আমার এক নাস্তিক বন্ধু আমাকে বলেছিল, " আল্লাহ্ তো বেহেস্তে যাওয়ার পর মদ-মধু-দুধ আর প্রচুর ফল, বিভিন্ন পাখির মাংস সহ অনেক সুন্দরী নারীও দিবে, তাই না? কিন্তু দেখ আমি যে কোন ব্র্যান্ডের মদ যে কোন সময় চাইলেই পাই, পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের ফল তোকে ঢাকায় বসিয়ে খাওয়াব, পাখি-মুরগি-হাস কিসের মাংস খাবি, সপ্তাহের প্রতিদিন তোকে আলাদা আলাদা মাংস পরিবেশন করা হবে। আর নারী? কতজন তোর দরকার? এখন বল আমি কেন এত কষ্ট করে ধর্ম-চর্চা করতে যাব?"
তসলিমা নাসরিন তার এক কাজের মেয়ের কাছে বেহেস্তে মাছের কলিজা খাওয়ার কথা শুনে তাকে বলেছিলেন, "আজই বাজারে যাব, বাজারের সবচেয়ে বড় মাছটা কিনব, ওটার কলিজা পুরাটা তোর।"
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কোন এক লেখায় - এরকম একটা ধারনা দিয়েছিলেন যে বেহেস্তের এরকম নিরবিচ্ছিন্ন সুখ বিরক্তির কারন হয়ে দাড়াবে।
আমি নিজে ইসলাম, মৃত্যুর পরবর্তী জীবন, শেষ বিচারের দিন। সর্বোপরি জান্নাত [সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি লাভ] অথবা জাহান্নাম [সর্বোচ্চ অসন্তুষ্টিতে পতিত হওয়া] সম্পর্কে যতটুকু জানি সেই জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে এটুকু বলতে পারি এ সমস্ত বস্তুর বস্তুগত যে অবস্থান বা পরিচয় আছে তা এখানে বলা হয়নি। বলা হয়েছে, জান্নাতের সুখ আর জাহান্নামের কষ্ট পৃথিবীর কোন কান সেটা শুনেনি, না তার স্বাদ কেউ গ্রহন করতে পারে, না তার চিন্তুশক্তি এ'দুটির ব্যাপারে কোন কল্পনা করতে পারে। তাহলে এ সমস্ত ভোগের বস্তুর বর্ণনা কেন করা হয়েছে। শুধুমাত্র উপলব্ধি করার জন্য যে চরম সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টি'র মাত্রা।
এটা নিয়ে একজন আস্তিক হিসাবে আর যা চলুক তর্ক চলে না। একজন আস্তিক হিসাবে দু'টি মূল দায়িত্ব আছে। এক. যতদুর সম্ভব তার নিজের বিশ্বাসকে আমৃত্যু লালন করে যাওয়া। আর তার ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ যে কোন ধরেনর কার্যকলাপ, তার বিশ্বাসের প্রকাশ, সমাজে তার অবস্থান দ্বারা কোনভাবেই যেন কোন অবিশ্বাসীর অবিশ্বাসত্ব বৃদ্ধি না পায়।
বিশ্বাসীদের ভাবতে হবে তার একটা বিরাট দায়িত্ব রয়েছে যেমন নিজের প্রতি তেমন তাকে যারা ধ্বংস করতে চায় তাদের প্রতিও। আস্তিকদের অবস্থান তাই খুব নাজুক অবস্থায় থাকে। নাস্তিকের সাথে তার জেতাটাই মুখ্য বিষয় না, নাস্তিককে আস্তিকে আনার একটা আপ্রান চেষ্টাও তার আমৃত্যু করে যেতে হবে। এই কারনেই মহানবীর সামনে কোন অমুসলমান মারা গেলে ওনার চোখ দিয়ে কষ্টে পানি আসত।
বিশ্বাসের ক্ষেত্রে আস্তিকের কি হল না হল এটা নাস্তিকের বিবেচ্য বিষয় নয়, কিন্তু আস্তিকের কারনে যে কোন নাস্তিকের নাস্তিকতার মাত্রা না বাড়ে। তাই আস্তিক তোমার নিজের আস্তিকতার কারনে যেন কোনভাবেই নাস্তিকতার মাত্রা ব্যক্তি বা সামষ্টিক পর্যায়ে না বাড়ে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


