somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রলয়ের হাতছানি-৫ম কিস্তি

২৫ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম থেকে পড়তে ক্লিক করুন

পূর্বের অংশ পড়তে ক্লিক করুন

পূর্বে যা ঘটেছেঃ রাশিয়ান এক টপ সিক্রেট রিসার্চ ফ্যাসিলিটিতে দশ বছরের গবেষণা সফলের পর ডঃ মিখাইল দব্রোভলস্কির আত্নহত্যা, তবে তিনি সেটাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখাতে সফল হয়েছিলেন।তার মৃত্যুর পর তার ডায়রিগুলো তার ইচ্ছানুযায়ী তার এক বন্ধুর কাছে পাঠানোর আগে ক্রিপ্টোগ্রাফি বিভাগে চেক করা হয়। সব ঠিক দেখে সেগুলো তার গন্তব্যে যাওয়ার ক্লিয়ারেন্স পেয়ে যায়, তবে ক্রিপ্টোগ্রাফার দিমিত্রি মারকভ সেগুলোর এককপি নিজের কাছে রেখে দেয় অবসরে পড়ার জন্য, যা ক্রিপ্টোগ্রাফি বিভাগের এক ক্লিনার আইভানের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।ডায়রিগুলো অবশেষে ইংল্যান্ডের ডেভন কাউন্টির এক রাশিয়ান বংশদ্ভুত গ্রাম্য মহিলার হাতে এসে পৌঁছায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অতি গোপনীয় এক বিমানের নকশা সফলভাবে পাচার করতে সক্ষম হয় ওই বিমানের প্রজেক্টের চিফ সুপারভাইজার।

১ জুলাই, ২৫,রাদে কন্দিকা রোড,ভেতেরনিক,সার্বিয়া

রাত ৩টা। সামনের রাস্তাটা দিয়ে একটা - দুটো গাড়ি যাচ্ছে। আজকে একটু ঠান্ডা পড়েছে-তাপমাত্রা মোটামুটি ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নিজের ছোট্ট বেডরুমের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে ভ্লাদিমির আন্তনেজ। রাতের হাওয়া মাঝে মাঝে একটু পরশ বুলিয়ে যাচ্ছে। রাস্তার বাতিগুলো জ্বলছে- সবকিছু মিলিয়ে একটা শান্ত কোমল পরিবেশ। রাস্তার ওপাড়ের গাড়ি সারানোর গ্যারেজটায় বুড়ো পেত্রভ এখনো কাজ করছে,তার ঠুংঠাং শোনা যাচ্ছে। ভবঘুরে রুশেভ একটা লাইটপোস্টের নিচে বসে মদ খাচ্ছে আর ঝিমোচ্ছে। এরকম রাত জাগা আন্তনেভের এর জন্য নতুন কিছু নয়। প্রায়ই তাকে রাতে জেগে থাকতে হয়, দুঃস্বপ্নগুলোকে তাড়াতে।
আন্তনেভ মোটামুটি চৌত্রিশ বছর বয়সের যুবক, পাক্কা ছয়ফুট চার ইঞ্চি হাইট, ফরসা,নীল চোখ। হালকা চাপদাড়ি আছে তার। গত তিন বছর ধরে ভেতেরনিকে বাস করছে সে। কাজ করে স্থানীয় একটা পুরনো গাড়ির দোকানে, ম্যানেজার হিসেবে। বেতন যা পায় তাতে তার একার ভালোই চলে যায়।
তার ভেতেরনিকে আসার কাহিনী খুবই আজব। তিনবছর আগে তাকে রক্তাক্ত অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে দুজন লোক। তাদের চলন্ত গাড়ির সাথে হঠাৎ এসে পড়ে আন্তনেভ,ধাক্কাটা এড়ানো যায়নি। জ্ঞান ফেরার পর আন্তনেভ নিজের নামটা ছাড়া কিছুই মনে করতে পারছিল না, ডাক্তাররা ধরে নেয় এটা তার মাথার আঘাতের কারণে। তার সাথের কাগজপত্র দেখে পুলিশ বের করে যে সে উত্তরের সুবোটিকা থেকে চাকরির সন্ধানে এসেছে,বাবা মা কয়েকবছর আগে অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে,তারাই ছিল আন্তনেভের একমাত্র আত্নীয়। পুলিশ খুব বেশি খোঁজখবর করার গরজ দেখায়নি,ভেতেরনিকে তখন একটা বড় মাপের ডাকাতি হয়েছিল,সেই কেস সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছিল তারা। যাদের গাড়ির সাথে অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল তাদেরও তেমন কোন ঝামেলায় পড়তে হয়নি,আন্তনেভ বেঁচে গিয়েছিল বলে। তবে আন্তনেভ যে কাজের সন্ধানে এসেছিল সেটা ততদিনে আরেকজন নিয়ে নিয়েছে।আন্তনেভ তখন স্মৃতি হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ভাগ্যক্রমেই সে হাসপাতালে ইউজিন পেরেলমান নামে এক বুড়ো ভদ্রলোকের সাথে পরিচিত হয়, তাঁর পুরনো গাড়ি বেচাকেনার ব্যবসা আছে এবং তাঁর একজন ম্যানেজার দরকার। আন্তনেভকে তাঁর ভালো লেগে যায়, তিনি আন্তনেভকে বুঝিয়ে চাকরিটা দিয়ে দেন। আন্তনেভও আপত্তি করেনি। কারণ বেঁচে থাকতে হলে উপার্জন তো করতেই হবে।
গত তিনবছরে আন্তনেভ সেই বুড়ো ভদ্রলোক আর তাঁর স্ত্রীর অনেকটাই কাছে চলে এসেছে। তাদের কোন সন্তান নেই,তারা আন্তনেভকে নিজেদের ছেলের মতোই দেখেন, আন্তনেভও তাদের বাবা মার মতোই দেখে। মাঝে মাঝে তাঁর ইচ্ছা হয় একবার সুবোটিকা যাবে, নিজের শেকড়ের সন্ধানে, কিন্তু যাওয়া আর হয়ে ওঠে না। তার নিজের অতীত জীবন সম্পর্কে কিছুই মনে নেই,তার জন্য জীবন যেন গত তিনবছর আগে থেকেই শুরু হয়েছে। তাকে বুড়োবুড়ি মাঝে মাঝে তাদের বাড়িতে গিয়ে থাকতে বলে, কিন্তু আন্তনেভের একটু সংকোচ বোধ হয়,তাই সে এখনো এই ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টটাতেই থাকে।
তিনবছর ধরে সে বেশ ভালোই আছে, শুধু কিছু দুঃস্বপ্ন তার জীবনটাকে পুরোপুরি শান্ত হতে দেয়না। দুঃস্বপ্নগুলো সে যে প্রতি রাতেই দেখে তা না, তবে প্রতি তিন চারদিন পর পরই তাকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।
স্বপ্নগুলো আসে ঝাপসাভাবে। কখনো সে দেখে সে অনেক উঁচু বাড়ির ছাদে বসে আছে, সামনে বড় আকারের স্নাইপার রাইফেল। কখনো দেখে একটা অফিসের ভেতর দিয়ে সে হাঁটছে। তবে যে স্বপ্নগুলো তার নির্ঘুম রাতের কারণ সেগুলোতে সে দেখে যে সে মানুষ খুন করছে। কখনো লাশ টেনে নিয়ে ঝোপের ভেতর ঢুকাচ্ছে, কখনো স্নাইপার দিয়ে কারো মাথা ফুটো করে দিয়ে শান্তভাবে চলে যাচ্ছে। অনেক সময় সে দেখে তার সাথে কিছু মানুষ কথা বলছে। এরমধ্যে একটা বিশেষ স্বপ্ন হচ্ছে পুরোই অন্ধকার,শুধু সে কানে শুনতে পাচ্ছে
তার কানে কানে কেউ যেন বলছে,"তোমার নাম ভ্লাদিমির আন্তনেভ। ভাল থেকো বাছা।" ইউজিনকে সে কথা বলতেই সে হেসে উড়িয়ে দিয়েছে এই বলে যে আন্তনেভ সম্ভবত থ্রিলারের ভক্ত ছিল। আন্তনেভ তাই আর কারো সাথে তার স্বপ্নগুলোর কথা শেয়ার করে নি।
আন্তনেভ অবিবাহিত। বুড়ো ইউজিনের পাশের বাড়ির মেয়েটা তার প্রতি দুর্বল,এটা সে কিছুদিন আগে বুঝতে পেরেছে। আন্তনেভ গত তিনবছরে তার কিছু অস্বাভাবিক ক্ষমতা আবিষ্কার করেছে। সে অনেকগুলো ভাষা জানে। তাকে কেউ নজরে রাখলে সে সেটা ধরতে পারে। রাস্তাঘাটে চলতে থাকলে আশেপাশের মানুষের কাজকর্ম তার চোখ এড়ায় না। মেয়েটার সাথে এক দুবার কথা হয়েছে তার। সে খেয়াল করেছে মেয়েটা তাকে গভীরভাবে লক্ষ্য করে মাঝে মাঝে। তারও মেয়েটাকে ভালোই লাগে। মেয়েটা যথেষ্ট সুন্দরী, বয়স ছাব্বিশের মতো হবে। মেয়েটার পেছনে এক আধজনকে সে ঘুরতেও দেখেছে, কিন্তু মেয়েটা পাত্তা দেয় না তাদের। সে মনে মনে ভেবেছে সে সম্পর্কটা আগে বাড়াবে।
কিন্তু তার ভেতরে একটা দ্বিধাবোধ কাজ করে। নিজের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ জাগে তার মাঝে মাঝেই। স্বপ্নগুলো তাকে রাতে ঘুমোতে দেয় না। তার অস্বাভাবিক ক্ষমতাগুলো তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ আরো বাড়িয়ে দেয়।
কিন্তু আন্তনেভের ভেতরে আরেকটা স্বত্বা কাজ করে। সেটা তাকে নিজের বর্তমানকে মেনে নিয়ে জীবনযাপন করতে বলে, মেয়েটার সাথে সুখী জীবনের স্বপ্ন দেখায়। বিস্মৃত অতীতকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে বলে।

আজ আর ঘুম হবে না, বুঝতে পারছে আন্তনেভ। জানালার কাছ থেকে সরে এসে বিছানায় শুয়ে পাওলো কোয়েলহোর "দ্য ফিফথ মাউন্টেইন" বইটা পড়তে লাগলো। অর্ধেক পড়া হয়ে গেছে আগেই, বাকি অর্ধেক দোকানে যাবার আগে শেষ করবে বলে ঠিক করলো। বইটা বেশ ভালো লাগছে। আজ অনেক কাজ আছে তার। ইউজিন আর তার বউ রাশিয়াতে বেড়াতে যাবে। সেখানে তাদের আত্নীয় আছে। দুপুরে তাদের নিয়ে এয়ারপোর্টে যেতে হবে।

এদিকে অ্যালিসভিলে তখন রাত ২টার কিছু বেশি বাজে। অ্যানা মিয়োস্কি তখন ডঃ মিখাইলের ডায়রিগুলো পড়ছে। সে গত কয়েকদিন ধরে প্রতি রাতে ডায়রিগুলো পড়ে। মাঝে মাঝে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেও দেয়। সে তার আবেগকে কখনো ঠেকায় না, কারণ সে জানে এটা তাকে সন্দেহমুক্ত থাকতে সাহায্য করবে।
ডায়রিগুলো যে সম্পুর্ণ নজরের বাইরে আসেনি সেটা অ্যানা আন্দাজ করতে পেরেছিলো। ডায়রিগুলোর প্রতিটার কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় একটা করে অতি ক্ষুদ্র ক্যামেরা লাগানো আছে, এটা সে জানতে পেরেছে। ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স এ তার সংস্থার লোক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এসব গোপন ক্যামেরা বা গোয়েন্দাযন্ত্র লাগানোর কাজ যে উপ বিভাগ করে সেখানে তাদের লোক আছে। প্রতিটা ডায়রিতেই কিছু চিহ্ন দেয়া আছে যেগুলো অন্য কেউ বুঝবে না, স্বাভাবিক দাগ মনে করবে। কিন্তু অ্যানা সেটা বুঝতে পারে, কারণ এই চিহ্নগুলো দেয়ার ব্যাপারটাও প্ল্যান করা ছিল। তার চশমাতে অতি ক্ষুদ্র ক্যামেরা আছে,যেটা নিখুঁতভাবে ডায়রিগুলোর লেখার ছবি তুলে নিচ্ছে। ডায়রি তার কাছেই থাকবে, তথ্যগুলো চলে যাবে বহু দূরে।
নিখুঁত প্ল্যান, সবকিছু পরিকল্পনামতোই হচ্ছে। আর বেশি দেরি নেই। বদলার সময় এসে গেছে। অ্যানা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ডায়রি পড়তে লাগলো।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:০৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×