সবার পছন্দের খেলোয়াড় ছিল। আমার পছন্দের খেলোয়াড় লিভারপুলের জেরার্ড, তাকে আদর করে আমরা গেরাড ডাকতাম। আমার ডাক নাম লিমন, এর সাথে জেরার্ড আর ল্যাওড়া মিশিয়ে আমার ডাক নাম হয়ে গিয়েছিল ল্যাওরার্ড। সুমনের নাম ছিল সুমনদিনহো... (নামেই বুঝা যায় সে কার ফ্যান)। আতিক ছিলো ল্যাম্পার্ডের ফ্যান। আর মারূফ কাকার। রূমে লম্বা বিতর্ক চলত জেরার্ড না ল্যাম্পার্ড কে সেরা সেটা নিয়ে। ফিফা গেম ত খেলতামই। গেমের কথা অন্য পর্বে লিখব।
যারা প্রচুর হিন্দী গান শুনে তারা এক পর্যায়ে হিন্দী গান গুনগুন করে গাওয়া শুরু করে। যে মেয়ে প্রচুর হিন্দী সিনেমা দেখে তার পোষাকেও চেঞ্জ চলে আসে। তেমনি ভাবেই আমরা এক পড়ন্ত বিকালে একটা ফুটবল কিনে মাঠে চলে আসলাম। কয়েকটা ১৫/১৬ বছরের ছেলের বিপক্ষে খেলা শুরু করলাম। গোলের পর গোল খাচ্ছি। একটা পর্যায়ে আবিস্কার করলাম, আমাদের প্রতিপক্ষের মূল লক্ষ্য দশ গোল দেয়া। আমরা সেদিন অবশ্য বহুকষ্টে দশ গোল ঠেকিয়েছিলাম।
এরপর নিয়মিত মাঠে যাই। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে দশ গোল না খাওয়ার চেষ্টা চালাই। মাঝে মাঝে দুই এক গোল দেই। আমি খেলি লেফট উইঙ্গে, মারূফ স্ট্রাইকার , সুমন মিডফিল্ডে আর আতিক ডিফেন্সে। পজিশন মানে আসলে খেলা শুরুর সময় যেখানে দাড়াই আর কি। খেলা একবার শুরু হলে সবাই বলের পিছেই দৌড়াইতাম। কালে ভদ্রে একটা-দুইটা লাথি মারার সুযোগ আসত। খেলা শেষে রূমে ফিরে একজন আরেকজনকে তুমুল তুলাধুনা করি। খেলতে পারোস না তুই মাঠে যাস ক্যান? তুই নিজে কি _লটা খেলোস যে আমাকে বলতে আসোস! পাচটা গোল ত খালি তোর ভুলে খাইছি... ইত্যাদি ইত্যাদি।
এক সময় খেলার মূল ব্যাপারটা আমরা ধরে ফেলি। বুট কিনি। জার্সি আর শর্টসও কেনা হয়। বুট পড়ে ফুটবলে প্রথম লাথি মারা আমার জীবনের স্মরনীয় মুহুর্তগুলোর একটা। ( ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে সমস্যা থাকায় আমি কিক নিতে পারতাম না। বুট পড়ে যেদিন কিক নিলাম, আমার মনে হয়েছিল- আমার অসম্পুর্ন পা ঠিক সেই মুহুর্তে পূর্নতা পেল)। হাড্ডা হাড্ডি লড়াই করতে শুরু করি। সবার ভিতর কমরেডশীপ গজিয়ে যায়। মাঝে মাঝেই জিতে ১১৭ তে ফিরে আসি।
আজকে পিছন ফিরে আমি বলতে পারি, এই যে মাঠে ফুটবল খেলতে যেতাম, সেটাই আমার বুয়েট লাইফের সেরা সঞ্চয়। খেলা শেষে রূমে ফিরে অনেকবার রূমমেট গুলারে গালি দিয়েছি, গালি খাইছিও। কিন্তু একটা কথা কুনোদিন তাদের বলি নাই- আজকে ব্লগের মাধ্যমে সেটা বলছি। আমি আসলে উইঙ্গে খেলতে পারতাম না। উইঙ্গার বলতে যা বুঝায় তার কিছুই আমি না। কিন্তু উইঙ্গার হওয়ার প্রতি আমার খুব দুর্বলতা কাজ করত। রূমমেটগুলা সেটা জানত। ওরা আমাকে অনেক কিছুই বলেছে, কিন্তু কোনদিন বলে নাই তুই আর উইঙ্গে খেলিস না। যা পারোস না সেইটা নিয়ে চেষ্টা করিস না। আমার দুর্বল জায়গাটায় আঘাত করে নাই। এই জন্য আমি তাদের কোনদিন ধন্যবাদ দেইনি, কৃতজ্ঞতাও জানাই নাই। আজকে জানাচ্ছি, thank u guys.
u ROCK!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




