রাজনীতির কথা শুনে দয়া করে কেউ বিমুখ হবেন না। বড় মনো-কষ্ট নিয়ে লেখাটা লিখছি। দেশের সর্বোচ্চ সেবা রাজনীতির মাধ্যমেই হবে - অন্য কোন উপায়ই নাই। রাজনীতি ভিন্ন আর যা আছে তা সব কিছুই বড় বা ছোট টুলস্ যা রাজনৈতিক সততা বা অসততা দিয়ে পরিচালিত হয়।
আমাদের তাবৎ মেধা আজ রাজনীতি বিমুখ। এটা আমাদের শত্রুদেরই কাজ। সুচতুর-সুদুর-বহুমুখী এক পরিকল্পনা যেন তৃতীয় বিশ্বের মেধা তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতিতে ব্যয় না হয়। এই সমস্ত মেধা ব্যয় হচ্ছে প্রথম বিশ্বের প্রযুক্তি উন্নয়নে, চিকিৎসা সেবায়, তাদের বৈজ্ঞানিক ল্যাবে, তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। একসময় সেই মেধা অভ্যস্ত হয়ে যায় সেই জায়গার ফার্নিশ জীবন যাপনে। কেউ কেউ নষ্টালজিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হয়ত কালে ভদ্রে বনভোজন স্টাইলে দেশে আসে মেয়েদের পিরিয়ড-সম একটা সময় নিয়ে। আবার চলে যায়। আর থাকবেই বা কিভাবে?! এদেশের পানিও যাদের সন্তানদের পেটে সয় না। বাচ্চার অসুখ নিয়ে তো এদেশে "স্টে" করা যায় না?
তৃতীয় বিশ্বের প্রায় সব শ্রেনীর মানুষই দেশের বাহিরে যাচ্ছে। আমরা যে রেমিট্যান্স পাচ্ছি তার শতকরা ৮০ ভাগই আসে ঐ সমস্ত মানুষের রোজগার থেকে যারা সেখানে অড-জব করছে। এলিট-মেধাবী-অবস্থাসম্পন্ন মানুষ যারা দেশের বাহিরে রোজগার করছেন তাদের রোজগারের প্রধান অংশ ব্যায় হয় সে দেশের ফ্ল্যাট-বাড়ি কেনার পেছনে। দ্বিতীয় প্রধান অংশ ব্যায় হয় বিভিন্ন ট্যুরে। তৃতীয় প্রধান অংশ ব্যায় হয় সঞ্চয়ে। চতুর্থ অংশটা দেশের মা-বাবা বা দেশের আত্মীয় স্বজনদের জন্য।
আমাদের দেশের রাজনীতি কখনো শুদ্ধ হবে না। কারন আমাদের নেতারা যখন বিরোধী দলে থাকেন তখন তাদের সন্তানরা বাহিরে পড়াশোনা করেন - দেশের কোন উত্তাপ তারা পান না। যখন নেতারা ক্ষমতায় থাকেন তখন তাদের সন্তানদের আহবান করেন, বানিজ্য করার জন্য। সেই বানিজ্যের মুনাফা আবার ব্যয় হবে নিউইয়র্ক-প্যারিস-লন্ডনের ফার্নিশ যাপিত জীবন আরো ফার্নিশ করার জন্য।
আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কখনো উন্নত হবে না। আমাদের মেধাবীদেরকে আমাদের প্রতিষ্ঠাগুলো কখনো অধ্যাপনায় পায় না। আমাদের কারখানাগুলো কখনো "জায়ান্ট" আকার ধারন করবে না। কারন আমাদের বেশিরভাগ শিল্পপতি হয়েছেন ভাগ্যক্রমে। ইউনুস, টাটা, বিড়লাদের মত কোন ভিষন তাদের নাই, কোন দর্শন নাই। শুধু অর্থের জন্যই তারা অর্থ উপার্জন করে। ফলে তারা তাদের কর্মকান্ড পরবর্তী প্রজন্মের চিন্তা-চেতনার সফলভাবে ঢোকাতে পারেন না। বাবা কোটি কোটি রোজগার করছে, আর তার সন্তান ইয়াবা-ফেন্সি-লংড্রাইবে ব্যস্ত। এদেরকে আমি দুঃখী সন্তান বলি। ওদের পরিবার ওদের টানে না। তার বাবার সম্মান করা যায় এমন কোন জীবন-দর্শন নাই; মায়ের কোন আদর্শ নাই। কই যাবে তারা। এক সময় এই জীবন-বিমুখ এই সন্তানরা দেশের বাহিরে চলে যায়। এরা দেশের টাকা বাহিরে খরচ করবে না তো, কোথায় করবে?!
এই সব কিছুই হয়েছে আমাদের মেধাবীদের ৯৫% দেশের বাহিরে তাদের মেধা ব্যয় করার জন্য। এই মেধার যদি ৩০% ভাগও আমাদের দেশের রাজনীতিতে অন্তত ২০ বছর ব্যয় হোত তো বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট বহন করতে তাদের লজ্জা পেতে হোত না।
আজ সবার প্রতি আমার চিৎকার করে আহাজারী করছি, "দয়া করে মেধাবীদের দেশের রাজনীতে ফিরিয়ে আনুন।" তারপর পনরটা বছর অপেক্ষা করুন। মালয়শিয়াকে আর উদাহরণ হিসাবে দেখাতে হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



