somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুখ দুঃখের ইঞ্জিন............../ভাস্কর চৌধুরী

২১ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(২য় পর্ব)

(উৎসর্গ- সেই মেয়েটিকে··· যাকে আজ খুববেশী মনে পড়ছে·············!!!)

চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে ফিরছি। পাহাড়ীকা এক্সপ্রেস। যথারীতি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে হয়েছে। সিএনজিতে করে সময়মতই স্টেশনে পৌছলাম। তারপরও জ্যামের কথা নাইবা বললাম······! বিদায় চট্টগ্রাম। স্লো ইমোশন নিয়ে ট্রেন চলছে। ঝিক টিক, ঝিক টিক·······!

আসলে মন ভালো থাকলে যেকোন জার্নিতে খুব মজা হয়। সেদিন মনটা এক্সিলেন্ট ভালো ছিল বটে। ও··হো···পাশের যাত্রীর সাথে পরিচয় হয়নি। ইসকিউজ মি বলতেই········ মিঃ সাইদুল হক। চট্টগ্রামস্থ একটেল কোম্পানীতে আছেন। আলাপ আলোচনা জমে উঠছে। ফেনী। ট্রেন থেকে ফেনী শহরকে একপলক দেখে নিলাম। আবার চলছে ট্রেন। একটু ঘুম ঘুম। কখন যে ঘুম চলে আসলো টেরই পেলাম না। ইতিমধ্যে লাকসাম স্টেশনও পার হয়ে গেছে। রাতে তেমন একটা ঘুম হয়নি বলে ঘুমটা একটু বেশী চেপে বসেছিল। তাই ঘুমের রাজ্যে বিক্ষিপ্ত স্বপ্নও দেখেছিলাম।

হঠাৎ! হাঠাৎ চমকে উঠলাম! দেখি একটা মেয়ে আমার পা চেপে বসে আছে। কিছুই ভেবে উঠতে পারলাম না। কি এক বিব্রতকর অবস্থা ভাবাই যায় না।
মেয়েটিকে বললাম-কি আশ্চর্য! পা ছা-ড়ো ? আবার বললাম প্লিজ পা-ছাড়ো ? কিন্তু কে শোনে কার কথা! মায়াবী একটি চেহারা নিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। লজ্জার বিন্দুমাত্র ভাবটি তার মদ্যে নেই।
কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। মানিব্যাগটি বের করলাম। ভাবলাম হয়তোবা ভিক্ষাবৃত্তির একটা নমুনা। কি আর করা ৫টাকার একটি নোট বাড়িয়ে দিলাম····!
হঠাৎ····! আমার পাশে বসা সেই লোকটি এমন একটি মন্তব্য করলেন······! ভাবতেই পারিনি।
বললেন-পা ধরার আর জায়গা পেলো না! শেষে কিনা·····················!
মন্তব্যটা শুনে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো।

বোধহয় লজ্জার শেষ এবং প্রথমাংশের রচয়িত হয়ে গেলাম। বয়সের মাপকাঠিতে এ সমাজের কাছে মেয়েটি বরই বেমানান। বয়সটা ১৪/১৫ তে পারা দিয়েছে হয়তো····! রাস্তার মেয়েদের একটা নাম আছে "ছেমরি"! সবাই হয়তো মেয়েটিকে ছেমরি নামে ডাকে! পুরনো একটা সেলোয়ার কামিজ গায়ে জড়িয়ে আছে। কিছুটা ছেড়া!
যাক ৫টাকার নোটটি হাতে নিয়েছে। হয়তোবা খুব একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ থেকে বেচেঁ গেলাম! এ যাত্রায় হয়তো বাচাঁ গেলো বলে·······একটা দীর্ঘনিশ্বাস নিলাম।
দেখলাম মেয়েটির চোখ দুটো বেয়ে কিছুটা অশ্রশিক্ত হচ্ছে!
হয়তোবা দুঃখের ঘরে বসবাস ;
মেয়েটি উঠে দাড়ালো।
পা ধরার কারণটা জিজ্ঞাস করলাম?
কিন্তু জবাববিহীন!

জানালার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ভাবলাম মেয়েটি হয়তো চলে যাবে। হঠাৎ মেয়েটি ইশারা ইঙ্গিতে কি জানি বোঝাতে চেষ্টা করলো! কিছুই বুঝলাম না।
পাশের লোকটি বলে উঠলো-মেয়েটি বোধহয় বোবা!
এ ধারণাটাই করে বসলাম আমি। মেয়েটি আবার চেষ্টা করলো কিছু বোঝাতে। কিন্তু····!
মায়াবী একটি চেহারার চাহনী নিয়ে মেয়েটি চলে গেলো ট্রেনের আরেকটি কামরায়·····!
মনের রাজ্যে ভাবলাম মেয়েটি নির্বাক। বাকশক্তি হয়তো হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু কি বলতে চেয়েছে! কি ছিল তার অব্যাক্ত কথাগুলো! কিসের মায়া নিয়ে এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল!
শুধুই কি ৫টাকার একটি নোটের জন্য ; নাকি·········!
না······হ····!
হয়তোবা·····!

তার অব্যক্ত কথাগুলো এখনো আমাকে ভাবায়। হয়তোবা মেয়েটির সাথে আমার আবার দেখা হবে। দেখা হতে পারে। বাকশক্তিহীন সেই মেয়েটি কি আবার বলতে পারবে·····?
মেয়েটির কথা আজ খুব মনে পড়ছে। মনে পড়ছে সেই ট্রেনের জার্নি! মনে পড়ছে সেই এম·সাইদুল হক সাহেবের কথা। ট্রেনের ইঞ্জিনের মত মানুষের ইঞ্জিনটা খুব দ্রুত চলে হয়েতা ·····! সুখ দুঃখের এই পৃথিবীতে সবকিছু কেমন যেনো·····কিছুটা গরমেলে····কিছুটা ·····!


সুখ দুঃখের ইঞ্জিন প্রথম পর্ব

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:১৪
৪৬টি মন্তব্য ৪৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×