লাশের উপর গোবর ছুড়ে মেরেছে মানুষের চেহারাধারী কিছু পশু। আপনারা কি বলতে পারেন এসব পশুদের আসল পরিচয় কি?? গোবর আর জুতা ছুড়ে মারাতে এই লাশ গুলৈার কি কোন লাভ কাষতি হল??
এই প্রসংগে আমি একটু অতিতকে টানি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হওয়ার সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল কয়টা ছিল??
শুধুই আওয়ামীলীগ। জামায়াতের মুষ্টিমেয় কয়জন ছীল। ১৫ই আগষ্টের ঘটনায় যারা অংশ নিয়েছিল তারা সকলেই ছিল মুজিবের বাকশালের অংশ। মেজর ডালিম ছিল শেখ মুজিবের খুবই স্নেহ ধন্য। বলার অপেক্ষা রাখেনা যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে শেখ মুজিবের সপরিবারে হত্যায় জড়িত তারা সকলেই আওয়ামীলিগের নেতা কর্মী। আসুন একটা পরিসংখ্যান দেখি।
জনাব খন্দোকার মোশতাক আহমদ এক অনাড়ম্ভর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করেন। অস্থায়ী বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদ হোসেন এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। একই দিন উপ-রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন জনাব মোহাম্মদুল্লাহ। মন্ত্রী পরিষদও গঠিত হয় সেদিনই। মূলত এরা সবাই ছিলেন আওয়ামী লীগ ওবাকশালের সদস্য এবং নির্বাচিত সাংসদ।
মন্ত্রীসভার সদস্যবৃন্দ:
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
অধ্যাপক মোঃ ইউসুফ আলী
ফনিভূষণ মজুমদার
মোঃ সোহরাব হোসেন
আব্দুল মান্নান
মনরঞ্জন ধর
আব্দুল মোমেন
আসাদুজ্জামান খান
ডঃ এ আর মল্লিক
ডঃ মোজাফফর আহমদ চৌধুরী
প্রতিমন্ত্রীঃ
শাহ মোয়াজ্জম হোসেন
দেওয়ান ফরিদ গাজী
তাহের উদ্দিন ঠাকুর
অধ্যাপক নূরুল ইসলাম
নূরুল ইসলাম মঞ্জুর
কে এম ওবায়দুর রহমান
মোসলেম উদ্দিন খান
রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ
ক্ষিতিশচন্দ্র মন্ডল
সৈয়দ আলতাফ হোসেন
মোমিন উদ্দিন আহমদ
খন্দোকার মোশতাক আহমেদ ধারনার চেয়েও নিজেকে বড় প্রমাণিত করলেন। বাকশাল সরকারের ১৮জন মন্ত্রীর ১০জন এবং ৯জন প্রতিমন্ত্রীর ৮জনই মোশতাক সরকারে যোগদান করেছিলেন ১৫ই আগষ্ট বৈপ্লবকে অভ্যুত্থানকে সমর্থন জানিয়ে। ১৫ই আগষ্ট বিপ্লবের দিন বাকশালের একজন শীর্ষ নেতা জনাব আবদুল মালেক উকিল লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। সাংবাদিকরা শেখ মুজিবের মৃত্যুতে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি জবাব দিয়েছিলেন, “বাংলাদেশে ফেরাউনের পতন ঘটেছে।”
জনাব মহিউদ্দিন আহমদ আর একজন শীর্ষ স্থানীয় বাকশালী নেতা প্রেসিডেন্ট মোশতাক আহমদের বিশেষ দূত হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নে গিয়েছিলেন ক্রেমলিনের নেতৃবর্গকে ১৫ই আগষ্টের যৈাক্তিকতা বোঝানোর জন্য।
রেডিওতে মুজিবের সরকার পতন ও শেখ মুজিবের নিহত হবার খবর ঘোষিত হয়েছে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্নেল (অবঃ) তাহের, কর্নেল (অবঃ) আকবর হোসেন, মেজর (অবঃ) শাহজাহান ওমর, মেজর (অবঃ) জিয়াউদ্দিন, মেজর (অবঃ) রহমতউল্লাহ, ক্যাপ্টেন (অবঃ) মাজেদ এবং এক্স পিএমএ ক্যাডেট মোস্তাক ও সরাফত এসে হাজির হল রেডিও বাংলাদেশে। ঘোষণা শুনেই এসেছেন তারা বিপ্লবের প্রতি তাদের সমর্থন ও অভিনন্দন জানাতে। খবর এল পরিকল্পনা অনুযায়ী মেজর আমিন আহমদ চৌধুরী ইতিমধ্যেই সাভারে রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পকে নিরস্ত্র করে তাদের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। লেঃ কর্নেল রশিদ চলে গেছে জনাব খন্দোকার মোশতাক আহমদকে নিয়ে আসার জন্য আর মেজর (অবঃ) ডালিম গেল মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ও বাহিনী প্রধানদের নিয়ে আসতে। ঘটনাগুলো ঘটছিল অতি তরিৎ গতিতে। ঢাকা সেনানিবাস তখন সম্পুর্ণভাবে সেনাদের নিয়ন্ত্রণে। খুশির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে সারা ক্যান্টনমেন্টে।
এই সকল আনন্দ উৎসব কি জামায়াতের নেতৃবৃন্দ করেছিল না যুদ্ধাপরঅদীরা করেছে??
গতকাল যখন ফাসি কার্যকর হয় তখন প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রী সভা কি করছিল?জাতির কলঙ্ক মুক্ত হবার অপেক্ষায় প্রধানমন্ত্রী যখন জায়নামাজে তখন তাঁর পাঁচ মন্ত্রী মদের আড্ডায়, এটা কিসের লক্ষণ ? পত্রপত্রিকায় এসেছে তারা তখন কুলদীপ কে নিয়ে মদের সাগরে ডুবেছিল। তাই আমি কোন রকম ইতস্তত না করেই বলতে পারি যারা এখন লাশের গায়ে জুতা ছুড়ে মারছে তারাই ৭৫এ মুজিব হত্যার উপর উল্লাস করেছে। এরাই আবার ভভিষ্যতে হয়তো কখনো কোন লাশৈর উপর প্রস্রাব করবে।
তথ্য সুত্র: ১৫ই আগষ্টের পট পরিবর্তনের ইতিহাস-১
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


