somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু অদ্ভুত ঘটনা (ভৌতিক কিংবা বিভ্রান্তি )

১৬ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভৌতিক অভিজ্ঞতা কমবেশি সবার জীবনেই থাকে । এমনকি যারা ভুত প্রেত বিশ্বাস করেন না ,তাদেরও । আমি অবশ্য এসবে বিশ্বাস করি কিনা প্রশ্ন করলে কিছুটা বিপদেই পড়ে যাবো । এগুলো নিয়ে বেশি চিন্তা ভাবনা করি না।

ভুত ব্লগ নিয়ে অনেকেরই লেখা দেখলাম । কাজ নাই ,তাই লিখতে বসলাম কিছু । কাজ নাই ,বলাটা আসলে ঠিক না । কাজ অবশ্যই আছে । পড়া আছে । পড়তে ইচ্ছা করছে না । পড়া ফাকি দিয়েই লিখতে বসেছি ।

প্রথম ঘটনা অনেক ছোটবেলার ।আমি তখন ক্লাস ১ কিংবা ২ তে পড়ি । সাল সম্ভবত ৯৩ অথবা ৯৪ । রাত তখন বেশি না ,১০টার মত বাজে । আমি পড়ার টেবিলে বসে ভাত খাচ্ছিলাম । মা বিছানায় ছোট বোনকে ঘুম পাড়াচ্ছিল ।

বিছানার মাথার কাছে একটা জানালা ছিল । জানালায় নেট দেওয়া ছিল ।জানালার ওপাশে বেশ বড় বারান্দা । বারান্দাতে গ্রিল দেওয়া,আটকানো। মেইন গেট থেকে না ঢুকলে বারান্দায় আসা সম্ভব না । মেইন গেট রাতের বেলা তালা দেয়া থাকে । কেউ এলে খুলে দেওয়া হয় । ওই রাতেও তালা দেয়া ছিল ।

আমি খেতে খেতে কিছু একটা জিজ্ঞাসা করার জন্য মা'র দিকে ঘুরেছিলদা। বিচিত্র একটা জিনিস হল। চোখ গেল জানালার দিকে । জানালার পর্দা নামানো ছিল । বাইরে বাতাসও ছিল না । তবু জানালার পর্দা আস্তে আস্তে এক কোনা থেকে উঠে গেল । কেউ কোন পর্দা সরিয়ে উকি দিলে যেমনটা হয় ,ঠিক তেমনটাই । বাতাসে পর্দা ওভাবে সরে না । মনে হল ,অতি সন্তর্পণে কেউ আমার দিকে তাকিয়ে আছে , আমিও তাকিয়ে আছি ,নিস্পলক ।

প্রায় ১ থেকে দেড় মিনিট ওভাবেই রইলো পর্দা । এরপর ঠিক যেমনি ভাবে আলতো করে পর্দা উঠেছিলো ,ওভাবেই নেমে গেল ।
কাজের ছেলেকে বারান্দা থেকে তোয়ালে আনানোর জন্য পাঠালাম । সে নির্বিকার ভাবেই তোয়ালে নিয়ে আসলো । বারান্দায় কিছুই ছিল না।

আমি প্রচণ্ড ভয় পেলাম । মা কে কিছু বললাম না । তাড়াতাড়ি হাত ধুয়ে ওই অবস্থাতেই শুয়ে পরলাম । আব্বু বাইরে থেকে না আসা পর্যন্ত ঘুমাতে পারিনি ।

এরপর কেটে গেছে বহুকাল । এরকম কিছুই আর দেখিনি ।

দ্বিতীয় ঘটনা ২০০৪ সালের । তখন আমি নটর ডেম কলেজের ছাত্র ।
নটর ডেমের হোস্টেলে মুসলিম ছাত্ররা থাকতে পারেনা। অন্য একটা হোস্টেলে থাকতাম । কলেজের পেছনেই ছিল হোস্টেল । আমার মত আরও ১৫ জন ছিল থাকতো ওখানে ।
আমরা রুম মেট ছিলাম ৪ জন । তার মধ্যে আমরা ৩ জন একইরকম ,ফাঁকিবাজ । আরেকজনের নাম ছিল শাওন । বেশ পড়ুয়া ছিল ও ।

এক রাতে ঘুম ভেঙে গেল হাউমাউ শব্দে । উঠে দেখি শাওন রুমের মাঝে দাড়িয়ে কাঁপছে । জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছে ?? উত্তরে সে যা বলল ,তা হল - সে ঘুমাচ্ছিল । তারও বিছানার পাশে একটা জানালা আছে । জানালার ওপাশে করিডোর । সে স্বপ্নে দেখেছে কেউ একজন করিডোর থেকে হেটে এসে তার জানালা ধরে দাঁড়িয়ে আছে । ভয়ের চোটে তাই তার ঘুম ভেঙেছে ।

পরদিন সকাল হতেই হোস্টেলের সবাইকে এই কাহিনী বললাম । সবাই তো হেসে লুটোপুটি খেল । সেইদিনই ঠিক করা হল রাতে শাওন কে এভাবেই ভয় দেখানো হবে । রাতের কথা চিন্তা করে একেকজনের যে পরিমান আনন্দ হল ,তা বলার নয় ।

১২ টা বাজতেই যে যার বিছানায় শুয়ে পরে অপেক্ষা করতে লাগলো । শাওনের ঘুমাতে দেরি হয় , ও অনেক পড়ে । প্ল্যান ছিল , করিডোরের লাইট নিভানো থাকবে । পাশের রুম থেকে কেউ এসে জানালায় টোকা দিয়ে রুমে যেয়ে দরজা বন্ধ করে দিবে । ঠিক যেরকম প্ল্যান ছিল , অবিকল ঐভাবেই জিনিসটা ঘটানো হল । শাওন লাফ দিয়ে উঠে বসলো ।
আমাদের কাছে এসে বলতে লাগলো কে যেন ওর জানালায় টোকা মেরেছে । আমরা তো খুবই অবাক হবার ভান করলাম । বললাম , কেউ তো কিছু শুনেনি ।

শাওনের প্রায় কেঁদে দেবার মত অবস্থা হল । করিডোরের লাইট জ্বালানো হল । পাশের রুম থেকে আমাদের চিল্লা পাল্লা শুনে ফাজিল গুলি এলো ।তারাও এসে এমন ভাব করতে লাগলো যে এটা আসলেই ভৌতিক কিছু । কোন একজন বাঁদরামি করে শাওনের ভয় আরও বাড়ানোর জন্য রুমের লাইট টাও নিভিয়ে দিল ।

আগেই বলেছি করিডোর এর লাইট জ্বলছিল । কাঁচের জানালার মধ্যে থেকে করিডোরের সবকিছুই দেখা যাচ্ছিলো । এমন সময় হঠাৎ-

টক, টক ,টক !

রুমের মাঝে ১৫ জনই ছিলাম । সবাই ই দেখতে পাচ্ছিল জানালার মধ্য থেকে করিডোর । জানালাতে কিছুই নেই । তবু সবাই ই শুনল শব্দটা।

সেই রাতে আমাদের কারোই ঘুম হল না ।

পরের ঘটনা ২০০৭ সালের , ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল । সেই কাহিনী আরেকদিন বলবো ।
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×