somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্যস্ততার সন্ধান................../:)

২০ শে আগস্ট, ২০১১ ভোর ৬:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ কিছুদিন এ শহরে ছিলাম না। গিয়েছিলাম আমার সেই ছোটবেলার মফস্বলের শহরে। ওই শহরে যতবার যাই ততবার মন খারাপ হয়ে যায় কিন্তু তবুও যাই। ওই শহর থেকে আমার আর নেওয়ার কিছু না থাকলেও যে পিছুটানগুলো আছে সেগুলো ছেড়ে আজও বেরোতে পারিনি। সেই কারনেই যাই। মন খারাপ নিয়ে আবার ফিরে আসি।
আমার জীবনে এখন ব্যস্ততার বড় অভাব। এখন আমি ভীষণ ব্যস্ত হতে চাই, এতটাই ব্যস্ত যে আমার মনখারাপের জন্য যেন কোনও সময় না থাকে। আর এই শহরে আছে সেই ব্যস্ততা। বাড়ি থেকে বেরোনোর পর চারপাশে শুধু দেখি ব্যস্ত মানুষের ভিড়। এই শহরে সবাই এতটাই ব্যস্ত যে কারও দিকে তাকানোর সময় নেই। এই ঢাকা শহরটাকে যতই গালাগালি দিই না কেন, এই শহরটা ব্যস্ততার মধ্যে ডুবিয়ে দিয়ে সব খারাপ-লাগাকে ভুলিয়ে দিতে জানে।
ট্রেনে করে ফিরতে গিয়ে দেখলাম ভোরের ব্যস্ত ঢাকাকে। কমোলাপুর স্টেশনে আধো-ঘুম চোখে ব্যস্ত কিছু মানুষের ভিড়। এই সকালের ব্যস্ততা সেই সব মানুষদের বেশি যারা, শহরের বাজারে সব্জি যোগান দিতে চলেছে। দল বেঁধে গ্রামগঞ্জ উজাড় করে মহিলার দল শহরের বাবুদের ঘরে কাজ করতে ছুটছে, ঠিকে মজুরের কাজ খুঁজতে ভোর রাতে গ্রামের ছোট্ট রেলস্টেশন থেকে শহরে ছিটকে এসে জটলা করছে অসংখ্য যুবক, প্রৌঢ় মানুষও কিছু আছেন তাঁদের মধ্যে। রাতভোর প্ল্যাটফর্মে কাটানো ঘুমন্ত বাস্তুহারা মানুষজন এর মধ্যে উঠে পড়ে কোথাও দিনমানের জন্য অদৃশ্য হয়েছে, রাতে আবার আশ্রয়ের অভাবে এইখানেই ফিরে আসবে হয়ত।
আর এই ছুটে চলা দৃশ্য ও অদৃশ্যের ফাঁকে-ফাঁকে আমাদের মত কিছু মেল ট্রেনের যাত্রিরা রয়েছে যারা তাঁদের সদ্য ছেড়ে আসা মফস্বল শহরটাকে এর সাথে মেলানোর চেষ্টা করছে, পারছে না। এই ব্যস্ততার অবশ্য আরেকটি দিকও আছে। এখানকার সবকিছুকেই বড় নির্দয়, যান্ত্রিক বলে মনে হয়। এই যে ভিড়, এর যাবতীয় কোলাহলের মধ্যে ফেলে আসা মফস্বল শহর যেন একটু একটু করে সরে যেতে যেতে ক্রমশ হারিয়ে যেতে শুরু করে। ছুটে চলা জীবনের স্রোত সব কিছুকে গ্রাস করে ফেলে। আমিও জনসমুদ্রে মিলিয়ে যাই, ডুবে যাই মানুষের ভিড়ে, মিশে যাই ব্যস্ততার বলয়ে, যেখানে ভিড়ের মধ্যে প্রত্যেকটি মানুষ একাকিত্বে ভোগে।
এবার ধাতস্থ হতে অনেক সময় লাগবে আমার, একথাটা ভাবতে ভাবতেই ঘরে ঢুকলাম। দেখি সারা ঘর ধুলোয় ভরা, টবের গাছগুলি মৃতপ্রায়। নিজের উপরই প্রচন্ড রাগ হল, ‘কেন যাই এই শহর ছেড়ে, ফিরে আসি শুধু মন খারাপ নিয়ে। এখানেই যখন থাকতে হবে তখন বারে বারে যাই কেন?’ উত্তর জানা নেই!
দমবন্ধ করা ঘরের জানালা খুলতে গিয়ে ভাবলাম, সেই যে দোতলা-ছোঁয়া নিমগাছটি আমার ঘরের জানালা দিয়ে দেখা যেত, সেটা কেমন আছে?
আগাছার মতো আবাসন উঠছে এই পাড়ায়, ওই একটিই এখনও অব্দি অবশিষ্ট গাছেদের মধ্যে। বেঁচে আছে বললে ভুল বলা হবে, বলা যায় মাটি কামড়ে পড়ে আছে জীবনের ইচ্ছেটাকে ধরে রেখে। বা এখনও তাকে কেটে ফেলা হয়নি এই যা। একদিন তো দেখি কয়েকজন গাছটার গোড়ার কাছে খুঁড়ে, বেশ কিছু শেকড় কেটে দেওয়ালের সীমারেখা তৈরি করছে। গাছটিকে যাওয়ার দিন অব্দি দেখেছি ভীষন রুক্ষ, সবকটা পাতা ঝরে পড়েছে, গোটা গাছটা কেমন প্রেতাত্মার মতো অতীতের কিছু স্মৃতি ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আর আজ অনেকদিন পর ফিরে এসে জানালা খুলে দেখি গোটা গাছ সবুজ পাতায় ভরে গেছে, সেই রুক্ষতা কোথায় হারিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ সজীব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ছোট সাদা ফুল আর কচি সবুজ পাতাদের নিয়ে সে আবার প্রচন্ড ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেখে মন খুশিতে ভরে গেল। :D
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×