কোয়ার্টার ফাইনালের একটা টিকেট পেয়েছিলাম । ভাবছিলাম খেলা দেখতে যাবো মিরপুর । কিন্তু স্টেডিয়ামে যেয়ে মনে হল খেলা দেখতে এসেছি পাকিস্তানে । নিজের দেশের মানুষদের বড়ই অচেনা মনে হল আজ ।
এতদিন বুঝতাম না । সত্যিই এতদিন বুঝতামনা । আর বাকি ১০ জনের মতো আমারও মনে হতো কি ই বা এটা ??? ক্রিকেট খেলায় সাপোর্ট করলে কি এমন হয় ??? মানুষ যখন পাকিস্তানের সমালোচনা করতো ,এড়িয়ে যেতাম । কি দরকার খামোখা ঝগড়া বিবাদ করার ?? খেলোয়াড় কে ভালো লাগতেই পারে । এটা আর এমন কি ???
কিন্তু আমি সইতে পারিনি । বাংলার মাটিতে পাকিস্তানিদের বিজয় আমি সইতে পারিনি । অন্য দেশে খেলা হলে হয়তো এমন লাগতো না । হয়তো স্টেডিয়ামে না গেলে আমি বুঝতাম ও না । আমি মানুষের উন্মত্ততা দেখে অবাক হয়েছি । আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় , এরা বাঙালি ।
কষ্টে বুকটা ভেঙ্গে গেছে যখন শ্লোগান হয়েছে -পাকিস্তান জিন্দাবাদ । আমার চরম দুর্ভাগ্য যে আল্লাহ আমাকে এটা শুনিয়েছেন । বিজয় উল্লাস আর শ্লোগানের আড়ালে সব হাহাকার ঢাকা পড়ে গেছে ।
বাংলাদেশ ,বাংলাদেশ , এই শ্লোগান ছাপিয়েও যে প্রতিধ্বনি আজ মিরপুরে ঘুরে ফিরে ঘুরছে ,তা হল পাকিস্তান ,পাকিস্তান । খেলার মাঝে একটা সময় ,শুধু একটাই সময় কানে এসেছিলো বাংলাদেশ নামটি । পরক্ষনেই তলিয়ে যেতে হল তাকে পাকিস্তানের উল্লাসে ।
উন্মত্ত জনতার মাঝে যে পৈশাচিক আনন্দ দেখেছি , তা ভুলবো না । কোনদিন ও না । এরাই ২১ তারিখ শহীদ মিনারে ফুল দেয় । ফেব্রুয়ারী এলে এদেরই হয়তো বাঙালি চেতনা জাগ্রত হয় । এরাই হয়ত ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় উল্লাস করে ।
বাংলার মাটিতে পাকিস্তানের বিজয় যে আমাকে এত কষ্ট দিবে এটা জানলে আমি স্টেডিয়ামে যেতাম না । কালই তো ভালো ছিল । অন্তত এই চেতনা ছিল না । আর ১০ জনের মতো আমিও পাকিস্তানের বিজয়ে নির্বিকার থাকতে পারতাম । কিন্তু আমি থাকতে পারিনি ।খেলা শেষ হবার আগেই আমাকে চলে আসতে হল । বাংলার মাটিতে পাকিস্তানের বিজয়ের সাক্ষী হতে পারবোনা আমি ।
মিরপুরের মাটি আজ নিঃশব্দেই কেঁদেছে ।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



