আমার প্রিয় পোস্ট

যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুতে মন্ত্রীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

২১ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:০১

শেয়ারঃ
0 1 0

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের পরপরই সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা শিগগিরই এ বিচার শুরুর ঘোষণা দেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের আগ মুহূর্তে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলে সরকারের একাধিক মন্ত্রী জানিয়েছিলেন। কিন্তু সৌদি আরব সফর শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরেই এক মন্ত্রী বলেন, এ বিচার শুরু হতে খানিকটা দেরি হবে।

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী

ডিসেম্বরে বিজয় দিবসের আগেই এ বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলে একাধিকবার ঘোষণা দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। সেই অবস্খান থেকে সরে এসে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ এবং সর্বশেষ মার্চের প্রথম সপ্তাহে এ বিচার শুরু হবে বলে জানান তিনি। অবশেষে আইনমন্ত্রী গতকাল শনিবার মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের এক অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন ২৬ মার্চের আগেই যুদ্ধাপরাধের ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে।

আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক

অন্য দিকে এত দিন ধরে বারবার যুদ্ধাপরাধের বিচারের ঘোষণা দেয়া হলেও সেই অবস্খান থেকে সরে এসেছেন আইনমন্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক শেষে তিনি বলেন, যুদ্ধারাধীদের বিচার করা হবে না। বিচার হবে মানবতাবিরোধীদের। তাদের বিচার যুদ্ধাপরাধ আইনে হবে না। বিচার হবে ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টের আওতায় যুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য। এর আগে তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আন্তর্জাতিক মান রক্ষার জন্য বিচার প্রক্রিয়া দেরি হচ্ছে। তিনি এখন বলছেন, ১৯৭৩ সালের আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে। কিন্তু দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ইতোমধ্যেই বলছে, ১৯৭৩ সালের আইন অনুযায়ী বিচার হলে তাতে যুদ্ধাপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক মান রক্ষা হবে না। এসব বিচার শুধু প্রশ্নবিদ্ধই হবে না, রাজনৈতিক হয়রানি হিসেবেও বিবেচিত হবে।

আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম

আইনমন্ত্রীর বারবার এ ধরনের অবস্খান পরিবর্তন নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে গত ১৩ মার্চ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ১৪ দলের এক সভায় আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম জানান, যুদ্ধাপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করতে বিভিন্ন দেশের আইনজীবীদের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। অনেকে তাতে সাড়া দিয়েছেন। সে জন্য তাড়াহুড়ো করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে না। একটু দেরি হবে। তিনি আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়ে অভিজ্ঞতা আমাদের দেশের কোনো আইনজীবীর নেই। সে জন্যই বিদেশীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এর আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে মতামত জানতে আইন কমিশন থেকে ৩৫ জন বিশেষজ্ঞের কাছে চিঠি দেয়া হলে মাত্র দু’জন সেই চিঠির জবাব দেন। অপর দিকে আন্তর্জাতিক বার অ্যাসোসিয়েশনের যুদ্ধাপরাধবিষয়ক কমিটি গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, ১৯৭৩ সালের আইনে যথেষ্ট ত্রুটি রয়েছে। এই আইন অনুযায়ী বিচার হলে আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করা সম্ভব হবে না। এ প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধবিষয়ক আইনসংক্রান্ত রোম সংবিধান অনুসরণের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্তের রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী

যুদ্ধাপরাধ নিয়ে শুধু আইনমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীই নন, সরকারের অন্য মন্ত্রীরাও এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। গতকাল শনিবার মাহনগর আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সমাবেশে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীও বলেছেন, ‘যুদ্ধাপরাধের দায় নিয়েই নিজামী গংদের বিচার করা হবে।’

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা কী হবে তা নিয়েও মন্ত্রীরা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্খানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করতে আন্তর্জাতিক মহলের বিভিন্ন চাপ রয়েছে। অপর দিকে গতকাল আইনমন্ত্রী বলেছেন, ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আন্তর্জাতিক সমর্থন রয়েছে। এ বিচার আন্তর্জাতিক আইনের মান অনুযায়ী হওয়ার কথা। তিনি এর আগে একাধিকবার বললেও গতকাল বলেছেন, এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে কোনো দেশের হস্তক্ষেপ করা সমীচীন হবে না। আইনমন্ত্রী গতকাল আরো বলেছেন, কারা যুদ্ধাপরাধী তদন্ত ও বিচারের আগে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়। যদিও তিনি নিজেই আগে একাধিকবার এমন মন্তব্য করেছিলেন।

আইনমন্ত্রীসহ সরকারের একেকজন মন্ত্রীর একেক বক্তব্যে যুদ্ধারাধীদের বিচারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনসহ রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২১ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:১০
সাইফ শামস বলেছেন: প্রশ্ন উত্তর যাই উঠুক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখন সবার দাবী। অবশ্য ছাগুদের কথা ভিন্ন।
৩. ২১ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:১২
নিউজকাস্টার বলেছেন: তদন্ত ও বিচার নিষ্পত্তির আগে কাউকে যুদ্ধাপরাধী কিংবা মানবতাবিরোধী বলে অভিযুক্ত করার যৌক্তিকতা নেই-আইনমন্ত্রী
Click This Link
৪. ২১ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৫:২২
রামন বলেছেন: জনতার আদালতে প্রতিকী বিচারে কারা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সেটি আগেই নিস্পত্তি হয়ে গেছে।
৫. ২১ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৫:২৪
জাতি জানতে চায় বলেছেন: ভিন্ন বলার কারন হচ্ছে তারা মূল বিচার প্রক্রিয়া পেছানোর জন্য এখন একটা অজুহাত তৈরির পথে আছে!! কারন সহসা বিচার প্রক্রিয়া শুরু করলে তাদের বলার ধরন পুরোপুরি এক হতো আর আরো জোরালো হওয়ার কথা!! কিছু দিন আগে হঠাৎ করেই বিচারের রব উঠার কারন শেখ ওয়াজেদ জয়ের বিশাল সব কুকর্ম গুলো ঢাকা! তৌ্ফিক এলাহীকে সাথে নিয়ে বিদেশে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে, সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও নজিরবিহীনভাবে বিশাল অঙ্কের গ্যাস কম্প্রেসর চুক্তি সম্পাদন করেন!!চুক্তির বিস্তারিত খবর দেয়ার জন্য দৈনিক আমার দেশের বিরুদ্ধে তৌফিক এলাহীর করা মামলার শুনানিতে স্বয়ং তৌফিক এলাহী ক্রমাগত অনুপস্থিত থাকছেন!! একটা পর্যায় পর্যন্ত ধামাচাপা পড়ায়, এখন বিচার প্রক্রিয়া পেছাতে নতুন কোন অজুহাত তৈরির চেষ্টা হচ্ছে!!
৬. ২১ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৫:২৫
সুনেত্রা বলেছেন: রাজাকার বলে কথা,যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধ করেছে তারা এই দেশে মন্ত্রী হয়েছে, এদের মূলে উৎখাত সময়ের দাবি ও সময় সাপেক্ষও বটে।
তবে আওয়ামিলীগ এদের বিচার না করে গেলে ক্ষমতা চিরতরে হারাবে, আর কোন অজুহাতে জনগণ তাদের ভোট দেবেনা বলে আমার বিশ্বাস।
৭. ২১ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৫:৩২
বিবর্ণ বলেছেন: বিচারের আগে রায় ঘোষনা.....
৮. ২১ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৫:৪৮
সুধাসদন বলেছেন: আওয়ামী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে তো?

Click This Link
২৫ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:২৬

লেখক বলেছেন: হবে না। নিশ্চিত থাকেন।

৯. ২১ শে মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৫
জাতি জানতে চায় বলেছেন: সুনেত্রা@ বিগত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা বলছে আগামী ১০ বছর পরও সুনেত্রারা একই কথা বলবে, মানে এইবার আলীগ বিচার না করে গেলে ক্ষমতা চিরতরে হারাবে, আর কোন অজুহাতে জনগণ তাদের ভোট দেবেনা বলে আমার বিশ্বাস। আপনারা কখনই নিজেদের দলকে প্রশ্ন করবেন না, যে ৩৮ বছর এই জঘন্য অপরাধের কেন বিচার হয় নাই??!! বা ৩৮ বছর বিচার না করার মতো জঘন্য অপরাধের শাস্তি কি হতে পারে??!!

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯০৮৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
নিত্য সজীব যৌবন যার, এসো এসো সেই নও-জোয়ান,
সর্ব্বক্লৈব্য করিয়াছে দূর তোমাদেরই চির আত্ম-দান!
ওরা কাদা ছুঁড়ে বাধা দেবে ভাবে-ওদের অস্ত্র নিন্দাবাদ
মোরা...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই