আমার প্রিয় পোস্ট

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ যেখানে এসে বিব্রত হয়।

২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:০৩

শেয়ারঃ
0 0 0

"দ্বীন" শব্দের চারটি অর্থ:
১- প্রভাব, প্রাধান্য, শক্তি, আধিপত্য
২- দাসত্ব, আনুগত্য
৩- কর্মফল, প্রতিফল
৪- আইন, বিধান, ব্যবস্থা

এই চতুর্থ অর্থে এসে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ চূড়ান্তভাবে বিব্রত হয়। কেননা, তাদের মূল বক্তব্যই হল কুরআন ঠিক আছে, ধর্ম ঠিক আছে। কুরআন আর ধর্ম নিজ নিজ জায়গায় ঠিক থাকবে, আর আইন, বিধান, ব্যবস্থা এগুলো মানুষ তৈরি করবে।

কিন্তু কুরআন দ্বীন শব্দের আওতার মধ্যে দেশের ব্যাবস্থা, আইন, বিধান সবগুলোকেই কব্জা করে নেয়। সূরা নূরের ২ নং আয়াত, আল্লাহ বলেন, ব্যভিচারী-ব্যভিচারিনী উভয়কে একশ করে বেত্রাঘাত করো। আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তোমরা যেন তাদের উপর দয়া না করো। এখানে বেত্রাঘাত করা হচ্ছে রাষ্ট্রের আইন। একে "দ্বীন" শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। আর আল্লাহ নির্ধারিত এই দ্বীন বা আইনের প্রয়োগের ব্যাপারে কোন ধরণের অবাঞ্ছিত দয়া না করার জন্য আল্লাহ হুশিয়ার করে দিয়েছেন।


বিষয়টির ব্যাপারে আমরা যারা নিয়মিত কুরআনকে অধ্যয়ন করি, কুরআনকে ভালবাসি, কুরআনকে শ্রদ্ধা করি, - আমাদের পরিষ্কার থাকা দরকার। দ্বীন শব্দের চারটি অর্থ যদি পরিষ্কারভাবে আমাদের মনে থাকে তবে যখনই কুরআন পড়বো, আমাদের চোখের সামনে সংশ্লিষ্ট আয়াতটি পরিষ্কারভাবে ফুঁটে উঠবে। কুরআন নিয়ে আমাদের কেউ বিভ্রান্ত করতে পারবেনা।

তৃতীয় অর্থ ছিল কর্মফল, প্রতিফল। আমরা যদি আমাদের বহুল পরিচিত একটি আয়াত এখানে আবার পাঠ করি, আমাদের সামনে তৃতীয় অর্থ পরিষ্কার হবে। "মালিকি য়াও মিদ দ্বীন।" প্রতিফল দিবসের মালিক।

এভাবে দ্বীন শব্দযুক্ত বিভিন্ন আয়াত পাঠ করলে সবগুলো অর্থই আমাদের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে।


একজন মুসলিম যে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রেখে তার প্রতি ঈমান আনয়ন করে, আনুগত্যের মস্তক অবনত করে- তার জন্য ধীরে ধীরে দ্বীনের মধ্যে তথা আল্লাহ প্রবর্তীত জীবন ব্যবস্থার মধ্যে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশের আন্তরিকতা থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে অনেক বাধা আসবে। কিন্তু আমরা যদি আল্লাহ যা বলতে চেয়েছেন সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখি, এবং দ্বীনকে গ্রহণ করার ব্যাপারে অনমনীয় থাকি। আমাদের জন্য আল্লাহর আনুগত্য করা সহজ হয়ে যাবে। নতুবা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ চুপিসারে এবং ঘোষণা দিয়েই আমাদেরকে বিভ্রান্ত করবে। পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থাই যে আল্লাহ প্রদত্ত এবং জীবনের কোন প্রান্তেই যে স্ব-আবিষ্কৃত নীতিমালা ও বিধান প্রয়োগের কোন সুযোগ নেই, এ কথাগুলো মানুষের সামনে যত কম পৌঁছানো যায়- ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদের প্রানান্ত চেষ্টা নিয়োজিত থাকে সেদিকেই। কিন্তু আমরা যতই কুরআনকে আঁকড়ে ধরবো, নিয়মিত অধ্যয়ন করবো, আমাদের বিভ্রান্ত হবার সম্ভাবনা ততই হ্রাস পাবে।













----------------------------------------------------------------------------------
এবার নিচে দ্বীন শব্দের চারটি অর্থের সমর্থনে কয়েকটি আয়াত কোট করছিঃ


প্রথম ও দ্বিতীয় অর্থে ( প্রাধান্য, প্রভুত্ব, শক্তিমত্তা এবং আনুগত্য, দাসত্ব)

দ্বীনকে একমাত্র তারই দিকে নিবদ্ধ করে তোমারা তাকেই ডাকো। সকল প্রসংশা আল্লাহ রব্বুল আলামীনের জন্য। সূরা আল মুমিনঃ ৬৫

একান্তভাবে দ্বীনকে তাঁর জণ্য খালেস করে আল্লাহর ইবাদত করার জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি। সর্বপ্রথম আনুগত্যের শীর নত করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সূরা আজ জুমারঃ ১১

আসমান জমীন যা কিছু আছে সবই আল্লাহর, দ্বীন একান্তভাবে তারই জন্য নিবেদিত। তবুও কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে তোমরা ভয় করবে? সূরা আন নহলঃ ৫২




তৃতীয় অর্থেঃ (প্রতিফল, কর্মফল)

বহুল পঠিত ও পরিচিত সূরা, সূরা মাউন। তুমি কি তাকে দেখেছ যে দ্বীনকে প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করে? এই সে ব্যক্তি যে এতিমকে গলাধাক্কা দেয়, মিসকীনদের খাবার ব্যাপারে উৎসাহিত করেনা।

চতুর্থ অর্থেঃ (ব্যবস্থা, বিধান, আইন)

আর এমনি করে আমরা ইউসূফের জন্য পথ বের করেছি। বাদশার দ্বীনে (আইনে) তার ভাইকে পাকড়াও করা তার জন্য বৈধ ছিলনা। সূরা ইউসূফঃ ৭৬

শাসন কর্তৃত্ব আল্লাহ ছাড়া আর কারো নয়, তারই নির্দেশে তিনি ব্যাতিত আর কারো ইবাদাত করোনা। ইহাই সত্য সঠিক দ্বীন। সূরা ইউসূফঃ ৪০

তারা কি এমন শরীক বানিয়ে বসেছে, যারা তাদের জন্য দ্বীনের ব্যাপারে এমন সব আইন বিধান রচনা করেছে, আল্লাহ যার অনুমতি দেননি, দেননি কোন হুকুমে। সূরা আশ শূরাঃ২১
----------------------------------------------------------------------------------






আজ এ পর্যন্তই, ভিতরে কোন ভূল থাকলে সংশোধনী প্রত্যাশা করছি।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): দ্বীনকুরআনধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: কুরআন  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৩০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:০৭
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: ঐটা দেলেন্না ক্যা?

লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন
যার যার ধর্ম তার তার কাছে
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:২২

লেখক বলেছেন: সব দিতে গেলে তো কলেবর বড় হয়ে যাবে। আপনি দিয়েছেন এজন্য ধন্যবাদ। এ আয়াত দ্বারা ইসলামী জীবন ব্যবস্থার সাথে অন্য ব্যবস্থার সেপারেশনের পরিষ্কার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আর ওখানে যার যার ধর্ম না হয়ে হবে যার যার দ্বীন বা জীবন বিধান তার তার কাছে। একজনের টা অন্য জনের সাথে মিশ্রণের কোন সুযোগ নেই।

আবারও ধন্যবাদ।

২. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:১০
পরিবর্তনবাংলা বলেছেন: অসাধারন খুব ভাল বলেছেন । একমত। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিপাত যাক
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:২৩

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

৩. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:১২
হলদে ডানা বলেছেন: বুঝলামনা সমস্যাটা কোথায়, বারবার লেখাটি প্রথম পাতা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কেন?
৪. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:১৫
ভন্ডপির বলেছেন: ভাই, আফঘানস্থান বা পাকস্থানে যান। অনেক কদর পাবেন।
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:২০

লেখক বলেছেন: ভাই কুরআন আফগানিস্তান আর পাকিস্তানকে দিয়ে দিলেন? বাংলাদেশের জন্য কি কুরআন অপাংতেয়?

৫. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৩২
শয়তানেরচাবুক বলেছেন: লেখক বলেছেন 'বুঝলামনা সমস্যাটা কোথায়, বারবার লেখাটি প্রথম পাতা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কেন?'

লিখে যান, পরে বুঝবেন । এটা এ ব্লোগের বৈশিষ্ট্য যে, ওরা ওদের ভিন্নমতের ব্লগারদের একদম বরদাশত করে না ।
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:১২

লেখক বলেছেন: ওরা বলতে কি মডারেটরদের বুঝাচ্ছেন? কিন্তু কোন নোটিশ তো পাইনি! আমার মনে হয় কোন টেকনিক্যাল সমস্যা ছিল।

৬. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৩৫
ফারহানা আহমেদ বলেছেন: "লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন
যার যার ধর্ম তার তার কাছে"----------শুধু এইটা মনে করাই দিলা, এইটাতো ক্রনোলজিক্যাল অর্ডারে আগে নাযিল হওয়া আয়াত (সূরা বাকারা)। মাগার এর পরে শেষ দিক থেকে প্রথম (মতান্তরে ২য়) সূরাটার (এখন ৯নং সূরা, বাট নাম ভুলে গেছি)-ও একটা আয়াত আছে--------সেইটার কথা কইলা না?@ কাউয়া
৭. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৪১
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: আমি ঐটা মনে করায়া দিসি কারণ ঐটা হৈতাছে ছুটুর মৈদ্যে কোরানের কন্ট্রোভার্সির বিরাট উদাহরণ।
এই আয়াতে যার যার ধর্ম তার তার কাছে কৈয়া হের্পর সুরা তওবা(৯ নং সুরা) জুইড়া বিধর্মীগো সাফা কৈরা দেওনের কথা আছে@ ফারহানা
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:২৩

লেখক বলেছেন: বললাম তো ভাই, ওখানে দ্বীন অর্থ ধর্ম হবেনা। ধর্ম বলতে আর সব ধর্মগুলোর মত কতগুলো রিচুয়াল তথা আচার অনুষ্ঠান বোঝার আশঙ্কা থাকে। অথচ নিচে পোস্টে যে কুরআন থেকে দ্বীন সংশ্লিষ্ট উদাহরণ দেয়া হয়েছে তাতে দেখবেন, দ্বীন বলতে আইন বিধান ব্যবস্থা বুঝাচ্ছে। তাই লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়াদ্বীন বলতে বুঝাচ্ছে- তোমাদের দ্বীন তথা জীবন বিধান তোমরা পালন কর, আর আমাদেরটা আমরা। আমাদেরটার মধ্যে তোমাদেরটার মিশ্রণের কোন সুযোগ নেই।

৮. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৪২
রিয়াজুল ইসলাম বলেছেন: কোরানের শাষন পুরোপুরি চালু থাকলেই কেবল কোরান অনুযায়ী বিচার করতে পারবেন। যাকাত চালু হবে না, প্রতিবেশীর অধিকারটুকু দেওয়া হবে না, বেকারদেরকে চাকরি দিতে পারবেন না.....................কিন্ত চুরির দায়ে হাত কেটে দিবেন এটা হবে না.....................আমাদের দেশে ফতোবাজ রা এই কাজটিই করছে.................
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:২৬

লেখক বলেছেন: কোরআনের শাসন চালু হলে সবই হবে, যাকাত ভিত্তিক কল্যাণমূলক সমাজ ব্যবস্থা চালু করতে সরকার যেমন বাধ্য, প্রতিবেশীর অধিকার নিশ্চিত করার মত পরিবেশ ও চাপ সৃষ্টি করতে সরকার যেমন বাধ্য, তেমনি অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করাও সরকারের করণীয় হয়ে যায়। আমাদের দেশের কোন ফতোয়াবাজ কি বললো তা ধর্তব্য না।

৯. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৪৪
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: এডি কোরানের কন্ট্রোভার্সির সর্বোত্তম উদাহরন। এইখানে কৈছে যার যার ধর্ম তার তার কাছে আর সুরা তওবা জুইড়া ভিন্নধর্মীগো কাইট্যা সাফা কর্তে কৈছে।@ফারহানা
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:২৭

লেখক বলেছেন: উপরের উত্তরটি দেখার জন্য অনুরোধ রইলো। কুরআনে ব্যাপক ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর অর্থ পরিষ্কার না থাকার কারণেই কন্ট্রোভার্সির অনুযোগ করতে পারছেন।

২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

১১. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:০১
মনোয়ার আহমদ বলেছেন:
"লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন" এর মানে "যার যার ধর্ম তার তার কাছে" এটা ঠিক নয়। এই আয়াতের মানে " তোমাদের জীবন ব্যবস্থা আর আমাদের জীবন ব্যবস্থা এক নয়"। ইসলামে 'দ্বীন' মানে সমগ্র জীবন যাপন পদ্ধতি বূঝায়, 'ধর্ম' আর 'দ্বীন' এক কথা নয়। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ একটি আলাদা 'দ্বীন', যেমন ঈসলাম একটি আলাদা 'দ্বীন' ।
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৩

লেখক বলেছেন: চমৎকার বলেছেন।

১২. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:০১
কিউরিয়াস বলেছেন: লেখক বলেছেন "আর ওখানে যার যার ধর্ম না হয়ে হবে যার যার দ্বীন বা জীবন বিধান তার তার কাছে। একজনের টা অন্য জনের সাথে মিশ্রণের কোন সুযোগ নেই।"

একটু যদি বুঝিয়ে দিতেন, আপনার মতে,
১। একটি ইসলামী রাষ্ট্রে একজন অমুসলিম ব্যাক্তির দ্বীন কিভাবে রক্ষা হবে, যদি তা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক হয়,
২। আর, অমুসলিম রাষ্ট্রে একজন ইসলামী ব্যাক্তির দ্বীন কিভাবে রক্ষা হবে, যদি তা রাষ্ট্রের নিয়ম-কানুনের সাথে সাংঘর্ষিক হয়।
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৪২

লেখক বলেছেন: প্রশ্নটি সুন্দর।

আয়াতটি যখন নাযিল হয়েছে, তখন অমুসলিম রাষ্ট্র ছিল। সুতরাং আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরটা আগে দিতে হয়। সে সময় মুসলিমরা দ্বীন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন- তার পদক্ষেপ হিসেবে সে দ্বীনের দাওয়াত দিচ্ছিলেন। আর প্রত্যাখ্যানকারীরা চাচ্ছিল রাসূল সা. এর নেতৃত্বে মুসলিমরা সে দ্বীনের প্রচার বন্ধ করুক। অথবা একটা সমঝোতায় আসুক, তাদের জীবন ব্যবস্থার কিছু দিক ইসলাম গ্রহণ করুক আর ইসলামের জীবন ব্যবস্থার কিছু দিক তারা গ্রহণ করবে। তাদের সে প্রস্তাব লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন আয়াত দ্বারা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

অতএব আপানার দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব হচ্ছে, মুসলিরা অমুসলিম রাষ্ট্রে তাদের দ্বীন যতটুকু সম্ভব রক্ষা করবে আর অবশিষ্ট অংশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালাবে, মানুষকে আহ্বান জানাবে।

আর প্রথম প্রশ্নের জবাব হচ্ছে, অমুসলিম ইসলামী রাষ্ট্রে তার দ্বীনে যদি রাষ্ট্র ক্ষমতার কোন বিধান থাকে তবে তা থেকে বঞ্চিত হবে। ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে পালন করার সুযোগ পাবে।

১৩. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:২১
সোনা১ বলেছেন: মগবাজার থেকে ছুইট্টা আইছ ফাকিস্থানি ছাগু
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৩

লেখক বলেছেন: কুরআন শুধু মগবাজারের জন্য?

১৪. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:২৪
রহমাননন বলেছেন: সর্ব্ব মোট ৬ টা আইন আছে কোরান শরিফে। এই ৬ টি আইন দিয়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থা কিভাবে চলতে পারে?

যুগের সাথে আইন পরিবর্তন অপরিহার্য। যেমন ট্রাফিক আইন, এভিএশন আইন, মেরিটাইম আইন ইত্যাদি।

অমুসলিমদের ইসলামি আইন দ্বারা শাসন করতে চাইলে তারা তা মানবে কেন?

পৃথিবীতে ২০% মানুষ মুসলমান আর ৮০% অমুসলিম। ৮০% অমুসলমানদের উপর জোর করে ইসলাম চাপাতে গেলে পরিনতি ভয়াবহ হবে।

(সুরা কাহাফ ১৮, আয়াত ২৯) "‌বলুন সত্য আল্লাহর থেকে এসেছে, যার ইচ্ছা বিশ্বাস করুক আর যার ইচ্ছা অবিশ্বাস করুক।"

(সুরা মুযাম্মিল ৭৩, আয়াত ১৯) "আল্লাহর তরফ থেকে এটা উপদেশ, যার যেমন ইচ্ছা, সে তার সৃষ্টিকর্তার পথ অনুসরন করুক।"

(সুরা মুদাচ্ছির ৭৪, আয়াত ৩৮) "প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজ নিজ কাজের জন্য দায়ী হবে।"

২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ প্রশ্নের জন্য।

একটি জিনিস মাথায় রাখা দরকার। কুরআন মূলত মৌলনীতি নিয়ে এসেছে। আর কয়েকটি আইন সরাসরি দিয়েছে। যে আইনগুলো সরাসরি দেয়া হয়েছে, ইসলামী রাষ্ট্র তা কিয়ামত পর্যন্ত অক্ষুন্ন রাখতে বাধ্য। কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে মৌল নীতি দেয়া হয়েছে, সে ক্ষেত্রে সকল আইনই অনুমোদিত যা মৌলনীতিকে ভঙ্গ করেনা। সে হিসেবে যার যার দেশের পার্সপেক্টিভ অনুযায়ী ট্রাফিক আইন কি মেরিটাইম আইন তৈরী ও বাস্তবায়ন করবে। ইসলামে তাতে কোন নিষেধ নাই, বরং যুগের চাহিদা অনুযায়ী সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞদেরকে উৎসাহিত করা হয়েছে। এ জন্যই ইসলাম কালজয়ী।

২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৭

লেখক বলেছেন: অমুসলিমদের ইসলামী আইন দ্বারা শাসনঃ


মাথায় রাখতে হবে, ইসলামী রাষ্ট্রের ধারণাটি প্রচলিত ধারণা থেকে একটু ভিন্ন। আর বর্তমান পৃথিবীতে এর পরিপূর্ণ উদাহরণ না থাকায় তা সম্পর্কে বোঝা আরেকটু কষ্টকর। বর্তমান পৃথিবীর রাষ্ট্র ব্যবস্থা মূলত সীমানা ভিত্তিক রাষ্ট্র। আর ইসলামী রাষ্ট্র হচ্ছে আদর্শভিত্তিক। যদিও সীমানা এ রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যা হোক, যারা এ আদর্শ গ্রহণ করবে, তারাই কেবল এ রাষ্ট্রের নাগরিক হতে পারবে। তাহলে অমুসলিমদের কি হবে। হ্যা, সমাধান আছে। অমুসলিমরা যদি পূর্ব থেকেই এ রাষ্ট্রের সীমানায় বসবাস করে, তবে তারা এ রাষ্ট্রের মেহমান হিসেবে বিবেচিত হবে। সে ক্ষেত্রে তারা স্বাধীন, এ রাষ্ট্রের নাগরিক হতে হলে, আদর্শ গ্রহণ করতে হবে, নয়তো গেস্ট হিসেবে তাদের যে মর্যাদা তা মেনে নিয়ে বসবাস করতে হবে। আশা করি দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন।

২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১৩

লেখক বলেছেন: অমুসলিমদের ইসলামি আইন দ্বারা শাসন করতে চাইলে তারা তা মানবে কেন?


একটি রাষ্ট্রের নাগরিকরা সে রাষ্ট্রের আইন মানতে বাধ্য। যেহেতু ইসলামী রাষ্ট্র হচ্ছে আদর্শ ভিত্তিক রাষ্ট্র, তাই এ আদর্শ ভিত্তিক রাষ্ট্রের নাগরিক তারাই যারা এ আদর্শকে গ্রহণ করবে। আর অমুসলিম বা যারা এ আদর্শকে গ্রহণ করতে বাধ্য নয়, তারা এ রাষ্ট্রের গেস্ট। গেস্ট তো হোস্টের আইন মেনে চলতে বাধ্যই। তবে ইতিহাস বলে অমুসলিমরা ইসলামী রাষ্ট্রেই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ছিল। তাছাড়া পৃথিবীতে এমন কোন ধর্ম নেই যাদের ধর্মে নিজস্ব পরিপূর্ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিবরণ অবশিষ্ট আছে। সুতরাং সে যেখানেই থাকুক কোননা কোন আইন তো তাকে মানতেই হবে। সেক্ষেত্রে ইসলামী রাষ্ট্রের আইন মানতে আপত্তি থাকবে কেন?

২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১৬

লেখক বলেছেন: অমুসলমানদের উপর জোর করে ইসলাম চাপানোঃ


এখানে চাপানোর তো কিছু নাই, আহ্বান জানানো হচ্ছে। কল্যাণ কারীতা দেখে সে গ্রহণ করতে পারে, অথবা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তার পছন্দ।

১৫. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৫
শয়তান বলেছেন: ১০


হলদে ....... কেমনআছেন ?
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৫০

লেখক বলেছেন: বিসিএসের ফরম জমা দিয়েছেন?

১৬. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৬
শয়তান বলেছেন: আমার টাইম শেষ বহুকাল আগেই । দুবার লাইফে এ্যাটেন্ড করছি । শেষবার ভাইবাতে কট । আর ঐমুখা হই নাই তারপর।
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৮

লেখক বলেছেন: আমার এখোনো কয়েক চান্স আছে। দোয়া করিয়েন।

২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:৪১

লেখক বলেছেন: ঠিক কি কারণে মূল্যবান মাইনাসটা দিলেন যদি একটু বলতেন।

২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:৫৮

লেখক বলেছেন: ঠিক কি কারণে মূল্যবান মাইনাসটা খরচ করলেন যদি একটু বলতেন।

২০. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:৫৮
রহমাননন বলেছেন: পৃথিবীর ৮০% অমুসলমান তাদের মতবাদ আপনার উপর চাপিয়ে দিলে, আপনাকে তাদের মতবাদ দ্বারা শাসন করতে চাইলে আপনার কেমন লাগবে?
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৯

লেখক বলেছেন: বরং জিজ্ঞেস করুন কেমন লাগছে। বিশ্বের অধিকাংশ জায়গায় তো তাদের শাষণই চলছে। আরেকটু অগ্রসর হয়ে বলতে পারেন, পরিপূর্ণ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা কোথাও নেই। সুতরাং তাদের মতবাদ দ্বারাই তো বিশ্ব চলছে। এখন আমার কেমন লাগছে না বলে বলতে পারেন বিশ্ববাসীর কেমন লাগছে? সমাজতন্ত্র, পুজিবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র - এগুলোই তো এখন বিশ্বের জীবন ব্যবস্থা হিসেবে বিরাজ করছে। কেমন আছে বিশ্ববাসী? আপনি আমি কেমন আছি?


উত্তরণের জন্য প্রয়োজন পৃথিবীর স্রষ্টা, বিশ্ব জগতের অনুপরমানু সম্পর্কে যিনি সম্পূর্ণ রূপে অবগত, মানব জাতির দূর্বলতা-সম্ভাবনা ও কল্যাণ সম্পর্কে যিনি সবচেয়ে ভাল জানেন - তাঁর দেয়া বিধানের প্রতি আগ্রহী ও অনুগত হওয়া। এর মধ্যেই কল্যাণ। আর একজন মুসলিম তথা আত্মসমর্পিত হিসেবে আমাদের করণীয় হচ্ছে সেই জীবন ব্যবস্থার কল্যাণকারীতা তুলে ধরে মানবজাতিকে তা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো এবং সেই বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

২১. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৪১
রহমাননন বলেছেন: মুসলমানরা ইসলামি শাসনের হাত থেকে বাচার জন্য মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আরব দেশ থেকে অমুসলিমদের কাছে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চাচ্ছে, একটু শান্তির জন্য। ইসলামে শান্তি থাকলে তারা এটা করত না।
২২. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৪
নিউজকাস্টার বলেছেন: "দ্বীন" শব্দের চারটি অর্থ:
১- প্রভাব, প্রাধান্য, শক্তি, আধিপত্য
২- দাসত্ব, আনুগত্য
৩- কর্মফল, প্রতিফল
৪- আইন, বিধান, ব্যবস্থা

এই চতুর্থ অর্থে এসে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ চূড়ান্তভাবে বিব্রত হয়। কেননা, তাদের মূল বক্তব্যই হল কুরআন ঠিক আছে, ধর্ম ঠিক আছে। কুরআন আর ধর্ম নিজ নিজ জায়গায় ঠিক থাকবে, আর আইন, বিধান, ব্যবস্থা এগুলো মানুষ তৈরি করবে।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬৫৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আয় হতাশার আবর্জনায়
সবাই মিলে আগুন জ্বালি
শুন্য বনের শুন্য শাখায়
নতুন করে ফাগুন ঢালি

ব্যর্থতা সব যাক ভেসে যাক
এই বেলাতে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ