somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মীরাক্কেলের মঞ্চে ওঁরা চার বাঙাল ;) ;) ;)

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ভারতের জি বাংলার মীরাক্কেল রিয়েলিটি শো দারুণ জনপ্রিয়। এবার ভারতীয়দের পাশাপাশি বাংলাদেশের চার তরুণও মাতিয়ে দিচ্ছেন আসরটি। সম্প্রতি এই চারজন অবকাশযাপনের জন্য এসেছিলেন বাংলাদেশে। তাঁদের সঙ্গে আলাপচারিতা নিয়েই এই আয়োজন

মাত্র সাত মাসেই পাল্টে গেল সব। যেখানেই যাচ্ছেন, তাঁদের ঘিরে মানুষের ভিড় জমে যাচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে ছবি তুলছেন। অটোগ্রাফ নিচ্ছেন। কথা বলছেন। গত বছরের জুন মাসে তাঁরা যখন বাংলাদেশ থেকে যান, তখন চিত্রটা ছিল একেবারেই উল্টো।


মো. জামিল হোসেন, ইশতিয়াক নাসির, আনোয়ারুল আলম (সজল) ও আবু হেনা (রনি)—‘মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার-৬’ পাল্টে দিয়েছে এই চারজনের জীবন। ভারতীয় টিভি চ্যানেল জি বাংলার এই রিয়েলিটি শোর চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশের এই চার প্রতিযোগী। তাঁদের সঙ্গে আছেন পশ্চিমবঙ্গের পাঁচজন।
পরিবার থেকে এর আগে কখনোই জামিল, ইশতিয়াক, সজল কিংবা রনিকে এতটা সময় দূরে থাকতে হয়নি। তাই তো ‘মীরাক্কেল’ থেকে সপ্তাহ খানেকের ছুটি পেয়ে সোজা চলে এলেন দেশে পরিবার আর পরিচিতজনদের কাছে।
জামিল ঢাকায় একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের বিপণন ব্যবস্থাপক, ইশতিয়াক স্নাতক করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পান। মাত্র দেড় মাস কাজ করেছেন সেখানে। এর পরই সুযোগ পান ‘মীরাক্কেল’-এ। সজল এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ করছেন আর রনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্র।
গত শনিবার সকালে প্রথম আলোর কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয় জামিল, ইশতিয়াক আর সজলকে। রনি তখন ছিলেন নাটোরে, নিজের বাড়িতে মায়ের কাছে।
‘মীরাক্কেল’-এর নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পর্বে জোকস বলতে হবে ১০টা আর যদি স্ক্রিপ্ট হয়, তাহলে সময় পাঁচ মিনিট। এই রিয়েলিটি শোর পেছনের মূল ব্যক্তিটি শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। তাঁরই পরামর্শে কয়েকটি চরিত্র বেছে নেন প্রতিযোগীরা। আর জোকস কিংবা স্ক্রিপ্ট তৈরি করেন সেই চরিত্র ঘিরেই। কিন্তু একসময় সেই চরিত্রের জনপ্রিয়তার কারণে নিজের নামটি ঢাকা পড়ে যায়। ঠিক তেমনটিই হয়েছে জামিল, ইশতিয়াক ও সজলের। এখন তাঁরা পরিচিত চাচা (জামিল), মাগার মাছ (ইশতিয়াক) আর নলাদা (সজল) নামে।
সবাইকে যাঁরা আনন্দ দিচ্ছেন, ওখানে তাঁদের দিনগুলো কেমন কেটেছে? সজল বললেন, ‘জানতামই না, আমাদেরই জোকস খুঁজে বের করতে হবে। ভেবেছিলাম, ওনারা দেবেন আর আমরা শুধু বলব। শুরুতেই ধাক্কা। ঢাকা থেকে জোকসের বই পাঠাতে বললাম। এরই মধ্যে চলে গেল ১৫ দিন।’ ইশতিয়াক বললেন, ‘প্রথম এক মাস তো শুধু কান্নাকাটি করতাম। হাতে জোকসের বই দেখলে তাঁরা এসে তা ছুড়ে ফেলে দেন। কড়া নির্দেশ—নতুন জোকস বলতে হবে।’ আর জামিল বললেন, ‘.চূড়ান্ত বাছাইয়ের সেই দিনটির কথা কখনোই ভুলতে পারব না। সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় যুদ্ধ।’
গোড়াতেই এই প্রতিযোগীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন সৌরভ পালভি, ডা. কৃষ্ণেন্দু, রাজীব ব্যানার্জি, অর্ণব আর শুভদীপ। জামিলের ভাষায়, ‘তাঁরা মেন্টর। প্রতিযোগীদের তাঁরাই সাহস জোগান। প্রয়োজনীয় সব পরামর্শ দেন।’
আড্ডায় তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া গেল একটি মজার তথ্য। সজল বললেন, ‘আমরা থাকি লেক ল্যান্ডে একটা রিসোর্টে। সেখানে আছে বড় পুকুর। আর পুকুর ঘিরে অনেকগুলো নারকেলগাছ। আমাদের প্রত্যেকেরই বসার জায়গা ওই নারকেলগাছের নিচে। প্রত্যেকের জন্য আলাদা গাছ।’
জামিল বললেন, ‘আমরা ঘুমের জন্য সময় পাই রাতে মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টা। পুরো সময়টাই আড্ডার মধ্যে থাকি। এর মধ্য দিয়েই নতুন নতুন ভাবনা আর জোকস তৈরি হয়।’
ইশতিয়াক বললেন, ‘আমি সামনে যা দেখি, তাই নিয়ে জোকস তৈরি করি। এই যেমন এবার যখন সড়কপথে দেশে ফিরছি, তখন ভারতীয় সীমান্তে আমাদের দেখে সে কী খাতির! কর্মকর্তারা নানাভাবে সহযোগিতা করলেন। চলে এলাম বাংলাদেশের সীমান্তে। বাংলাদেশের কাস্টমস কর্মকর্তারাও খাতির করলেন। কয়েকজন লোক এসে আমাদের ব্যাগ ধরে এগিয়ে দিয়ে বললেন, ৫০ টাকা দিন। বুঝতে পারলাম, বাংলাদেশে এসেছি। সাভার থেকে কল্যাণপুরে আসতে সময় লেগেছে চার ঘণ্টা। বুঝলাম ঢাকায় এসেছি।’
নলাদার ব্যাপারে সজল বললেন, ‘একসঙ্গে দুই পর্বের শুটিং হতো। আমি ২০টা জোকস তৈরি করেছি। শুভঙ্করদা শুনে বললেন, তুমি একটা চরিত্র ভাবো, তাহলে জোকসগুলো আরও আকর্ষণীয় হবে। তখন হঠাৎ নলাদা নামটি মাথায় এল।’
ইশতিয়াক বললেন, ‘আমার তো ন্যাড়া মাথা। প্রথম পর্বে তেমন কোনো ভালো জোকস ছিল না। টাক মাথা নিয়ে একটা জোকস বলেছিলাম। সেই থেকে মীরদা আমাকে মাগার মাছ (কুমির) ডাকতে শুরু করলেন।’
‘মীরাক্কেল’ অনুষ্ঠানটির অন্যতম আকর্ষণ উপস্থাপক মীর। এই মীরকে নাকি গোড়াতে সবাই ভয় পেতেন। টিভিতে যে মানুষটিকে এত হাশিখুশি আর প্রাণবন্ত দেখা যায়, ক্যামেরার পেছনে নাকি তিনি একেবারে উল্টোটি। তবে মীরাক্কেলের সব প্রতিযোগীকে মুহূর্তেই আপন করে নেওয়ার এক অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। আর ক্যামেরার সামনে যা যা করেন, তার কোনোটাই নাকি আগে থেকে লেখা থাকে না।
‘মীরাক্কেল’-এর তিন বিচারক রজতাভ দত্ত, শ্রীলেখা মিত্র ও পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাপারে সবার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা।
আড্ডা শেষ হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যেই ‘মীরাক্কেল’-এ ফিরতে হবে এই চার প্রতিযোগীকে। থামিয়ে রেখেছে ভিসা জটিলতা। জানালেন, এখন চলছে এসএমএস রাউন্ড। বাংলাদেশ থেকে যেকোনো মুঠোফোন থেকে ২২৩৩ নম্বরে যে কেউ ভোট দিতে পারবেন। নিয়মটা প্রতিটি পর্বেই অনেকবার দেখানো হচ্ছে। হয়তো সবার এই ভোটই বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের প্রতিযোগীদের ভাগ্য।

রনি


রনিকে পাওয়া গেল রাজশাহীতে, ১২ জানুয়ারি রাত ১০টায়। রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশন ভবনে চলছে উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব। এরই মধ্যে কলকাতার জি বাংলার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার-৬’-এর অন্যতম প্রতিযোগী আবু হেনা রনি এসে হাজির। সবার নজর তাঁর দিকে। তারপর পাশে বসে ছবি তোলার হিড়িক।
রনির বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিলদহর গ্রামে। গত ৭ জানুয়ারি দেশে এসেছেন তিনি।
বললেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার সামনে কোনো বন্ধুকে মন খারাপ করে থাকতে দিতাম না। একটা হাসির কথা বলে তাদের হাসাতাম। বরাবরই আমি এ কাজটি করে এসেছি। ওই অভ্যাসটাই কাজে লাগছে। কাজটা করার সময় আমি কখনোই মনে করি না যে আমি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় লড়ছি। বন্ধুদের সামনে যেমন করছিলাম, তেমনই করি।’
মজার অভিজ্ঞতার কথা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘আমার একটা জোকসের জন্য একজন মানুষের নাম দরকার। ভাবলাম, শুভঙ্করদাকে নিয়েই বলি। কে যেন একজন বললেন, উনি খুব রাগী মানুষ। সাবধান। আরেকজন আবার সমর্থন করলেন। যা হোক, তাঁর নামই বলে ফেললাম। সবাই তো খুশি। পরে বুঝলাম, শুভঙ্করদাও খুশি। তিনি নাকি এখন অপেক্ষায় থাকেন তাঁকে নিয়ে আমি কী জানি কী করি। এ জন্য অনুষ্ঠান শুরুর আগেই তিনি সবার পাণ্ডুলিপি দেখেন। আমারটাও দেখতে চান কিন্তু আমি এদিক-ওদিক যাওয়ার ভান করে দেখাই না। পরে যখন মঞ্চে বলি, তখন হাসির রোল পড়ে যায়। আমি খুব উপভোগ করি।
------আনন্দ।

নোটঃ এখন চলছে এসএমএস রাউন্ড। বাংলাদেশ থেকে যেকোনো মুঠোফোন থেকে ২২৩৩ নম্বরে যে কেউ ভোট দিতে পারবেন। নিয়মটা প্রতিটি পর্বেই অনেকবার দেখানো হচ্ছে। হয়তো সবার এই ভোটই বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের প্রতিযোগীদের ভাগ্য।
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×