
তখন এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ, কোচিং শুরু করবো ভর্তি পরীক্ষার জন্যে। ঠিক করতে পারছিলাম না কোথায় কোচিং করা যায়। যখন ঠিক করলাম, তখন কিছুটা দেরিও হয়ে গেছে। এক ভাইয়া বেশ ভালো পড়ান, তার কাছে যেয়ে বললাম, পড়তে চাই। কোন ব্যাচেই জায়গা নেই, নতুন একটা ব্যাচ শুরু হয়েছে, সেই ব্যাচের বেশিরভাগই মেয়ে। ভাইয়া কোন উপায়ন্তর না পেয়ে আমাকে সেই ব্যাচেই ঢুকিয়ে দিলেন।
সুবোধ বালকের মতো আমার কোচিং কাল শুরু হল। কয়েকদিনের মাঝেই বেশ ভালো করে ফেললাম। প্রতিদিন পরীক্ষায় 'টপ' করার অদম্য আগ্রহ মাথা চারা দিয়ে উঠলো। এখনো মাঝে মাঝে ভাবি, কি আতেল টাই না আছিলাম!!
অবশ্য রমণী প্রধান ব্যাচে থেকে তাদের চেয়ে বেশি পাওয়ার আনন্দ পুরাপুরি পৈশাচিক। আমার পড়াশুনার আগ্রহ তিনগুন বেড়ে গেলো।
মেয়েদের ব্যাচে থাকলে যা হয় আর কি, আমারও তাই হল। কাউরেই চউক্ষে লাগেনা।
সুন্দরী এসেই শুধাইলেন -
এ্যাই শোন, তুমি ইংলিশ গ্রামার কোন বই থেকে পড়?
এইতো, মহিউদ্দিন-কাসেম এর বইটা থেকে। কেন?
ও, শোন, আমার বইটা না উই পোকায় কেটেছে।তুমি কয়েকদিনের জন্যে তোমার বইটা আমাকে একটু ধার দিতে পারবে?
(আশ্বস্ত হইলাম শুনে, খালি বই ই তো চাইছে ,আর তো কিছুনা।
আমার এই বিনয়ী উত্তরই বোধহয় কাল হল।
এ্যাই শোন, তোমার ফোন নাম্বারটা দেওয়া যাবে?
কাম সারছে।
ক্যান? ফোন নাম্বার দিয়ে কি হবে?
না মানে, তুমি যদি ভুলে যাও আনতে , তাই রাতে মনে করিয়ে দিতাম আর কি।
না না !!! আমার ভুল হবে না
বাসায় এসেই সবার আগে ব্যাগে বই ভরলাম। একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না
কি যে অবস্থা।
পরের দিন রমণীর আগমনের সাথে সাথেই তার হাতে বইখানা হস্তগত করিলাম। দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা করতেছিলাম, নিশ্চিত সে কিছু বলিবে।
বই পেয়ে রমণী আহ্লাদে আটখানা হয়ে বলল- আমি তোমাকে দু দিনের মাঝেই বইটা ফেরত দিবো , চিন্তা করোনা , তোমাকে অনেক থ্যাংকস ।
ইয়ে, তবে তুমি আমার ফোন নাম্বার টা রাখতে পারো। :#>
আবারো ফোন নাম্বার !!! আমি আকাশ থেকে পড়লাম - তোমার ফোন নাম্বার রেখে কি হবে ?
না মানে , এবার যদি আমি বইটা আনতে ভুলে যাই , তাহলে তুমি মনে করিয়ে দিতে পারবা। :#>
না না, আমার বই লাগবেনা ওটা, মাথা নাড়লাম আমি !!! আমার আরেকটা বই আছে।
পরপর দুবার ব্যর্থ হয়ে রমণী চরম অপমানিত বোধ করলেন বোধহয়।
রমণীর লাস্যময়ী দৃষ্টি ক্রমেই বিষদৃষ্টিতে রুপান্তরিত হইলো। কিছু না বলে নিজের বেঞ্চে ফেরত যেয়ে হাঁড়ির মতো মুখ করে বসে রইলো।
এই ঘটনায় ব্যাচের বাকি রমণীরা যে বিশেষ পুলকিত হয়েছিলো, তা পরে বেশ বুঝেছি।
১৫ দিন পরে পরীক্ষা দিচ্ছি এমন সময় বেঞ্চে ঠাস করে কোন একটা ভারী বস্তু অবতরন করলো। চেয়ে দেখি , সুন্দরী হন হন করে হাটা দিয়েছেন। বইখানা মালিকের কাছে ফেরত আসলো অবশেষে।
উইপোকা সুন্দরীর বাসায় বোধহয় উইপোকা একটু বেশিই ছিল।
কোচিংকালে আরও বেশ কিছু ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছিলো , সেগুলো আরেকদিন বলবো ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


