somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয় চট্টগ্রাম - ১

২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দু'দিন আগে 'প্রিয় চট্টগ্রাম' গ্রুপে সদস্য হলাম। অনেক কথা মনে পড়ে গেল। আমার স্বর্নালি সময় কেটেছে এই প্রিয় চট্টগ্রামে। অশ্টম থেকে দ্বাদশ। সাত বছর। হিসাবে খটকা লাগছে? দ্বাদশে দু'বার ডাব্বা মেরেছিলাম। মিলেছে? হাসছেন, "ব্যাটা তোমার বানানের যা ছিরি, তো তুমি ডাব্বা মারবা না তো কে মারবে!" ঐ ইতিহাসে যাব না, তাতে যা কাল বিড়াল আছে তা প্রকাশ করতে আরো হিম্মতের দরকার আছে।

আমার জীবনের যাবতীয় অনুভুতির অঙ্কুরোদগম হয়েছে এই চট্টগ্রামে। আমি যে আলাদা একজন ব্যক্তি, আলাদা একটা অস্তিত্ব - আমার 'আমি'কে চিনতে শুরু করি তখন থেকে। সেসময়কার কত অনাবিল প্রকৃত হাসি-আনন্দ, গোপন-গভীর দির্ঘশ্বাস, কাঁচা রগরগে সুখের শব্দ যে পতেঙ্গা'র ইথারে ভেসে বেড়াচ্ছে !! এখন এই উনচল্লিশের প্রাতিশ্ঠানিক হাসি, মেকি দুঃখবোধ, ভান করা চমকিত হওয়া, স্থান-কাল-পাত্র-অবস্থান ভেদে সুখিভাব-দুঃখিভাব বোঝানো নিজেকে প্রতারক ছাড়া অন্য কিছু মনে হয় না।

পতেঙ্গা এয়ার ফোর্স ক্যাম্প ছিল সেসময় মুল শহর থেকে অনেক দুরে। এই দুর, দুরত্বের কারনে নয়। ১২ কিলো কোন দুরত্ব না। দুরত্ব এই জন্য যে তখন সল্ট গোলার পর শহরের ব্যস্ততা একদম শুন্য হয়ে যেত। ১৯৮২ সালে সন্ধ্যা পর সিমেন্ট [ইসা খাঁ নেভাল গেইট] ক্রসিং এর পর সাধারন মানুষের যাতায়াত যেত একদম কমে। শুধু শিপইয়ার্ডের কারনে জাহাজি মানুষের আনাগোনা থাকত। সল্ট গোলা ফ্লাই ওভার টার পর রাস্তার দু'পাশে খালি জায়গা, পুকুর নজরে আসত। এখন যেখানে সেইলর্স কলনি [দক্ষিনে] মেইন রোডে দাড়ালে দুরে সাগর পাড়ের ঝাউবন দেখা যেত। বারেক বিল্ডিং পার হলে হাপ ছেড়ে বাঁচতাম যে শহরের ব্যস্ততার বাহিরে চলে এসেছি।

বার্ষিক পরীক্ষা শেষে সকালের নাস্তার পর বেরিয়ে পড়া, সারাদিন টো টো.. .. ক্যাম্পের লিজ করা ক্ষেত থেকে কাঁচা টমেটো'র সাথে ক্ষেতেরই কাঁচা মরিচ খাওয়া অমৃত লাগত। এরপর বসিলা'র [ক্ষেতের মালিক] দাবড়ানি... .. তার ক্ষেত ছিল বিশাল। সে ছুড়ত তার ক্ষেতের মাটির ঢেলা আর আমরা মারতাম তার ক্ষেতেরই কাঁচা টমেটো। খারাপও লাগে, হাসিও পায়। বসিলা মাপ করে দিও।

পরীক্ষা পর প্রতি শুক্রবার পতেঙ্গা বিচে গোসল ছিল অবধারিত। কলনি থেকে, হেটে বিমানের রানওয়ের ধার ঘেসে মাইজপাড়া হয়ে সি-বিচ। নিয়ে আসা বাটার-বন আর কলাতে খিদা মিটত না। বিচের অদুরে ছিল বাধ তারপর ঝাউবন তারপরে বিস্তির্ন তরমুজ ক্ষেত। পতেঙ্গার বিখ্যাত তরমুজ। দু'জন থাকত বাঁধের উপর দাড়িয়ে ক্ষেতের লোকজন কোথায় আছে, বাকিরা যেত তরমুজ সংগ্রহে। কোনটা পাকা কোনটা কাঁচা বোঝা উপায় নেই, সাইজ দেখে নিয়ে আসা। পাথরে আঘাত করে ভাঙ্গা, ওভাবেই খাওয়া, খেতাম মুখে কিন্তু নাক, চোখের পাতা, ভুরু, থুতনি কিছুই বাদ পড়ত না।

দিন দিন পাকনা হতে লাগলাম। পিচ্চিদের পাথরের খাঁজে রাখা বিয়ারের ব্যবসা। ৮/১২ টাকায় বিয়ারের ক্যান দাম দেখে অবাক হচ্ছেন, অবাক হওয়ার কিছু নাই। সময় ১৯৮২ সাল। আর এটা ছিল টোকাইদের ব্যবসা। জাহাজীদের একদম পানির দরে জাহাজ পোর্টে ঢোকার আগে ওগুলো এই পিচ্চিদের কাছে চালান হয়ে যেত। ক্লাস নাইনে প্রথম বিয়ার পান !!! বিয়ারে কি হয়েছে কে জানে। সেটা অন্য। আমরা ক্যান হাতে নিয়ে খাওয়ার আগেই ঢুলে ঢুলে হাটতাম, জড়িয়ে কথা বলতাম। ভাবখানা এরকম বিয়ার শব্দটার ভেতরই মাতাল ভাব আছে। 'বিয়ার' শব্দ শুনলেও ঐরকম আচরন করতে হয়। আর এভাবেই কখন যে আড়াই-তিন মাইল চলে আসতাম টের পেতাম না। এর মাঝেই কখন যে হাতে সিগারেট চলে আসছে কেউ মনে রাখত না।

কলনিতে ঢোকার আগে বিপরিতমুখি দু'টি আচরন করতাম। এক, কলনির সমবয়সি মেয়েদের দেখাতে হবে নায়ক সাজে সিগারেট খাচ্ছি দুই, অফিস ফেরত বাপ-চাচারা যেন না দেখে এই সিগারেট খাওয়া।

নস্টালজিয়া - যত ভাবি তত ভাল লাগে, তত ডুব দিতে ইচ্ছা করে।

.......চলবে
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:১৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×