
ব্র্যাক ব্যাংক গ্রাহক সুবিধার থেকে কমার্শিয়াল চিন্তা করে বেশী। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আসে এবং গ্রাহকদের থেকে টাকা নেয়। একসময় ইন্টারসিটি চার্জ বলে কিছু ছিল না। তারা ৫০০০০ টাকার জন্য ৫৭ টাকা এবং ১ লাখের বেশী টাকার জন্য ১১৫ টাকা চার্জ আরোপ করল। এখন ব্র্যাকের বেশীর ভাগ ব্রাঞ্চেই ৫০০০০ এর নিচে টাকা জমা দেয়া যায় না, মেশিনে জমা দিতে হয় এবং এই ক্ষেত্রে টাকা জমা হয় বিকাল ৪টার পর। সুতরাং কেউ আর্জেন্ট ৫০০০০ এর নিচে কোন ক্যাশ টাকা কারো একাউন্টে জমা দিতে পারবে না। এতেই বুঝা যায় তারা কম টাকার কাস্টোমার চাচ্ছে না। সিকিউরিটি ইস্যুতে তারা নতুনভাবে চার্জ নির্ধারণ করেছে সম্প্রতি। হার্ডওয়ারের জন্য ১০০০ টাকা এবং সফটওয়ারের জন্য ১৫০ টাকা যেখানে ডাচ বাংলা এগুলো ফ্রিতেই দিচ্ছে। এমতাবস্থায় এইসব গ্রাহক ভোগান্তি এড়াতে বিকল্প হিসাবে ডাচ বাংলা, ইসলামী ব্যাংকের চিন্তা করা যেতে পারে। ব্র্যাকের ক্লায়েন্ট বেশী হয়ে গেছে, তারাও সম্ভবত চাচ্ছে কিছু ক্লায়েন্ট কাটছাট করতে, হয়ত এই জন্যই এত সব ডিজিটাল চার্জ। ব্যাংকের যেহেতু অভাব নেই এবং ডাচ বাংলা যেহেতু অনলাইন ট্রান্সফারের সুবিধা ফ্রিতে দিচ্ছে আমাদের উচিত হবে ব্র্যাকের অনলাইন ট্রান্সফারের সুবিধাটি অতিরিক্ত টাকা দিয়ে না নেয়া এবং ব্র্যাকের উপর নির্ভরশীলতা কমানো।
গ্রাহকদের অনলাইনে অর্থ লেনদেন বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে নেমেছেন অনলাইন পেশাজীবীরা। একই সঙ্গে সার্ভিস চার্জের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করায় একযোগে এ ব্যাংক বর্জনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে অনলাইনে চলছে এ নিয়ে প্রচারণা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত ফ্রিল্যান্সাররা ব্র্যাক ব্যাংকর বাড়তি চার্জ আদায়সহ সঠিক সেবা না পাওয়ায় এক ফেইসবুক ইভেন্টের মাধ্যমে এ কর্মসূচি পালনের ঘোষনা দিয়েছেন।
বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত এসব ফ্রিল্যান্সাররা ‘অনলাইন প্রশেফনালদের একযোগে ব্র্যাক ব্যাংক বয়কট কর্মসূচী’ নাম দিয়ে এ ফেইসবুকে ইভেন্ট তৈরি করেছে
অনলাইন প্রফেশনালদের একযোগে ব্র্যাক ব্যাংক বয়কট কর্মসূচী ।
এ ইভেন্টে জানানো হয়েছে, “30 তারিখের পর থেকে অনলাইনে শুধু ব্যালেন্স দেখা যাবে , অনলাইনে লেনদেন করা যাবেনা !!!! তাই আমরা অনলাইন প্রফেশনালরা একযোগে ব্র্যাক ব্যাংক বয়কট করবো ও অন্য আরেকটি ব্যাংক সবাই মিলে বেছে নিবো যাতে একে অপরের সাথে লেনদেন অবাধে করা যায় ।”
এ কর্মসূচী যারা আয়োজন করেছে তারা বলেন, “আর এই ব্যাংকে থাকা সম্ভব না , কারন বাৎসরিক কার্ড চার্জ ৬৯০ টাকা +সার্ভিস চার্জ ৩৪৫ টাকা+ এস এম এস চার্জ ২৩০ টাকা + হার্ডওয়্যার ১১৫০ টাকা + সফটওয়্যার ১৭২ টাকা। আমাদের মত গরীবের পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব না।”
এ বিষয়ে ব্যাংকটির অনলাইন সেবা গ্রহণকারী বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এদের অনেকের সঙ্গে ফোনে, ফেইসবুকে ও ই-মেইলে কথা বলে জানা গেছে, ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন নিয়ম অনুযায়ী চলতি মাসের ত্রিশ তারিখ থেকে এর গ্রাহকরা আর অনলাইনে অর্থ লেনদেন করতে পারবেন না। এ ছাড়া এটিএম কার্ডের জন্য গ্রাহকদের দিতে হবে বছরে ৬৯০ টাকা। এর মধ্যে সার্ভিস চার্জ ৩৪৫ টাকা। এখানেই শেষ নয়, কার্ডের পিন নাম্বারের জন্য হার্ডওয়্যার চার্জ এক হাজার ১৫০ টাকা এবং সফটওয়্যার চার্জ ১৭২ টাকা দিতে হবে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত বার্ষিক চার্জ, ৫০ হাজারের নিচে ব্রাঞ্চে টাকা জমা না নেওয়া, অনলাইন ট্রানজেকশন সীমা ইত্যাদি নিয়ে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন।
ব্যাংকটির এমন নিয়মে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ৮ নভেম্বর ফেইসবুক পেইজ খুলে ব্র্যাক ব্যাংক বর্জনের এ ঘোষণা দেন। এরপর থেকে রোববার রাত ১টা পর্যন্ত এ ইভেন্টে ৫৩৭ জন যোগ দিয়েছেন।
ইভেন্ট পেইজে কেউ কেউ ব্যাংকটিকে রক্তচোষা ব্যাংক বলেও মন্তব্য করেছেন।
ফেইসবুক পেইজে রিফাত নবী নামে একজন লিখেছেন,
“ব্র্যাক ব্যাংকের ফাতরামির সীমা থাকা উচিৎ। সফটওয়্যার টোকেন এর জন্য টাকা? মানুষরে কি বলদ পাইছো! আমার নিজের ২টা অ্যাকাউন্ট আছে, দুটোই বন্ধ করে দিব।”
এ বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুর রহিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে ব্যাংকের কল সেন্টারে ফোন দেয়া হলে হুমায়রা নামে একজন কাস্টমার কেয়ার ম্যানেজার টেকশহর ডটকমকে জানান, নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে এ নতুন পদ্ধতি আনা হচ্ছে। এতে করে গ্রাহক আগের তুলনায় আরও নিরাপদে লেনদেন করতে পারবেন।
এ নিয়ে ফেইসবুকে কথা হয় পার্পল আইটি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সালেহ আহমেদের সাথে। তিনি জানান, “ব্র্যাক ব্যাংক বয়কট করতে চাচ্ছি মূলত তাদের বিভিন্ন অযৌক্তিক চার্জের কারণে। যেমন, ইন্টারনেট ব্যাংকিয়ের সিকিউরিটির কথা বলে ব্যাংক সম্প্রতি সিকিউরিটি ডিভাইস কেনার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে।”
এ আইটি উদ্যোক্তা আরও বলেন,এ ছাড়া ঢাকার অনেকগুলো ব্রাঞ্চে ৫০ হাজার টাকার নিচে ডিপোজিট গ্রহণ করছে না। এমন নানা কারণে এই ব্যাংকের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে অনেকেই। তারা সেবা দেওয়ার নামে অযৌক্তিক ফি আরোপ করছে, যখন-তখন না জানিয়ে টাকা কেটে নিচ্ছে।”
ফ্রিল্যান্সার রফিকুল ইসলাম সজিব জানান, তিন বছর ধরে ব্র্যাক এর সাথে কাজ করার সময় নানান বিপত্তির স্বীকার হন তিনি। তিনি বলেন,
“কিছুদিন আগে সিটি চার্জ নামে নতুন এক ধরনের সার্ভিস চার্জ ধার্য্য করেছে, যা আমরা যখন অ্যাকাউন্ট করেছিলাম তখন ছিলনা । আমরা এখন এক জেলা থেকে অন্য জেলায় টাকা পাঠাতে গেলে অতিরিক্ত চার্জ দিতে হচ্ছে । এখন আবার অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার নামে লুটপাট করার পায়তারা চলছে ।”
তার মতে এক মেইলে ইন্টারনেট ব্যাংক ব্যাবহারকারীদেরকে জানানো হয়- নির্দিষ্ট অ্যামাউন্টের টাকা চার্জ দিয়ে ডিভাইস সংগ্রহ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পরে যারা ডিভাইস সংগ্রহ করেনি তারা অনলাইনে টাকা পাঠাতে পারবে না, সঙ্গে স্মার্টফোনের অ্যাপসের জন্যও অর্থ দিতে হবে। দীর্ঘদিনের এ ব্যবহারকরী একে ব্লাকমেইল বলে মন্তব্য করেছেন।
ফেইসবুকে হাবিবুর রহমান ফিরোজ নামে একজন জানান, গ্রাহক মতামতের তোয়াক্কা না করে ব্যাংক এসএমএস সার্ভিস চালু করে দিয়েছে যার খরচ বছরে অতিরিক্ত ২০০ টাকা।
ফিরোজ আরও জানান, ৬ বছর আগে অ্যাকাউন্ট করার সময় বলা হয়েছিলো টাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোন চার্জ লাগবে না। কিন্তু এখন এক লাখের কম হলে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় টাকা পাঠাতে কেটে নিচ্ছে ৫৭ টাকা, এর বেশি হলে কেটে নিচ্ছে ১৫০ টাকা। এটা স্রেফ এক ধরনের প্রতারণা।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ২:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



