ভৌতিক অভিজ্ঞতা কমবেশি সবার জীবনেই থাকে । এমনকি যারা ভুত প্রেত বিশ্বাস করেন না ,তাদেরও । আমি অবশ্য এসবে বিশ্বাস করি কিনা প্রশ্ন করলে কিছুটা বিপদেই পড়ে যাবো । এগুলো নিয়ে বেশি চিন্তা ভাবনা করি না।
ভুত ব্লগ নিয়ে অনেকেরই লেখা দেখলাম । কাজ নাই ,তাই লিখতে বসলাম কিছু । কাজ নাই ,বলাটা আসলে ঠিক না । কাজ অবশ্যই আছে । পড়া আছে । পড়তে ইচ্ছা করছে না । পড়া ফাকি দিয়েই লিখতে বসেছি ।
প্রথম ঘটনা অনেক ছোটবেলার ।আমি তখন ক্লাস ১ কিংবা ২ তে পড়ি । সাল সম্ভবত ৯৩ অথবা ৯৪ । রাত তখন বেশি না ,১০টার মত বাজে । আমি পড়ার টেবিলে বসে ভাত খাচ্ছিলাম । মা বিছানায় ছোট বোনকে ঘুম পাড়াচ্ছিল ।
বিছানার মাথার কাছে একটা জানালা ছিল । জানালায় নেট দেওয়া ছিল ।জানালার ওপাশে বেশ বড় বারান্দা । বারান্দাতে গ্রিল দেওয়া,আটকানো। মেইন গেট থেকে না ঢুকলে বারান্দায় আসা সম্ভব না । মেইন গেট রাতের বেলা তালা দেয়া থাকে । কেউ এলে খুলে দেওয়া হয় । ওই রাতেও তালা দেয়া ছিল ।
আমি খেতে খেতে কিছু একটা জিজ্ঞাসা করার জন্য মা'র দিকে ঘুরেছিলদা। বিচিত্র একটা জিনিস হল। চোখ গেল জানালার দিকে । জানালার পর্দা নামানো ছিল । বাইরে বাতাসও ছিল না । তবু জানালার পর্দা আস্তে আস্তে এক কোনা থেকে উঠে গেল । কেউ কোন পর্দা সরিয়ে উকি দিলে যেমনটা হয় ,ঠিক তেমনটাই । বাতাসে পর্দা ওভাবে সরে না । মনে হল ,অতি সন্তর্পণে কেউ আমার দিকে তাকিয়ে আছে , আমিও তাকিয়ে আছি ,নিস্পলক ।
প্রায় ১ থেকে দেড় মিনিট ওভাবেই রইলো পর্দা । এরপর ঠিক যেমনি ভাবে আলতো করে পর্দা উঠেছিলো ,ওভাবেই নেমে গেল ।
কাজের ছেলেকে বারান্দা থেকে তোয়ালে আনানোর জন্য পাঠালাম । সে নির্বিকার ভাবেই তোয়ালে নিয়ে আসলো । বারান্দায় কিছুই ছিল না।
আমি প্রচণ্ড ভয় পেলাম । মা কে কিছু বললাম না । তাড়াতাড়ি হাত ধুয়ে ওই অবস্থাতেই শুয়ে পরলাম । আব্বু বাইরে থেকে না আসা পর্যন্ত ঘুমাতে পারিনি ।
এরপর কেটে গেছে বহুকাল । এরকম কিছুই আর দেখিনি ।
দ্বিতীয় ঘটনা ২০০৪ সালের । তখন আমি নটর ডেম কলেজের ছাত্র ।
নটর ডেমের হোস্টেলে মুসলিম ছাত্ররা থাকতে পারেনা। অন্য একটা হোস্টেলে থাকতাম । কলেজের পেছনেই ছিল হোস্টেল । আমার মত আরও ১৫ জন ছিল থাকতো ওখানে ।
আমরা রুম মেট ছিলাম ৪ জন । তার মধ্যে আমরা ৩ জন একইরকম ,ফাঁকিবাজ । আরেকজনের নাম ছিল শাওন । বেশ পড়ুয়া ছিল ও ।
এক রাতে ঘুম ভেঙে গেল হাউমাউ শব্দে । উঠে দেখি শাওন রুমের মাঝে দাড়িয়ে কাঁপছে । জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছে ?? উত্তরে সে যা বলল ,তা হল - সে ঘুমাচ্ছিল । তারও বিছানার পাশে একটা জানালা আছে । জানালার ওপাশে করিডোর । সে স্বপ্নে দেখেছে কেউ একজন করিডোর থেকে হেটে এসে তার জানালা ধরে দাঁড়িয়ে আছে । ভয়ের চোটে তাই তার ঘুম ভেঙেছে ।
পরদিন সকাল হতেই হোস্টেলের সবাইকে এই কাহিনী বললাম । সবাই তো হেসে লুটোপুটি খেল । সেইদিনই ঠিক করা হল রাতে শাওন কে এভাবেই ভয় দেখানো হবে । রাতের কথা চিন্তা করে একেকজনের যে পরিমান আনন্দ হল ,তা বলার নয় ।
১২ টা বাজতেই যে যার বিছানায় শুয়ে পরে অপেক্ষা করতে লাগলো । শাওনের ঘুমাতে দেরি হয় , ও অনেক পড়ে । প্ল্যান ছিল , করিডোরের লাইট নিভানো থাকবে । পাশের রুম থেকে কেউ এসে জানালায় টোকা দিয়ে রুমে যেয়ে দরজা বন্ধ করে দিবে । ঠিক যেরকম প্ল্যান ছিল , অবিকল ঐভাবেই জিনিসটা ঘটানো হল । শাওন লাফ দিয়ে উঠে বসলো ।
আমাদের কাছে এসে বলতে লাগলো কে যেন ওর জানালায় টোকা মেরেছে । আমরা তো খুবই অবাক হবার ভান করলাম । বললাম , কেউ তো কিছু শুনেনি ।
শাওনের প্রায় কেঁদে দেবার মত অবস্থা হল । করিডোরের লাইট জ্বালানো হল । পাশের রুম থেকে আমাদের চিল্লা পাল্লা শুনে ফাজিল গুলি এলো ।তারাও এসে এমন ভাব করতে লাগলো যে এটা আসলেই ভৌতিক কিছু । কোন একজন বাঁদরামি করে শাওনের ভয় আরও বাড়ানোর জন্য রুমের লাইট টাও নিভিয়ে দিল ।
আগেই বলেছি করিডোর এর লাইট জ্বলছিল । কাঁচের জানালার মধ্যে থেকে করিডোরের সবকিছুই দেখা যাচ্ছিলো । এমন সময় হঠাৎ-
টক, টক ,টক !
রুমের মাঝে ১৫ জনই ছিলাম । সবাই ই দেখতে পাচ্ছিল জানালার মধ্য থেকে করিডোর । জানালাতে কিছুই নেই । তবু সবাই ই শুনল শব্দটা।
সেই রাতে আমাদের কারোই ঘুম হল না ।
পরের ঘটনা ২০০৭ সালের , ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল । সেই কাহিনী আরেকদিন বলবো ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



