । লেখক হিসেবে আপনি সেটা বোঝেন আশা করি।
২৬ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:২৮

লেখক বলেছেন: "ইতিহাস তার দায় এড়াবে কেন ! আর আমি ইতিহাস জানিনা এতেও তো আমার দায় এড়িয়ে যাওয়ার মতো কোন মনোভাব দেখিনি । আমি জানিনা...তাই আমি জানতে চাইবো...বুঝতে চাইবো........আমি আপনার গল্প পড়েছি"
....আপনার আগের মন্তব্যগুলো তেমন স্বাক্ষর বহন করেনা।। তাই এই প্রসঙ্গের অবতারণা।।।

"আপনি কিন্তু আমাকে দেয়া মন্তব্য বলেছেন ব্লগারদের আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে আপনার শোনা মতানৈক্যের কথা ...অর্থ্যাৎ ইঙ্গিত তো এই অভিযানকে নিয়েই ছিল...এখন বিভিন্ন মাধ্যম থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ অভিযান হলেও পড়তে গিয়ে ব্লগাররা প্রথমেই এই উদ্যোগের কথাই ভাববে..সেটাই স্বাভাবিক"
..........আপনার কি মনে হয় আমি এই ব্লগের কথা মাথায় রেখে গল্প লিখি?তা হলে তো আমার লেখাগুলো এত দীর্ঘ হতনা, বা ব্লগের উপযোগী ৫-৬ লাইনের পোস্ট লিখলেই চলত.....আমার অধিকাংশ পাঠকই ব্লগের বাইরের যারা ফেসবুক বা ইমেইলে পাঠানো লিঙ্ক ধরে লেখা পড়ে চলে যায়...সেক্ষেত্রে ব্লগের কনফারেন্সের ইঙ্গিত কিভাবে আসে?আর ইঙ্গিত দেয়াটাই যদি উদ্দেশ্য হত তাহলে তো সরাসরি পোস্টই লিখতে পারতাম; আমি বরাবরই স্পষ্টবাদী মানুষ; কোনকিছু ভাল না লাগলে সরাসরি-ই বলতে পারি, কোন পিছুটান বা ভয় আমার মধ্রে কাজ করেনা..........আমি শুধু কথা প্রসঙ্গে মতানৈক্যের ব্যাপারটি সম্পর্কে জানতে চেয়েছি...সত্য-মিথ্যা যা-ই হোক, আপনার বক্তব্য সে-ই নিরিখে হওয়া উচিৎ........এ বিষয়ে আরও একটি উদ্ধৃতি দেই : "প্রগতিশীলদের সমস্যা হল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা মানসিকতায় প্রতিক্রিয়াশীল, আর প্রতিক্রিয়াশীলদের সমস্যা হল তারা বিকৃত প্রগতিশীল"...........আপনার মন্তব্যের ধরনটা প্রতিক্রিয়াশীলই লাগল, স্যরি টু সে.....

"গানের বক্তব্য নিয়ে কি আমি প্রশ্ন তুলেছি !!! গানটা তার জায়গাতে অবশ্যই ঠিক আছে...প্রশ্ন হচ্ছে আপনি গানটাকে বারবার ব্যবহার করছেন কোন ঘটনার সাথে উপমা স্বরূপ..."
..........গানটা আমি গল্পেই ব্যবহার করেছিলাম বাঙালি চরিত্র প্রসঙ্গে...এবং এটা আমি বিশ্বাস করি...এটাকে বারবার ব্যবহার করা হল কিভাবে সেটাও বুঝলাম না...........

"তবে যদি আপনি ব্যপারটাকে নিয়ে উপহাসমূলক মন্তব্য করেন তাহলে অবশ্যই আপনার মূল উপলব্ধিতে সীমাবদ্ধতা আছে বলেই ধরে নেব । কারণ আপনার ভিন্ন মত থাকতেই পারে...কিন্তু আরেকজনের উদ্যোগকে যখন কটাক্ষ করবেন তখন কিন্তু আস্থা খানিকটা হারিয়ে যেতেই পারে।"
.........আমি কোথায় উপহাসমূলক মন্তব্য করেছি প্রমাণ দিন।।। আর আপনি এখনো সীমাবদ্ধতা ও দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্যের ব্যাপারটি বুঝতে পারেননি, বা বুঝলেও এড়িয়ে যাচ্ছেন, সেটা আপনার মনতব্য থেকে বারবার প্রমাণিত।।।

"আপনি যদি রেটিং দিয়ে সবকিছু বিচার করে থাকেন তাহলে আমার আর কথা না বলাই ভাল । আপনার লেখা ভাল হয়েছে..আপনার লেখার পাঠক আছে...আপনার এই লেখাতে তো আমি নিজেও "+" দিয়েছি । মাইনাস দেয়ার কোন ইচ্ছা কিন্তু এখনো তৈরী হয়নি।"
.........আরও একটি ব্যাপার পরিষ্কার করা প্রয়োজনবোধ করছি। রেটিং এই ব্লগের সবচেযে হাস্যকর কনসেপ্ট, এটা এই ব্লগে বহুবার বহু জায়গায় লিখেছি...আমি নিজে কখনো কোন পোস্টে রেটিং করিনা, বা নিজের পোস্টেও এদিকে নজর দেইনা।। তবুও এই ব্যাপারটি বলার কারণ হল, এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে সবাই ব্যাপারটাকে পজিটিভ গল্প হিসেবে দেখছে...আগেও বলেছি এটা একটা গল্পের সিরিজ...সিরিজেরর বৈশিষ্ট্য জানতে "এটিএম মোস্তফা কামালের" মন্তব্যটা দেখারও অনুরোধ করলাম, তবুও আপনি সেই একই কথাই পুরনো রেকর্ডের মত বাজিয়ে যাচ্ছেন।।।

"আমরা" নিয়ে আমার কোন চিন্তা ছিল না...আপনার মন্তব্যে ছিল - "এটা আপনি স্বীকার করতে সংকোচ বোধ করতে পারেন, আমি কিন্তু নিঃসংকোচ।।।"....

আপনি স্বীকার করেন ভাল কথা...শুধু সেটাই বলেন ।
আমি স্বীকার করি কি করি না সেটা তো আর আপনি জানেন না, তাই না ?...........আপনি বাক্যটি খেয়াল করেন "এটা আপনি স্বীকার করতে সংকোচ বোধ করতে পারেন"...."করতে পারেন" মানে কী?আমি জানিনা বলেই তো বললাম ' করতে পারেন"....নয়তো বলতাম "সঙ্কোচ বোধ করেন".........আর আপনার বোধ আপনার নিজস্ব, এ নিয়ে আমার ন্যুনতম ইন্টারেস্ট নেই, ইনফ্যাক্ট আপনার সঙ্গে আমার ব্লগে সেভাবে পরিচয়ও নেই, আজ আপনার একটা লেখা পড়লাম, তাই গল্পটা পড়তে বলেছিলাম...........ব্যস, এখানে তো ভিন্নভাবনার কোন স্কোপ দেখছিনা।।।

"হুমম...যাক এখন অন্তত্য এটাকে স্রেফ গল্প বলছেন না...গল্পের ছলে কিছু কথাবার্তা, মতামত- আমি এভাবেই দেখতে চেয়েছিলাম...স্রেফ গল্প বললে এতো কিছু বলতে যেতাম না । আর একটা কথা হলো, একই লেখা দশ জনে পড়লে লেখার দশ অংশে দশ জনের দৃষ্টি আকর্ষিত হতে পারে । লেখক হিসেবে আপনি সেটা বোঝেন আশা করি।"
........দেখুন, আমি লেখকের সৃজনশীলতায় বিশ্বাসী; একটি লেখা পড়ে লেখার দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখি, লেখকের ব্যক্তিগত কাসুন্দি ঘাটতে চাইনা...সেক্ষেত্রে এটাকে আপনার স্রেফ গল্প মানতে আপত্তি কেন???আমি কি আপনার কবিতা পড়ে বলবো, এটা আপনি কেন লিখলেন?বা আপনি কি এমনই?................কারণ ব্যক্তিগত কাসুন্দি লিখলে সেটা জীবনী হয়, গল্প হয়না..........













৩৬. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৫
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: অনেক লম্বা পোষ্ট। পড়া হয়নাই তবে, পড়ব।
৩৭. ২৭ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:০৬
আইরিন সুলতানা বলেছেন: লেখক বলেছেন: "ইতিহাস তার দায় এড়াবে কেন ! আর আমি ইতিহাস জানিনা এতেও তো আমার দায় এড়িয়ে যাওয়ার মতো কোন মনোভাব দেখিনি । আমি জানিনা...তাই আমি জানতে চাইবো...বুঝতে চাইবো........আমি আপনার গল্প পড়েছি"

....আপনার আগের মন্তব্যগুলো তেমন স্বাক্ষর বহন করেনা।। তাই এই প্রসঙ্গের অবতারণা।।।

>>> বুঝলাম না ! আপনি কি বুঝে বললেন ! আমার আগের মন্তব্যগুলো কিসের স্বাক্ষর বহন করেনা ! আগের মন্তব্য পড়ে আপনার মনে হয়েছে, আমার ইতিহাস নিয়ে মাথাব্যাথা নেই ! এবং আপনি আমার মধ্যে ইতিহাস নিয়ে উপলদ্বি জাগাতে চাইছেন !!! এবং তাই এই প্রসংগের অবতারণা !!!


"আপনি কিন্তু আমাকে দেয়া মন্তব্য বলেছেন ব্লগারদের আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে আপনার শোনা মতানৈক্যের কথা ...অর্থ্যাৎ ইঙ্গিত তো এই অভিযানকে নিয়েই ছিল...এখন বিভিন্ন মাধ্যম থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ অভিযান হলেও পড়তে গিয়ে ব্লগাররা প্রথমেই এই উদ্যোগের কথাই ভাববে..সেটাই স্বাভাবিক"
..........আপনার কি মনে হয় আমি এই ব্লগের কথা মাথায় রেখে গল্প লিখি?তা হলে তো আমার লেখাগুলো এত দীর্ঘ হতনা, বা ব্লগের উপযোগী ৫-৬ লাইনের পোস্ট লিখলেই চলত.....আমার অধিকাংশ পাঠকই ব্লগের বাইরের যারা ফেসবুক বা ইমেইলে পাঠানো লিঙ্ক ধরে লেখা পড়ে চলে যায়...সেক্ষেত্রে ব্লগের কনফারেন্সের ইঙ্গিত কিভাবে আসে?আর ইঙ্গিত দেয়াটাই যদি উদ্দেশ্য হত তাহলে তো সরাসরি পোস্টই লিখতে পারতাম; আমি বরাবরই স্পষ্টবাদী মানুষ; কোনকিছু ভাল না লাগলে সরাসরি-ই বলতে পারি, কোন পিছুটান বা ভয় আমার মধ্রে কাজ করেনা..........আমি শুধু কথা প্রসঙ্গে মতানৈক্যের ব্যাপারটি সম্পর্কে জানতে চেয়েছি...সত্য-মিথ্যা যা-ই হোক, আপনার বক্তব্য সে-ই নিরিখে হওয়া উচিৎ........এ বিষয়ে আরও একটি উদ্ধৃতি দেই : "প্রগতিশীলদের সমস্যা হল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা মানসিকতায় প্রতিক্রিয়াশীল, আর প্রতিক্রিয়াশীলদের সমস্যা হল তারা বিকৃত প্রগতিশীল"...........আপনার মন্তব্যের ধরনটা প্রতিক্রিয়াশীলই লাগল, স্যরি টু সে.....

>>>দেখুন, যখন আপনি শোনা কথার উপর ভরসা করে আমাকে বলে বসেন যে -

...."...তো সংবাদ সম্মেলনে তো খুব বেশিসংখ্যক মানুষ ছিলনা, সেখানেও অনেক ইস্যুতেই মতানৈক্য হয়েছে বলেই শুনেছি....এটা কেন হল?আর, সাধারণ এই ভলায়েন্টারি কাজেও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, দলাদলির টুকরো সংবাদ শুনেছি...তখনই নচিকেতার গানটা প্রাসঙ্গিক মনে হয় ভীষণভাবে। "

তখন তো অতি প্রতিক্রীয়শীল আপনাকেই বলতে হয়, স্যরি টু সে। আপনি কিন্তু আমাকে জিগেষ করেননি, "আসলেই কি এমন হয়েছিল?" বরং আপনার মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে আপনি যা শুনেছেন, তাই বিশ্বাস করেছেন ।


"গানের বক্তব্য নিয়ে কি আমি প্রশ্ন তুলেছি !!! গানটা তার জায়গাতে অবশ্যই ঠিক আছে...প্রশ্ন হচ্ছে আপনি গানটাকে বারবার ব্যবহার করছেন কোন ঘটনার সাথে উপমা স্বরূপ..."
..........গানটা আমি গল্পেই ব্যবহার করেছিলাম বাঙালি চরিত্র প্রসঙ্গে...এবং এটা আমি বিশ্বাস করি...এটাকে বারবার ব্যবহার করা হল কিভাবে সেটাও বুঝলাম না...........

>>> বারবার বলতে পোস্টে মন্তব্যে এসেও একটা শোনা ঘটনার প্রেক্ষিতে বিষয়টার সত্যতা যাচাই করতে না চেয়ে আপনার মন্তব্যে শোনা কথায় বিশ্বাসটাই ফুটে উঠেছে এবং সাথে গানটা উপমা হিসেবে ব্যবহার করে সেই বিশ্বাসটা জোরদার করেছেন কেবল।

"তবে যদি আপনি ব্যপারটাকে নিয়ে উপহাসমূলক মন্তব্য করেন তাহলে অবশ্যই আপনার মূল উপলব্ধিতে সীমাবদ্ধতা আছে বলেই ধরে নেব । কারণ আপনার ভিন্ন মত থাকতেই পারে...কিন্তু আরেকজনের উদ্যোগকে যখন কটাক্ষ করবেন তখন কিন্তু আস্থা খানিকটা হারিয়ে যেতেই পারে।"
.........আমি কোথায় উপহাসমূলক মন্তব্য করেছি প্রমাণ দিন।।। আর আপনি এখনো সীমাবদ্ধতা ও দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্যের ব্যাপারটি বুঝতে পারেননি, বা বুঝলেও এড়িয়ে যাচ্ছেন, সেটা আপনার মনতব্য থেকে বারবার প্রমাণিত।।।

>>> প্রমাণ করতে হবে না ! "আপনি" উপমা স্বরূপ, লেখার পর আমার মনে হচ্ছিল আপনি এই "আপনি" নিয়ে বিভ্রান্ত হবেন । এখানে "আপনি" অর্থ্যাৎ "কেউ" কিনবা তারা যাদের আপনি উপহাসমূলক মন্তব্য করতে শুনেছিলেন। এবার আবার পড়ে দেখুন মন্তব্যটি।

"আপনি যদি রেটিং দিয়ে সবকিছু বিচার করে থাকেন তাহলে আমার আর কথা না বলাই ভাল । আপনার লেখা ভাল হয়েছে..আপনার লেখার পাঠক আছে...আপনার এই লেখাতে তো আমি নিজেও "+" দিয়েছি । মাইনাস দেয়ার কোন ইচ্ছা কিন্তু এখনো তৈরী হয়নি।"
.........আরও একটি ব্যাপার পরিষ্কার করা প্রয়োজনবোধ করছি। রেটিং এই ব্লগের সবচেযে হাস্যকর কনসেপ্ট, এটা এই ব্লগে বহুবার বহু জায়গায় লিখেছি...আমি নিজে কখনো কোন পোস্টে রেটিং করিনা, বা নিজের পোস্টেও এদিকে নজর দেইনা।। তবুও এই ব্যাপারটি বলার কারণ হল, এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে সবাই ব্যাপারটাকে পজিটিভ গল্প হিসেবে দেখছে...আগেও বলেছি এটা একটা গল্পের সিরিজ...সিরিজেরর বৈশিষ্ট্য জানতে "এটিএম মোস্তফা কামালের" মন্তব্যটা দেখারও অনুরোধ করলাম, তবুও আপনি সেই একই কথাই পুরনো রেকর্ডের মত বাজিয়ে যাচ্ছেন।।।

"আমরা" নিয়ে আমার কোন চিন্তা ছিল না...আপনার মন্তব্যে ছিল - "এটা আপনি স্বীকার করতে সংকোচ বোধ করতে পারেন, আমি কিন্তু নিঃসংকোচ।।।"....

আপনি স্বীকার করেন ভাল কথা...শুধু সেটাই বলেন ।
আমি স্বীকার করি কি করি না সেটা তো আর আপনি জানেন না, তাই না ?...........আপনি বাক্যটি খেয়াল করেন "এটা আপনি স্বীকার করতে সংকোচ বোধ করতে পারেন"...."করতে পারেন" মানে কী?আমি জানিনা বলেই তো বললাম ' করতে পারেন"....নয়তো বলতাম "সঙ্কোচ বোধ করেন".........আর আপনার বোধ আপনার নিজস্ব, এ নিয়ে আমার ন্যুনতম ইন্টারেস্ট নেই, ইনফ্যাক্ট আপনার সঙ্গে আমার ব্লগে সেভাবে পরিচয়ও নেই, আজ আপনার একটা লেখা পড়লাম, তাই গল্পটা পড়তে বলেছিলাম...........ব্যস, এখানে তো ভিন্নভাবনার কোন স্কোপ দেখছিনা।।।

>>> আপনি গল্প পড়তে বলেছেন," কেন বলেছেন?" এরকম প্রশ্ন তুলে কি আমি আপত্তি জানিয়েছি নাকি !!! আর আমার যদি লেখার প্রসংগ নিয়ে প্রশ্ন থাকে তো সেই ভিন্নতা গ্রহণ করতে আপত্তি কেন ! আপনি তো ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানান বলেই মনে হলো !

"হুমম...যাক এখন অন্তত্য এটাকে স্রেফ গল্প বলছেন না...গল্পের ছলে কিছু কথাবার্তা, মতামত- আমি এভাবেই দেখতে চেয়েছিলাম...স্রেফ গল্প বললে এতো কিছু বলতে যেতাম না । আর একটা কথা হলো, একই লেখা দশ জনে পড়লে লেখার দশ অংশে দশ জনের দৃষ্টি আকর্ষিত হতে পারে । লেখক হিসেবে আপনি সেটা বোঝেন আশা করি।"
........দেখুন, আমি লেখকের সৃজনশীলতায় বিশ্বাসী; একটি লেখা পড়ে লেখার দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখি, লেখকের ব্যক্তিগত কাসুন্দি ঘাটতে চাইনা...সেক্ষেত্রে এটাকে আপনার স্রেফ গল্প মানতে আপত্তি কেন???আমি কি আপনার কবিতা পড়ে বলবো, এটা আপনি কেন লিখলেন?বা আপনি কি এমনই?................কারণ ব্যক্তিগত কাসুন্দি লিখলে সেটা জীবনী হয়, গল্প হয়না..........


>>> আশ্চর্য ! আপনি একবার এটাকে স্রেফ গল্প বলতে চাইছেন আবার একবার বলছেন গল্পের ছলে কিছু কথাবার্তা ! আসলে কোনটা !!! আমি এমনতো বলছিনা আপনার গল্পের প্রতিটি লাইন বাস্তব ঘটনার সাথে মিলে যাচ্ছে...কিনবা আপনি সেভাবেই লিখেছেন...অবশ্যই কাল্পনিক কিন্তু যা কিনা বাস্তব কোন ঘটনা থেকে উদ্বুদ্ধ ! "স্রেফ" গল্প বললে অর্থটা ভিন্ন দাঁড়ায়...সেক্ষেত্রে আগেই বলেছি, খুব ভাল লিখেছেন বলেই শেষ করা যায় মন্তব্যটি ।



২৭ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:২০

লেখক বলেছেন: আপনি তো দেখছি, হুবুহু আমার কমেন্টটাই তুলে দিলেন...যা-ই হোক, যে কয়েকটা নিজের লাইন ছিল সেগুলো নিয়েই বলি।।
"এবং আপনি আমার মধ্যে ইতিহাস নিয়ে উপলদ্বি জাগাতে চাইছেন !!!".....উপলব্ধি জাগানোর মহান ব্রত নিয়ে আমি কোন অভিযানে নামিনি।। সুতরাং আপনার বোধ আপনার নিজস্ব, আপনার নিজস্ব, আমার ন্যুনতম ইন্টারেস্টও নেই এ ব্যাপারে; তবুও আগের প্রসঙ্গগুলো বলার কারণ আপনার এই মন্তব্যগুলো:
"সেক্ষেত্রে সঠিক ইতিহাস জানি কি না প্রশ্নটাই তো অর্থহীন...আমাদের পাঠ্য বইয়েই তো বছর বছর কিনবা ক্ষমতা বদলের সাথে সাথে ইতাহাস বদলে যায়..আর স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস তো এক'দুই পাতার কোন লেখা নয়..."

"তখন তো অতি প্রতিক্রীয়শীল আপনাকেই বলতে হয়, স্যরি টু সে। আপনি কিন্তু আমাকে জিগেষ করেননি, "আসলেই কি এমন হয়েছিল?" বরং আপনার মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে আপনি যা শুনেছেন, তাই বিশ্বাস করেছেন ।"
........দেখুন, আমি কোনকিছু শুনেই অবাক হইনা, বা কোনকিছুকে অবিশ্বাস করিনা, কারণ যে কোন কিছুই ঘটতে পারে। তাই শোনা কথাটা মোটেই অবিশ্বাসের মত ছিলনা, আর যদি এটা সত্যও হয় সেটা নিয়েও আমার তেমন কোন আগ্রহ নেই। সেজন্যই আপনার কাছে প্রশ্ন রেখেছিলাম। আর এ ব্যাপারে অরণ্য আনামের মন্তব্যের জবাবটা তুলে দিচ্ছি: "
অরণ্য আনাম, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলামনা....তাই সত্যতা বলতে পারবোনা...তবে ২/১ জনের কাছে এমনটা শুনেছিলাম বলেই বলা, ভুল শুনে থাকলে এমনটা লেখার জন্য দুঃখিত।।।আর একটা কথা, আমি বরাবরই স্পষ্টবাদী মানুষ, মনে যেটা ফিল করি, সেটা শুনতে খারাপ লাগলেও বলতে দ্বিধা করিনা, কারণ ভুল বললে সেটা সংশোধনের একটা সেকেন্ড চান্স সবসময়ই থাকে। ধন্যবাদ।।"
..........তবুও যদি আপনার আমাকে অতিপ্রতিক্রিয়াশীল মনে হয়, i will always appreciate your assessment on me, and nothing to 'say sorry.' you are welcome...তবে একটা কথা, অতিপ্রক্রিয়াশীলতার ধারণাটা একটু ঝালাই করে নিতে পারেন যদি ইচ্ছা বা সময় হয় কখনো।।।

"কেউ" কিনবা তারা যাদের আপনি উপহাসমূলক মন্তব্য করতে শুনেছিলেন। এবার আবার পড়ে দেখুন মন্তব্যটি।"
.........হ্যা পড়লাম, তবুও এ প্রসঙ্গে আগের মন্তব্য থেকেই কোট করবো:
"একটা প্রাসঙ্গিক তুলনা করি : রুশো ও ভলটেয়ারে..পরস্পরকে সহ্য করতে পারতেননা মোটেই। রুশো ভলটেয়ারকে বলতেন উন্মাদ, আর ভলটেয়ার রুশোকে বলতেন "অহঙ্কারী"........কেউ কাউকে কটাক্ষ করার সামান্যতম সুযোগ পেলেও ছাড়তেননা। আমরা এতদিন পর এই বিরোধটাকে "দর্শনের বৈপরীত্য" বা "দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য"-ই বলে থাকি..."সীমাবদ্ধ" শব্দটি অর্থকে পুরোপুরি পাল্টে দেয়। যারা স্বাক্ষরকে হেয করেছে, তাদের একজনকে দেখেও আমার দেশের প্রতি ভালবাসা নেই এমনটা মনে হযনি, বর প্রত্যেকেই এই ঘৃণ্য ব্যক্তিদের শাস্তি চায়...সুতরাং তারা যদি একটা কথা বলে সেটাকে সীমাবদ্ধতা নয়, 'দৃষ্টিভঙ্গির" মাপকাঠিতেই তুলবো........."

"আর আমার যদি লেখার প্রসংগ নিয়ে প্রশ্ন থাকে তো সেই ভিন্নতা গ্রহণ করতে আপত্তি কেন ! আপনি তো ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানান বলেই মনে হলো !"
........আপত্তি মোটেই নেয়, আপনি যদি বলতেন লেখার ঐ অংশটা ওভাবে হতে পারত, বা এই অংশটা এরকম হলে ভাল লাগত, তাহলে অবশ্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতাম.....যেমন নুশেরা আপু, এটিএম মোস্তফা কামাল, কিংবা সীমান্ত আহমেদ সহ অনেকেই এই ব্যাপারগুলো বলেছেন বলে গল্পের এন্ডিংটা পাল্টে দিয়েছি। শুরুতে এন্ডিংটা একটু অন্যরকম ছিল.....লেখার ক্ষেত্রে এটাকে বলে ভিন্নভাবনা, আর আমি তাকে স্বাগত জানাই বলেই নির্দ্বিধায় এন্ডিং নিয়ে কাটাছেড়া করলাম।।।। কিন্তু আপনি যেটা করছেন সেটাকে ভিন্নমত বলা যায়না। আপনি গল্পের পরিসরটাকে সংকীর্ণ করে ফেলছেন ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ টেনে, একজন লেখকের জন্য এটা বিব্রতকর।।।

"আশ্চর্য ! আপনি একবার এটাকে স্রেফ গল্প বলতে চাইছেন আবার একবার বলছেন গল্পের ছলে কিছু কথাবার্তা ! আসলে কোনটা !!"
.........আমি কিন্তু সবসময়ই এটাকে স্রেফ গল্পই বলেছি। "গল্পের ছলে কথা-বার্তা"...এটা আপনি আবিষ্কার করেছেন। আপনার মন্তব্য থেকেই কোট করি:
"যদিও আপনি ইতিমধ্যে অরণ্য আনাম এর মন্তব্যে উত্তরে বলে ফেলেছেন, "এটা স্রেফ একটা গল্প", আমার মনে হয়েছিল, এটা গল্পের ছলে কিছু বার্তা প্রেরণ...সেজন্য যোগসূত্র ধরে মন্তব্য করা..."
.........দেখুন, আমি কিন্তু "স্রেফ গল্পই" বলেছি ।।।।

"স্রেফ" গল্প বললে অর্থটা ভিন্ন দাঁড়ায়...সেক্ষেত্রে আগেই বলেছি, খুব ভাল লিখেছেন বলেই শেষ করা যায় মন্তব্যটি । "......



জ্বি সেটাই হয়ত ভাল হত।।।

৩৯. ২৭ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:২৫
আইরিন সুলতানা বলেছেন: আপনি তো দেখছি, হুবুহু আমার কমেন্টটাই তুলে দিলেন...যা-ই হোক, যে কয়েকটা নিজের লাইন ছিল সেগুলো নিয়েই বলি।।
===

হিমালয়, আপনার মন্তব্য হুবহু তুলে দিলাম, এমন বাড়তি কথার প্রয়োজন ছিল কি ! মন্তব্য তো আগের মন্তব্যেও তুলে দিয়েছিলাম...আর তার প্রেক্ষতে আমার বক্তব্য ছিল ।

আপনার প্রশ্ন ছিল "তবুও আপনি কি নিশ্চিত যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানেন?" ...আমার কাছে এই প্রশ্ন এখনও অর্থহীন...এই প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানেনা...জানলে বর্তমান পরিস্থিতি অন্য রকম হতো....আপনাকে উদাহরণ হিসেবে এটাও বলেছি এখানে বছর বছর ইতিহাস পাল্টে যায়...সুতরাং আমাকে বলতেই হবে আমি সঠিক ইতিহাস জানিনা...আপনার কাছ থেকে এরপর মন্তব্য এসেছে এরকম ধরনের -

"তাহলে আপনি ইতিহাসকে কিভাবে ডিফাইন করবেন"...."এত সরল স্বীকারোক্তি দিলে তো ইতিহাস তার দায় এড়াতে পারবেনা...সুতরাং ইতিহাসকে জানতেই হবে।"

আমি মনে হয়না কোথাও এমন কিছু বলেছি যাতে মনে হতে পারে ইতিহাসকে জানতে হবে তাই নিয়ে আমি ভীষণ বিরোধীতা করছি । কিনবা ইতিহাস এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

উপলবদ্ধির সীমাবদ্ধতা বলতে আমি বুঝি, কারো কোন উদ্যোগকে কোন রকম শ্রদ্ধা না করা...আপনার কাছে ভিন্ন কোন উদ্যোগের ভাবনা থাকতেই পারে আবার নাও থাকতে পারে...কিন্তু কেউ কোন কাজ করছে কোন মহৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখে সেখানে সেই ব্যাপারটিকে নিয়ে খানিকটা তাচ্ছিল্য করে মন্তব্য করাকে কখনই ভিন্ন মত বলা যায় না...হতে পারে যারা মন্তব্য করেছিল তারা দেশকে ভালবাসে বলেই আপনার মনে হয়েছে..কথা হলো দেশকে ভালবাসে অনেকেই আছে.কিন্তু সেই দেশপ্রেমটা আসলে কি, ভক্তিটা কি, কিভাবে সন্মান প্রদর্শন করতে হয় সেই উপলব্ধিটাই তাদের মধ্যে হয়ত নেই...ভিন্ন মত হিসেবে ধরলে আমার মনে হয় এই যে দলাদলি,মতানৈক্য এগুলোও ভিন্নমতেরই অংশ, এই নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছুই নেই, প্রশ্ন করারও কিছু নেই...শেষ পর্যন্ত আসল উদ্যোশ্যটুকু পালন হলেই হলো।
২৭ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৪২

লেখক বলেছেন: দেখুন এটা আপনার ৬নম্বর মন্তব্য, প্রত্যেক মন্তব্যের একটি বিশাল অংশ যদি আমার মন্তব্যই হয়...তাহলে ২-১টি মন্তব্যের ক্ষেত্রে হয়ত ব্যাপারটা ভাল লাগে, কিন্তু টানা ৫টি মন্তব্যে একই ঘটনা ঘটলে ব্যাপারটা ক্লান্তিকর লাগে।। সেজন্যই কথাটি বলা,আপনার খারাপ লাগলে দুঃখিত।।।

আমি বলেছি-"ইতিহাস তার দায় এড়াতে পারবেনা'....এর প্রেক্ষিতে আপনার মন্তব্যগুলো পড়ে মনে হয়েছে আপনি ইতিহাসের ব্যাপারটিকে একটু কম গুরুত্ব দিচ্ছেন....এখানে বিরোধীতার কোন প্রশ্ন আমি রাখিনি।।।


"হতে পারে যারা মন্তব্য করেছিল তারা দেশকে ভালবাসে বলেই আপনার মনে হয়েছে..কথা হলো দেশকে ভালবাসে অনেকেই আছে.কিন্তু সেই দেশপ্রেমটা আসলে কি, ভক্তিটা কি, কিভাবে সন্মান প্রদর্শন করতে হয় সেই উপলব্ধিটাই তাদের মধ্যে হয়ত নেই"
...........দুঃখিত আমি বিষয়টাকে এভাবে ডিফাইন করতে মোটেও রাজী নই। দেশপ্রেমটা আসলে কী, ভক্তিটা কী, কিভাবে প্রদর্শন করতে হয়...এগুলো সব থিওরিটিকাল কথা-বার্তা, এবং এ সংক্রান্ত ধ্যান-ধারণাও ব্যক্তিভেদে ভিন্ন।।। সরাসরি রাজাকার ছাড়া, আর কাউকে এ ধরনের প্রশ্ন করাটা অনৈতিকতার মধ্যে পড়ে..........অনেকে আছেন ভক্তিটা ভেতরে ধারণ করেন, অনেকে আছেন সেটা বাইরে প্রকাশ করেন, আমার দৃষ্টিতে দুই-ই শ্রদ্ধার পাত্র।

আর হেয় করা প্রসঙ্গে রুশো-ভলটেয়ারের দ্বৈরথটা অনেকবার বলেছি।।। আমাদের দেখতে হবে এদের কোন হী উদ্দেশ্য আছে কিনা, তা না থাকলে তাদেরকে তাদের মতই থাকতে দেওয়া উচিৎ। এভাবে আলাদা করে ট্যাগিং করাটা কোন শুভবুদ্ধির পরিচায়ক নয়।।।

৪০. ২৭ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৫১
পারভেজ বলেছেন: খাইছে!!!
গল্পটা কি পড়ছি ৯০% ভুলে গেছি মন্তব্যগুলিতে চোখ বুলাতে গিয়ে। আইরিন আর তোমার মত বিনিময় টুকু পড়ার সাহস আর করে উঠতে পারলাম না!! :|
যাই হোক- আমার গল্পটাকে ঠিক গল্প মনে হয়নি। একটা মত প্রকাশ আর ভাবনাকে তুলে ধরার প্রয়াসটাকেই বেশী প্রধান্য দেয়া হয়েছে।
গল্প পড়ার সময় আমি চেষ্টা করি নৈর্ব্যক্তিক ভাবে থেকে লেখকের চরিত্রগুলির দৃষ্টি কোণ থেকে দেখতে। গল্পের সমাপ্তিটা অমানবিক কিছু মনে হয়নি। কিছু প্রচার হয়তো আরো কিছু ভালো নিয়ে ও আনতে পারে। তাই মূল চরিত্রকে আমার কাছে অতিমানব বা অমানুষ কিছু মনে হয়নি। মোদ্দা কথা , লেখক বা পাপড়ি আমাদের ভেতরেরই কেউ বলে মনে হয়েছে।
আরেকবার ঢু মেরে বিতর্ক গুলি একসময় দেখে নেবো নাহয়।
নাক গলানোর সাহস আপাততো হলোনা!!
২৭ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৪

লেখক বলেছেন: তাই মূল চরিত্রকে আমার কাছে অতিমানব বা অমানুষ কিছু মনে হয়নি।.........হক কথা.....তবে গল্প মনে না হওয়াতে কষ্ট পাইলাম।।।

৪১. ২৭ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৪
অপ্‌সরা বলেছেন: হুম খুব সুন্দর গল্পলেখা হয়েছে কিন্তু পাপড়ীর জন্য মন খারাপ লাগছে।
২৭ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৫

লেখক বলেছেন: মন খারাপ করেনা আফ্রোদিতি আপু...এই সিরিজের পরের গল্পে মন ভাল করার ব্যবস্থা করবো।।

৪২. ২৭ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৭
শাওন৩৫০৪ বলেছেন:
"মুক্তিযোদ্ধাদের কে চু চু কইরা সহানুভূতি দেখানো ভন্ডামি"--কাথাটা প্রচলিত ভাবে বলায় ভ্রু কোঁচকানো খাইছি মেলা......
কিন্তু এইরকম করে বলা গেলে.......সুন্দর জিনিষ শিখলাম ।
ধন্যবাদ ।
২৭ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২০

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।।।

৪৩. ২৮ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:৫৫
খলিল মাহমুদ বলেছেন: পড়া শুরু করলাম। ভেবেছিলাম আজ প্রিয়তে রেখে পরে পড়বো। কিন্তু আর থামা গেল না।
গল্পের শেষ স্তবকই গল্পের সারকথা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, গণস্বাক্ষরতা, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ-বিপক্ষ বিতর্ক- সব বাতুলতা মনে হয়, কিচ্ছু হবে না, কারণ যদি একটা কিছু হয়েই যায় তখন আর কোনো ইস্যু থাকবে না আরও কিছু হওয়ানোর জন্য।

আপনার উপস্থাপনা চমত্কার। বলার স্টাইলও অসাধারণ। সত্যিকারের ৫২০ পৃষ্ঠার উপন্যাসাংশ নয় তো এটা?

সময় পেলে প্লিজ http://amarblog.com/farihanmahmud/47387
২৮ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৩৫

লেখক বলেছেন: আরে না, এটা তো স্রেফ গল্প, এর মধ্যে ৫২০ পৃষ্ঠা????হা হা হা.

লেখকদের নিয়েও গল্প আছে একটা:
Click This Link

অবশ্যই আপনার লেখাটা পড়বো...মন্তব্যও করবো আশা রাখি।।

৪৪. ২৮ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৪৫
মুক্ত বয়ান বলেছেন: হিমালয়.. তুমি আর আইরিন আপু কি শুরু করলা!!! মন্তব্য পড়তে পড়তে কাইত!!
নতুন লেখা দিছি.. ফাইজলামি পোস্ট!!
পইড়া দেখো।
২৮ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৫১

লেখক বলেছেন: আরে, এইটারে টেলিপ‌্যাথি বলুম নাকি??আমিতো এইমাত্র ঐটাতেই কমেন্ট কইরা আসলাম।।।

৪৫. ২৯ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ৭:২২
তনুজা বলেছেন: হিমালয় লেখার কথা আর কি বলব এত আকর্ষণীয় উপস্থাপন

এত কমেন্ট দেখছি লেখকের যেমন বেদনাবোধ কমেন্টদাতারও তেমন
সবই আপেক্ষিক । নির্মোহ চোখে এই প্রকাশভংগীটুকু বড় আন্তরিক

২৯ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:০৪

লেখক বলেছেন: স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, সর্বক্ষেত্রে সর্বাংশে নির্মোহ থাকা অসম্ভব, তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ধন্যবাদ , বহুদিন বাদে ব্লগ পরিদর্শনের জন্য।

৪৬. ২৯ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৩৭
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, গণস্বাক্ষরতা, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ-বিপক্ষ বিতর্ক- সব বাতুলতা মনে হয়, কিচ্ছু হবে না, কারণ যদি একটা কিছু হয়েই যায় তখন আর কোনো ইস্যু থাকবে না আরও কিছু হওয়ানোর জন্য।

এটাই আসলে শেষ কথা।
২৯ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৪৮

লেখক বলেছেন: ৭৭৭৭৭৭৭৭

৪৭. ৩০ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৪
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: লেখাটা এই নিয়ে তিনবার পড়া হলো। আমি একটু সময় নিলাম কমেন্ট করতে পারণ প্রথমবার পড়ে আমার খুবই ভাল লেগেছে। একটা লেখায় মন্তব্য করে ফেললে পুনঃপাঠের আবেদন কেমন যেন কমে যায় আমার কাছে।

আজকে আবার পড়লাম। গল্পের শুরু থেকেই বলার ঢঙে অনেক বেশি বাস্তবতা। যেন সত্যি সত্যিই লেখকের নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা হচ্ছে, এমন মনে হয়। যেন দিনলিপি পড়ছি, এইভাবেই প্রথমবার পড়েছিলাম। এখানেই তোমার মুন্সিয়ানা।

বিষয়বস্তু, ঘটনাবলি খুবই সাহসী, এবং পরিবেশন অনেক সৎ। এটা ভাল লেগেছে। আমরা কোন ঘটনাকে প্রেজেন্ট করতে গিয়ে হয় অতিউচ্ছ্বসিত প্রশংসায় তাকে 'মহান' বানিয়ে ফেলি, নয়ত অতিনিন্দায় তাকে 'কুৎসিত' বানিয়ে ফেলি। প্রকৃত ঘটনায় যে 'গ্রে' এরিয়া সেটাই আমাকে বেশি টানে বলে গল্পে আলভি এবং পাঁপড়ির রোল-প্লে আমার ভাল লেগেছে।

কিছু কিছু টাইপো আছে, চোখে প্রদাহের মতো ঠেকে। 'পেন্টিডিয়াম', আরো কিছু দেখেছিলাম কিন্তু এখন চোখে পড়ছে না। চেক করার অনুরোধ রইলো।

সমাপ্তির বদলটা চমৎকার। অন্তত আগেরটি থেকে। এই 'পল্টি খাওয়া'টা সাহিত্যিকদের মধ্যে বেশি। আলভি'র উপন্যাস লেখার কারণে সেই ছবিটাও মনে ভেসে উঠল!

মন্তব্যের ভীড় পড়ে দেখিনি। সময় করে দেখবো। ভালো থেকো।

[আরেকটা কথা। যতিচিহ্নের পরে একটা স্পেস দিও, ওটাই নিয়ম। চোখেরও আরাম হয় কিছুটা। :)]

৩১ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:০৭

লেখক বলেছেন: ওরে আল্লাহ!!!এতবড় লেখা আপনি ৩বার পড়েছেন ভাই???অনেস্টলি বলি, আমি পড়ছি ২বার, সে হিসেবে আপনি একবার বেশি। সেইজন্য কৃতজ্ঞতা জানাই???

আগের এন্ডিংটা আমারো ভাল লাগেনাই, মোস্তাফিজ রিপনের প্রথম কমেন্টেই সেইটা বলছি, কিন্তু অপেক্ষা করতেছিলাম অন্যরা কী বলে সেটা শোনার জন্য।।

টাইপোগুলো এখন দেখলাম, ঠিক করে ফেলবো এক্ষুণি।

যতিচিহ্নের ব্যাপারটা বলি: আমি এমএস ওয়ার্ডে আগে লিখে এখানে পেস্ট করি, যেজন্য বেশকিছু উল্টাপাল্টা হয়ে যায়.....

মন্তব্যের ভীড় এড়িয়ে যাওয়াই ভাল, তাতে মেজাজ বিগড়ে যেতে পারে।।

৪৮. ৩০ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:৫৭
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: লেখাটা অসাধারন বলার অপেক্ষা রাখে না!
আমিও কিছু গল্প ফাদি!

ছোটবেলায় পড়াশুনার জন্য ব্যাপক মার খেতাম। ক্লাসে ঠিকমতো পড়া করে আসতে পারতাম না বলে মার খাওয়াটা বেশ বাধ্যতামূলক হয়ে গিয়েছিলো। তাই একসময় কোনো স্যার ক্লাশে এসে যদি বলতো কে কে পড়া করে আসিস নি আমি সাথে সাথে দাড়িয়ে যেতাম।আমার রেজাল্টও তখন সেরকমই হতো আর এদিকে প্রত্যেক পার্বিকে খারাপ করার জন্য একজন করে এক্সট্রা শিকক নিয়োগ পেতো। ক্লাশ নাইনে উঠে একটা জিনিস আমার মনের মধ্যে নাড়া দেয়। এলাকায় একটা মেয়ে ছিলো নাম রিপা। সে সব সময় ভালো রেজাল্ট করতো এবং এলাকায় তার বেশ নামডাক হয়ে গেলো। তখন ভাবলাম একবার ট্রাই করেই দেখি না কেন? তখন অবশ্য ক্লাশে পড়া পড়ে আসিনি এটা বলতে খুব একটা মুখে বাধতো না এটা বেশ বুক ফুলিয়ে বলতাম। এর জন্য মান সম্মান খোয়া যেতো বলে আমার খুব বেশী মনে হয় না।
যাই হোক, নাইনে উঠে সায়েন্স নেবার পর হঠাৎ করে পরাশোনায় মনোযোগ দেয়া শুরু করলাম। ক্লাশ টেনে আমার রোল হলো ৪ আর টেস্টে হলাম থার্ড বয়। ততোদিনে ক্লাশে পড়া শেষ করে যাইনি এরকম দিনের কথা মনে পড়ে না।
জীবনটা দুভাবে পার করা যায় একটা হলো আত্নসম্মান বোধ নিয়ে আরেকটা হলো আত্নসম্মান বোধহীনতা দিয়ে। যখন দেখি খুব বড় বড় কথা বলছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কিন্তু কিছু তর্ক আসলেই শোনা যায় সঠিক ইতিহাস জানি না তখন হাসি আসে, অনেকটা বুর্জোয়া সংস্কৃতির কথা মনে পড়ে যায়। এমন নয় যে এদেশে সঠিক ইতিহাস জানা সম্ভব না এটা একেবারে শিশু লেভেলের কথাবার্তা তবে এটা বলবো হকিং নিজেকে এসকেপিস্ট বললে মানায় কিন্তু যখন কিছু না জানা লোক নিজেকে স্কেপিস্ট বলে তখন মনে হয় সে একটা গাধা!

লেখকের কথা শুনে মনে হচ্ছে এসব স্বাক্ষরতার কোনো দাম দিচ্ছেন না। আমিও এটার সাথে মাঝে মাঝে একমত পোষন করলেও আবর দ্বিমত পোষন করবো।

ধরে নিলাম আমরা সবাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। খুব মন থেকে চাই কিন্তু নানা কারনে এটা হচ্ছে না। তাহলে কি করলে হবে সেটাও বুঝে আসছে না এটা এমনো নয়। তবে সবাই কিছু না কিছু করছে এটা কিন্তু কম কথা নয়। হতে পারে কার মনে কি থাকবে এটা কিন্তু পরিস্কার। কেউ চায় নিজের ফটোজেনিক চেহারা দেখাতে অথবা কেউ চাইবে নাম ফাটাতে, কিন্তু একসময় যদি দেখা যায় আসলেই বিচার হলো, তখন সবাই এর ফলাফলটার ভাগ বসাতে আসবে। আসয়ক না খারাপ কি? কারন তারা যাই করুক না কেন, কিছু মানুষ তো সচেতন হয়েছে।
এখানে তাহলে বলা যায় গণ স্বাক্ষরতায় খুবই ক্ষুদ্র অংশ সচেতন হলো, আমি বলবো তাতেও লাভ। কারন আজকে যেই বীজটা ঐ শিশুটার মেন গাথা হলো সেটা একটা মহীরুহে পরিণত হবে। দেশপ্রেম খুব সস্তা মনে হলেও জীবনের কোনো এক বাকে তাকে এই স্বাক্ষরের স্মৃতি কিছুটা হলেও নাড়া দেবে। আমরা জীবনে খুব কম ভালো কাজ করার সুযোগ পাই। কিন্তু সেক্ষেত্রে ওদের ক্ষুদ্র প্রয়াসের কারণে এত সামান্য লাভ হলেও আমি বলবো এটা অনেক!

আর অন্যান্য ব্যাপার যদি বলতে হয় মনের কথা, ভাই একটা কথা বলি, আমরা কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি না আমাদের সবার ডেডিকেশন আছে। রাহেলা কেসের ক্ষেত্রে এই ব্লগের একজন ছিলেন মানবী। হঠাৎ কোথা থেকে উড়ে এসে একটা পোস্ট দিলেন। তারপর আরও পোস্ট আসতে থাকলো। আপনার মতো আমিও একটু বিরক্ত ছিলাম। কিন্তু তার ১ বছর পর যখন লিটনের ফাসির রায় হলো তখন মানবীকে মনে হলো একজন অতিমানবী, আসলেই সে অতিমানবী!

এরা সেক্ষেত্রে মানবীর ধারে কাছে যেতে না পারলেও আমি এটা বলবো চেস্টাটাই অনেক বড়। আমরা তো ঘরে বসে তাও কিছু করছি না, ঘরে বসে থাকার চাইতে অন্তত এটা করাও ভালো। অন্তত শরীরের ফ্যাট আর কোমরের বেড় তো কমে!

ভালো থাকেন!
৩১ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:১০

লেখক বলেছেন: লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এবার একটা প্রশ্ন: ২-৩দিন আগে আপনি একটা পোস্ট দিয়েছিলেন "দিনশেষে আমরা সবাই ভণ্ড: একচুয়ালি কেন আমরা প্রেস কনফারেন্সে যাই?"...এই টাইপ কিছু একটা....নিচে একটা নোটও ছিল.(কারও সাথে মিলে গেলে দুঃখিত)....একটুপর পোস্টটা গায়েব হয়ে গেল.............(আমি আসলে পঞ্চম প্রজাতির গর্দভ, অনেক কিছুই বুঝিনা)

আপনিও ভাল থাকেন।।

৪৯. ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ২:০১
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন: @ উদাসী স্বপ্ন, মানবী আপুর উদ্যোগের সাথে এই উদ্যোগ মেলানোর ব্যাপারটা দেখে অবাক হলাম। মানবী আপুর কাজের এক পর্যায়ে স্বাক্ষর দিতে গিয়েই আমি এই ব্লগ্বের একজন ব্লগার হই। তখনকার পোস্টের আধিক্য আমি পুরোটা দেখিনি তবে আপনার সাথে এক বিষয়ে একমত মানবী আপু আসলেই অতিমানবী।
কিন্তু এখানে গণস্বাক্ষরে ঠিক কী হচ্ছে আমার কাছে ক্লিয়ার না। মানবী আপুর কার্যক্রমে স্বাক্ষর দরকার ছিল কারণ রাহেলার কথা অনেক ভুলে গেছিলো। কিন্তু যুদ্ধাপরাধী ব্যাপারে সচেতনতা কতটুকু দরকার। একজন শিক্ষিত সংস্কৃতিবান মাত্রই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইবেন। তাই স্বাক্ষরের সাথে টিপসহির রেসিও টা গুরুত্বপূর্ণ। আর এই কার্যক্রম সচেতনতা ফেলতে পারে যারা অশিক্ষিত কিংবা অর্ধ শিক্ষিত। ( জামাত শিবিরকে আমাদের জংোষ্টীর বাইরে রেখে আমার এই হিসাব। ওরা শিক্ষিত হোক আর অশিক্ষিত হোক শালারা একই কথা বলবে জান থাকতে।)
আশা করি আপনি আমার বক্তব্য বুঝতে পারবেন।
৩১ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:১১

লেখক বলেছেন: শিমুল ভাই, চমৎকার একটা পয়েন্ট ধরেছেন।।।ভাল লাগল।।

৫০. ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:৫৮
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: হা হা হা! শুকনা কৃতজ্ঞতা দিয়ে কাজ চালালে হবে না। সামনে মাসে, এই এপ্রিলে বেশ কয়েকদিন বুয়েটে আসতে হবে। তোমার সাথে বসে বিকেল বেলা চা খাওয়া হবে, ঠিক আছে?? :)

মন্তব্যও পড়লাম। কিছু বলার নাই। :)

আমার মেজাজ খুবই ইলাস্টিকের মতোন, অনেক টানাটানিতেও খারাপ হয় না! ;)
৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:০৬

লেখক বলেছেন: চা খাওয়া, তার উপর আপনার সাথে...এইগুলা ঠিক না থাকলে "ঠিক" এর ডেফিনেশনটাই পাল্টে দিতে হবে ।।। অবশ্যই, আসার আগে জানায়েন।।। আমার ফোন নম্বরটা আপনাকে মেইল করে দিবোনে..........আর এমনিতে আমি শেরে বাংলা ২০৯ এ স্থায়ীভাবে আছি...রুমকুনো মানুষ হওয়ায় এমনিতেই আমাকে পাওয়া যাবে সেখানে........


আমার মেজাজের ইলাস্টিক লিমিট আপনার থেকে বেশিই হবে মনে হয়...(ল্যাবরেটরিতে টেস্ট করা যেতে পারে, তবে বুয়েটের টেস্টে ভরসা পাইনা!!!)

৫১. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:২০
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: নিজের গর্দভ বইলা আপনিও দেখি আমাগো কাতারে নিয়া আসলেন, ভালোই তো! আসলে দিন শেষে আমরা সবাই কমবেশী এসকেপিস্ট। শুধু আমাদের দেশের বড় বড় বিশেষভাবে অজ্ঞ থুক্কু বিশেষজ্ঞ টাইপ বুদ্ধিজীবিরাই এরকম না! আসলে আমাদের মত কম জানা লোকদের এভাবে সবকিছু এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব তাই নিজের নির্বুদ্ধিতা সহজ ভাবে বলে দিলে অনেক ঝামেলা থেকে এড়ানো যায়, তাই আমাদের দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরা এ কাতারে পড়েন না তাই তারা এসব সভা সেমিনার, গণ স্বাক্ষরতা, অনশন নামক তাংফাং এ যুক্ত করে নিজেদের মহান বলে পরিচয় দেন! হয়তো অনেক কিছু জানি না জানতেও চাই না তবুও কেনো যেনো চোখের দিকে তাকিয়েই অনেক কিছু জানা হয়ে যায় যা হয়তো জানা উচিত নয়, আর উচিত নয় বলেই কিছু কিছু লিখেই মুছে দিতে হয়!

তবে আত্নপক্ষ সমর্থন সবাই করে, অনেক মহিয়সীরাও করেছেন আমার মতো ইতর শ্রেনীর লোকজনও করবে! তবুও এটা বলবো আমরা মুসলমান বলেই অনেক মতভেদে বিভক্ত, আমরা বাঙালী বলেই মুখে বড় বড় নীতি কিছু না জেনেই আওড়াতে ব্যাস্ত! জাতী হিসেবে অপার সম্ভাবনা থাকলেও লোকদেখানোর নামে অনেক কিছুই ভেস্তে যায়। সব যে যায় এটা না, মানবী আপু তা করে দেখিয়েছেন। আরও দুয়েকজন আছেন যারা আসলেই ফাটাফাটি কাজ করেছেন যেমন এক পিচ্চির ক্যান্সার হয়েছিলো আবার আরেকজন ছিলো ভ্যালরী ট্যালর।
তবে আমার একটা ভয় খুব হয়, এসব ভালো কাজের উদাহরন টেনে মানুষ জন লোকদেখানোর জন্য ভালো উদ্যোগ গুলোকে সস্তা করে ফেলে! কতটা সস্তা করে ফেলে তার প্রমান এখন পথে ঘাটে ব্লগের চিপায় চাপায়! খুব কম তো দেখি নাই এক জীবনে।
তবে যদি আমরা সম্পর্কযুক্ত করতে চাই তাহলেই কিন্তু করা যায়। কারন জামাত এখন অর্ধশিক্ষিতদের মাঝে নেই। এটা খুব উপর সমাজের মাথায় ছড়িয়ে গেছে। যখন দেখি মানারাতে প্রিন্সপাল বা নর্থসাউথের অর্থ লগ্নীকারি অথবা বিভিন্ন প্রকাশনা বা হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা এরাই সেখানে এই গণ স্বাক্ষর খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না এটা শিওর। তবে হ্যা প্রভাব যদি অল্পও ফেলে তাহলে সেটাই লাভ। আমার কথা হলো কিছু না করা চেয়ে কিছু করা ভালো। এক অর্থে শরীরের চর্বি কমে, দ্বিতীয় অর্থে মানুষে মানুষে সুন্দর রিলেশন সৃস্টি হয়, কিছু জ্ঞানের আদান প্রদান আর আসল যেটা দুয়েকজন হলেও জানতে পারবে যুদ্ধাপরাধীরা কারা!

একটা উদাহরন দেই এনটিভি না একুশে টিভি যেনো ছিলো যেখানে মুজাহীদ কে এনেছিলো। টক শো টা পড়ে রেকর্ড করে দেখেছিলাম এবং হেসেছিলাম। কারন ওখানে তরুণ সাংবাদিকরা অনেক বিষয়েই কোনো উত্তরের জবাব দিতে পারছিলেন না, যেখানে মুজাহিদ বেশ শক্ত এবং কনফিডেন্টলি উত্তর দিচ্ছেন। মন তো চায় ওকে খুব করি, তার চেয়ে বেশী মাথা নস্ট হচ্ছিলো এসব বেড স্টুডেন্ট সাংবাদিক হলো কিভাবে?
আসলেই জানার বিকল্প নেই!
০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৮

লেখক বলেছেন: নিজের গর্দভ বইলা আপনিও দেখি আমাগো কাতারে নিয়া আসলেন, ভালোই তো!.................এটা অবান্তর প্রসঙ্গ, আমাদের কাতার-আপনাদের কাতার বলে কোন বিভাজন নেই....

বাকি ব্যাপারগুলো নিয়ে বলার কিছু নাই।।।আমি আপনাকে আগের কমেন্টে কযেকটা প্রশ্ন করেছিলাম। আপনি যে পোস্টটা দিয়েছিলেন সেটা মুছলেন কেন, আর আপনি যে টাইটেল ও কনটেন্টের পোস্ট দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে এই পোস্টের কিছু কমেন্টের যোগসূত্র আছে..তাছাড়া ঐ পোস্টে আপনি একজায়গায় লিখেছিলেন "একজন মেয়ে হয়েও কী উদ্দেশ্যে প্রেস কনফারেন্সে যাই..." এই জাতীয় কিছু একটা.............এখানে এসে নিজেকে বলছেন ছেলে.....তাছাড়া এই পোস্টের সন্ধান আপনার পাওয়ার কথা নয় স্বাভাবিকভাবে, যেহেতু এটা বেশ কিছুদিন আগে লেখা, এবং ইতিপূর্বে কোনদিনই আপনাকে আমার ব্লগে দেখিনি...................................আর কিছু বলার নাই...

৫২. ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:২৪
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন: পুরো গল্পটা পড়লাম। বেশির ভাগ মন্তব্যগুলোও। প্রথমে ক্ষমাপ্রার্থী দেরিতে পড়বার জন্য। শো'কেসে ঝুলিয়েছি অনেক আগে। যাতে মিস না হয়ে যায়। পড়লাম অনেক পরে। এতে অবশ্য একটা লাখ হয়েছে। অনেককের মন্তব্যগুলো পাওয়া গেছে। চিন্তার ডাইমেনশনটাও পাওয়া গেছে আমার দিক থেকে।
.......................................................................................
আমার নিজের একটি সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে কিছু বলতে চাই। আমার নিজের প্রধান আগ্রহ মূলত প্রবন্ধ। প্রবন্ধ সাহিত্য আমি বেশি এনজয় করি। তবে বিশ্বাস করি গল্প-উপন্যাসের শক্তি অনেক বেশি। কারণ চরিত্রগুলো বেশি দিন কথা বলতে পারে। ফলে আমার মূল আগ্রহের জন্য আমার অভিমতগুলো নিছক পাঠক এর মন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করাই ভাল।
............................................................................................
গল্পের শুরুটা বেশ টানার শক্তি রাখে। শব্দ চয়ন এবং গল্প বলার ঢং এবং কাহিনীর বিন্যাস। কিন্তু মাঝে মাঝে কোথাও কোথাও যেন গল্পটা ঝুলে গেছে পাঠকের কাছে। গল্পের ভেতরের দর্শনটার একটা বড় জায়গায় ভিন্নমত পোষণ করি না। তবে কাহিনী বিন্যাসের ক্ষেত্রে কিছু কিছু প্রসঙ্গ আরোপিত মনে হয়েছে। অন্তত পাঠক হেসেবে আমার কাছে। এটি কাহিনী বলার ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও ঝুলে যাওয়ার কারণেও হতে পারে।
...........................................................................................
এ সীমাবদ্ধতা বাদ দিলে গল্পটি ভাল লাগার মতো। এমনও হতে পারে এটি প্রথম ড্রাফট। পরে হয়তো আরও ঘষামাজা করার সুযোগ রয়েছে। কিছু কিছু বর্ণনা অনেক সুন্দর ও জীবন্ত লেগেছে। ওপরের অনেকের বর্ণনায় এটি এসেছে। শেষ অংশ নিয়ে অনেকে ভিন্ন কথা বললেও আমার নিজের কাছে মনে হয়েছে বর্ণনার দিক থেকে গল্পটি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
অনেক ধন্যবাদ। সিরিজটি চলতে থাকুক। শুভেচ্ছা....................
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:০১

লেখক বলেছেন: আগে হোক, পরে হোক, পড়েছেন এজন্যই অসংখ্য ধন্যবাদ।।। আরোপিত প্রসঙ্গ ও ঝুলে যাওয়া অংশগুলো একটু ডিটেইল বললে ঘষামাজায় সুবিধা হত।।।

৫৩. ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:২৯
অন্তিম বলেছেন: বলার ভাষা নেই। যদিও জানিনা এই চরিত্র গুলোর বাস্তবে কোন রূপ আছে কিনা তবুও এই দুটি চরিত্রকে একদম বাস্তব মনে হয়।

আরও অনেক গল্পে এই দুটি চরিত্র চাই।
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:০৩

লেখক বলেছেন: চরিত্র দুটি অবাস্তব, তবে নাম দুটি বাস্তব....বাকিটা লেখকের কারসাজি....

৫৪. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৯:২১
নাফিস ইফতেখার বলেছেন:

বিবমিষা শব্দটা আগে শুনিনি। মানে কি? :(


হায় ভালবাসা, পাপড়ির কাছে তোমার সংজ্ঞা আসলে কী, সেই প্রশ্ন কখনো রেখেছো?

হাহাকার!



এরপরে বাসজুড়ে ‘নীরবতা দিবস’ পালিত হয়েছিল মহাসমারোহে!

চমৎকার বর্ণনা!



তথ্যের প্রসঙ্গ তুললে তো, আমাদের প্রজন্মের এ বিষয়ে লেখার অধিকারই নেই, যেহেতু আমরা যুদ্ধই দেখিনি।

ড্যাম রাইট!



পাপড়ির সামনাসামনি হলে পেন্টিয়াম ডি প্রসেসরের দ্রুততায় চম্পট দেই

হা হা হা!



‘থাকে জন ৩ জন বাঙালি- ১জন রাজনীতি করবেই
কেউ যদি উপরে উঠে, বাকিজন তাকে টেনে ধরবেই
ও বাঙালি, ও বাঙালি।

বাঙালিকে ব্যাখা করার জন্য আর কিছুর প্রয়োজন নেই বোধ করি।



অতীত আর ভবিষ্যত কোনটিকে রেখে কোনটির চিন্তা করবে এ দ্বন্দে মানুষ চিরকালই ভুগেছে। আপনার এই গল্পে তা আরো একবার প্রকাশ পেলো। আমি দ্বন্দে যেতে চাই না, আমরা অলরেডি অনেক দ্বন্দে ডুবে আছি......গল্পটা ভালো লেগেছে কি লাগেনি তা বলতে পারবো না, তবে গল্পটা আমায় ভাবিয়েছে। ধন্যবাদ এই চমৎকার লেখাটির জন্য। অনেক সময় স্ক্রল বাটনটাকে শেষ মাথা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাই বলে পোস্ট পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। আজ টানিনি, তাই হয়তো পারলাম........
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৯:২৭

লেখক বলেছেন: বিবমিষা মানে হল ধরো বমি করার একটা ভাব চলে আসা, এরকম.....

আর, বাকিবিষয়গুলো নিয়ে যা লিখেছো, নিজের মত করে ভেবে নিয়েছো, এই বিষয়টা ভাল লেগেছে।।। একটি লেখা ভাল কি মন্দ, সেটা কোন ফ্যাক্টই নয়, ফ্যাক্ট হচ্ছে লেখাটা পড়ে আমার মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া হল কিনা...ভাল-মন্দ যা-ই হোক, এই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিতেই লেখার কৃতিত্ব....তোমাকে ভাবালে সেটি লেখার সামান্য একটা ক্রেডিট বলতে পার...দীর্ঘ লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ নাও।।

৫৫. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৩২
দুর্বলতার অমিত বলেছেন: এইটা কি শুধুই একটা গল্প। তবে পুরো গল্পটি আমাকে অদ্ভুত ভাবে আকর্ষন করেছে।

আচ্ছা মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী যাওয়ার ব্যাপারটাও কি লেখকের কল্পনার সৃষ্টি।
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১১

লেখক বলেছেন: পুরোটাই কাল্পনিক.....

 

মোট সময় লেগেছে ১.১৪১৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
কিছু কিছু মানুষ থাকে যারা কোন ঘটনার উদ্দেশ্য হয়না,বিধেয় হয়না; সকলের অগোচরে মেঠো ইদুরের মত নিজেকে লুকিয়ে বেচে থাকে; এরা...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ