আমরা অসহায় জনগন!! বারবার প্রতারিত হই যেন প্রতারিত হওয়ার জন্যই আমাদের জন্ম। রাজনীতিবিদগণ আমাদের যখন যেভাবে বলেন, আমরা সেভাবে শুনি। আর এই রাজনীতিবিদদের দোসর বুদ্ধিজীবী যাঁরা আছেন তাঁরা কখনো কখনো আমাদের সোজা ব্যাপারটা উল্টো করে দেখতে বলেন - আমরা যদি বলি কই এটা তো সোজা। ওনারা বলেন তোমার ঘাড়টা একটু উল্টো কর দেখবে আমার কথাই ঠিক। কেউ এদিক-ওদিক করলে ওনারা ওনাদের বুদ্ধির জোরে ঘাড়টা উল্টো করে দেন। আমরা তখন সেই সোজাটাকে উল্টো রকম দেখতে থাকি। প্রচার করতে থাকি। এর ভিতর কেউ যদি সোজাটা দেখে ফেলে তার উপর আমরা হামলে পড়ি - রাজনীতিবিদদের শক্তিতে আর বুদ্ধিজীবীদের বুদ্ধিতে।
আমি আজ কিছু তথ্য দিচ্ছি। ১৯৯০-৯১ সালে সাপ্তাহিক বিচিন্তা'র সম্পাদক মিনার মাহমুদের নির্দেশনায় "মক্তিযুদ্ধের ইতিহাস: তথ্য সংগ্রহ" নামে একটা দল গঠন করা হয়েছিল। আমি ঐ দলের একজন সদস্য ছিলাম। কিছু তথ্য আজ আমি শেয়ার করছি কেন মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সঠিক বিচার হবে না -
১, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে ৫৫ জন বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতি অংগনের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময় পূর্ন পরিচয়সহ স্বাক্ষর করেছিলেন। ওনাদের নাম পরিচয়সহ তখন সাপ্তাহিক বিচিন্তাতে ছাপানো হয়েছিল। তাদের সেই সই করা দলিল তখন জাতিসংঘে পাঠানো হয়েছিল। এঁদের সবাই এখন মুম্তিযুদ্ধের পক্ষের একেকজন বড় বড় শক্তি। তারা স্বপক্ষে যুক্তি দেখিয়েছিলেন তাদের বাধ্য করা হয়েছিল। আমি বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট জহুরুল হকের নাম বলতে পারি যিনি ওপেন এসেম্ব্লীতে সামরিক পোষাক পরে পাকিস্তানের বিপক্ষে কথা বলেছিলেন যার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর কোর্ট-মার্শাল হয় এবং শুট করা হয়। ঐ বুদ্ধিজীবীদের কেউ যুদ্ধ চলাকালীন দৈনিক পাকিস্তান [পরবর্তীতে দৈনিক বাংলা] পত্রিকায় নিয়মিত চাকুরী করছিলেন, কেউ কেউ নিয়মিত টিভি-রেডিওতে গান গাচ্ছিলেন। একজন সাধারন মানুষ আর বুদ্ধিজীবী'র সাহসের অবস্থান এক হতে পারে না।
২. শাহ আজিজুর রহমান যিনি বাংলাদেশে বিরুদ্ধে একজন জাতিসংঘে পাকিস্তানের প্রতিনিধি ছিলেন যার তখন একটা বিশেষ দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করা। মুক্তযুদ্ধের পর তিনি বিচারাধিন অবস্থায় হাজতে ছিলেন। হাজতে তার কাছে খাবার যেত বঙ্গবন্ধু'র এই ৩২ নং বাড়ি থেকেই। তিনি পরবর্তীতে বিএনপি'র প্রধান মন্ত্রী হয়েছিলেন।
৩. চিনপন্থি বাম রাজনীতিবিদগণের অনেকেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁরা এখন অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বড় বড় শক্তি।
৪. মুক্তযুদ্ধ পরবর্তীতে শেখ হাসিনা এবং শেখ সেলিম আত্মীয়তা করেছেন মুক্তযুদ্ধ বিরোধী দু'জন ধনকুবের এর সাথে। মুক্তিযুদ্ধের পরে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি'র কারো সাথে প্রেমের সম্পর্ক করা মুক্তিযুদ্ধের অনুভুতির উপর আঘাত হানা একই কথা।
৫. মুক্তিযোদ্ধাদের সেকেন্ড লাইনার করার জন্য রক্ষিবাহিনী করা হয়েছিল যার ফলশ্রুতিতে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাই তাঁদের মুক্তিযুদ্ধের সনদ ছিড়ে ফেলেছিলেন।
৬. ১৯৯১ এ শেখ হাসিনা গোলাম আযমের কাছে দোয়া চাইতে গেছিলেন তাঁর দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর জন্য।
সেসময় এরকম অনেক কারন বেরিয়ে এসেছিল কেন মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধীদের বিচার কেন হচ্ছে না।
এখন আমার কথা হল উপর দিয়ে আমরা যতই মুক্তযুদ্ধবিরোধীর বিরুদ্ধে গলা ফাটাই না কেন তারা পিছনে কি উপরে বর্নিত শক্তির কাছ থেকে মানসিক সাপোর্ট পাচ্ছে না ???!!!
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


