তার ছেলে সাঈদ আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বেলা সোয় ১২টার দিকে মারা যান সিদ্দিকা কবীর। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮০ বছর।
স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউ’র ইনচার্য ডা. মির্জা নাজিমউদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এই পুষ্টিবিদ হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন।
সাঈদ জানান, গত দুই মাস ধরেই তার মা অসুস্থ ছিলেন। পক্ষাঘাতগ্রস্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর দুদিন আগে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
সিদ্দিকা কবীরের জন্ম পুরান ঢাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সময়ই রেডিওতে খণ্ডকালীন চাকরিতে যোগ দেন এই গণিতের ছাত্রী। স্নাতক ডিগ্রি পাওয়ার পর প্রথমে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এবং পরে ইডেন কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানে মাস্টার্স করার পর দেশে ফিরে তিনি সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে। সেখান থেকেই ১৯৯৩ সালে তিনি অবসরে যান।
তবে পুষ্টিবিদ হিসেবে সাধারণের কাছে তার পরিচয় পৌঁছাতে শুরু করে রান্না বিষয়ক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। ১৯৬৫ সালে তখনকার পাকিস্তান টেলিভিশনে ‘ঘরে বাইরে’ নামে একটি রান্নার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার টিভি উপস্থাপনার শুরু। দেশে বেসরকারি টেলিভিশনগুলোর প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সিদ্দিকা কবীর ও তার রান্নার আনুষ্ঠানের জনিপ্রিয়তাও বাড়তে থাকে।
তার লেখা ‘রান্না খাদ্য পুষ্টি’ বইটিও দেশে ব্যাপক খ্যাতি পায়। এছাড়া ইংরেজিতেও রান্নার ওপরে একটি বই লিখেছেন তিনি।
সাঈদ জানান, তার বোন বিদেশ থেকে ফিরলে তাদের মায়ের দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান অথবা বনানী কবরস্থানে বৃহস্পতিবার তাকে দফন করা হতে পারে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


