somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্রিকেট ফাইনাল: ভারতের যৌন পল্লীতে অন্যরকম একদিন

০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বকাপ ফাইনালের লড়াই দেখতে ১২১ কোটি ভারতবাসীর সাথে সে দেশের যৌন কর্মীরাও শনিবার দুপুর থেকে টেলিভিশনের সামনে ভিড় জমিয়েছিল। ভারতের যৌন পল্লীগুলোতেও গতকাল খদ্দেরদের তেমন ভিড় ছিল না। যৌন কর্মীরাও ফাইনাল খেলা দেখার আগ্রহে ঝাঁপ ফেলে দিয়েছিল ঘরের। দু'একজন খদ্দের আসলেও যৌন কর্মীরা তাদের তাড়িয়ে দেয়। সকাল থেকেই ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের সবচেয়ে বড় যৌন পল্লী কলকাতার সোনাগাছীর যৌন কর্মী ও তাদের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। এ দিনটি ছিল তাদের জন্য একটি ব্যতিক্রমী দিন। খেলা শুরু হওয়ার অনেক আগেই ছেলেমেয়েদের নিয়ে যৌন কর্মীরা টেলিভিশনের সামনে বসে পড়ে। খেলা শুরু হওয়ার আগেই মাঝে মধ্যে সিঁটি বাজিয়ে, শীষ দিয়ে, উলু ধ্বনি দিয়ে মাতিয়ে তোলে তাদের আখড়া। সাথে যোগ দেয় তাদের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরাও। সব মিলিয়ে সোনাগাছি যৌন পল্লী নয় বরং উৎসব পল্লীতে রূপ নিয়েছিল। হয়ে উঠেছিল সদানন্দের আখড়া। ভারতীয় দলের জয় কামনা করে বারবার তারা অদৃশ্য ঠাকুরের প্রতি প্রণাম জানাচ্ছিল। পাশে রাখা বিভিন্ন খাদ্য প্রণামী হিসাবে অন্যান্যদের মধ্যে বিতরণ করে অজস্র পুণ্যের ভাগিদার হচ্ছিল। খেলা শুরু হওয়ার কিছু আগে জাতীয় সঙ্গীত বাজতে থাকলে ছেলেমেয়েদের নিয়ে যৌন কর্মীরাও দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতে অংশ নেয়। ৩৮ বছর বয়সী সীমা পোদ্দার বলছিল, ফাইনালের কারণে আজ আর তেমন লোকজন হবে না। তাইতো ছেলেমেয়েকে নিয়ে ফাইনাল দেখতে বসে গেছি। ভারত জিতবে কিনা জানতে চাইলে সীমা দু'হাত কপালে ঠেকিয়ে বলে, ভগবানের কাছে মানত করিচি যেন আমাদের বাছারা জেতে। পুরো একশ' টাকা মানত করে বলিচি বাছারা জিতলে সবাই মিলে বড় একটা কচ্ছপ কেটে বিলি করবো। ভগবান যেন আমাদের কথা শোনেন। আরেক যৌন কর্মী মাধু ঘোষের ভাষায়, আমি তেমন বুঝি টুঝি না, তবে ছেলেমেয়েদের কারণে আজ ঝাঁপি বন্ধ করে দিয়ে ক্রিকেট দিখতে বসে গেচি। ওরা মানে আমার ছেলেমেয়ে কিরকেট খু-উ-ব ভালো বোঝে। সোনাগাছি যৌন পল্লীর পুরনো ভাঙাচোরা খুপরি টাইপ ঘরগুলোর ছাদের ওপরে পত পত করে উড়ছিল ভারতের পতাকা। সে সাথে শোভা পাচ্ছিল বিশ্বকাপের রেপ্লিকা। আশপাশের ভবনগুলোয় বিশাল স্ক্রিনে খেলা দেখছিল প্রতিবেশীরা। যৌন কর্মীদের অনেকেই সেখানে ভিড় করছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর পর তাড়া খেয়ে ফিরছিল যার যার ঘরে। বিজয় উল্লাস করার জন্য প্রায় সকলের কাছেই ছিল পটকা ও আতশবাজি। খেলার উত্তেজনার মুহূর্তগুলিতেও তারা উল্লাসে ফেটে পড়ছিল। সবমিলিয়ে ক্রিকেট ফাইনালটা সোনাগাছির যৌন পল্লীর বাসিন্দাদের জন্যেও একটি অন্যরকম দিন ছিল।



Click This Link
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×