somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মস্তিষ্কের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে মুঠোফোন

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুঠোফোনের বিকিরিত রশ্মি মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্রমে ‘ক্ষতিকর’ প্রভাব ফেলে বলে একদল স্নায়ুবিজ্ঞানীর গবেষণায় এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

এর আগে মনে করা হতো, মুঠোফোনের রশ্মি মস্তিষ্কে খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। নতুন এ গবেষণার ফলাফল সেই ধারণাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করেছে।

জার্নাল অব আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (জামা)-তে বুধবার এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়। তবে শুধু এর ফলাফল বা ওই সাময়িকীতে প্রকাশিত হওয়ার কারণেই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন ড্রাগ অ্যাবিউসের পরিচালক এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান স্নায়ুবিজ্ঞানী নোরা ভলকো এ গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন, যা একইসঙ্গে গুরুত্বের দাবি রাখে।

সুস্থ ৪৭ জন ব্যক্তি ৫০ মিনিট কানে সেলফোন ধরে রাখার পর নোরা এবং তার সহকর্মীরা ব্রুকহেভেন জাতীয় গবেষণাগারের এনার্জি বিভাগে তাদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করেন।

এতে দেখা যায়, মুঠোফোন শব্দহীন থাকায় মস্তিষ্কের কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। কিন্তু ফোনটি যখন খোলা ছিলো তখন ফোনের কাছাকাছি থাকা মস্তিষ্কের অংশে বিজ্ঞানীরা তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করেন।

তবে গবেষণার এ ফলাফলে ভিন্নমত প্রকাশ করে মাইক্রোওয়েভ নিউজ এর সম্পাদক লুইস লেসইন বলেন, ‘এ গবেষণা দল জনস্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করে এমন এক ফলাফলের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একটি বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করছেন।’

‘একটি শিশুর শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় সেলফোনের প্রভাব কী? এখানেও এটি প্রভাব ফেলে?’ ১৯৮১ সাল থেকে এ বিষয়ে বিতর্ক চলে আসছে।

২০১০-এর মে মাসে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, মুঠোফোন ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কের এক ধরনের ক্যান্সার গ্লিওমারের ঝুঁকি ১৯ শতাংশ কমে যায়। তবে এ গবেষণায় পদ্ধতিগত কিছু ত্রুটি ছিল বলে জানা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যান্সার বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ১০ বছর ধরে ১০ হাজার ৭৫১ জনের ওপর পরিচালিত গবেষণায় এ সিদ্ধান্ত জানায়।

অনেকেই ওই গবেষণায় আস্থা রাখেননি। সেলফোনের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্ক আছে--এমন ধারণা থেকে বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণা চালিয়ে যেতে থাকেন।

মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যক্রম সংগ্রহ করে ভলকোর দল মস্তিষ্কে গ্লুকোজ বিপাকের পরিমাপ করে। মুঠোফোন অন বা চালু অবস্থায় মস্তিষ্কে গ্লুকোজের বিপাক ৭ শতাংশ বেড়ে যায়। স্নায়ুবিজ্ঞানীরা মানুষের কথা বলা, নড়াচড়া ও গান শোনার মতো নিয়মিত কর্মতৎপরতা বোঝার জন্য গ্লুকোজের এ পরিমাপ দেখেন।

ফোন যেখানে ধরা হয় মস্তিষ্কের সেই অংশে অর্থাৎ ডান কর্টেক্স এবং মস্তিষ্কের উপরিভাগে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি বলেও জানা যায়। মস্তিষ্কের এ অংশ স্মৃতি, ভাষা এবং দেখার কাজে ব্যবহৃত হয়।

নারী বিজ্ঞানী ভলকো ও তার দল দেখেন, মুঠোফোন নিঃশব্দ (মিউট) রেখে চালু অবস্থায় মস্তিষ্কের জ্বলে উঠছে। ‘এটা খুবই অসাধারণ একটি আবিষ্কার’, লস অ্যাঞ্জেলেসের সেডার-সিনাই মেডিকেল সেন্টারের নিউরোসার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ড কিথ ব্ল্যাক বলেন।

‘আমরা যদি ফোনে দীর্ঘসময় কথা বলি তাহলে কি দীর্ঘমেয়াদে আমাদের ভাষা ব্যবহারের দক্ষতা কমে যাবে? আমাদের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অনেক আগের ঘটনা ভুলে যাওয়ার ঘটনায় কি প্রভাব রাখবে?’ ব্ল্যাক প্রশ্ন করেন।

তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় এটা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। শিশুদের শেখার দক্ষতার ক্ষেত্রে মুঠোফোনের বিকিরিত রশ্মির প্রভাব কি? এটা কি তাদের শেখার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে? এই বিষয়গুলোই আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।’

এভাবেই এ গবেষণা অনেক বিতর্কিত প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। এ কারণেই সেলসিন বলেন, ‘ভলকো বিজ্ঞানের একজন সুপারস্টার।’

তবে এত কিছুর পরও দমে যাচ্ছেন না ভলকো। তাই এটা একটি ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া জানা সত্ত্বেও তিনি সেলফোন ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই কঠিন, কিন্তু আমরা এটা বোঝার চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
সূত্র:বাংলানিউজ
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×