ওদের স্বভাব নাকি এমন, একবার যে শার্ট পড়ে, সপ্তাহ খানেক ওটাই গায়ে থাকে। আবার দিন কয়েক পরে যে একবার খোলে, দ্বিতীয়বার সেটি আর গায়ে ওঠেনা। বছরে ক'খানা শার্ট আর ক'খানা প্যান্ট যে তারা কেনে, তার হিসাব সম্ভবত তাদের কাছেও নেই। আমাদের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র (প্রতি)মন্ত্রী সম্ভবত ওদের থেকেই উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন।
আমেরিকার কথা বলছি। ভীষণ রকমের ভোগ বিলাসে অভ্যস্ত আমেরিকা, দীর্ঘদিন যাবৎ। দুহাতে টাকা উড়ানো আর বিলাসিতায় আমেরিকা ভোগবাদী সভ্যতাকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সেই কবে থেকেই। অন্যদিকে ক্রেডিট কার্ড কোম্পানীগুলো সুদের রমরমা ব্যবসায় জড়িয়ে এখন সব হারানোর পথে। একজন আমেরিকানের আয় হয়তো ৫০ হাজার ডলার। অথচ সে এই আয় দেখিয়ে চারটি ব্যাংক থেকে ২ লাখ টাকার ক্রেডিট কার্ড নিয়ে দেদারছে ভোগ করছে। দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা। ব্যবসায়ীরা বা বিক্রেতারা যখন ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে টাকা চাইছে ব্যাংকের কাছে, ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে দিতে পারছেনা। আবার ব্যাংক যখন কাস্টমারের কাছে ক্রেডিট কার্ডের টাকা চাইছে, কাস্টমার দিতে পারছেনা। অন্য অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে এ জন্য হাত পাতছে, তারাও তারল্য সংকটে দিতে পারছেনা।
আমেরিকায় হাওয়াই ব্যবসা চলে বহু সহস্র কোটি টাকার। একটি ব্যাংক ঋণের বিপরীতে যে মর্টগেজ নেয় সিকিউরিটি হিসেবে, সেই মর্টগেজ দেখিয়ে সে লোন করে অন্য কোম্পানীগুলোর নিকট থেকে। আবার অন্য কোম্পানীগুলোও একই কাজ করে। তারা আবার সেটি দেখিয়ে অন্য কোম্পানীগুলোর নিকট থেকে বিনিয়োগ নিচ্ছে। এভাবে এক সম্পত্তির উপর তিন, চার, কি পাঁচবার বিনিয়োগ হচ্ছে। সম্পত্তির তুলনায় পাঁচ সাতগুণ বায়বীয় টাকা ঘুরে বেড়াচ্ছে আমেরিকার আকাশে বাতাসে।
সব কিছুরই একটা শেষ আছে। আমেরিকার জনগণের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় তারা স্থাবর সম্পত্তি কেনা কমিয়ে দিয়েছে। মর্টগেজ করা হয় মূলত স্থাবর সম্পত্তি। একদিকে ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস অন্যদিকে সাময়ীক অপ্রয়োজনীয় ভোগের কারণে স্থাবর সম্পত্তি তথা বাড়িঘরের চাহিদা কমে গেছে। মর্টগেজ সম্পত্তির উপর সহস্র কোটি টাকার হাওয়াই বিনিয়োগকারীরা পড়েছে বিপদে। কেনার লোক নেই। প্রতি দশ সেকেন্ড কি দশ মিনিটে আমেরিকায় একটি করে বাড়ি নিলামে উঠছে (ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস)। কেনার লোক নেই। বিনিয়োগের টাকা উঠাতে পারছেনা ব্যাংকগুলো।
কমছে কেন আমেরিকার জনগণের ক্রয় ক্ষমতা? কারণ, বিপুল পরিমান ট্যাক্স তাদের মাথার উপর, বাড়ছেই প্রতি বছর। কি করছে সরকার এই ট্যাক্সের টাকা দিয়ে? এখানেই কবি নিরব। সারা বিশ্বে মাস্তানী আর খবরদারীতে হাজার হাজার কোটি টাকা ঢালছে আমেরিকা। এই ট্যাক্সের টাকা দিয়েই এ কাজ চলছে। ওসামা বিন লাদেনের "খোঁজে" আফগানিস্তানে এই ট্যাক্সের টাকা দিয়েই শত শত কোটি টাকার বোমা ফেলছে একের পর এক। ইরাকে শত শত হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়েই দিনের পর দিন সৈন্য লালন করছে, বোমা ফেলছে আমেরিকা। সারা বিশ্বের সব সংস্থায়, বিশেষত জাতিসংঘে, প্রচুর চাঁদা দিয়ে এদেরকে আজ্ঞাবহ করে রাখছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিতে নাক গলানো, সরকার পতন, গোয়েন্দাগীরি, এগুলোতে দেদারছে পয়সা ঢালছে আমেরিকা। এই ট্যাক্সের টাকা দিয়েই।
একদিকে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা মাস্তানি আর খবরদারীতে ব্যয়। অন্যদিকে সুদের আশায় ব্যাংকগুলোর কোটি টাকার হাওয়াই বিনিয়োগ, এবং আরেকদিকে জনগণের আয়ের তুলনায় দ্বিগুন তিনগুন ভোগ ও দেদারছে টাকা উড়ানো। সব কিছু মিলিয়ে ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন যাবত তারল্য সংকটে।
ঘটনার শুরু
বহু বছর ধরে চলছে এ ঘটনা। কিন্তু টের পায়নি কেউ। টের পেল সেদিন। তারল্য সংকটে যেদিন লেহম্যান ব্রাদার্স দেউলিয়া ঘোষিত হল। আতঙ্কিত হল জনগণ। যে যার ব্যাংকে জমাকৃত টাকা উঠানোর জন্য ভীড় করলো ব্যাংকে।
সমাপ্ত পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

