বর্তমান বাংলাদেশ যে অস্বস্তিকর সময় অতিক্রম করছে এবং সামগ্রিক অর্থে দেশের অভ্যন্তরে যে সকল সংকট ঘনীভূত হচ্ছে তাতে করে আমাদের সামনে বড় ধরণের গণজাগরণ ছাড়া নৈতিকতা এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে না কোনমতেই।
এহেন পরিস্থিতিতে যারা মনে করেন কোন অলৌকিক পন্থায় দেশে 'পজিটিভ' পরিবর্তন আসবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করতেন অথবা নপুংশক মাত্র। মিশর-সহ মধ্যপ্রাচ্যে যে গণজাগরণ ঘটছে বা ঘটার সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে তা যদি আমরা বিশ্লেষণ করি তবে দেখতে পাই যে, ঐ সকল আন্দোলনকে বিপুলভাবে প্রভাবিত বা সংগঠিত করেছে বর্তমান সময়ের তারুণ্যের প্রিয় সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলো। তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং প্রথাগত দুরত্বে ব্যবধান ঘুচিয়ে দেয়া- ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ আর ইউটিউবের মাধ্যমে দ্রুত জনমত গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে ভার্চুয়াল অসাধারণত্বকে কাজে লাগিয়ে।
বাংলাদেশে ভিকারুন্নেছার ঘটনায় আমাদের সকলের সম্পৃক্তকার এটিই সবচেয়ে বড় কারণ। নিচের নিউজটি আজকের প্রকাশিতব্য আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। আমি মনে করি এটি একটি শুভ উপলদ্ধি। এখন সময় এসেছে দলবাজির বাইরে অধিকার আদায়ের লড়াইকে আধুনিক উপকরণের সহযোগিতায় দ্রুত সংগঠিত করার এবং জনগণের পক্ষের শক্তি হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব প্রকাশ করার। আমি মনে করি, এ শক্তি মোকাবিলার সামর্থ পচনশীল বর্তমান সস্তা জনপ্রিয় ভণ্ডামিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত রাজনৈতিক দলগুলোর নেই।
আসুন আমরাও ফেসবুক, ব্লগ, ইউটিউব আর টুইটারে ডাক দিয়ে মিশরীয়দের মত গড়ে তুলি এক গণপ্রতিরোধ-সাম্যের পক্ষে, ন্যায়বিচারের পক্ষে, স্বাধিকারের পক্ষে, প্রগতির পক্ষে। যৌবনে পড়ুক রাজটীকা, ভুপাতিত হোক অত্যাচারি সব শাসক শ্রেণির মসনদ।
ভিকারুননিসার ছাত্রীদের ডিজিটাল আন্দোলন এবার আন্তর্জাতিক রূপ নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ফেইসবুক, ব্লগ ও ইউটিউবে বিভিন্ন দেশের ছাত্র-শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, বিদেশী বিভিন্ন সংগঠন রীতিমত সভা-সেমিনার করে জড়িতদের শাস্তি ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবার অঙ্গিকারও করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ যুক্তরাজ্যের ব্রিক লেনে ক্লিফটন রেস্টুরেন্টে স্থানীয় সময় ৭ টায় সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছে ‘বাংলাদেশী স্টুডেন্ট ইউনিয়ন উইকে’ (বিএসইউ)। এরমূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত শিক্ষক পরিমল জয়ধর ও তার মদদ দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জোরদার করা।
এদিকে গ্লোবাল ভয়েস নামে একটি অনলাইন ম্যাগাজিন প্রতিদিনই নির্যাতিত ছাত্রীর বিচারের দাবিতে জনমত তৈরি করছে। বিভিন্ন প্রবন্ধ লিখে ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এ ম্যাগাজিনে ইংরেজি, বাংলা, স্পানিশ, হিন্দিসহ বিভিন্ন ভাষায় প্রবন্ধ লেখা হয়েছে।
ম্যাগাজানটিতে ‘বাংলাদেশ: সেক্সচুয়াল অ্যাসাল্ট বাই অ্যা টিচার ট্রাইগারস স্টুডেন্ট আপরাইজিং’ শীর্ষক প্রবন্ধে বলা হয়েছে- ব্লগ, ফেইসবুক এবং রাজপথ এই ত্রিমুখী আন্দোলনে পরিমলকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ।
ছুটিতে থাকা অধ্যক্ষের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে- ‘আপনার কি জানা আছে মিউচুয়াল সেক্স হওয়ার জন্যে ‘কনসেন্ট’ লাগে। কিন্তু ১৮ বছরের নিচে একজন নাবালিকা কখনোই সম্মতি দিতে পারে না’। এতে বলা হয়েছে, ‘আমাদেরকে স্বীকার করতেই হবে, যে সব ছোট বোনেরা ফেইসবুকে ইভেন্ট খুলেছে তাদের উপর যথেষ্ট চাপ থাকবে। হোসনে আরা ছাত্রীদেরকে টিভির ভয় দেখিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনও হয়তো খারাপ আচরণ করবে। আমাদের সেই সব বোনদেরকে বলছি - আপুরা তোমরা একটুও ভয় পেয় না। আমরা আছি, তোমাদের সবার পাশে আছি’। ম্যাগাজিনটিতে বলা হয়েছে, ‘প্রতিবাদ এখানেই শেষ নয়। পরিমল ও তার মদদ দাতাদের কঠোর বিচারকার্য নিশ্চিতকরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের যথোপযুক্ত প্রয়োগ নিশ্চিতকরণের জন্যে এই মঞ্চ আরো এগিয়ে যাবে।
অন্যদিকে ভিকারুননসিনা ছাত্রী ‘পরিমলের বিচার দাব, প্রিন্সিপালের পদত্যাগ চাই’ ও আরেকটি ভিকারুননিসা আ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনের গ্র“প খোলা হয়েছে। এই গ্র“প দু’টিতে প্রতিদিনই সদস্য সংখ্যা বাড়ছে। আর আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে গ্র“প খুলে জনমত তৈরি করছে। ফেসবুক, ব্লগ, ই-মেইল ও ইউটিউবের মাধ্যমে ছাত্রীরা তুলে ধরছে তাদের দাবি। এর মাধ্যমে নিজেদের দাবির পক্ষে জনমত তৈরি করতে যাচ্ছে তারা। সুবিচার পাবার নিশ্চয়তায় তারা হোসনে আরার স্থায়ী অপসরাণ চাইছেন। ছাত্রীরা বলেন, তিনমাস পর তিনি যদি এ স্কুলে পুনরায় যোগ দেন, তাহলে বিদ্যালয়টিতে আবারও অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে।
জানান, নিপীড়কের বিরুদ্ধে ভিকিদের এ আন্দোলন একার নয়। এ আন্দোলন আজ পুরো দেশবাসীর। আমাদের দেশকে আমরা অন্যায়ভাবে ধর্ষিত হতে দেবো না। বিকল্প মিডিয়াতে (ব্লগ, ফেইসবুক, ইউটিউব) আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।
বিঃদ্রঃ-এই চমৎকার নিউজটি করেছেন:মহিউদ্দিন মাহী

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



