গত কয়েকদিনের সামহোয়ার ইনের পোষ্ট আর কমেন্ট পর্যেবক্ষণ করে আমার উল্লিখিত শিরোনামের অবতারনা।
মুক্ত বুদ্ধি চর্চার অঙ্গিকার নিয়ে সামহোয়ারইনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কালে কালে তার পরিধি এখন বিশাল। দক্ষিণের জানালা খুলে দিলে মৌসুমী বাতাসে ঘর ভরে যায়। শীতল শুদ্ধ বাতাস জুড়িয়ে দিয়ে যায় অতৃপ্ত হৃদয়। সবই ঠিক আছে তবে চামচিকেরাও বসে থাকেনা। ওটাই কেবল তাদের অনুপ্রবেশের সুযোগ। সামহোয়ার ইনেও তারা সে সুযোগ পেয়েছে।
ব্লগে গিয়ে আমি মাত্র দুই সপ্তাহ বয়সী এক অবুঝ বালক। কয়েকদিন ছিলাম কেবল ভিজিটর। দুই সপ্তাহ খুব কম সময় তবে সময়টা ছিল এমন যখন একটা অস্থির অপ্রকাশ্য দ্বন্দ চলছে ব্লগারদের মাঝে আর সাধারন ব্লগাররা চিড়ে চ্যাপ্টা হচ্ছেন সেই দ্বন্দের মাঝখানে পড়ে। ভাল মন্দ কিছু বলতে গেলে আরো সমস্যা আপনি কোন পক্ষের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে কিছুদিন ঝিম মেরে থাকা এ যেন দ্বোয়াল্লীন আর জ্বোয়াল্লীন গ্রুপের মাঝখানে পড়ে নামাজ ছেড়ে দেয়ার মত অবস্থা।
সময় এক রকম যায় না। ২৮ অক্টোবর কিংবা ১১ জানুয়ারী বেশিদিন চলে না। প্রয়োজনের তাগিদেই পরিবর্তনের আওয়াজ শোনা যায়। রুচিশীল, সৃজনশীল, মননপিয়াসী লেখক পাঠকরা কয়দিন চেয়ে চেয়ে দেখবে। দেখবে না। তাই তারা আওয়াজ দিয়েছেন। এ আওয়াজ বাধ ভাঙার আওয়াজ। সত্যের সামনে দেয়াল হয়ে থাকা অপ্রকাশ্য বাধ ভাঙ্গার।
গত কয়েকদিন আগে একটা চমৎকার পোষ্ট আসে। পোষ্টটা দিয়েছেন এমন একজন যার লেখা পড়ার জন্য পাঠকরা আগ্রহে অপেক্ষায় থাকে। তিনি পোষ্ট দিয়েছেন কারন তিনি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তার পোষ্টকে সবাই স্বাগত জানিয়েছেন। কেবল একটি টীম ছাড়া। টিম সদস্যরা উক্ত টীমের ব্যাপারে গর্ববোধ করে। তারা ঘোষনা দিয়ে আলাদা একটি প্লাটফর্মও করেছিল কিন্তু জমাতে না পেরে আবার সামহোয়ার ইনে ফিরে এসেছে। গতকাল আরেকটি পোষ্ট এসছে। ইরিটেটিং ব্লগারদের ডকুমেন্ট চেয়ে। আমি মনে করি এটা একটা কার্যকর দলিল।
সা.ই. ব্লগাররা একটি সৃজনশীল মুক্ত প্লাটফর্ম চান। তারা এ দাবী আদায় করেই ছাড়বেন। আমিও চাই। গালাগালি, নাম বিকৃত করা, চরমপন্থীদের মত হুমকি, কতকাল চলবে? চলবে না। ব্লগ বাড়িতে তাই ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।
অনাগত ঝড়ের পূর্বাভাস পাচ্ছেন টীমের সদস্যরাও। গত কয়েকদিনের পোষ্ট বিশেষ করে মন্তব্যে কারো কারো লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা চোখে পড়ার মত। পাশাপশি মাঠে নেমেছেন তাত্ত্বিকরাও। পরশু দিনের একটি পোষ্ট দেখলেই কেউ কেউ অনেক চিন্তার খোরাক পাবেন। সরাসরি রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে আমি একটি পোষ্ট দিয়েছিলাম, দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। ভিজিটর থাকাকালীন দেখেছিলাম একটা দলকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা আর একতরফা গালাগালির ঝড়। আমি শুধু মূল সত্যটি জানাতে, ভুল ভাঙ্গাতে কলম ধরেছিলাম। আমার পর এবার এক তাত্ত্বিক তার রাজনৈতিক পরিচয়ের ডালি সাজিয়ে বসেছেন। সহকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিপ্লবের ইতিকথা।
আর এভাবেই অনেক প্রশ্নের জবাব বের হয়ে আসছে। একটু একটু করে পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে কারো কারো চেহারা। ভার্চুয়াল গুন্ডামী কারা করতে চায়, গালাগালি আর হুমকিদানের আসল গুরু কারা, চেতনার আড়ালে কি তাদের দ্যোতনা?
টীম এবার মরন কামড় দিতে প্রস্তুত। ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্ট দাবীদারদের একজন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপরেখা দিয়েছেন। দেখা যাক কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



