এখন শুধুই স্মৃতির অকপটে আঁক আল্পনা ভাসে চোখের কোণে। নির্ভীতের কি এক বিষন্ন জ্বালা বুকের পাজড়ে প্রায় নিস্তব্দ কিন্তু, আর্তনাদ প্রবাহমান। তবু। কোনো, কারণ নেই, মিছেমিছিই, আমার খালি মনে হয়, এমন অনেকদিন গেছে আমি ভেবে কূলকিনারা করতে পারিনি। শুধু মনে হতে থাকে, সূর্যের তীব্রতার সঙ্গে, এমনকি হোঁচট খাওয়ার সময়, যেন মনে হওয়াটা কোনো পাপ নয়, বিরাট পুণ্যি, মনে হলেই লাভ, জীবনের সার্থকতা, মনে না হলেই যেন সবকিছু অলৌকিক হয়ে যাবে, আমার কোনো উপায় থাকবে না। গলির পথ ধরে ঘরে ফেরা অসম্ভব হবে। দ্রুত বেড়ে যাবে চুলের খুশকি, চুলে বেঁধে যাবে জটলা, জটলা বাধাঁনো চুল নিয়ে চলতে হবে রাজপথে। মরে যাবে নখের সৌন্দর্য, বুঝি অর্থহীন হয়ে পড়বে এ স্ট্রাগল, স্বার্থপরের মতো দ্রুত বদলে যাওয়া।
সত্যি? শহরের এক্কেবারে প্রান্তে, যেখানে গ্রামের কেবল সূচনা সীমানা, শহর আর গ্রামের মধ্যমণি একটা পুরনো মাঠ, শিশির-দগ্ধতা নিয়ে ঘাসেরা বেঁচে রয়েছে, ইতিহাসের কালের সাক্ষী মসজিদ, মন্দির, গীর্জা আর প্যাগোডা, আর বিরাট সে অঞ্চল। ভূগোলের সবচেয়ে উজ্জ্বল সেই স্বর্ণখোচিত মাটি, সেখানে সে বাড়ি করে আছে বহুকাল।
আচ্ছা সে কি একলা থাকে? একাই কি তার বাস। মানে নিভৃতবাস। তা কি হয়? একালে পৃথিবী কত নির্মম হয়েছে···। একাকী থাকা যায়। না। না। মানুষের মৃত্যুর পেছনে এখনো মানুষই দায়ী, আত্নহনন কি শ্রেয়, না, হতে পারেনা। ওখানে বাঘ-টাঘ আসলে কিচ্ছু নেই, তার ধারণা, মনের সাথে যুদ্ধ করে একা থাকা যায় কিন্তু·····।
আরো মনে হয়, সে এমন এক নৃত্যের মুদ্রা জানে, আমি তার খোঁজ পাইনি কোনো পুস্পে, সে দাঁড়িয়ে আছে, কোনোদিন আমার পা পড়েনি এমন এক নিস্ফলা আঙিনায়, তবে কে জেনেছে তার নিভৃতবাসের গল্প, তার দুধফর্সা হাতের ইশারা; সে জনকে আমি প্রতিদ্বন্দ্বী মানি, তার সব রাশিফল বৃথা হোক। যেমন আমি গেছি, অবশ্য আমার এখনো যাওয়া হয়নি পুরোপুরি, যাত্রার শেষ পথে আছি। সে আমার ঠিক এক মুহূর্ত আগে পৌঁছে যাবে ····; আমি তাকে আশিস করছি, অবশ্য এরই মধ্যে আমি চাইব সেই দুধফর্সা হাতের ইশারা, নিভৃতবাসের গল্প যদি সে জন ভুলে যায়। চিরতরে। চিরদিনের জন্য। আর কখনো যদি তার মনে না পড়ে শহরের
শেষ বাড়িটি'র কথা। সৃষ্টিকর্তা তাকে রক্ষা করুন। কোনদিন হয়তো ওই বাড়িতে আমার যাওয়া হবে কিনা। আমার তাও মনে হয় না, কেন মনে হয় না কে জানে। আমি তবে রহস্য ভালোবাসি। রহস্যবিদ। যেন ও বাড়িতে গেলে সব চমকের অবসান ঘটবে, তার মুখোমুখি হলে বুঝি থেমে যাবে চেনা নদীটির চলাচল, ফুসফুসে হাওয়া থাকবে না, এমন মনে হয়, দেখা হলেই সব কিছু বিলীন হবে নদীর মতো।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


