বেহেশতে যা যা নেই তার একটি সম্ভাব্য তালিকা।
১। বিদ্যুৎ বা তড়িৎ প্রবাহ একেবারেই নেই।
সুতরাং কম্পিউটার, টেলিভিশন জাতীয় জিনিস থাকার প্রশ্নই আসে না।
(হায় হায়, তাহলে কম্পিউটার ছাড়া থাকব কেমনে?)
২। সূর্য নেই। তাহলে কাপড় শুকাব কি দিয়ে?
৩। কত রাত জেগে জেগে পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় কিছু স্বপ্নময় মুহুর্ত কাটিয়েছি, আমার দু:খ ব্যথার সাথী, আমার একাকীত্বের সঙ্গী। আল্লায় যদি আমারে দোযখ থেইক্কা বাচায়া বেহেশতে দেয় তয় পূর্ণিমা চাঁদ খুব মিস করব।
৪। বেহেশতে নামাজ নাই।
(যারা নামাজের শান্তি টা বুঝে তারা এই ভেবে আফসোস করবেন, অনেকে আবার খুশি, আমার কিন্তু খুশির চেয়ে আফসোসটা বেশি)
৫। বেহেশতে গীবত নাই, ঝগড়া নাই। ডিভোর্স- তালাকও নাই।
সেখানে শুধু শান্তি আর শান্তির কথা।
৬। বেহেশতে টাকা নাই! হায় হায় কয় কি? তাইলে চলুম কেমনে?
৭। মোবাইলও নাই! এই কথা ভাবিয়া অক্ষণে আমার মাথা ঘুর ঘুর করতেছে। তা হইলে আমরা টাঙ্কি মারমু কেমনে? মিস কলও তো দেওন যাইতো নো। ইশ! কম্পিউটার আর মোবাইলে যদি গেমস খেলতে না পারি তাইলে তো শেষ!
৮। বেহেশতে নাকি পান-সিগারেট নাই! (তয় ভাল হইছে বেহেশতে তাহইলে কেউ সিগারেট খায়া মরব না (তয় না খায়া মরতে পারে?))
৯। বেহেশতে অসুখ বিসুখ নাই। কোন হাসপাতাল ও নাই। যাক, খুশি লাগলো, তাহইলে আমার কোমড়ের ব্যথাটা একটু কমতে পারে। শুনছি, এমনকি সর্দি কাশিও নাই।
মাশাআল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
১০। বেহেশতে বার্ধক্য নাই। বৃদ্ধাদের জন্য সুসংবাদ। চুল কখনো সাদা হবে না।
আমি ও বাঁচলাম। বার্ধক্যকে আমার খুব ভয়।
১১। বেহেশতে কোন টয়লেট নেই। হায় হায় কয় কি, তোয় যদি পেটের অসুখ হয়, তাহা হইলে যাইব কই?
এবার আসুন জানি বেহেশতে কী কী আছে।
১। বেহেশতে একটা শরাবের নহর আছে দুনিয়াতে যারা মদ খাবে না তাদেরকে ঐ নহর থেকে শরাব পান করানো হবে। কিন্তু তাতে মাথা ঘুর ঘুর করবে না। মাতলামিও আসবে না।
২। নাচ- গান। আমি ভাবি, নাচ-গানটা কি খুবই খারাপ? বেহেশতেও তো নাচ গান আছে।
তবে সেখানে তো টেলিভিশন নাই। যা হবে লাইভ শো।
"না সে সৌন্দর্য কোন চক্ষু কখনো অবলোকন করেছে, না কোন শ্রবণশক্তি সে মিষ্টি সুর কখনো শ্রবণ করেছে" (যারা প্রতিবেশীর স্ত্রীকে আমানত মনে করবে, বৈধ অধিকার ব্যতীত কারো প্রতি হাত সম্প্রসারিত করবে না তাদের জন্য। )
৩। সেখানে শরাব, দুধ আর মধুর নহর আছে। একেবারে স্বচ্ছ। তবে বেহেশতের নদী আমাদের নদীর মত নয়। গর্ত থাকবে না, বরং তা মাটির উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে।
৪। বেহেশতে অনেক গোলাম বান্দী, আপনি আর আপনার সহধর্মিনি শুধু বসে থাকবেন সিংহাসনের উপর।
৫। সেখানে থাকবে প্রচুর ফল - ফলান্তি। একেকটা ফলে ৭০ রকম স্বাদ। যে স্বাদ কখনো ভূলার নয়।
৬। বেহেশতে মন চাইলেই সাথে সাথে ছেলে মেয়ে হয়ে যাবে। তাতে বিন্দুমাত্রও কষ্টবোধ হবে না।
৭। বেহেশতে একটা বাজার থাকবে সেখানে অনেক মূর্তি বা ভাষ্কর্য থাকবে। যখন মানুষেরা সেখানে যাবে সে মূর্তির সুন্দর নাক দেখে ভাববে আহ, আমার নাকটা যদি এমন হতো তখন সাথে সাথে তার নাকটা ঐ মুর্তির নাকের মতো হয়ে যাবে।
৮। পৃথিবীতে যাদের ছেলে মেয়ে নাবালক অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে তাদেরকে তারা বেহেশতে গিয়ে পাবে।
উপসংহার - বিশ্বাস :
১.সেলফোন আবিষ্কারক বিজ্ঞানী যখন প্রথম দিন সেলফোন নিয়ে রাস্তায় হেটে হেটে কথা বলছিলেন, লোকেরা বলছিল, আরে এই লোকটা তো পাগল! আজ সেটা বাস্তব!
আমি যা বললাম সেটা যদি কখনো বাস্তব হয়?
আসুন অপেক্ষা করি মহা সত্যের, মহা প্রলয়ের।
২. ফেলেশতারা তাদের পালনকর্তাকে বললো, মানবজাতি পৃথিবীতে হত্যাকান্ড ঘটায়, রক্তপাত ঘটায়, আর আমরা তো দিন রাত আপনার ইবদত করি, তাহলে মানবজাতি কেন শ্রেষ্ঠ জাতি হবে? শ্রেষ্ঠ জাতি হবো আমরা!
পালনকর্তা বললেন, তোমরা তো আমাকে দেখে আমার নিদর্শনাবলী দেখে বিশ্বাস করো, আর মানুষেরা আমাকে না দেখেই বিশ্বাস করে, এজন্য মানুষেরা আমার কাছে শ্রেষ্ঠ।
৩. ফেরেশতার ইবাদতের চেয়ে মানুষের ইবাদত শ্রেষ্ঠ , কারণ, মানুষ তার অন্যায় করার শক্তিটাকে দমন করে ন্যায় কাজ করে। আর ফেরেশতাদের কোন অন্যায় কাজ করার শক্তি নাই বা তাদের অন্যায় করার তেমন কোন অপশন নাই।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :
আমার পোস্টটা অনেকের ভাল নাও লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে মাইনাস দিয়ে চলে যাবেন, দয়া করে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য না করলে ভাল হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


