somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে বাজারে প্রতিদিন কোটি টাকার সবজি বিক্রি হয়..

১৪ ই নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নে এর অবস্খান নিমসার বাজার। দেশের সর্ববৃহৎ সবজি বাজারের মধ্যে অন্যতম। কে কবে কখন, কেন এই সবজি বাজারের প্রথম গোড়া পত্তন করে স্খানীয় জনগনের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্নমত আছে। প্রতিদিন ফজরের আজান শুরু হওয়ার প্রায় ১ ঘন্টা পূর্বে এই বাজারের কার্যক্রম শুরু হয়। চলে বেলা ১২টা পর্যন্ত। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে এমন কোন জেলা নেই যে জেলার সবজি এখানে আসেনা সংশ্লিষ্ট এলাকায় যায় না। তবে উত্তর অঞ্চলের কৃষকদের কাছে কুমিল্লার নিমসার সবজি বাজার অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম । তাদের উৎপাদিত সবজির বৃহৎ একটি অংশই চলে আসে এই বাজারে। এখানকার অসংখ্য বিক্রেতা উত্তর অঞ্চলে গিয়ে বেশি মুনাফার আশায় সরাসরি চাষীদের জমিতে গিয়ে যোগাযোগ করে| জমির ফসল উৎপাদনের পূর্বেই কৃষককে তাদের মূল্য পরিশোধ করে দেয় কখনো বা কৃষক স্বেচ্ছায় ঋণ হিসাবে মূল্য নিয়ে যায়। যদিও অভিযোগ রয়েছে একদিকে যেমন কৃষক তাদের উপাদিত মালের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না অপরদিকে সাধারণ জনগণের ক্রয় মূল্যের মধ্যেও থাকছে না সবজি।
উত্তর অঞ্চলের যে সকল জেলাগুলো থেকে নিমসারের সবজি বাজারে সবচেয়ে বেশী সবজি আসে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, নিলফামারী, জয়পুর হাট, এবং যশোর। মুন্সীগঞ্জের আলূ এবং পার্বত্য এলাকার লতি ও কচু এই বাজারে বেশী পাওয়া যায়। তবে অন্য জেলার ব্যবসায়ীদের কাছে কুমিল্লার লালশাক, শিম, টমেটোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
নিমসার বাজার ও সবজি বাজার মিলিয়ে জায়গার পরিমান প্রায় ৮ একর। হাইওয়ের উপরে রাস্তার দুপাশে সরকারী ১৭ শতক জায়গার পুরোটাতেই বসে সবজি বাজার।
প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি টাকার সবজি ক্রয় বিক্রয় হয় এই বাজারে। এই সবজি বাজারে উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল বুড়িচং উপজেলার তিন ইউনিয়ন মোকাম, বাড়েরা এবং ময়নামতি| প্রতিদিন সকালে প্রায় ৫০০ জন লোকের কর্মসংস্খান হয় এই বাজারে| তাছাড়া ছোট বড় টন্সাক, সিএনজি, বেবী, টেম্পু সহ প্রায় ১০০/১৫০টি যানবাহন সবজি নিয়ে এই বাজারে আসা যাওয়া করে|
কবে কিভাবে এই বাজার জমতে শুরু করেছে জানতে চাইলে একেকজন একেক মত দেন। তবে নিমসার সবজী বাজারের ইজারাদার কবীর মেম্বার নিজেকে বাজারের প্রতিষ্ঠাতা দাবী করে বলেন, এই বাজার আগে ঢাকা চট্টগ্রাম মাসড়কের কালাকচুয়া, কাবিলায় হতো। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষজন পাইকারদের প্রতি জুলুম করতো। তাই পাইকররা আসতে চাইতো না| আমি ৯০ দশকের শুরুতে এখানে বাজার জমাতে শুরু করি| যা আজ দেশের বৃহৎ বাজারে পরিণত হয়েছে| ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে হওয়াও এর একটি বিশেষ দিক|
এখানে রয়েছে একটি শন্সমিক সংগঠনের অফিস| কুমিল্লা টন্সাক পরিবহন শন্সমিক ফেডারেশনের অন্তর্ভূক্ত সংগঠন এটি| এর ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে| সাধারণ সদস্য সংখ্যা ১২০ জন| এরা সকলেই সবজি বাজারে আসা যাওয়া পরিবহন থেকে নেয়া চাঁদার উপর নির্ভরশীল| এদের বিরুদ্ধে রয়েছে পরিবহন চালকদের অভিযোগ| তারা বলছে, জিপির নাম ভেঙ্গে তারা মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে| নিমসার টন্সাক পরিবহন ইউনিয়ন ২০৪৪ এর সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, আমরা চাঁদাবাজি করি ঠিক নয়| প্রতি গাড়ি থেকে আমরা সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নিয়ে থাকি| ছোট গাড়ি থেকে ৫০ টাকা নেই| প্রতিদিন আমরা ৮ জন নেই ৮০০ টাকা| ব্যাংকে রাখি ২০০ টাকা| আরো অন্যান্য খরচ আছে| কুমিল্লা অফিসে দিতে হয় মাসে ৩ হাজার টাকা| আমর সেবা দেই| সেবার বিনিময়ে কিছু টাকা নেই|
প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার সবজি ক্রয় বিক্রয় হলেও নানা সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে এই বাজারটি| সবজি বাজারের জন্য নির্দিষ্ট কোন জায়গা না থাকাতে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপরই প্রতিদিন বাজার বসে| আর সকাল বেলা সৃষ্ট হয় দীর্ঘ যানজট|
এব্যাপারে নিমসার সবজি বাজারের ইজারাদার কবির মেম্বার বলেন, সবজি বাজারটি আরো জমতো যদি টন্সাক গুলো রাখার জায়গা থাকতো| রাস্তার দুপাশে মাটি না থাকাতে ঝুকির মধ্যে টন্সাক গুলো দাঁড়িয়ে থাকতে হয়| মহাসড়কের দু’পাশের সরু জায়গাটি ব্যতিত আর কোন খাস জায়গা না থাকায় বাজারটি বর্ধিত হচ্ছে না| তিনি বলেন, নিমসার বিশ্বরোড সংলগ্ন বিন্সক ফিন্ডের কাছে বিশাল সরকরী জায়গা রয়েছে| এই জায়গাটি যদি নিমসার সবজি বাজারের জন্য দেয়া হয় তাহলে এ সবজি বাজার আরো প্রসার লাভ করতো| চলতি বছরে এই সবজি বাজারে ৫০ লক্ষ টাকা দিয়ে ডেকে আনা ইজারাদার কবির মেম্বারের প্রতি রয়েছে আবার নানাবিধ অভিযোগ| নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আড়তদার জানান, বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কিছু সংখ্যক প্রভাশালী লোক সবজি বাজারে এসে ইদনিং ঝামেলা করে| এরা সকলেই ইজারাদারের লোক| অবশ্য ইজারাদার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন| এদিকে সচেতন মহলের অভিমত ভালভাবে সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে সত্যিই নিমসার সবজি বাজার দেশের অর্ধেকের বেশী সবজির চাহিদা মিটাতে সক্ষম হবে।

সূত্র: আমোদ
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:২৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×