বাংলাদেশের কালীপূজায় কৃষ্ণানন্দের মহা অবদান। কৃষ্ণানন্দ আগম বাগীশ ও মহাপ্রভু একই সময়ে নবদ্বীপে জন্মগ্রহন করেছিলেন। কৃষ্ণানন্দের মহা আক্ষেপ ঘটে অথবা যন্ত্রে মায়ের পূজা হয়। মা কালীর কোন সর্বজন প্রাপ্য মূর্তি নেই। কৃষ্ণানন্দ এক অমাবস্যার রাতে শ্বশানে তাঁর পূজার আসনে ধ্যানস্থ। হঠাৎ দৈববানী, কৃষ্ণানন্দ! আমার পূজা তোমার দ্বারাই এই বঙ্গে প্রচারিত হবে। কোন মূর্ততে? কাল সকালেই মানবদেহ দিয়ে তোমাকে দেখিয়ে দিব। প্রথম যে নারীমূর্তি তোমার চোখে পড়বে যে রুপে, যে ভঙ্গিতে সেইটিই হবে আমার প্রতিমা কালীমূর্তি। সাধনার রাত ভোর হল। কৃষ্ণানন্দ শ্মশান থেকে বেরিয়ে গঙ্গার দিকে এগুচ্ছেন নিত্যস্নানে। একটু একটু ভোরের আলো হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ল, অদূরে এক শ্যামাঙ্গিনী গোপকুমারী অপরূপ ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে আছে। তার দক্ষিণ পদটি কুটিরের অনুচ্চ বারান্দার ওপর। বামপদ ভূতলে। দক্ষিণ করতলে একতাল গোময়। এমনভাবে উঁচু করে ধরে আছে যেন ভরাভয় মুদ্রা। কর্মচঞ্চল বামহাত বেড়ার গায়ে মাটির প্রলেপ লাগাতে ব্যস্ত। কৃষ্ণবর্ণের কেশরাশি নিটোল দেহের চারদিকে আলুলায়িত। পরিধানে ক্ষুদ্র অপরিসর একটি শাড়ি। আচার্য কৃষ্ণানন্দকে হঠাৎ সামনে দেখে লজ্জায় জিভ কেটে সেই শ্যামা কুমারী ঘুরে দাঁড়াল। কৃষ্ণানন্দের মনে পড়ল গতরাতের দৈববাণী। প্রত্যুষের পথম রমনীই তোমার ইষ্টমূর্তি। এই তো আমার মায়ের মূর্তি প্রতিমা। কৃষ্ণানন্দ এই গঠনটিকে শাস্ত্র সম্মত করলেন। তৈরি করলেন তন্ত্র, তন্ত্রসার, শ্রী তত্ত্ববোধিনী। এই তন্ত্র ধরেই কালী পূজা বাংলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ল।
শ্রী শ্রী চন্ডীতে বলা হয়েছে, 'যা দেবী সর্বভূতেষূ চেতনেত্যেভিধীয়তে' সকল অনুপরমানুতে তিনি চেতন রূপে অবস্থান করছেন। আমরা প্রতিনিয়ত শক্তির সৃষ্টি লীলা দেখছি আবার সৃষ্টির মধ্যে ধ্বংস লীলাও প্রত্যক্ষ করছি। বীজ ধ্বংস হয়ে বৃক্ষে পরিণত হয়, আবার বৃক্ষ ধ্বংস হয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি হয়। এই সৃষ্টি প্রক্রিয়া আমাদের মনে মাতৃভাবনা চিন্তার উন্মেষ ঘটায়। কালী কাঠামোর তাত্ত্বিক রহস্য যদি আমরা অনুধাবন করতে পারি তাহলে জীবন চালানোর প্রতিবন্ধক সমূহকে বিতাড়িত করতে পারি। অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে মাতৃকাঠামোর বিভিন্ন দকি আলোচনার চেষ্ট করছি।
মা কালীর ধ্যানে বলা হচ্ছে,
ওঁ শবারূঢ়াং মহাভীমাং ঘোরদংষ্ট্রাং বরপ্রদাম।
হাস্যযুক্তাং ত্রিনেত্রাঞ্চ কপাল কর্তৃকাকরাম
মুক্ত কেশীং ললজিহ্বাং পিবন্তি রুবিরং মুহুঃ
চতুর্বাহুযুতাং দেবীং বরাভয়করাং স্নরেৎ।
[শবের উপরে স্থিত মহাভীমা ভীষণ দশনা বর প্রদানকারী, হাস্যযুক্তা, ত্রিনেত্রা, মুক্তকেশ যুক্তা, লোলায়িত জিহ্বা মনে হয় যেন রুধির পান করছেন; চার বাহুযুক্তা দেবী বর অভয় প্রদান করছেন, সেই দেবীকে নিত্য স্মরণ করি]
দেবীর গায়ের রং কালোঃ
সাধকভক্ত কমলাকান্ত বলেছেন,
'শ্যামা মাকি আমার কালরে।
কালরূপে দিগম্বরী হৃদি পব্ম করে আলোরে,
লোকে বলে কালী কাল, আমার মন ত বলেনা কাল রে।
কখনও শ্বেত কখনও পীত কখনও নীল লোহিত রে
(আমি) আগে নাহি জানি কেমন জননী, ভাবিয়ে জনম গেলরে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



