আগে রুটিন করে গ্রামের বাড়ি যাওয়া হোত। এখন বিভিন্ন কারনে আর হয়ে উঠে না। সেই সময়ে [১৯৯০] গ্রামে অনেকের কাছে অনেক আঞ্চলিক প্রবচন শুনতাম। আঞ্চলিকতার ছন্দে সেগুলো শুনতে ভালই লাগত। সবগুলো মনে নেই।
১. ছ্যাৎ-বোৎ চোইদ্দ
আঁরে দিল দুই।
বার রইল কইড়াত
আর গেল কই।- গল্পটা এরকম অন্ধ শ্বশুরের জন্য বৌমা পিঠা ভাজছে। তেলে পিঠা দেয়ার সময় যে শব্দ [ছ্যাৎ-বোৎ] হয় সেটার মাধ্যমে শ্বশুর পিঠা গুনে ফেলেছে; কিন্তু তাকে দু'টি পিঠা দিয়েই বলা হল আর নাই। তখন শ্বশুরের উত্তর।
২. মা রইছে নানীর হেডে
আঁই গেছি দত্তের হাডে।
- যখন ছোট, বড়কে অতিক্রমের নিষ্ফল চেষ্টা করে তখন এটা ব্যবহার করা হোত যে মা নানীর পেটে [হেডে] থাকতেই ছেলে দত্তের বাজারে [হাডে] চলে গেছে।
৩. সুরেশ্বরের বাবা কয়, বৈডা যিকির বালা নয়।
লাব দি, হাল দি কর রে যিকির
জব্দে খোদা রাজি অয়।
- এটা একটা মারেফতি প্রবচন। খোদার যিকির দুই রকম ভাবে চালু আছে; এক শব্দ করে শরীর নাড়িয়ে, দুই বসে এবং নিরবে। তো এই পীর শব্দ করে যিকিরের পক্ষে। তাই তিনি নিরবে বসে [বৈডা] যিকির না করে লাফালাফি [লাব দি, হাল দি] করে খোদার রাজির জন্য যিকির করতে হচ্ছে।
৪. লাখে লাখে সন্য মরে, কাতারে কাতার।
শুমারো করিয়া দেখে গোটা দুই-চার।
- এটা সম্ভবত নোয়াখালীর কোন পন্ডিতে করা, তাই আঞ্চলিকতা একটু কম। কেউ যখন বেশী চাপা মারতে থাকে এবং তা যখন প্রকৃত অবস্থা জানা হয়ে যায় তখন এটা ব্যবহার করা হয়।
৫. এটা একটা পালা গানের প্রতিযোগিতা। অনেক লম্বা। আমার সবটা মনে নাই। প্রথম দুই আক্রমন মনে আছে।
প্রথম কবি: সরকার বেদমা, লেংটি বেড়াই কর রে হাইকানা।
দ্বিতীয় কবি: ও সরকার ধায় রে ধায়
মাতা বেড়াই দিলে থাপ্পর আইল বেরাই ছেড়ায়।
- সরকার এখানে পালা গানের গায়ককে বুঝাচ্ছে। ১ম গায়ক ২য় গায়ককে পচানোর জন্য বলছে যে সে নিজ কাপড়ের মধ্যেই মল ত্যাগ করছে।
উত্তরে ২য় গায়ক বলছে, ১ম গায়কের মাথায় চড় দিলে ক্ষেতের আইলে তার ডায়রিয়া হয়ে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


