ব্লগার রাজীব হায়দার ওরফে থাবা বাবা খুন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শাহবাগ আন্দোলনের সমর্থকরা কোন চিন্তাভাবনা ছাড়াই শিবিরের দিকে সন্দেহের আঙুলি নির্দেশ করে। কিন্তু পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ব্যক্তিগত ও নারীঘটিত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরই মধ্যে তার দুই বান্ধবীসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা-বাদ করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে এবং কয়েকজনকে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত আলামত ও মোবাইল ফোনের কললিস্ট এবং মোবাইল ট্রাকিং করে পুলিশ ঘাতকদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। Click This Link
ফেসবুক, টুইটারসহ ব্লগগুলোতেও এ হত্যার রহস্য নিয়ে নানা ধরনের কথা বলা হচ্ছে। রাজীব খুন হওয়ার পর সর্বপ্রধম আওয়ামীপন্থী ব্লগার অমি রহমান পিয়াল তার হত্যার খবর দিয়েছিলেন। তিনিই তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন- “..............যুদ্ধাপরাধীদের ফাসি এবং জামায়াত শিবির নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে প্রজন্মর লড়াই বন্ধ হবে না। রাজিব মারা না গেলেও এই আন্দোলন চলতো এখনও চলবে, কিন্তু রাজিবের লাশ পুজি করে না।আমরা এই হত্যাকান্ডের সঠিক তদন্ত ও রহস্য উদঘাটন চাই। জামাত শিবির বাইচা যাবে এইরকম একটা ভুয়া অজুহাত তুলে প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করে একদল সাইকোপাথকে যারা বাচানোর কথা ভাবতেছে লানত দেই তাদের উপর, যারা লাশকে একটা গুটি মনে করে। আজকে আমি মারা গেলে ওই সাইকোরা সাকসেসফুলি পাবলিকরে দুইভাগ করে ফেলতো পিয়াল চটি লেখে আর পিয়াল মুক্তিযুদ্ধ নিয়া লেখে এই বিভাজনে।....” https://www.facebook.com/omi.pial
গতকাল তিনি লিখেছিলেন-
“সুশান্তর ফোন পাইয়া তো মাথাই নষ্ট হয়ে গেলো! আহমেদ রাজীব হায়দারের হত্যাকান্ডে প্যাচ লেগে গেছে। একজন মেয়ে নাকি গ্রেফতার হইছে, এবং পুরা কাহিনীটা ছবিরহাট কেন্দ্রিক হিসাব নিকাষ। আজকে বিবিসিরে দেওয়া একটা সাক্ষাতকারে আমি বলছিলাম ছাত্র সংগঠনগুলার মধ্যে একমাত্র শিবিরেরই সিগনেচার কিলিং জবাই করা। তবে এজ আ হোল ধরলে আরো একটা গ্রুপের সিগনেচার কিলিং জবাই। সর্বহারা গ্রুপের একটা ফ্র্যাকশনের, সম্ভবত লাল পতাকা গ্রুপ। এখন ছবির হাটে লাল পতাকা গ্রপের কোনো সদস্য আদৌ আড্ডা মারে কিনা এবং তাদের কারো সঙ্গে থাবার কোনো সংঘাত ঘটেছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার জো নেই। তবে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে খুনের পরবর্তী যে উস্কানি ছড়ানো হয়েছে ফেসবুকে এবং ব্লগে ফারাবি নামে এক ছেলের তরফে, সেটা ফারাবি ব্যবহার করে না। এই ছেলেটা একদমই বোকা কিসিমের একটা ছেলে আর তাকে ব্যবহার করে এই উস্কানিটা দিয়েছে ছবিরহাট কেন্দ্রিক একটা গ্রুপ। এক ঢিলে আসলেই অনেক পাখী মারা হইছে দেখা যায়। ফারুক ওয়াসিফের স্ট্যাটাসটা তাইলে সত্যি হইয়া গেলো! https://www.facebook.com/omi.pial/posts/10151432225823363
স্ট্যাটাসের পর বিভিন্ন কমেন্টের জবাবে তিনি লিখেছেন-
১. “থাবা মামা কিন্তু আন্দোলনে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কেউ ছিলেন না, মানে নেতা না। তারে মারা হইলো এমন একটা সময়ে যখন শিবিরের দিকে নজর যাবেই। এবং একটা অংশ আবার লীগের দিকে ঘুরায়া দিতেছিলো ব্যাপারটা যে তারা মাইরা শিবিররে ফাসায়া দিতেছে। সেক্ষেত্রে এই কৌশলী গ্রুপটা কারা সেটা জানা জরুরী।”
২. “পুরাই তো দেখি শারলক হোমস হয়ে গেলাম মামা। এর মধ্যে আবার বলা হইতেছে আমরা শিবিররে বাচা্য়া দিতেছি, পুরানো শত্রুতা উঠাইতেছি। হোয়াট দ্য ফাক। খুনী যদি শিবির না হয় তাইলেও তাদের খুনী বানায়া আসলগুলারে ছেড়ে দিবো? এরা তো পুরাই সাইকোপ্যাথ কিলার হয়ে উঠছিলো। তাছাড়া তারা আমারে ফাসাইতে আমার ছবি ব্যবহার করতেছিলো এই ক্ষেত্রে। আমার ধারণা এইখানে বহুত খেলা আছে আসলে।”
৩. “তদন্তের জন্য সহায়ক যাবতীয় ক্লু উপহার দিয়ে ঘুমাইতে গেলাম। আমি চাই সত্যিকারের খুনী ধরা পড়ুক। কারণ আমাদের সন্দেহ যদি সত্যি হয়, তাইলে ব্লগারদের মধ্যে একদল সাইকোপ্যাথ ঢুকে পড়ছে, এরা আরো অনেক কিছুই ঘটাইতো এর সঙ্গে ওর ক্যাচাল লাগায়া দিয়া।”
পিয়াল ভাইয়ের স্ট্যাটাসের Mohammed Elius Chowdhury লিখেছেন-
"বিভ্রান্ত আর বিভ্রান্তি দুটোই এখন রাজিব হত্যার পিছনে ছুটছে। আজ কোন এক পত্রিকায় দেখলাম খুনিরা মাক্রোতে করে শাহবাগ থেকে রাজিবের পিছু নিয়েছিল। পিছু নিতে কে দেখলো তাদের? এক টিভি রির্পোটে দেখলাম পাশের বাড়ীর এক নাইট গাইড নাকি দেখলো মুখে গামছা বাঁধা দুজন লোক রাজিব হত্যার পর ঐ স্থান দিয়ে পালাতে। এখন জানলাম ছবিরহাটের কোন কাহিনী এই হত্যার পিছনে জড়িত। আরো কত যে বিভ্রান্ত মূলক তথ্য এর মধ্যে বের হবে আল্লাহ মালুম। কিন্তু আমার মাথার মধ্যে সারাক্ষণ একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে প্রজন্ম চত্বরে নেতৃত্ব দেওয়া এত এত ব্লগার থাকতে রাজিবকে কেন টার্গেট করা হলো? উফ্ যত তাড়াতাড়ি এই বিভ্রান্ত থেকে বের হতে পারি ততই মনে হয় মাথার চাপ কমবে। এখন অপেক্ষা দেখি এর সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি করে?"
আমরাও অপেক্ষা করছি খুনের সঠিক রহস্য বের করা হোক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শিবিরের দিকে আঙুলি নির্দেশের পর কি তদন্ত সঠিকভাবে এগুবে? সাগর-রুনির মত এ হত্যাকাণ্ডও যে ধামাচাপা পড়বে না তার নিশ্চয়তা কোথায়?
'খুনী যদি শিবির না হয় তাইলেও তাদের খুনী বানায়া আসলগুলারে ছেড়ে দিবো? : অমি রহমান পিয়াল
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১৪টি মন্তব্য ৭টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
সাজানো ভোটে বিএনপিকে সেনাবাহিনী আর আমলারা ক্ষমতায় আনতেছে। ভোট তো কেবল লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

১০০% নিশ্চিত বিএনপি ক্ষমতায় আসছে, এবং আওয়ামী স্টাইলে ক্ষমতা চালাবে। সন্ত্রাসী লীগকে এই বিএনপিই আবার ফিরিয়ে আনবে।সেনাবাহিনী আর আমলাদের সাথে ডিল কমপ্লিট। সহসাই এই দেশে ন্যায়-ইনসাফ ফিরবে না। লুটপাট... ...বাকিটুকু পড়ুন
রাজনীতির পন্ডিত, ব্লগার তানভীর জুমারের পোষ্টটি পড়েন, জল্লাদ আসিফ মাহমুদ কি কি জানে!

সামুর রাজনীতির ডোডো পন্ডিত, ব্লগার তানভীর ১ খানা পোষ্ট প্রসব করেছেন; পোষ্টে বলছেন, ইউনুস ও পাকিসতানীদের জল্লাদ আসিফ মাহমুদ ধরণা করছে, "সেনাবাহিনী ও ব্যুরোক্রেটরা বিএনপি'কে... ...বাকিটুকু পড়ুন
নীল নকশার অন্ধকার রাত

কায়রোর রাস্তায় তখন শীতের হিম হাওয়া বইছিল। রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। দুইটা বড় সংবাদপত্র অফিস: আল-আহরাম এবং আল-মাসরি আল-ইয়াউম—হঠাৎ করেই আগুনে জ্বলে উঠলো। কিন্তু এই আগুন কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
হাদি ভাই, ইনসাফ এবং একটা অসমাপ্ত বিপ্লবের গল্প

ইদানিং একটা কথা খুব মনে পড়ে। হাদি ভাই।
মানুষটা নেই, কিন্তু তার কথাগুলো? ওগুলো যেন আগের চেয়েও বেশি করে কানে বাজে। মাঝেমধ্যে ভাবি, আমরা আসলে কীসের পেছনে ছুটছি? ক্ষমতা? গদি? নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন
আগুন যখন প্রশ্নকে পোড়াতে আসে
আগুন যখন প্রশ্নকে পোড়াতে আসে[
স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা, মব-রাজনীতি ও এক ভয়ংকর নীরবতার ইতিহাস
চরম স্বৈরশাসন বা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রেও সাধারণত সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার সাহস কেউ করে না। কারণ ক্ষমতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।