somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তথ্য সন্ত্রাস এবং তার জবাব

০৯ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ৭:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্প্রতি এস আলম গ্রুপ একট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যেখানে তারা বাঁশখালি ট্র্যাজেডি নিয়ে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেছে। ওদের ঐ বক্তব্যে তারা কিছু অসংগতির আশ্রয় নিয়েছে।
অসংগতি ১: তারা তাদের নিয়োগ করা একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেছে। জনগণের কাছে ঐ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং তাদের অফিসিয়াল রিপোর্ট প্রকাশ করুন। সাথে বাংলাদেশেরও নিশ্চয় সরকারি কোন সংস্থা এই ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দেয়। ওদের সার্টিফিকেটও প্রকাশ করুন।

অসংগতি ২: ওরা বলেছে পরিবেশের ভারসাম্য যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য তারা ভূগর্ভের পানি ব্যবহার করবে না। তাহলে প্রশ্ন থাকে, প্রকল্পের ব্যবহার্য পানি আপনারা পাবেন কোথায়?

অসংগতি ৩: ওরা বলেছে, "বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে পা্ওয়া পরিসংখ্যানে জানা যায়, সারাবিশ্বে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় কয়লা থেকে।" - প্রশ্ন থাকে, কোন কোন ওয়েবসাইট থেকে আপনারা এই তথ্য পেয়েছেন? ওয়েবসাইট থেকে তথ্য পেলেই যে ঐ তথ্য সত্য হবে, এমনটি ভাবার কোন কারন নেই। তথ্য প্রকাশকারি প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক পরিচয় কি?

আমিও ওয়েবসাইট থেকে তথ্য দিচ্ছি, এবং এই তথ্য এই ওয়েবসাইট থেকে নেয়া, যারা বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবেশ, তেল উৎপাদন, ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে থাকে। এইখানে আমি দুটি ডাটা পেজ দিচ্ছি, যেগুলোর কোনটাতেই দেখা যাবে না মোট বৈশ্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৭০ ভাগ কয়লা থেকে আসে।

ক) এই পেজের তথ্য তারা সংগ্রহ করেছে বিশ্ব ব্যাংক এবং ইউ.এস ইআইএ থেকে। এখানে তারা ১৯৮০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত তথ্য দিয়েছে। এখানে দেখা যাবে ১৯৮০ সালে কয়লা থেকে বৈশ্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার ছিল ৩৭% (মোট ৭০৬৯ টেরা-ওয়াট-ঘন্টা বিদ্যুতের মধ্যে), যেটি ২০১৪ তে এসে হয়েছে ৩৯% (মোট ২২৪৩৩ টেরা-ওয়াট-ঘন্টা বিদ্যুতের মধ্যে)




খ)এই পেজের তথ্য তারা সংগ্রহ করেছে ইউ.এস ইআইএ থেকে। এইখানে তারা ১৯৮০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তথ্য দিয়েছে।



গ) এই পেজের তথ্য তারা সংগ্রহ করেছে ইউ.এস ইআইএ থেকে। এইখানে তারা ১৯৮০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তথ্য দিয়েছে। এই পেজে দেখা যাবে, ১৯৩০ সালে বৈশ্বিক শক্তি উৎপাদনের ৭০.৫% ছিল কয়লা থেকে। বর্তমানে সেই হার নেমে এসেছে ২৮.৩% এ।



দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোন বিকল্প নেই, সত্যি। কিন্তু তাই বলে জোর-জবরদস্তি করার কোন সুযোগ নেই। জনগণকে জোর-জবসদস্তি করার পরিণামে আজ ৪ মারা গিয়েছে। ওদের আবেগকে যদি শ্রদ্ধা করতেন, ওদের চাহিদাকে যদি মূল্য দিতেন, ওদের যদি মানুষ হিসেবে চিন্তা করতেন, তাহলে বুঝতে পারতেন, ওরা আসলে কি চাইছে। রাঙামাটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র যখন করা হয়েছিল তখন পাহাড়িদের জোর করে ভুমি হতে উৎখাত করা হয়েছিল, যা এখনো ঐ এলাকার বাসিন্দাদের মনোবেদনার কারন। বিদ্যুৎ উৎপাদন দরকার, সেই সাথে স্বাধীণ দেশের মানুষদের স্বাধীণভাবে বাচতে দেয়াও দরকার। সত্য তথ্য প্রকাশ করুন। পরিবেশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মানুষকে দেখান।

বাঁশখালির ঐ এলাকার একজন নির্বাচিত কিংবা স্বনির্বাচিত সাংসদ আছেন। একজন জনপ্রতিনিধি থাকার পরও কেমনে আপনারা বুঝতে পারলেন না, ঐ এলাকার জনগণ কি চায়? ভুল বোঝাবোঝি হতেই পারে, কিন্তু তা নিরসনের একমাত্র উপায় নির্বিচার গুলি বর্ষন নয়। বরং দুদলেরই কথা শুনে প্রত্যেকে প্রত্যেককে শ্রদ্ধার মাধ্যমেই তা কাটিয়ে উঠা যেত। আমার বিশ্বাস, সুযোগ এখনো আছে, যদি আপনারা মানুষের চাহিদাকে সঠিক সম্মান দিতে পারেন। এই মনকষাকষি এবং এই হত্যাকান্ডের জের যদি কাটাতে চান, মানুষের পাশে গিয়ে দাড়ান। ক্ষতিগ্রস্থরা টাকা চায় না, ওরা চায় ওদের প্রাপ্য সম্মান, ওদের অধিকার।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ৭:১৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন: দখলদার আমেরিকার যুদ্ধাপরাধ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৬

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন: দখলদার আমেরিকার যুদ্ধাপরাধ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

অন্তর্জাল থেকে।

এ যাবত প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে। এই অবৈধ যুদ্ধে ইতোমধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি কেন “গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ” বাতিল করতে চায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮


"গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করলাম। এই অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের এমন ধারণা দেয় যে বিএনপি গুমের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের বিলোপ করতে উৎসাহী নয়। তারা কেন এটা বাতিল করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিখোঁজ সংবাদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫২



কাজকর্ম, রোজা, ঈদ, ছুটি, গ্রামের বাড়ি - সকল কিছুর পরেও আমি মাঝে মাঝেই ব্লগ পড়ি, পড়ার মতো যা লেখা ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে কম বেশি পড়ি। এখন তেমন হয়তো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×