সকালে আর ফুল পা্ওয়া যায় না , আগের মত ।
আগে রতন ছিলো , কোত্থেকে ঠিকই ফুল নিয়ে আসত ... একবার বনানীর এক বাড়ির ভেতর খেকে চুরি করেছিলো ... ধরা পড়ে ভোঁ দৌড় .....
রাস্তায় পড়ে থাকা বেনসনের শেষাংশ মনের সুখে টেনে চলে হাসান ... বড় আমোদ লাগে তার .... দিনটা ভালোয় ভালোয় শুরু হলো ...
রতন মরে গেছে গত পরশু , একটু মন খারাপ ছিলো ওদের , কিন্তু পেট তো আর বসে থাকেনা .. তাই আবার কাজ শুরু । সময় কোথায় শোকের ?
আমেনা মালা বানায় একমনে .... বকবক করে চলে একমনে ...রাস্তার পাশে বকুল ফুলের গাছগুলো আর কত ফুল দেবে ... কাল এক বুড়ো দুটো মালা কিনে বিশ টাকা দিছে ... আবার চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞাসা করে .. " আমার সাথে যাবি ? টাকা পাবি , টাকা ".....
মানুষ কম চেনা হয়নি আমেনার .... পুরুষের চোখের লোভ চেনে সে চোখ ফোটার পর থেকেই ... গা ঘিনঘিন করত প্রথম প্রথম , এখন সয়ে গেছে ।
হাসান বকুলের পাতা দিয়ে বাঁশি বাজানোর চেষ্টা করে চলে .... বাঁশি বাজেনা ... মেজাজ খারাপ হয়ে যায় হাসানের ... পাতা ছুঁড়ে ফেলে পাতার ওপর একরাশ থুথু ফেলে সে .... রাগ হয়ে যায় তার ...
কালকে এক আপায় আসছিলো ... জিগায় পড়ার কথা ... রাইতে নাকি ইসকুল খুলছে .... মর্জিনা মালা থেকে মাথা তোলে
পইরা কি বাল হইব ? আমি টেরাক কিনমু .. তারপর টেকা আর টেকা ..... চোখে অনেক টাকা দেখে ইউনূস । বেনাপোল নাম হুনছস ? মাল আইব আর যাইব ....
বিজ্ঞের মত মাথা নাড়ে হাসান ... মাদারী রতনটা মরে না গেলে আগামী বছরই বেনাপোল চলে যেত সে ... খিদা আর ভালো লাগে না , সারাদিন পেট পুড়ায় .....
বড়লোকের ল্যাদা ল্যাদা বাচ্চাগুলা ইউনূসের দুইচোখের বিষ .... সারাদিন এসি গাড়িতে ঘোরে আর কান্দে ... এইগুলারে দেখলে ইচ্ছা করে পেটে লাত্থি দিয়া ফাটায়া দিতে .... ভোটকা বেগ্গায় ....
আমেনার সাতটা মালা শেষ .... হঠাৎ রতনের কথা মনে পড়ে তার .... কান্না লাগে ।
কেডি মারল রতনারে ? .... পুলিশ ...? না আর কেউ ? ....
. ভোর হচ্ছে ..... জাগছে শহর .... পিশাচ শহর ....
কাজে বেরোতে হবে , হাতে আর বেশি সময় নাই ...................
রাস্তায় মাথা তোলে চারটি বুনোফুল ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



