আমার প্রিয় পোস্ট

এরশাদের মার্শাল ল' সম্পর্কে নীরবতা কেন?

০১ লা আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৩৮

শেয়ারঃ
0 0 0

উচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে শুরু করে ১৯৭৯ সালে ৯ এপ্রিল ওই চার বছরের পুরো শাসনকালটিই অবৈধ। এই সময় যারা রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান ছিলেন তারা অর্থাৎ খন্দকার মোস্তাক আহমেদ, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম এবং জিয়াউর রহমান- এই তিন নেতার সমগ্র শাসনকালটি অবৈধ। তাদের অনেকগুলো এ্যাকশনকে সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছে আবার অনেকগুলো অ্যাকশনকে বৈধতা দিয়েছে। এখানেই উচ্চ আদালত তার অবস্থানে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে। এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের ভাষায় সুপ্রিম কোর্ট এখানে ‘পিক এন্ড চুজ' নীতি অবলম্বন করেছে। দেশের সর্বাচ্চ আদালত ‘পিক এন্ড চুজ' নীতি গ্রহণ করবে, এটি মোটেই অভিপ্রেত নয়।
অনেকেই বলেছেন যে, সামরিক শাসন অত্যন্ত গর্হিত কাজ এবং যারা এই কাজটি করেছে তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। ভাল কথা। সামরিক শাসন যদি খারাপই হয়ে থাকে তাহলে সব সামরিক শাসনই তো খারাপ হওয়া উচিত ছিল। তাহলে বেছে বেছে ওই ১৫ই আগষ্ট থেকে ১৯৭৯ সালে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময়টি বেছে নেয়া হলো কেন?

লক্ষ্য করার বিষয় এই যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কিন্তু সামরিক শাসন জারি করেননি। সামরিক শাসন জারি করেছিলেন খন্দকার মোস্তাক আহমেদ। তারপর সামরিক শাসন পুনরায় জারি করেন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ, যিনি পরবর্তীকালে নিজেই নিজেকে মেজর জেনারেল হিসেবে প্রমোশন দিয়েছিলেন। সেই সামরিক আইনের জন্য বিচারপতি সায়েমকে দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু তারা কি জানেন না যে, বিচারপতি সায়েম স্বেচ্ছায় প্রেসিডেন্ট হননি এবং হেঁটে হেঁটে যেয়ে প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেননি। তাকেও বন্দুকের নলের মুখে ওই চেয়ারে বসানো হয়েছিল এবং তাকে দিয়ে সামরিক আইন জারী করানো হয়েছিল। তাহলে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ এবং তার প্রধান স্তম্ভ কর্নেল শাফায়াৎ জামিলকে আড়ালে রাখা হয়েছে কেন?

৭ নবেম্বরে যেটি ঘটেছিল সেটি সামরিক শাসন নয়, বরং সেটি ছিল হাজার হাজার সিপাহী জনতার বিপ্লব। কিন্তু জেনারেল এরশাদ যখন ক্ষমতা কব্জা করেন তখন দেশে ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। মাত্র ৪ মাস ৯ দিন আগে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে বিচারপতি আবদুস সাত্তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন (১৫ নবেম্বর, ১৯৮১)। বিচারপতি সাত্তার দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই এরশাদ ষড়যন্ত্র পাকাতে থাকেন কিভাবে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি বৈধ সরকারকে উৎখাত করা যায়। এভাবে ষড়যন্ত্র করে পরিকল্পিতভাবে ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তিনি ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টসহ সকলেই এতো কঠোর ভাষায় কথা বলছেন। অথচ সবচয়ে বড় ক্ষমতা দখলকারী এরশাদের কোন নাম নাই। এটা কি সুপ্রিমকোর্ট বার সমিতির প্রেসিডেন্ট খন্দকার মাহবুবের ভাষায় উৎকট ‘পিক এ্যান্ড চুজ' নয়?

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০১ লা আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৪২
বিডি আইডল বলেছেন: সরকার বদল না হওয়া পর্যন্ত মাননীয় বিচারপতিরা এই বিষয়ে সাহস করতে পারবেন না....
০১ লা আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:২১

লেখক বলেছেন: বিচারপতিদের বিবেক বাকশালের হাতে বন্দি।

২. ০১ লা আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৪৯
সুধাসদন বলেছেন: সামরিক শাসনের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারী আওয়ামীলীগ।

১. জিয়ার আমলেই বাকশাল থেকে আওয়ামী লীগের জন্ম। জিয়ার শাসন অবৈধ হলে আওয়ামীলীগও অবৈধ।

২. এরশাদের অধীনে ৮৬'র নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল আওয়ামীলীগ। অবশ্য ওই নির্বাচনে অংশ না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, যারা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে তারা জাতীয় বেঈমান হিসেবে পরিগণিত হবে।

৩. জেনারেল মঈনের সামরিক শাসনের বৈধ্যতা দিয়েছে বর্তমান সরকার। তার বিরুদ্ধে একটা মামলায় গ্রহন করা হয়নি। আর সাবেক স্বৈরশাসক তো এখন সরকারেরই অংশ।

তাহলে মুখে মুখে সামরিক শাসনের বিরোধিতা করার মানে কি?
৩. ০১ লা আগস্ট, ২০১০ রাত ১:০৯
মৌ-মাছি বলেছেন: মামলাটি হয়েছে জিয়ার আমলে করা কিছু আইনের সুবাদে মুন সিনেমার মালিকানা নিয়ে। কাজেই রায়ে শুধু সেই আমলের কথাই উল্লেখ থাকবে।

আপনি এরশাদের আমল নিয়ে একটা মামলা করুন, এই মামলার রায়ের আলোকে অতি সহজে জিতে যাবেন।

আর হাইকোর্টের রায় হয়েছিল আমাদের বিএনপি সরকারের আমলেই, শকুনী মামা মওদুদ তখন আইনমন্ত্রী। কাজেই এ বিষয়ে সরকারকে দোষ দেবার তেমন কিছু বলে মনে হয় না।

এরশাদের ষড়যন্ত্রের কথা দিয়ে শুরু করলে, আওয়ামীরা বলতে পারে জিয়াও তো সেই মুজিব খুনের ষড়যন্ত্র দিয়ে শুরু করেছেন।

আমরা প্রায়ই বলি জিয়া সামরিক শাসন দেন নাই। ঠিক আছে মানলাম। কিন্তু সায়েম সামরিক বাহিনীর কেউ ছিলেন না। তাকে হটিয়েই জিয়া বিনা নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। একই ভাবে এরশাদ প্রথমে আহসানউদ্দিন বসিয়েছিলেন সাত্তারকে তারপর তাকে হটিয়ে নিজে বসেন। একদম জিয়া স্টাইলে।

ধরা যাক আপনি একটা গাড়ি চুরি করলেন ডাকাতি করার জন্য। মাঝখানে একজন গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে পৌছালেন তারপর সেই গাড়ি দিয়েই ব্যাংক ডাকাতি করলেন। তাহলে বিচারের রায় হবে, গাড়ি চুরি, আর ব্যাংক ডাকাতি অবৈধ, হাসপাতালে পৌঁছানো বৈধ। এখানে পিক এন্ড চুজ ছাড়া গতি আছে কি? দলকানা হলেই আমরা কত রংবেরং এর যুক্তি বের করি!
০১ লা আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:৩০

লেখক বলেছেন: মুন সিনেমার মালিকানা নিয়ে দায়ের করা মামলায় ৫ম সংশোধনী বাতিল হয় কি করে? বাদি পক্ষ কি এমন রায় চেয়েছিলেন? এটা যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায় তা বুঝতে কারো অসুবিধা হবার কথা নয়।

৪. ০১ লা আগস্ট, ২০১০ ভোর ৪:১৭
লেবফিউম বলেছেন: বিডি আইডল বলেছেন: সরকার বদল না হওয়া পর্যন্ত মাননীয় বিচারপতিরা এই বিষয়ে সাহস করতে পারবেন না....

একদম সহমত

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৩৫৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
নিত্য সজীব যৌবন যার, এসো এসো সেই নও-জোয়ান,
সর্ব্বক্লৈব্য করিয়াছে দূর তোমাদেরই চির আত্ম-দান!
ওরা কাদা ছুঁড়ে বাধা দেবে ভাবে-ওদের অস্ত্র নিন্দাবাদ
মোরা...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই