ফ্লোর থেকে বড় ভাইরা পাস করে চলে যাচ্ছেন। বিদায় দিতে হবে। আমাদের ওপর দায়িত্ব পড়ল অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য। অনুষ্ঠান সিরিয়াস কিছু না। ঘন্টা দুয়েক সবাইকে মাতিয়ে রাখার মত কিছু টুকটাক আয়োজন করা।
যারা বুয়েটের ছাত্র তারা জানে এই সব বিদায়ে কি হয়। অশ্লীলতা আর নিজের গোপন কথা ফাস করার আসল জায়গা হল ফ্লোর বিদায়ের অনুষ্ঠান। প্রথম হস্তমৈথুনের অনুভুতি থেকে শুরু করে প্রেম-নারী-চাকুরী-CGPA সব কিছু নিয়েই বিদায়ী ভাইদের প্রশ্ন করা যায় এবং তারা উত্তরও দেন।
সেইবার প্রথম আমরা, ১১৭ এর পোলাপাইন আয়োজনের দায়িত্ব পেলাম। এইসব অনুষ্ঠানে সব সময় একটা আইটেম থাকেই থাকে। ধরেন বক্সের উপর লেখা থাকে সবচে মোটাকে দিন , কেউ একজন কাউকে দেয়। মোটা ছেলেটা আবার কভার ছিড়লে পাওয়া যায় সবচে চিকনকে দিন এই রকম মেসেজ। আমাদের ইচ্ছে এই গেমটাই থাকবে। তবে সেটাকে অশ্লীল করতে হবে। মোটাকে দিন জাতীয় মেসেজের বদলে আমরা লিখলাম যাকে দেখে সমকামী মনে হয় বা যার সাথে রাত কাটাতে ইচ্ছে করে- এইসব হাবিজাবি। এরপরও মনে হল যথেষ্ট হচ্ছে না। আরো কিছু লাগবে। বড় কথা হলো সবার শেষে যে পাবে তার জন্য কি থাকবে?
সিদ্ধান্ত নেয়া হল যেই বাক্স পাবে তাকে একটা কন্ডম উপহার দেয়া হবে। আর সবার শেষে যে থাকবে তার জন্য থাকবে একটা কলা আর চারটা কন্ডম। তিনটা কন্ডম সে নিয়ে যেতে পারবে, আর একটাকে কলার গায়ে পড়িয়ে দিতে হবে। সবাই হাতে কলমে কন্ডমের ব্যবহার শিখবে। ফান করার সাথে সাথে শিক্ষাও হবে। হাজার হোক একটা প্রথম শ্রেনীর ইউনির ছাত্র আমরা। ফান করার সময়ও কিছু শিখতে এবং শিখাতে আগ্রহী।
সমস্যা হলো কন্ডম কিনতে কে যাবে? একজন আরেকজনকে ঠেলা শুরু করলাম। শেষ পর্যন্ত আমি আর আমার রূমমেট সুমন গেলাম কন্ডম কিনতে। নীলক্ষেতে একটা ফার্মেসির দোকানে গিয়ে সুমন বলল, কন্ডম আছে?
দোকানি বলল আছে।
তাকে অবাক করে দিয়ে আমরা বললাম, ত্রিশ প্যাকেট দেন।
এরপর আমরা অবাক হয়ে গেলাম কন্ডমের দাম শুনে। প্রতিটার দাম সাড়ে তিন টাকা করে ছিল। ( সেটা ২০০৫ এর কথা।) দোকান থেকে অনেক কিছু অবশ্য জানলাম- ডটেট আর নন ডটেড, ফ্লেভারড এইসব আরকি। দামের ভেরিয়েশন কেমন সেটাও জানলাম। প্যাকেটের ভিতর ম্যানুয়াল ছিল। রূমে এসে সবাই সেই ম্যানুয়াল মনযোগ দিয়ে পড়েছি। অনেক কিছু জানতে পেরেছিলাম সেই বার।
অনুষ্ঠান যে হিট হয়েছিল সেটা না বললেও চলে। সবার শেষে বাক্সটা পেয়েছিল আমাদের জুনিয়র একটা ছেলে। আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে অবলীলায় দক্ষতার সাথে সে কলার গায়ে কন্ডম পড়িয়ে দিয়েছিল।
সেইরাতেই আমরা একটা কন্ডম বেলুনের মত ফুলিয়েছিলাম। (দয়া করে জিজ্ঞেস করবেন না কিভাবে ফুলানো হয়েছিল।) সেটা নিয়ে রাত তিনটার দিকে সিনিয়র ভাইদের দরজায় ঝুলিয়ে দিয়ে এসেছিলাম। পরদিন ভোরে হাউকাউ। সিনিয়ররা আমাদের দিকে আঙ্গুল তুললেন। কিন্তু আমাদের যুক্তি গত রাতের অনুষ্ঠানে সবাইকে কন্ডম দেয়া হয়েছে গিফট- যে কেউ করতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




