somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অথিতি পাখির কলরবে মুখরিত হাওর

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এশিয়ার অন্যতম বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার হাকালুকি হাওর ও বাইক্কা বিলে শীতের সুচনাতেই অতিথি পাখীরা আসতে শুরু করেছে। অতিথি পাখীর আগমনে দেশ বিদেশ থেকে পর্যটকদের আনাগুনা বেড়েই চলছে। সরকার এসব হাওরাঞ্চলে অতিথি পাখীর অভয়াশ্রম নিশ্চিত করন ও পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষনে বাস্তবমুখি পদপে গহন করায় আরেকটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

গত শীত মৌসুমে প্রায় শতাধিক প্রজাতির প্রায় ৮০/৯০ হাজার পাখীর আগমন ঘটে এই অভয়াশ্রমে। এবার শীতের শুরুতে আগত পাখির সংখ্যা রয়েছে প্রায় লক্ষ লক্ষ। এখনও পাখির আগমন অব্যাহত রয়েছে। বিগত সময়গুলোতে রাজনৈতিক ছত্রচছায়ায় উচ্চাবিলাসী সৌখিন শিকারিদের কারনে পাখিদের নির্বিগ্ন অভয়াশ্রম আতংকে পরিনত হয়। পাশাপাশি এখনও ভিআইপি শিখারিদের লোলুপ দৃর্ষ্টি অথিতি পাখিদের উপর থাকায় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ নিয়ে পরিবেশবাদী ও সাধারণ নাগরিকদের ক্ষোভ ভিআইপি শিখারিদের উপর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, আগত অতিথি পাখিদের মধ্যে রয়েছে মধ্য এশিয়া থেকে আগত ভূতি হাঁস, গুটি ঈগল, সাইবেরিয়া থেকে আগত গিরিয়া হাঁস আর ল্যাঞ্জা হাঁস। এছাড়াও এসেছে পৃথিবীব্যাপি বিলুপ্ত পাখি পালাসি কুড়া ঈগল। আরোও রয়েছে বালি হাঁস, রাজ সরালি, পান ভুলানি, কাস্তেচড়া, পান কৌরি, রাঙ্গাবক, বেগুনি কালেম ও মেটে মাথা টিটি প্রভৃতি পাখি। বর্তমানে পৃথিবী থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে মেটে রাজহাঁস, গয়াল(সাপপাখী) ও বড়গুটি ঈগল। বিলুপ্ত প্রায় ৩ প্রজাতির পাখী শ্রীমঙ্গলের বাইক্কাবিলে রয়েছে। হাইল হাওরে মাছ ও পাখী ছাড়া জলজ প্রাণীর মধ্যে কচ্ছপ, উদবিড়াল, মেছোবাঘ, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুকসহ জলজ ফুল শাপলা, পাম, রকশা, প্রকৃতি প্রেমিকদের দৃষ্টি আকর্ষন করে। প্রতি বছর শীত মৌসুমে সাবেক সোভিয়েত রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত শীতপ্রধান দেশগুলো, সাইবেরিয়া, উত্তর মেরু, হিমালয় অঞ্চল প্রভৃতি এলাকায় শীতের তীব্রতা শুরু হওয়ার আগে প্রায় আড়াই শ’ প্রজাতির লাখো কোটি পাখি দেশান্তর হয়ে এখন আশ্রয় নিয়েছে বড়লেখার হাকালুকি হাওর ও শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলে।


বাদামি রং শরীর আর কালচে অথবা সাদা-কালো পাখা বিশিষ্ট অতিথিদের কলতানে মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্বের বৃহত্তম হাওর মৌলভীবাজার জেলার হাইল হাওরের বাইক্কাবিল ও হাকালুকি। বাদামি কালো রঙের প্রাধান্যের বাইরে আরো আছে সরালি, কালোকুট, গ্যাডওয়াল, পিনটাইন, নরদাম সুবেলার, কমন পোচার্ড এমনকি বিলুপ্ত প্রায় প্যালাস ফিস ঈগল (বুলুয়া)। এই অতিথিরা এখন বাইক্কাবিল ও হাকালুকিসহ মৌলভীবাজারের ছোট-বড় জলাশয়ের লতাগুল্মের আড্ডাগুলো ঘিরে অহরহ জটলা পাকাচ্ছে। সারাক্ষণ খাবার নিয়ে তাদের ঝগড়া, খুনসুটি, ডুব-সাঁতার, কলকাকলি, কখনো বা অহেতুক জটলা আর ডানা ঝাপটানো বিরামহীন এক নান্দনিক আবহের সৃষ্টি করে চলেছে হাওরের প্রকৃতিজুড়ে। শীতের শেষে গরমের শুরুতে অতিথি পাখীরা ফিরে যায় তাদের আবাস ভুমিতে। এদের অনেকে এদেশের আবহাওয়া ও নিকের আশ্রয় স্থলকে স্থায়ী আবাস করেছে বলে পাখী বিশেষজ্ঞরা জানান।

এখানে তারা উষ্ণতার পাশাপাশি পায় পর্যাপ্ত খাবার আর নিরাপদ আশ্রয়। সময়ের হিসাব মতে দেখা গেছে, এসব অতিথি পাখির আগমন বছরের আগষ্ট-অক্টোবর, নভেম্বর-জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল এই তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পশ্চিম এশিয়া ও অষ্ট্রেলিয়ান আকাশ পথ ধরে এদেশে পাড়ি জমায় তারা। তবে এদের অধিকাংশই আসে হিমালয়ের পার্বত্য এলাকা থেকে। প্রতি বছর শীতের শেষে এরা আবার চলে যায়। কিন্তু সবাই যেতে পারে না। প্রচন্ড বরফ পড়া শীতের প্রকোপ থেকে জীবন বাঁচানোর তাগিদে এদেশে এসে এদের অনেককেই সাধের জীবন ত্যাগ করতে হয় মাংসলোভী শিকারির গুলি, জাল আর বিষটোপের মুখে।

সিলেট বিভাগের শ্রীমঙ্গলের প্রসিদ্ধ হাইল-হাওরে ও বড়লেখার হাকালুকি হাওরে প্রতি বছরের শীতের শুরু থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখির আগমন ঘটে। বহুল পরিচিত বাইক্কা বিল মৎস্য অভয়াশ্রমের হাইল হাওর পর্যবেনের জন্য এ টাওয়ার নির্মাণ করেছে মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন এবং ইউএসএআইডি’র আর্থিক সহায়তাপুষ্ট ম্যাচ্‌ প্রকল্প (ম্যানেজমেন্ট অব একোয়াটিক ইকোসিস্টেম থ্রু কম্যুনিটি হাজবেন্ড্রী)। হাইল হাওরের জলাভূমি সম্পদ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কর্মপরিকল্পনায় গৃহীত কার্যক্রমের অধীনে পর্যটক ও দর্শনার্থীর জন্য নির্মিত পর্যবেক্ষণ দ্বিতল বিশিষ্ট এ টাওয়ার থেকে দুরবীন ও বাইনোকুলার দিয়ে পাখি এবং বিশাল বিস্তৃত হাইল হাওরের সৌন্দর্যøপুর্ণ জলাভুমি পর্যবেক্ষন করা যায়। পর্যটকদের জানার জন্য টাওয়ারের বিভিন্ন তলায় রয়েছে পাখি ও মাছের ছবিসহ পরিচিতি।

এদিকে পরিবেশ অধিফতর সুত্র জানিয়েছে, বাইক্কা বিলের ন্যায় সরকার হাকালুকি হাওরের দহবিল, হাল্কা-জল্কা, হারামডিঙা, নাগোয়া-লবিরই ও চাতলা বিলকে অতিথি পাখিদের জন্য ইতিমধ্যে অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে। অভয়াশ্রম গুলোতে পরিবেশ বান্দব পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষে সরকারের নানা ঘোষনা ও আইন অমান্য কারীদের শাস্তির কঠোর হুসিয়ারি রয়েছে। এ ল্ক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে চাতলা ও দহবিলে হিজল, করচ, বরুন ও মুর্তাসহ জলাভুমির উপযোগী বিভিন্ন উদি্‌ভদের ডাল পোঁতা হয়েছে। পরিবেশ অধিদফতরের বন্যপ্রাণী বিষয়ক কর্মকর্তা বশীর আহমদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বাকি তিনটি বিলে পাকা খুঁটি বসিয়ে তার ওপর অতিথি পাখির জন্য কৃত্রিম বাসস্থান নির্মাণ করা হবে।


বাইক্কা বিলে পাখী দেখার জন্য প্রতি দিন প্রচুর পর্যটকদের আগমন ঘটতে শুরু করেছে। টাওয়ার নির্মানের ফলে খুব সহজে বিশাল হাওরের পাখী দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ যদি নৌকা দিয়ে পাখীর খুব কাছাকাছি থেকে দেখতে চায়,সে ব্যবস্থাও আছে। নৌকার জন্য ঘন্টা হিসাবে ভাড়া নেওয়া যায়। বাইক্কা বিল পাখী আর মাছের অভয়াশ্রম হলেও হাওর জুড়ে রয়েছে শাপলা ফুলের বাহারী দৃশ্য যা পর্যটকদের দেয় অকৃত্রিম প্রাকৃতিক ছোঁয়া।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:০২
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×