আমার প্রিয় পোস্ট
- কবি ব্লগার ভাস্কর চৌধুরীর কবিতা: নৈশব্দের সেই স্বরধ্বনি - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২
- সূচীপত্র - মা দিবসের (২০০৯) জন্যে লিখা সকল ব্লগের লিঙ্ক - ~স্বপ্নজয়~
- ভাস্কর চৌধুরী- আপনাকেই বলছি - আরিয়ানা
- আমাদের ছোট্ট জনি এবং বর্তমান অবস্থা - ফয়সল নোই
- ডিসপোজেবল মানবীদের কথা- আরেকটি ছবি, আরেকবার ভুলে যাবার পালা!!! - মানবী
- ব্লগার বন্ধুদের জন্মদিনঃ ডাটা ব্যাংক - মিলটন
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ই-সংকলন : লেখা খুঁজে দিন, লেখা প্রকাশের অনুমতি দিন - টিম সেভেনটিন
- ব্লগারস ব্লাড ব্যাংকঃ ১০৮ ব্লগারের তথ্য - ফিউজিটিভ

অভিনন্দন ভাস্কর দা ( ব্লগার ভাস্কর চৌধূরী ) 
- মানব মানিক
- আপনারা পড়ছেন একজন ইমোশনাল মানুষের গল্প - মুহিব
- প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ / চিটি - চিটি (হামিদা রহমান)
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- আমার শব্দরা আমায় ডাকে - সুলতানা শিরীন সাজি
- আজ ব্লগার ভাস্কর চৌধুরী'র জন্মদিনঃ তুমি এলে এবং জয় করলে... - আমার আমি
- হে ভালবাসা, তোমার জন্য বড় অসমান এই পৃথিবী (চতুরভূজ) - চতুরভূজ
যোগেশ দত্তঃ জীবন যুদ্ধে পরাজিত এক মুক্তিযোদ্ধা
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সকাল ৮:৩১
মাথা গোজার ঠাই নাই। ভাইয়ের বাড়িতে থেকে দিন কাটছে। বয়সের ভারে কোন কাজও করতে পারেন না। কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের লীপুর গ্রামের যোগেশ দত্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের টানে ৩৩ বছর বয়সে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। ৭১ এর রণাঙ্গণের বীর যোগেশ দত্ত খুবই মানবেতর জীবন-যাপন করছেন আজ।
অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। চিকিৎসকরা বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে অপেন হার্ট সার্জারি করানোর জন্য। বর্তমানে তিনি একিউট অ্যানটারোসেপটাল এম আই ও ক্রমিক রেনাল ফেলিউর ও ক্রনিক এসট্রা কটিভ পাল সোনারী ডিজিজে ভোগছেন। একাত্তরে পাক বাহিনী বাংলাদেশে প্রবেশ করে কমলগঞ্জ উপজেলার চৈত্রঘাট এলাকায় এসে বিভিন্ন ঘর বাড়ির সাথে মুক্তিযোদ্ধা যোগেশের ঘর জ্বালিয়ে দেয়। তার নিজ গ্রামসহ এলাকায় চলে গণহত্যা। তিনি নিজ চোখে এগুলো দেখে আর ঠিক থাকতে পারেন নি। ঘৃণা ও প্রতিশোধের আগুণ জ্বলতে থাকে তার মনে। তাই নিজ মাতৃভূমি ও নিজ মাতৃভূমির সন্তানদের পাক বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করার জন্য সিদ্ধান্ত নেন মুক্তিযোদ্ধে অংশ নেওয়ার।
পাক বাহিনীর হাত থেকে প্রাণে রক্ষার জন্য দেশ ছেড়ে যাওয়া ভারতগামী জনতার সাথে তিনিও চলে যান সীমান্তের ওপারে। শরনার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়ে নামলেখান মুক্তিযোদ্ধা তালিকায়। ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুর রহমানের নেতৃত্বে ভারতের কুমার ঘাটে ট্রেনিং নেন তিনি। ট্রেনিং শেষে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে যুদ্ধ করেন মুন্সিবাজার এলাকায়। তিনি তার যুদ্ধকালীন স্মৃতি চারণ করে বলেন, মুন্সিবাজার এলাকায় পাক বাহিনীর সাথে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল দীর্ঘদিন। যুদ্ধে পাক বাহিনীর বন্দুকের গুলি এসে লেগেছিল আমার বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে। তবুও যুদ্ধের ময়দান থেকে পিছপা হয়নি আমি। মাতৃভূমিকে স্বাধীন করেই ঘরে ফিরেছিলাম। যুদ্ধে ১৫ জন পাকসেনা নিহত হয়েছিলো।
দীর্ঘ নয়মাসের যুদ্ধে তার সহযুদ্ধারা ছিলেন, নজিব আলী, শিশির মিয়া, আব্দুল সোবহানসহ আরো অনেকেই। যুদ্ধ পরবর্তী মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ক্যাপ্টেন এনামের নিকট অস্ত্র জমা দিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। লেখাপড়া জানা না থাকায় জীবন রার্থে বেছে নেন কৃষি কাজ। নিজের জমি ও অন্যর জমি বর্গাচাষ করে চলতে থাকে সংসার। অভাবের সংসারে সুখ না থাকলেও দুবেলা পেট ভরে দু’মুঠো ভাত ছিল। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ পায়ের আঙ্গুলের যন্ত্রণা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসার জন্য ভারত যেতে হয় তাকে। জমানো কোনো টাকা ছিলো না। তাই নিজের কৃষি জমি বিক্রি করে অর্থের যোগার করেন। ৫ সন্তানের জনক মুক্তিযোদ্ধ যোগেশ দত্ত তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে দিতে বিক্রি করেছেন, জীবনের শেষ সম্বল বসত ভিটাও। আজ তার মাথা গোজার কোনো ঠাই নেই!
বয়সের ভারে জীবিকা নির্বাহেরও কোন পথ নেই। সম্প্রতি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি আজ মৃত্যুর মুখোমুখি। চিকিৎসকরা বলেছেন জরুরি ভিত্তিতে অপেন হার্ট সার্জারি করানোর জন্য, আর সেজন্য প্রয়োজন ২ ল টাকা। মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ দত্ত বলেন, ঠিকমতো দুবেলা অন্নের জোগারই করতে পারছি না, চিকিৎসার দু ল টাকা জোগার করব কোথা থেকে। যুদ্ধের সময় কোন কিছু পাওয়ার আশায় যুদ্ধ না করলেও, স্বাধীন দেশে চিকিৎসার অভাবে মরতে হবে মুক্তিযোদ্ধাদের একথা কখনও ভাবিনি। দেশ স্বাধীন করা এই মুক্তিযোদ্ধা তার জীবন কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে দুচোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৩৬ বছরে চাওয়া পাওয়ার কোন হিসাব করিনি। নয় মাস যুদ্ধ করে একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছিলাম, বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশ নিয়েছিলো। তিনি বলেন, জীবনের চেয়ে বড় পাওনা আর কি হতে পারে।
৭১এর পাক বাহিনীর নিকট হার না মানা বীর মুক্তিযোদ্ধা আজ হার মেনেছেন দুরারোগ্য ব্যাধির নিকট। ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধে জয়ী হলেও আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জীবন যুদ্ধে পরাজিত। বর্তমানে প্রতিদিন উর্ধ্বমুখী দ্রব্যমূল্যের বাজারে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা ৫শ টাকায় অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটছে তার। ভূমিহীন এই গরীব মুক্তিযোদ্ধার চোখে ও মুখে আজ শুধু অসহায়ত্বের ছাপ। নিজ হাতে স্বাধীন করা দেশে আরো কিছুদিন বেঁচে থাকার আকুতি।
বর্তমানে ৭০ বছর বয়সের মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ দত্ত অশ্রুসিক্ত নয়নে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সেনাপ্রধানসহ সমাজের হßদয়বান ও দানশীল ব্যক্তিত্বের নিকট তাকে একটু সাহায্যের জন্য আকুল আবেদন জানান। জাতিকে স্বাধীন দেশ উপহার দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ দত্ত সবার একটু সাহায্য সহযোগিতা পেলে সুস্থ হয়ে উঠবেন দুরারাগ্যো ব্যধি থেকে। জাতিকে লাল সবুজের পতাকা এনে দেওয়া এই মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং- ০৫০৪০৩০০৪১।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:০৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মেহরীন শারমিন বলেছেন:
মন খারাপ হয়ে গেল।
ইমন০০৭ বলেছেন:
ভাস্কর দা,এই দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের কোন দাম নেই কি হবে তাদের কথা লিখে.......
সাইমুম বলেছেন:
৫।
মোসতাকিম রাহী বলেছেন:
প্রবাসী সব ব্লগারদের অনুরোধ করছি, এই মহান মানুষটির সাহায্যে এগিয়ে আসুন। বাংলাদেশি টাকায় দু'হাজার করে ১০০জন ব্লগার যদি সাহায্য করেন, দু'লাখটাকার ব্যবস্থা হয়ে যায়। ভাস্করদা আগের একটি পোস্টে অ্যাকাউন্ট নং প্রকাশ করেছেন। অই অ্যাকাউন্ট নং -এ দয়া করে সাহায্য পাঠান।
ঠোটকাটা ব্লগার বলেছেন:
ভাষ্কর,এই ভদ্রলোককে সাহায্য করতে হলে কিভাবে করতে হবে,কোন আইডিয়া দেবেন?আমাকে একটি মেইল করলে কৃতজ্ঞ থাকবো ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















মুক্তিযোদ্ধাদের কথা আর বলেই কি লাভ!
দেখছেন না রাজাকারদের গলাবাজি। যেনো তারাই দেশটা স্বাধীন করেছে।
হায়রে দেশ।
৫