শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকলে ধর্ম-চর্চায় আলাদা করে কি উন্নতি হচ্ছে তা আমাদের আলেম সমাজ একটু ব্যাখ্যা করে বুঝালে খুব ভাল হোত। ইসলাম চর্চায় কোন ইগোর স্থান নেই। আর ধর্মচর্চাকে ঠিক রেখে যদি আমাদের দৈনন্দিন কাজ সহজ ও কার্যকর হয় সেটা ধর্মচর্চাকেই উৎসাহিত করে। শুক্রবার সাপ্তাহিত ছুটি হলে ধর্মীয়ভাবে যে ক্ষতিগুলো হয় তা নিম্নরুপ: [আমি তথ্যগুলো আলেম সাহেবদের কাছ থেকেই পেয়েছি]
১. উইকেন্ড নাইট: সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার হওয়াতে বৃহশ্প্রতিবার দিবাগত রাত হচ্ছে আমাদের "উইকেন্ড নাইট"। তাই শহরের যত ধরনের আনন্দ ফুর্তি [সবাই জানে] এই রাতেই হয়। অথচ বৃহশ্প্রতি দিবাগত রাতকে শবে কদরের রাতের সাথে তুলনা করা হয়েছে। তর্কের খাতিরে বলাই যায় যে যা পাপ তা সবসয়ই পাপ। কিন্তু ইসলামেই এই রাতকে বিশেয়ায়িত করা হয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিন না হলে এই কাজটা হোত না।
২. জুমার নামাজ: অতীতে [১৯৮২ পূর্ব] শুক্রবার অর্ধেকদিন ছুটি থাকত। ফলে সবাই এই দিনের এই সুবিধাকে শুধুমাত্র জুমার নামেজেই ব্যয় করত; অন্য কার্যক্রম হাতে নিত না। এখন সপ্তাহে অন্যদিন ছুটি না থাকার কারনে যাবতীয় সব পারিবারিক-সামাজিক অনুষ্ঠানাদি, কেনাকাটা এই দিনের জন্যই তুলে রাখছে। ফলে জুমার নামাজের প্রতি সুবিচার অনেকেই ইচ্ছা থাকা সত্বেও করতে পারেন না।
৩. অন্য ধর্মের অনুকরণ: ইসলামে ধর্মীয় চর্চা দৈনিক করতে হয়। এখানে খ্রীষ্টান বা ইহুদীদের মত সাপ্তাহিক ধর্মীয় চর্চা বলে কিছু নাই যে শুধুমাত্র একদিন আমি ধর্মালয়ে যাব যার জন্য আমার সাপ্তাহিক ছুটির প্রয়োজন। যদি শুক্রবার শুধু ধর্মচর্চা করব এবং এই ধারনার উপর ভিত্তি করে সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারন হয় তবে তা তো খ্রীস্টান বা ইহুদীদের [খ্রীস্টানরা রোববার আর ইহুদীরা শনিবার] অনুকরন হয়ে গেল যে আমরাও শুধুমাত্র শুক্রবার মসজিদে যাব।
তাই আমি আলেম সমাজের প্রতি আহবার করছি ওনারা যদি সস্তা অনুভুতির দিকে খেয়াল না করে ব্যাপারটার প্রতি বিশ্লেসনাত্বক মন নিয়ে আম জনতাকে ব্যাখ্যা করেন তবে হয়ত সরকার এই ব্যাপারে একটা পদক্ষেপ নিতে পারে। ধর্মীয চর্চা ঠিক রেখে যদি আমাদের আর্থ-সামাজিক কার্যক্রমে গতি আসে তা তো সবদিক থেকেই ভাল হবে - এটাই আমার বিশ্বাস।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



